ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ১৩ ১৪৩৩

রমজানে পণ্যের সংকট হবে না, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:৩০ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পর্যাপ্ত আমদানি প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কোনো ধরনের পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ রমজান মাসে যেসব আমদানিনির্ভর পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয় পণ্য ইতিমধ্যে আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। ফলে রমজানের আগে কিংবা পরে কোনো ঘাটতি হবে না। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার তারতম্যের কারণে আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারের দামে কিছুটা প্রভাব পড়ে বলে তিনি জানান।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো চাপ বা প্রস্তাব আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র বা এলসি (LC) খোলার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এলসি খোলা নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও যদি কোনো ব্যবসায়ী এলসি মার্জিন বা ব্যাংকিং জটিলতার মুখোমুখি হন, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রথম দফার সংলাপ দু'দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। 

এসব চুক্তি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।