ঢাকা, বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬,   কার্তিক ১৯ ১৪৩৩

দেশের পোশাক শিল্পে অসন্তোষ, নজর রাখছে ভারত: জয়সোয়াল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪৪ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতির অবনতি হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। সেখানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা সেগুলোর ওপর নজর অব্যাহত রেখেছি।

 তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ভারতের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সাথে একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর বরাত দিয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের জেরে ঢাকা, গাজীপুর ও মধ্য ময়মনসিংহের প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত কারখানার মধ্যে অন্তত ৬৭০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গঙ্গা চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে সই হওয়া ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের চলতি বছরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মুখপাত্র জয়সোয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে এবং গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই দুই রাষ্ট্রের নির্ধারিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।

এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মুখপাত্র। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আগেই জানানো হয়েছে। তবে এই দ্বিপাক্ষিক সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা যথাসময়ে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও রণধীর জয়সোয়াল কোনো জটিল বা বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি বারবার দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ভারতীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এমএইচ