গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় উন্মোচিত
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নানা গ্রুপে সক্রিয় আ`লীগ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:০৭ এএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ১২:০৮ এএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোট ১৯ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভেতরে ঢুকে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের চেষ্টা চালিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিশেষ করে রয়েছে আ'লীগের অনলাইন সংগঠক ও সক্রিয় সদস্য আরিফ আকন্দ (২৯)। মৃত শফিকুল ইসলাম ও সাজেদা বেগমের ছেলে আরিফের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার খিদির পূর্বপাড়ায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার রূপনগর থানার বর্ধিত পল্লবী (ব্লক এফ) এলাকায় বসবাস করেন। পুলিশের তথ্যমতে, আরিফ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একজন সক্রিয় সদস্য এবং তিনি একাধিক রাজনৈতিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘মেরিল্যান্ড আওয়ামী লীগ’, ‘সবুজ বাংলা চেতনা মুক্তিযুদ্ধ ৭১’, ‘স্পিরিট ৭১’, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা’, ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শ’, ‘গেরিলা ৭১ (ঢাকা জেলা, ঢাকা বিভাগ, পটুয়াখালী জেলা ও রংপুর জেলা)’, ‘আমরা সবাই শেখ হাসিনার সৈনিক’, ‘বিপ্লবী চট্টলা’ এবং ‘পল্লবী রূপনগর পরিচ্ছন্ন যুবলীগের সংগ্রাম পরিষদ’।
ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে তারা ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী। ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এই অনুপ্রবেশ কার্যক্রমের ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করেছে ডিবি। তিনিই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে ঢাকায় এনে আন্দোলনস্থলে জড়ো করেছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছে— পটুয়াখালীর কামাল গাজী (৩২), কুষ্টিয়ার মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মুন্সীগঞ্জের আলিফ হোসেন ইমন (২৬), কক্সবাজারের জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪) ও মোয়াজ্জেম শাহরিয়া ওরফে নিয়াজ, সাভারের জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২), পঞ্চগড়ের নাহিদ হাসান (১৮), মাদারীপুরের মাহিম মোল্লা (১৯) এবং কাজীপাড়ার বাসিন্দা আরেক আরিফ (১৮)। পুলিশের তালিকায় তাদের সবাইকে দলটির সক্রিয় সদস্য, পিকেটার ও মিছিলের জন্য লোক সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “আন্দোলনকারীদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা ঢুকে পড়েছে।” গত কয়েকদিন ধরে চলা এই আন্দোলন গতকাল থেকে বেশ সহিংস রূপ নিয়েছে এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে, প্রথমে ২৮ জন আটকের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে ডিএমপি মিরপুর বিভাগের (ক্রাইম) উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, ডিবি ও ক্রাইম ডিভিশন আলাদাভাবে অভিযান চালানোয় এবং দুই বিভাগের তথ্য শেয়ারিংয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ওই সংখ্যাটি বলা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে মোট আটকের সংখ্যা ১৯ জন। তিনি আরও জানান, আটকরা নাশকতার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির হয়ে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে।
