ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৮ ১৪২৬

২ বছর বেতন পাচ্ছে না ২৫০ বাংলাদেশি শ্রমিক

প্রকাশিত : ০৭:৩২ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:২০ পিএম, ৪ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার

সৌদি আরবে আড়াই শ’ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক গত দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। দেশটির রাজধানী জেদ্দার সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে কর্মরত ওই শ্রমিকরা এ অভিযোগ করেছেন।

বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ওই কোম্পানিতে কর্মকরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য চেয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও এশিয়ার অন্য দেশের নাগরিকসহ প্রায় আটশ’ শ্রমিক সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে গত দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। এদের মধ্যে ২৫০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক।

বেতন না পেয়ে শ্রমিক ও তাদের সাথে থাকা পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনাহারে ও অর্ধহারে থেকে ইতোমধ্যে ৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে আঠারো বছর ধরে কাজ করছেন আব্দুল কাদের টিপু নামের একজন বাংলাদেশি শ্রমিক। তিনি বলেন, কোম্পানি হঠাৎ করে আমাদের কিছু না জানিয়ে বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত দুই বছর ধরে আমরা বেতন পাচ্ছি না। আমাদের আকামা নবায়ন না হওয়ায় সৌদি পুলিশের কাছেও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। পুলিশ এই কোম্পানির কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে জেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন টিপু।

ওই কোম্পানিতে কাজ করছেন মোহাম্মদ হানিফ নামের অন্য এক বাংলাদেশি শ্রমিক। তিনি বলেন, অনেক টাকা খরচ করে সৌদিতে এসেছি। কিন্তু বেতন না পাওয়ার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছি। স্কুলের বেতন দিতে না পারায় সন্তানদেরও স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। টাকার অভাবে সংসার কিভাবে চালাবো তার কোনো কূল কিনার পাচ্ছি না। এতো কষ্ট করে কাজ করেছি কিন্তু বেতন না পাওয়ায় টাকার অভাবে খাওয়া দাওয়া করতে পারছি না।

কোম্পানির কাছ থেকে বেতন ভাতা আদায়ের প্রশাসনের নিকট থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শ্রমিকরা জানান, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের লেবার কাউন্সিলের সহয়তায় ২০১৫ সালে বেতন-ভাতার দাবিতে কোম্পানির মালিক ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে সৌদি লেবার কোর্টে মামলা করেন শ্রমিকেরা।

পরে লেবার কোর্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন। কিন্তু কোম্পানি বেতন-ভাতা না দিয়ে উল্টো শ্রমিকদের খায়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। এখন প্রায় সব বাংলাদেশি শ্রমিকই অনাহারে-অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছেন।

লেবার কোর্টের রায়ের পরেও শ্রমিকদের বেতন ভাতা না দেওয়া পর শ্রমিকেরা গত বছর সৌদি আরবের উচ্চ আদালতে আবার মামলা করে। উচ্চ আদালতও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়।

এতেও কোনো কাজ না হলে সর্বশেষ বিষয়টি সৌদি উচ্চ আদলতের আবার নজরে আনা হয়। পরে উচ্চ আদালত কোম্পানির মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। 

গত ১৫ সপ্তাহ ধরে কোম্পানির ম্যানেজার ও দুই কর্মকর্তা লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তার পরেও কিছু শ্রমিক তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশে কনসুলেট এর কনসাল জেনারেল এফ. এম. বোরহান উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের এই সমস্যা দূরীকরণে লক্ষ্যে সৌদিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। 

কনস্যুলেটে একজন সার্বক্ষণিক অভিজ্ঞ লইয়ার নিয়োগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।