ঢাকা, সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬,   কার্তিক ১৮ ১৪৩৩

মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনে সর্বোচ্চ অর্থ ঢালছেন কোন ধনকুবের ব্যবসায়ী?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৯:৩৩ পিএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার

এবার মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের লড়াই যতটা দৃশ্যমান, নেপথ্যে অর্থের জোগান নিয়ে প্রতিযোগিতাও ততটাই জমজমাট। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পছন্দের প্রার্থীদের জয়ী করতে কোটি কোটি ডলার ঢালছেন দেশটির ধনকুবের ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই অর্থের লড়াইয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ বলছে, এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ২০ দাতা মিলে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন।

গত রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জমা পড়া অনুদানের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শীর্ষ ২০ দাতার দেওয়া অর্থ এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, নির্বাচনি প্রচারে বিজ্ঞাপনের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা, তার বড় একটি অংশই আসছে এই ২০ দাতার কাছ থেকে।

এদিকে, বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব বলছে, ২০১৮ সালের পর এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের পরিমাণ আগের নির্বাচনগুলোর রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অনুদানের তালিকায় শীর্ষে থাকা ইলন মাস্কের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সিনেট নির্বাচনের প্রচারে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্যাক্সটনকে সহায়তা করতে ২০ কোটি ডলারের বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) ব্যয় করেছেন মাস্ক।

একই সঙ্গে, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম গড়ে তুলতেও অর্থ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, কেনটাকি ও আলাস্কার নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকেও সহায়তা করেছেন মাস্ক।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন শিল্পপতি রিচার্ড ও এলিজাবেথ উহলিন। তারা রিপাবলিকানদের দিয়েছেন প্রায় ১৫ কোটি ডলার। এরপরই রয়েছে রিপাবলিকানপন্থি সংগঠন ওয়ান নেশন। সংগঠনটি অনুদান দিয়েছে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেন হোরোউইটজ এবং তাদের প্রতিষ্ঠান আন্দ্রেসেন হোরোউইটজ মিলে দিয়েছেন ১১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। অন্যদিকে, হেজ ফান্ড বিনিয়োগকারী জেফ ইয়াস দিয়েছেন ১১ কোটি ৪ লাখ ডলার।

প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ব্যক্তিরাও নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থ দিচ্ছেন। ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী আনা ব্রকম্যান রিপাবলিকানদের দিয়েছেন পাঁচ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ডেমোক্র্যাটদের দিয়েছেন চার কোটি ১৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে এক কোটি ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোকে সহায়তা করতে।

ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান রিপল ল্যাবস ও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন মিলে দিয়েছেন সাত কোটি ৩১ লাখ ডলার। পাশাপাশি, কয়েনবেস দিয়েছে পাঁচ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

এছাড়া, উইঙ্কলভস ভাইয়েরা ক্যামেরন ও টাইলার রিপাবলিকানদের দিয়েছেন পাঁচ কোটি ৩২ লাখ ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা এবারের নির্বাচনে বড় অর্থদাতা হিসেবে উঠে এসেছেন।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অনুদান এসেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

একই উদ্দেশ্যে হাউজ মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে নয় কোটি ৭২ লাখ ডলার। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক দিয়েছে ছয় কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

এছাড়া, ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জর্জ ও আলেকজান্ডার সোরোস মিলে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ দিয়েছেন আট কোটি ৪৮ লাখ ডলার। তাদের অনুদান ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি প্রচারে ব্যয় হচ্ছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় দাতাদের মধ্যে রয়েছেন মরিয়ম অ্যাডেলসন। তিনি দিয়েছেন ছয় কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এছাড়া, হেজ ফান্ডের বিনিয়োগকারী পল সিঙ্গার দিয়েছেন পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

এমএইচ