ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধামন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১১:০৩ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১১:০৮ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যেখানে মানুষের ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন, সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে এবার উৎসবের আনন্দ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। মতবিনিময়কালে প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যতটুকু করা সম্ভব, তার সবটুকুই করা হবে এবং তাঁদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে এবং আসন্ন কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা উপহার দেন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার জন্য ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৪ কোটি টাকা চাওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেন।
একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের অর্থ জেলা প্রশাসন ও ট্রাস্টের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ এই অনুদান বৃদ্ধির জন্য প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উক্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এমএইচ
