ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬

বিএনপির হাল ধরছেন মান্না!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:৪৩ পিএম, ১৯ মে ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ০২:১৫ পিএম, ১৯ মে ২০১৯ রবিবার

রাজনৈতিক কৌশলে পুরোপুরি ব্যর্থ দেশের অন্যতম শীর্ষ দল বিএনপি। সেই এক এগারোর পর থেকে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলটিকে তলানিতে এনে ঠেকিয়েছে। সর্ব শেষ জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টে যোগদিয়ে ভয়াবহ রকমের পরাজয় দলটিকে আরও পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এক কথায় শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়ে অন্তর্কোন্দল, দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আনার ব্যর্থতা ও কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে কর্মী ও নেতৃবৃন্দরা। এ অবস্থায় ভিন্ন নেতৃত্ব খুঁজছে দলটি। শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতা দেখে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এখন হাঁটছেন ভিন্ন কৌশলে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। তার মধ্যে বগুড়া-৬ আসনটি ছিল অন্যতম। এ আসন থেকে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভোট করে জয়ী হয়ে আসছিলেন। একাদশ নির্বাচনে খালেদা জিয়া ভোট করতে না পারায় দলে পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া হয় টিকিট। বগুড়াবাসী শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ওই আসনে মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। কিন্তু দেশ ব্যাপী চরম পরাজয়ের পর শুরুতে ভোট বর্জন, সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তিতে বিএনপির ৫ সংসদ সদস্য শপথ নেয়। কিন্তু শপথ নেননি মির্জা ফখরুল। ফলে নির্ধারিত সময়ে মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এখন সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিএনপি কি আবারও অংশ নেবে? এমন প্রশ্ন ছিল সর্ব মহলে। যদি অংশ নেয় তবে কে হবে সেখান থেকে প্রার্থী? কেন্দ্রীয় না কি স্থানীয়- কোন পর্যায়ের নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা নিয়েও দলের ভেতর ও বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন।

এ অবস্থায় বিএনপি বেশ কিছু বিকল্প চিন্তা করে রেখেছে। আসনটিতে নতুন করে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি বেশ সজাগ। এমন কাউকে দলের টিকিট দিতে চায় যিনি জয়ী হয়ে আসতে পারবেন। সেই সঙ্গে সংসদে গিয়ে জোরালো ভূমিকাও রাখতে পারেন।

এ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি নাম বিবেচনায় রেখেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার পাশাপাশি সমমনা দলের নেতাদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নামটি।

কারণ মান্না বগুড়ার সন্তান, সেখানে তার একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। মান্নার একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য আছে, তিনি ডাকসুর সাবেক দুইবারের ভিপি। গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। সর্বপরি তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আয়োজিত সভা-সমাবেশগুলোতে বেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাই মান্নাকেই পছন্দ বিএনপির।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এমন নেতাকে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে, যিনি সংসদে শক্তভাবে কথা বলতে পারবেন। বিএনপির বাকি সংসদ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

এমন চিন্তা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হতে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি কঠিন শর্তও দেয়া হয়েছে তাকে। মান্না যদি নিজের দল (নাগরিক ঐক্য) ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন, তা হলেই তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। তার নিজ দল থেকে নির্বাচন করলে বিএনপি এতে সমর্থন দেবে না।

তবে মান্নার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, দল ত্যাগ করে তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। তা ছাড়া নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে তার। এ ছাড়া একাদশ সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যদের যোগ দেয়ার সমালোচকও তিনি।

এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আমি নির্বাচন করতে চাই না, করব না।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে চিকিৎসার জন্য রয়েছেন ব্যাংককে। আগামীকাল সোমবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

তবে হাইকমান্ড অর্থাৎ তারেক জিয়ারও পছন্দ মান্না। কারণ দলের এই চরম মুহুর্তে মান্নার মত নেতাকে যদি দলে ঢুকানো যায় তবে বিএনপি শক্তি পাবে। সংসদে গিয়ে শক্তভাবে কথা বলার মত তাই তার বিকল্প দেখছে না বিএনপি।

তবে বিএনপির অন্য একটি মহল বলছে ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য জাতীয় নির্বাচনের মত নতুন করে কোন ভুল করতে যাচ্ছে নাতো বিএনপি। কারণ মান্নাকে যদি নেতৃত্বে আনা হয় তবে এতো দিনের ত্যাগী নেতারা হয়তো মনোকষ্টে ভুগবেন। ফলে অন্তর্কোন্দল আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।

যদিও লন্ডন বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বগুড়া-৬ আসনে মান্নাকে প্রার্থী করতে চাচ্ছেন। আর তার নির্দেশনায়ই সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মান্নাকে ওই প্রস্তাব দিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয় কার কথা কে রাখেন, আর কোন পথে যায় বিএনপি ও মান্না।

এসএ/