ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

কখন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়

অধ্যাপক ডা. মামুন অাল মাহতাব (স্বপ্নীল) :

প্রকাশিত : ০৬:৩২ পিএম, ১৫ মে ২০১৯ বুধবার

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন সাধারণত লিভার সিরোসিস রোগীদের করা হয়, যাদের লিভার ফেইলিউর হয়ে যায়। যখন কোন লিভার সিরোসিস রোগীর পেটে পানি আসে, জন্ডিস দেখা দেয়, রক্ত বমি হয়, অসংলগ্ন কথা বলে- এই চারটির কোন একটি হলে আমরা বুঝি তার লিভার ফেইলিউর হয়েছে। তখন তার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার ভাইরাস হেপাটাইটিস- এ বা ই ভাইরাস থেকে বা গাছ গাছড়ার ওষুধ খেয়ে লিভার ফেইল করলেও আমরা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য বলি।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রসঙ্গ অাসলেই অাসে লিভার ডোনেটের কথা। অনেকেই একটি প্রশ্ন করে থাকেন। লিভার যেহেতু একটি তাই কীভাবে ডোনেট করবে?

আসলে হয়তো অনেই জানেন না যে- লিভার বৃদ্ধি পায়। সাধারণত একজন ডোনারের একটি লিভারের তিনভাগের একভাগ কেটে নিয়ে রোগীকে লাগিয়ে দেওয়া হয়। যার শরীরে লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে তার আগের লিভারটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রক্তের গ্রুপে মিল থাকলে হয়। যিনি লিভার ডোনেট করে থাকেন তিনি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন। আর যার শরীরে লিভার প্রতিস্থাপন হয় তিনি মাস দুয়েকের মধ্যে পরিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন।  

ভারতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর জন্য প্রতি বছর চাহিদা হচ্ছে ২৫ হাজার লোকের। সেখানে তারা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করছে আড়াই হাজার লোকের। অর্থাৎ তারাও সেক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। ফলে আমরা যখন শুরু করব, তাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে। এখনো তো আমরা রক্তেই স্বয়ংসম্পূর্ণ না। অর্থাৎ আমাদের এমন একটা জায়গায় যেতে হবে যেখানে আমাদের আর ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হবে না। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেভাবে উন্নত হচ্ছে তাতে আশা করা যাচ্ছে আগামী এক দশকের মধ্যে ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। হয়তো আমরা ট্রান্সপ্ল্যান্টে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছি। কিন্তু স্টেম সেল থেরাপীতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছি। সেই দিক থেকে বলতে পারি এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাব। অন্য দেশের রোগীরা এদেশে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসবে।    

(লেখক: অধ্যাপক ডা. মামুন অাল মাহতাব, চেয়ারম্যান, হেপাটোলজী বিভাগ, বিএসএমএমইউ।)

আআ/এসএ/