ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাত, সমুদ্র ও নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪০ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:৪৬ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার
মধ্যরাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রবল আকারে ‘ল্যান্ডফল’ হচ্ছে। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে।
মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে কাকিনাড়ার কাছে পুদুচেরির ইয়ানাম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতেও। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্রবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে ।
অপরদিকে, ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়ক ২১৬-এ বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে। ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিবেশা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও।
অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় দু’হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে কলকাতাসহ অন্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। বুধবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
এএইচ
