সৌদিতে গ্রেপ্তারের আগে যে আক্ষেপের কথা লিখেছিলেন নজরুল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০২:২১ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুল ইসলাম মাহিন। সে পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু প্রবাসজীবনের শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন ও স্বপ্নের কথা নিয়মিত নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে তুলে ধরতেন তিনি।
পরিবারের সুখ আর একটু স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর তিন বছর তিন মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও অপর বাংলাদেশি সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার।
মক্কায় নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর তার পুরোনো ফেসবুক পোস্টগুলো ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয় মধ্যবিত্ত সন্তানদের’- গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২০২৩ সালের ৩ মে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন আক্ষেপের কথাই লিখেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম মাহিন।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই দুশ্চিন্তা আর দূর করা হলো না তার।
নজরুল ইসলাম মাহিন নামের ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, প্রবাসজীবনের শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন ও স্বপ্নের কথা নিয়মিত তুলে ধরতেন তিনি।
সৌদি আরবে যাওয়ার কিছুদিন পর, ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভাব নেয়াটা আমাকে মানায় নাহ, কারণ আমি মধ্যবিত্ত।’ এরপর ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা একটি ছবি দিয়ে লেখেন, ‘পকেটে টাকা থাকলে তোমরা দুনিয়া কিনতে পারবে।’
পরবর্তী সময়ে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাবা শরিফের সামনে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ক্লিনার মক্কা হেরাম শরিফ।’
তার ওই পোস্টে হাজারো মানুষ শোক ও সমবেদনা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘গুড বাই বাংলাদেশ’। সবাইকে অনেক মনে পড়ছে, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর যেন মুহূর্তেই অন্ধকার নামিয়ে এনেছে মা রহিমা বেগমের জীবনে। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি থাকার পরও প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন নজরুল। সেই কথোপকথনই ছিল মা-বাবার সান্ত্বনা। কিন্তু হঠাৎ করেই সব শেষ হয়ে যায়। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
গণমাধ্যমের খবর থেকে প্রথমে ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাঁরা; শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনেরা।
এএইচ
