কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:২২ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমন নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। তাঁর কাছে মুঠোফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল যন্ত্র ছিল না। এ ছাড়া আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে সময় লেগেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে বসবাস করতেন। যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তিনি চালাতেন, সেটির মালিক বাগমারা এলাকার মনির হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তাজমিনের বাবার নাম আব্দুল আলিম। তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা এলাকায়। তিনি রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। এরপর তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। একই রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন। তবে সে সময় ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
পরদিন সকালে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এমএইচ
