জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৫৩ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে প্রতি বছর এক লাখ কর্মী পাঠানোর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এই প্রক্রিয়ায় মূলত কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী, নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা ফেরার প্রাক্কালে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জনের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মোট ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা স্মারক, একটি অনুদান চুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি অভিপ্রায়পত্র।
এছাড়াও বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ এর দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রায় ৪৬৫ কোটি ৬০ লাখ জাপানি ইয়েন ঋণ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান সরকার।
সরকারি পর্যায়ের এসব চুক্তির পাশাপাশি জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (JETRO) উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে।
এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা। সফরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের এক বিশাল সম্ভাবনা নিয়েও অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের আধুনিক জ্বালানি ও উন্নত সরবরাহব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি ফুতসুতে অবস্থিত ‘জেরা’ প্রতিষ্ঠানের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ায় ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করেন।
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার তিনি নাগোয়া শহরে বিশ্ববিখ্যাত অটোমোবাইল কোম্পানি টয়োটার ‘মোটোমাচি কারখানা’ এবং শিল্প ও প্রযুক্তির ইতিহাসবিষয়ক ‘টয়োটা স্মারক জাদুঘর’ পরিদর্শন করে জাপানের গাড়ি উৎপাদন ও আধুনিক শিল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এমএইচ
