ঢাকা, শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

ফুলে ফুলে সিক্ত শহীদ মিনার

প্রকাশিত : ১২:৪২ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৩:১৫ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার

কোটি মানুষের শ্রদ্ধা, ফুল আর ভালোবাসায় সিক্ত শহীদ মিনারের বেদী। প্রথম প্রহর থেকেই গোটা জাতি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মধ্যরাত থেকে ছুটে যান শহীদ মিনারে। মায়ের ভাষা রক্ষায় যারা বুকের রক্ত ঢেলেছিলেন, জাতি আজ তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই সাজিয়েছে ফুলের ডালা।

ভোর থেকেই শুরু হয়েছে খালি পায়ে প্রভাতফেরির পথচলা। পথে পথে, কণ্ঠে কণ্ঠে সেই গান-  ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি…। সেই প্রভাতফেরি গিয়ে মিলছে শহীদ মিনারের পাদদেশে। আর ফুলের তোরণে তোরণে ঢেকে গেছে শহীদ মিনারের পাদদেশ। এ যেন ফুলের সুভাষেই সিক্ত ভাষা সৈনিকেরা।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আজ থেকে ৬৬ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ; ওই রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি আর তার সিঁড়ি বেয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বাঙালির সেই আত্মত্যাগের দিন এখন কেবল আর বাংলার নয়, প্রতিটি মানুষের মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দিন। রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

মধ্যরাত থেকে শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘিরে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। গোটা এলাকায় সুদৃশ্য আলপনা আঁকা হয়েছে। সারা দেশেই আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদল্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালিত হচ্ছে।

প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের ফুল দেওয়ার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ; ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, অ্যাটর্নি জেনারেল, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও ভাষা সৈনিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ মিনারে।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর ভোরে নামে মানুষের ঢল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের সারি আরো দীর্ঘ হয়। দীর্ঘ লাইনে ফুল আর ছোট ছোট পতাকা হাতে লাইন বেঁধে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় সব শ্রেণি পেশার মানুষকে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসছেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরসহ বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাসেই দিনটিকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। প্রবাসীরাও বিদেশের মাটিতে শহীদ মিনার গড়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন শহীদদের।

দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আর/ এমজে