ঢাকা, রবিবার   ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৪ ১৪৩৩

৮ আগস্টকে ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব দিবস’ ঘোষণা করে ৬ দফা দাবি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৪৩ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

৮ আগস্টকে ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে গণবিপ্লবী উদ্যোগ। সংগঠনটির দাবি, দুই বছর আগে এই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছালেও, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের পরিবর্তে পুরোনো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগানো হয়নি। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কেবল ক্ষমতার হাতবদল ঘটানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ঐক্যমত্য কমিশনের আলোচনার পরিধি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সংগঠনটির দাবি, অভ্যুত্থানের পর গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন ও জনপ্রশাসন—এই ছয়টি কমিশনের সুপারিশ নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। শ্রম, নারী, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আলোচনার টেবিলে আসেনি বলেও দাবি করা হয়।

গণবিপ্লবী উদ্যোগের মতে, শ্রমিক, নারী, স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংস্কার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে গেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানকালীন সময়ে জনস্বার্থে পাস হওয়া কিছু অধ্যাদেশ পরবর্তীতে বাতিল এবং রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত পুরোনো পুলিশ কাঠামোর হাতেই রাখার বিষয়েও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও ঔষধ খাতের বর্তমান সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়। এসব খাতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়াকে বর্তমান সংকটের সঙ্গে যুক্ত করে সংগঠনটি দাবি করে, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলো যেন মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না যায় এবং জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

গণবিপ্লবী উদ্যোগ বলছে, শুধু একটি সরকারের পতন নয়, একটি নতুন সংবিধানের মাধ্যমে জনমুখী রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত ছিল গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।

বিবৃতিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রম, নারী, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত আলোচনায় এনে বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ; অভ্যুত্থানকালীন পাস হওয়া বাতিল অধ্যাদেশগুলোর তালিকা ও কারণ প্রকাশ; রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তদন্ত পুলিশের পরিবর্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাঠামোর হাতে দেওয়া; জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ঔষধ খাতে বেসরকারিকরণ বা মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করা।

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সংস্কারের অসমাপ্ত অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্য পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতির শেষাংশে গণবিপ্লবী উদ্যোগ বলেছে, ৮ আগস্টের ঘটনাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের অসমাপ্ত লক্ষ্য—একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন—এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণকে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।