ঢাকা, সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬,   কার্তিক ১৮ ১৪৩৩

জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার ৪, স্বর্ণালংকার উদ্ধ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:১৩ পিএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার

অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কথিত ‘জিন্নী হুজুরের’ নামে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আত্মসাৎ করা ৫ ভরি ৬ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার রাতে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

বড়লেখা থানার ওসি তদন্ত মো: ওবায়দুল হক জানান, গত ৩ আগস্ট এক নারী মুঠোফোনে বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে জানান, কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ তাঁর অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দিতে পারবেন। এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে রোকেয়া বেগম বাড়ির পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখেন, সেগুলো নেই। পরে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে একই স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রেখে যেতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। 

ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন রোকেয়া। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি।

পুলিশ জানায়, দুই দফায় ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে রিপন মিয়ায় স্বর্ণের দোকান থেকে মালামাল উদ্ধার হয়। এ সময় মালামাল বিক্রি করতে সহায়তা করায় বিজয় বৈদ্য ও চোরাই স্বর্ণ ক্ষয় করার অপরাধে বিজয় বৈদ্য এবং রিপন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেছেন।

এ ঘটনায় রোকেয়া বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এএইচ