ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ৩০ ১৪২৬

জীবনে প্রতিটি প্রতিকূলতাই একেকটি সুযোগ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৪৭ পিএম, ১১ মে ২০১৯ শনিবার

আদিব হাসান। পেশায় একজন চিকিৎসক। ২০১০ সালে দুপায়ে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তার। ফলে হুইল চেয়ারে প্রতিনিয়ত নিত্যসঙ্গী হয়। শরীরে সার্বক্ষণিক সঙ্গী হলো অসহনীয় ব্যথা। বিভিন্ন ওষুধেও যখন কাজ হচ্ছিল না, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্যে তখন তার শরীরে ব্যথানাশক একটি পাম্প বসিয়ে দিলেন চিকিৎসকরা। সাজানো জীবন থেকে হঠাৎ এই ছন্দপতনে তিনি থেমে যাননি। চিকিৎসক স্ত্রী নাফিসা আক্তার ও পরিবারের উৎসাহে শুরু করেছেন নতুন করে পথচলা।

দুরারোগ্য ব্যাধির সাথে যুদ্ধ করে আদিব হাসান শুধু জয়ী-ই হননি, এখন তিনি পুরোদস্তুর কাজ করছেন চিকিৎসক হিসেবে, সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ মানুষদের। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত কোয়ান্টাম মেথডের ৮৭তম পর্বের মুক্ত আলোচনায় অতিথি ছিলেন এই চিকিৎসক দম্পতি।

নিজেদের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে ডা. আদিব হাসান ও ডা. নাফিসা আক্তার বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে একটা শক্তি রয়েছে। অনেক সময় পারিপার্শ্বিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। জীবনের অংশ হিসেবেই থাকে ভোগান্তি। তখন ভেতরের সেই শক্তি আমাদের সাহায্য করে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে।

আমাদের তখন মনে হয়, জীবনে প্রতিটি প্রতিকূলতাই একেকটি সুযোগ। আমরা বিশ্বাস করি, স্রষ্টার রয়েছে এক মহাপরিকল্পনা। আমরা স্রষ্টার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি যে, স্রষ্টা তার পছন্দনীয় মানুষদের জীবনে প্রতিকূলতা দেন। প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা আরও যোগ্য হয়ে উঠি। তাই জীবন আসলে স্রষ্টার পক্ষ থেকে একটি সুন্দর উপহার।

খোলামেলা আলাপচারিতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এবারের পর্বটি সঞ্চালনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

চিকিৎসক দম্পতি আরও বলেন, আমাদের সুযোগ হয়েছে রোগী এবং চিকিৎসক দুদিক থেকেই জীবনটাকে দেখার। আমরা মনে করি, জীবনটা আরও সুন্দর হতে পারে যদি আমরা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করি এবং যদি একে অপরকে সাহায্য করতে পারি। সমাজে আমরা যারা সুস্থ আছি, তাদের সহযোগিতা ও সমানুভূতিশীল আচরণ অসুস্থদের জীবনকে আরও সহজ করতে পারে। যেমন-আমরা রাস্তা বানানোর সময় সেই ব্যবস্থা রাখতে পারি, যাতে হুইল চেয়ারে একজন রাস্তা পার হতে পারেন। বাড়ি বানানোর সময় খেয়াল রাখতে পারি, একজন অসুস্থ ব্যক্তিও যেন নিজেই হুইল চেয়ারের সাহায্যে টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন। একটা রেস্টুরেন্টে এমন ব্যবস্থা রাখতে পারি, যেন হুইল চেয়ারে চলাচল করেন এমন একজন স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারেন।

তারা আরও বলেন,পৃথিবীতে সমস্যা আছে, ভোগান্তি আছে, নিষ্ঠুরতা আছে, কিন্তু ভালোবাসার পরিমানটাই বেশি। আজ আমরা যেভাবে স্থিতিশীল ও কর্মময় একটা জীবনযাপন করছি, তাও সম্ভব হয়েছে পরিবার-পরিজন ও কাছের মানুষগুলোর অকৃত্রিম ভালবাসা ও সহযোগিতার কারণেই।

আই/কেআই