মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৫৮ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১০:৫৯ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০২৬ বুধবার
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এক মেগা প্রকল্পের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর এই লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)।
প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ৩৬৮ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি সর্বাধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পণ্য ও কনটেইনার দ্রুত ওঠানামার জন্য যুক্ত করা হবে আধুনিক হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম। এছাড়া বন্দরে ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার আয়তনের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড তৈরি করা হবে। এর ফলে বন্দরে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সরকারের সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং সিআরসিসি ও সিসিইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এই উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ছাড়াও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ ও ‘সিআরসিসি’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই অঞ্চলে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রস্তাবিত চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোংলা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক লজিস্টিকস কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।
এমএইচ
