ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬,   কার্তিক ১৯ ১৪৩৩

তাহসিফের মৃত্যু: আরও তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:০৯ এএম, ৩ নভেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

বিমান বাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায়আরও তিনজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্তকারীরা। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য প্রকাশ করেন দীপ ও দিশা।

সোমবার মুখোমুখি ও আলাদাভাবে জেরা করা হয়েছে রিমান্ডে থাকা দীপ ও দিশাকে। সেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

তদন্ত সংস্থা নৌপুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জেরিকা তাসনিম দিশার বক্তব্য।

সূত্র জানায়, তাদের জেরায় আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে এক দম্পতি ও আরেকজন নারীর নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তকারীরা ওইসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি।

গত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন বিকালে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে টঙ্গী নৌ পুলিশ। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বান্ধবীর সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন সেবনের উদ্দেশ্যে টঙ্গীর মাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে যান তাহসিফ। সেখানে মাদক সেবনের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা। সিসিটিভি ফুটেজে তিনজনের একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য মিললেও।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ উত্তরার বার থেকে বের হয়ে দিশাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যান। সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস এবং একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। পরে রাত সাড়ে ১২টায় দিশাকে বাসায় পৌঁছে দেন তাহসিফ ।

এর আগে রাত ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দিশাকে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। পরে পৃথক মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। রাত ১১টা ৫১ মিনিটের দিকে তারা সেখান থেকে বের হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা বারে অবস্থান করেছিলেন তারা।

নৌ পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিমান্ডে থাকা তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের সঙ্গে তার পরিচয় কীভাবে, তাদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, ঘটনার দিন নেস্ট বারে কী ঘটেছিল এবং তাহসিফের সঙ্গে তার কী কথোপকথন হয়েছিল—এসব বিষয় জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দীপের বক্তব্যের সঙ্গে মেয়েটির বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীপের দাবি, শুধু ঐ দিনই নয়, তারা প্রায়ই বিভিন্ন বার ও রেস্তোরাঁয় যেতেন। মেয়েটিও তাহসিফের সঙ্গে যেতেন।

এদিকে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেছেন, দিশা শুরু থেকেই তাদের কাছে সন্দেহজনক ছিল। সে বারবার তাদের বাসায় যেত। তাহসিফ তার বোনের কাছেও দিশার বিষয়ে সন্দেহ করছিল। মেয়েটি বারবার তাকে বিরক্ত করত। তার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। সে তাহসিফের কোনো বান্ধবী বা গার্লফ্রেন্ড নয়।

এদিকে দিশার স্বজনরা জানান, গত ২৮ মে তাহসিফ ও দিশার মধ্যে পরিচয় হয়। এরপর তাহসিফ প্রেমের প্রস্তাব দেন দিশাকে। এতে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। মাসখানেক আগে যখন তাহসিফ কালসি ফ্লাইওভারের ওপরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন, তখন দিশা তাহসিফের সঙ্গেই ছিল। পরে তাহসিফ দিশাকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এর পরদিন দিশার পরিবার তাকে নিয়ে আসে। পরিচয়ের পর থেকে তাহসিফ বেশ কয়েকবার দিশাকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়েছিল।

টঙ্গী নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে দীপ জানিয়েছেন যে মেয়েটি কিছুদিন আগে অন্য এক যুবকের বাসায় ইয়াবা সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ঐ যুবকের সঙ্গে তার শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাহসিফ ২৭ অক্টোবর তাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। পরে তাকে নিয়ে উত্তরা সোনারগাঁ জনপথ সড়কে নেস্ট বারে যান। বারে গিয়ে তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে স্যাড সং বাজাতে বলেন। এরপর ওয়েটাররা তাদের মদ পরিবেশন করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা মদ পান করেন। ঐ সময় দীপও তাদের সঙ্গে ছিলেন। 

আরও জানায়, মদ্যপানের একপর্যায়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে দিশার ইয়াবা সেবন ও রাত কাটানোর বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন তাহসিফ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাহসিফ তাকে বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় মাদক (হেরোইন) খাব।’ এরপর তারা তিন জনই বার থেকে বের হয়ে যান।

এএইচ