সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ৮২, আহত ৫০
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১১:১৭ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া খনির ভেতরে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
স্থানীয়ভাবে ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকা থাকতে পারেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পশ্চিম করদোফানের আল-জারা এলাকায় মঙ্গলবার খনিটির কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। তখন সেখানে কয়েক ডজন ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শ্রমিক কাজ করছিলেন। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একজন জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিক জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে রাতভর তাঁরা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। তবে খনির ভেতরে ঠিক কতজন আটকা রয়েছেন, তা তাঁরা নিশ্চিত নন।
উদ্ধারে স্বর্ণ উত্তোলনে ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জামই কাজে লাগানো হচ্ছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, পাথর ও মাটি সরিয়ে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
সুদানে স্বর্ণ উত্তোলনের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনির ওপর নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত খনি বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকা এলাকায় শ্রমিকেরা কাজ করেন।
দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ জীবিকার জন্য এসব ঝুঁকিপূর্ণ খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সামান্য মজুরির বিনিময়ে হাতে থাকা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই তাঁরা স্বর্ণ আহরণের কাজ করেন।
স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাত করার সময় শ্রমিকদের পারদ ও সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও রয়েছে। এসব অনিয়ন্ত্রিত খনি ঘিরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে।
সুদানে খনি ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গগুলোতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। আয়-রোজগারের আশায় অনেক তরুণ এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেন।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর করদোফান এলাকায়ও বহু অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণখনি রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে এসব স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদগুলোর একটি স্বর্ণ। চলমান সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও স্বর্ণের বাণিজ্যের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুদান আফ্রিকার অন্যতম বড় স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত স্বর্ণের বড় একটি অংশ অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়।
খনি খাতের সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগেও সুদানে ২০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষুদ্র ও কারিগরি স্বর্ণখনির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি
