ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬

বিনামূল্যে বৃত্তিসহ প্রশিক্ষণের সুযোগ

কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক

প্রকাশিত : ০৬:১৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১২:২৭ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার

অষ্টম শ্রেণী পাশেই প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছে দেশের বেশকিছু পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে থেকে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে আপনিও হতে পারে ভালো একজন কর্মজীবী মানুষ, পেতে পারেন ভালো কোনো চাকুরি।

দেশের বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ এর মধ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে । তারই অংশ হিসেবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতির আওতায় পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর তার বাস্তবায়নে কানাডীয় সরকারের অর্থায়নে ও আন্তর্জাতিক শ্রম-সংস্থা কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ স্কিল এমপ্লয়মেন্ট এন্ড প্রোডাক্টটিভিটি (বি-সেপ) প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস ফরমিং, বডি অ্যান্ড গ্লেজ প্রিপারেশন, গ্লেজিং, ডেকোরেশন অ্যান্ড প্রিন্টিং বিষয়ে এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ‘প্যাকেজিং’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। এ ছাড়া ঢাকা দারুস সালামের বাংলাদেশ কোরিয়া-কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেকানিক্যাল মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ে এবং ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আবেদনের নিয়ম এবং যোগ্যতা
ক) ভর্তির জন্য প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাশ অথবা সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রি-ভোকেশনাল সনদপ্রাপ্ত অথবা সংশ্লিষ্ট পেশায় এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
খ) এই প্রশিক্ষণে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবে, মেধা এবং কোটার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে।
সাধারণ আসনে ভর্তির সুযোগ ছাড়াও মহিলাদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক মহিলা আবেদনকারী না পাওয়া গেলে পুরুষ আবেদনকারীদের মধ্য হতে মেধার ভিত্তিতে আসন পূরণ করা হবে।
গ) সকল পেশায় প্রতিবন্ধি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ৫% কোট সংরক্ষিত থাকবে । পেশাভেদে শারীরিক সামর্থ্য ও অন্যান্য শর্তাদি বিবেচনাপূর্বক নির্বাচনী কমিটি প্রার্থীতা চূড়ান্ত করবে ।
ঘ) বর্তমানে সরকারী, বেসরকারী ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণ এ প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ঙ) প্রশিক্ষণার্থীর ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর হতে হবে।
চ) সকল ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, আদিবাসি ও প্রতিবন্ধি কোটা অনুসরণ করা হবে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.btebcbt.gov.bd অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে । সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফরম জমা দেওয়ার সময় ভর্তির আবেদন ফি বাবদ একশত টাকা জমা দিতে হবে।
প্রশিক্ষণের সময়
প্রশিক্ষণ সপ্তাহে ৬ দিন এবং প্রশিক্ষণের সময় (প্রতিষ্ঠান) ভেদে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা অথবা দুপুর ২টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলবে। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক NTVQF অনুযায়ী সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে ।


ভর্তি হতে যা যা আনবেন

ভর্তির আবেদন ফরমের সাথে ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সকল শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিকট হইতে নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হবে।
আসন সংখ্যা
প্রতিটি ট্রেডে সর্বোচ্চ ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে । আসন সংখ্যার বেশী আবেদন জমা হলে এ্যাপ্টিচুড টেস্টের মাধ্যমে মেধা ও কোটার ভিত্তি প্রশিক্ষণার্থী বাছাই ও ভর্তি করা হবে।

ভর্তি কার্যক্রমের সময়সীমা

*আবেদন পত্র বিতরণ শুরু-১ লা এপ্রিল, ২০১৮
*আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ-১৮ এপ্রিল
*এ্যাপ্টিচুড টেস্ট -২০ এপ্রিল
*নির্বাচিত প্রশিক্ষনার্থীর তালিকা প্রকাশ-২২ এপ্রিল
* প্রশিক্ষণ শুরু-২৫ এপ্রিল

এই সব প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস এন্ড সিরামিকস এর অধ্যক্ষ মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ । যা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আগে সিরামিকস সেক্টরে শ্রমিকদেরকে নিজেরা কারখানাতে প্রশিক্ষণ দিত এখন তারা দক্ষ হয়েই কারখানাতে যাবে তাই আমি বলতেই পারি এই খাতে কাজের মান আগের চেয়ে বাড়বে। এই প্রশিক্ষণের সাথে তাদের জীবিকার জন্যে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। কোর্স শেষে সনদ পাবে যা দিয়ে একজন প্রশিক্ষার্থী যে কোথাও চাকুরি পাবে । আমাদের দেশের এই শিল্পখাতে এই প্রশিক্ষণ চালু হওয়ায় নতুন মাএা যোগ হয়েছে বলে মনে করি।’
জুনিয়র ইনিসট্রাক্টর টেকনিক্যাল মোহাম্মদ আলী আজম খান মোজাহেদী বলেন, ‘সরকারের ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নের লক্ষে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে মোট শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ কারিগরিখাতে জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ লোকের প্রয়োজন । কারণ বিশ্বে প্রতিটি উন্নত দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ৬৫ শতাংশের নিচে নয়। সুতরাং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই।
আমরা যেহেতু উন্নত রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি তাই পেশাভিত্তিক স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিকল্প নেই। যেহেতু এই প্রশিক্ষণে ভর্তিতে তেমন জুট ঝামেলা নেই তাই যেকোন বেকার তরুণ এই প্রশিক্ষণ নিয়ে সিরামিকস শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে।’
ঢাকা পলিটেকনিক কেমিক্যাল এন্ড ফুড টেকনিক্যাল বিভাগের ইন্সট্রাকটর এ এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বি-সেপ প্রকল্পের অর্থায়নে ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং বিষয়ক ২০ জনের প্রশিক্ষণ চলছে । এছাড়াও শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মত উদ্যোগতাদের জন্য সার্টিফিকেট ( NTVQF) সার্টিফিকেট প্রদানের লক্ষে আরফিএল পদ্ধতি এই প্রশিক্ষণ করানো হচ্ছে।
যেকোন বেকারকে যদি কর্ম উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় তাহলে যেকোন লোক বেকার কিংবা অদক্ষ থাকবে না। এতে করে সম্ভাবনা তৈরি হবে । এই কোর্স বাংলাদেশে প্রথম। এই ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থী মোহাম্মদ কাউছার বলেন, ‘আমি রূপসী বাংলায় গেস্ট সার্ভিসে কাজ করি। তাই ফুড সেইফটি এন্ড হাইজিং কোর্স করতে আসছি। একজন গেস্টকে কীভাবে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে সে ব্যাপারে এই এখানে শেখানো হচ্ছে।এতে করে ভালো সেবা দিতে পারবো।’
নাজিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমি কেটারিং সার্ভিস করি। এই কোর্সে খাদ্যকে কত তাপমাত্রায় ভালো রাখতে হয়, ভোক্তাদের কাছে কীভাবে সতেজ খাবার পৌঁছে দিতে হয় সে ব্যাপারে এখানে হাতে কলমে শেখানো হয়।’

এমজে/