ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ২ ১৪২৬

অপবাদ ও অপপ্রচার নিয়ে কোরআনের বাণী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৪৪ পিএম, ১৬ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

এক জীবনে যা চাই, তার সবই সাজানো রয়েছে কোরআনের পরতে পরতে। সুস্থ সুন্দর সুখী পরিতৃপ্ত জীবনের জন্য যা প্রয়োজন, পাতায় পাতায় রয়েছে তারই দিক-নির্দেশনা। এর পাশাপাশি মানুষের ভেতরের খারাপ দিকগুলোর জন্য শাস্তি ঘোষণা এসেছে। এসব পরিত্রাণের উপায়ও বলে দিয়েছে। এ পর্যায়ে অপবাদ ও অপপ্রচার নিয়ে কোরআন যা বলছে তা হলো -

‘আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর বদলে অন্য স্ত্রী গ্রহণের সিদ্ধান্ত নাও এবং প্রথম স্ত্রীকে প্রচুর অর্থবিত্ত দিয়ে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নেবে না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ বা জুলমের মাধ্যমে তা ফেরত নেবে?’ (সূরা নিসা ২০)

‘(হে মানুষ শুনে রাখো) কেউ কোন অন্যায় বা পাপ করে পরে তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দিলে, মিথ্যা অপবাদের দায়ভার মুক্ত হয়ে তার পাপের বোঝা আরও ভারী হবে।’ (সূরা নিসা ১১২)

‘দুঃখকষ্টের পর যখনই সত্য অস্বীকারকারীদের কিছুটা অনুগ্রহ আস্বাদনের সুযোগ দেয়া হয়, তখনই ওরা আমার বাণীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। হে নবী! ওদের বলো, আল্লাহ পরিকল্পিত কৌশল অবলম্বনে (তোমাদের চেয়ে) অনেক অগ্রগামী। (নিশ্চিত থাকো) তোমাদের চক্রান্ত ও অপপ্রচারের পূর্ণ বিবরণ ফেরেশতারা রেকর্ড করছে।’ (সূরা ইউনুস ২১)

‘আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। তাঁর কোন শরিক নেই। যদি শরিক থাকত তবে প্রত্যেক শরিক উপাস্য নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং একে অন্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইয়ে নেমে যেত (আর সৃষ্টির বারোটা বাজত)। ওদের অপবাদ থেকে আল্লাহ পবিত্র, মহান!’ (সূরা মুমিনুন ৯১)

‘যারা বিনা দোষে বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝায় ভারাক্রান্ত হবে।’ (সূরা আহজাব ৫৮)

‘হে নবী! বিশ্বাসী নারীরা যখন তোমার কাছে বায়াত বা আনুগত্যের শপথ করতে এসে ঘোষণা করে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, সজ্ঞানে কোন মিথ্যা অপবাদ রটাবে না এবং ঘোষিত ন্যায্য বিষয়ে তোমার নির্দেশ অমান্য করবে না, তখন তাদর বায়াত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আল্লাহ তো অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা মুমতাহানা ১২)

অপবাদ যাদের কলঙ্কিত করতে পারে না : ‘চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষের যোগ্য আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীর যোগ্য। চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের যোগ্য আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর যোগ্য। কোন মিথ্যা অপবাদই চরিত্রবানদের কলঙ্কিত করতে পারে না। এদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবনোপকরণ।’ (সূরা নূর ২৬)

অপবাদ রটনাকারীর শাস্তি : ‘কোন পূতচরিত্রা নারীর বিরুদ্ধে কেউ (ব্যভিচারের) অপবাদ দিয়ে যদি চার জন সাক্ষী উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে অপবাদ রটনাকারীকে শাস্তি হিসেবে ৮০ বেত মারবে। আর কোনদিন তার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। এরা সত্যত্যাগী।’ (সূরা নূর ৪)

‘যারা চরিত্রহীনতার মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তা তোমাদেরই একটি দল। (কিন্তু এই অপবাদে যাদের ওপর অন্যায় করা হয়েছে) তারা যেন নিজেদের জন্যে বিষয়টিকে ক্ষতিকর মনে না করে। বরং এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। (অপবাদ রটনাকারী) প্রত্যেককেই এ পাপের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এদের মধ্যে যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন আজাব।’ (সূরা নূর ১১)

‘মুনাফেক, রুগ্নমনা ও মিথ্যা গুজব রটনাকারীরা শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কাজ থেকে বিরত না হলে আমি ওদের ওপর তোমাকে কর্তৃত্ব দান করব। তারপর (হে নবী!) খুব অল্প সময়ই ওরা এই নগরে তোমার প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে পারবে। অভিশপ্ত অবস্থায় ওদের যেখানে পাওয়া যাবে, পাকড়াও ও বিনাশ করা হবে।’ (সূরা আহজাব ৬০-৬১)

অতএব অপবাদ ও অপপ্রচার থেকে দূরে থাকি, নিজের কল্যাণ সাধিত হবে।

এএইচ/