অবশেষে দেশে এলো সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:৪৪ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
অবশেষে শেষ হচ্ছে দীর্ঘ আড়াই মাসের অপেক্ষা। সৌদি আরবে রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল।
শনিবার সকাল ৮টায় মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্সের ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তারা হলেন নওগাঁর শাহিন, আত্রাইয়ের হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মাসিদুল সরদার সজিব ও সাগর আলী। এছাড়া নাটোরের মোহাম্মদ শামীম ও সাব্বির হোসেনের মরদেহও দেশে আনা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানবন্দর থেকেই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্বজনরা। প্রবাসীদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সরকারের কাছে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে সৌদি প্রবাসীদের স্বজনরা।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, প্রাথমিকভাবে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া তিন মাস পরে প্রত্যেক পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল।
এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার খবরে বিমানবন্দরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। শোকের পাশাপাশি তাঁদের সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ঋণের বোঝা আর সংসারের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পরিবারগুলো।
স্বজনরা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হবে তাঁদের। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম—সব মিলিয়ে সৌদি আরবের সেই অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার। তাঁদের দাবি, শুধু মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই নয়, নিহতদের পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর সরকারি সহায়তা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।
এএইচ
