নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৫১ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।
অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
আর খালাস পেয়েছেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট দুজনের সাজা বহাল রেখেছেন, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেছেন এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, খালাস পাওয়া ১০ আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে হাইকোর্ট মনে করেছে। ফলে তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ে নিম্ন আদালতে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার আসামিদের পৃথক ভূমিকা ও দায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তকে ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে ওই বিচারককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। ওই মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে নুসরাতের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় ৮৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগে ৬১ কার্যদিবস। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করে আদালত। রায়ে মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়। সেই প্রক্রিয়ার পর হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা যাবজ্জীবনে পরিবর্তন এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। মঙ্গলবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ লিখিত কপি প্রকাশ করা হলো।
এমএইচ
