তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, যৌথ বিনিয়গে সহযোগিতার ঘোষণা
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:৫৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:২৩ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। চার দিনের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিওতে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
তিনি বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে নতুন সরকারের রাষ্ট্র গঠন ও উন্নয়নের প্রচেষ্টায় টোকিওর জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অগ্রযাত্রাকে জাপান সবসময় দৃঢ়ভাবে পাশে থেকে সমর্থন করবে।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই নেতার সম্মতিতে এই অর্থনৈতিক রূপরেখাকে এখন থেকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় রূপান্তর করা হবে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের এই বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজারটি জাপানি অর্থনীতির জন্য একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। 'মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক' (FOIP) অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে একটি অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে গণ্য করে জাপান।
আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই প্রথম সারির দেশ হিসেবে জাপানের কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান এবং গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে টোকিওর অবিচল ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি অত্যন্ত আন্তরিক ও বিশেষ অংশীদার দেশ হিসেবে অভিহিত করেন।
শীর্ষ সম্মেলন শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি ঐতিহাসিক 'নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি' প্রকাশ করা হয়, যা আগামী দিনে ঢাকা-টোকিও দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জোর দিয়ে বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবেন।
এমএইচ
