ঢাকা, সোমবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ৩০ ১৪৩২

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান হচ্ছেন সুসান কয়েল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৩০ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল আগামী জুলাই থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েলকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী জুলাই মাসে তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বর্তমানে কোয়েল জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন কোয়েল। বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাই থেকে আমরা সেনাবাহিনীর প্রথম নারী প্রধানকে পাবো। এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস কোয়েলের এই নিয়োগকে ‘যুগান্তকারী ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া ৫৫ বছর বয়সী কোয়েল দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী (এডিএফ) বর্তমানে তাদের অফিসার পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোয়েলকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এডিএফে প্রায় ২১ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী পরিকল্পিত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমআর//