বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের নতুন সুখবর
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:১১ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১০:১৪ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ রবিবার
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, তরুণ কর্মশক্তি এবং অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং। তিনি বলেছেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রস্তুত। একই সঙ্গে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।
রোববার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: আস্থা বৃদ্ধি ও নতুন দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লি শাও ফেং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সফরের সময় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে।
বাংলাদেশের তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে চীনা কালচারাল কাউন্সেলর বলেন, সাম্প্রতিক সফরে চীনা ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।
তিনি জানান, চীনা সরকারের বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চীনা ভাষা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার সহযোগিতাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
লি শাও ফেং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা এখন আর শুধু বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিনিয়োগ, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে সম্ভাব্য চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আসবে।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব উন্নয়ন পথের প্রতি সম্মান জানায়। বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা কোনো রাজনৈতিক শর্ত বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং উভয়ের লাভের নীতিতে পরিচালিত হয়।
বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লি শাও ফেং বলেন, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে।
