ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৮ ১৪২৬

সরকারের খসড়ার দ্বিগুণ বিকল্প বাজেট অর্থনীতি সমিতির

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:১২ পিএম, ২৫ মে ২০১৯ শনিবার | আপডেট: ০৫:১৫ পিএম, ২৫ মে ২০১৯ শনিবার

আসন্ন অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য সরকারের খসড়া বাজেটের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আকারের বিকল্প বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কোটি টাকা। সরকার ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট দিতে যাচ্ছে।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৯-২০’ তুলে ধরা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বিকল্প বাজেটের প্রস্তাবনা দিয়ে আসছে সংগঠনটি।

সমিতির সভাপতি অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদদের পেশাদার এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ ও সমিতির সদস্যরা।

সমিতির প্রস্তাবিত বাজেট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকা। সরকারের সম্ভাব্য বাজেট ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ কর (আয়কর) ৬৯ শতাংশ ও পরোক্ষ কর (ভ্যাট) ৩১ শতাংশ হবে। অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশ যোগান হবে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে। এ বাজেট পুরোপুরি বৈদেশিক ঋণমুক্ত।

ড. বারকাত বলেন, আমাদের বাজেটে রাজস্ব আয়ের জন্য ২০টি নতুন উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো আগে ছিল না। এর মধ্যে তিনটি উৎস থেকেই সরকার ৯৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করবে। উৎস তিনটি হলো সম্পদ কর, কালো টাকা উদ্ধার ও অর্থপাচার রোধ। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রত্যেক বছর তিনটি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব।

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট পুরোপুরি বৈদেশিক ঋণমুক্ত। বিদেশি অর্থায়নের দরকার হবে না। প্রস্তাব মতো বাজেটের আয় কাঠামোতে মৌলিক গুণগত রূপান্তর ঘটবে। সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। কেউ বলতে পারেন এ ঘাটতি অনেক বড়। এ ব্যাপারে বলব, জাপানে বাজেট ঘাটতি প্রায় ২৫৬ শতাংশ। ঘাটতি বাজেটে সমস্যা হলে কোনও ঘাটতি না রেখে প্রস্তাবিত রাজস্ব আয় দিয়েও মোট বাজেট প্রস্তুত করতে পারেন। বর্তমানে উন্নত দেশের প্রায় সবাই ১৯৩০-১৯৭০ দশক পর্যন্ত উন্নতি করেছিল। সেসময় তাদের সবারই সরকারি ব্যয় বরাদ্দ ছিল বেশ বেশি, বেশি ছিল প্রবৃদ্ধির হারও।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাতওয়ারি সর্বোচ্চ মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে। এরপর জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যখাত, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাত। অন্য খাতগুলো হলো- কৃষি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস, জনশৃঙ্খলা-নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা।

খেলাপী ঋণ প্রসঙ্গে আবুল বারকাত প্রস্তাব করেন, অভ্যাসগত ঋণখেলাপীদের মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, তাদের উদ্যমে চালু শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হবে না। সমস্যাটি জটিল তবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি অর্থমন্ত্রী হলেও এ বাজেটই হতো। সমিতির কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতোটুকু সন্তুষ্ট এমন প্রশ্নে বারকাত বলেন, কিছু বিষয়ে অপ্রিয় হলেও প্রধানমন্ত্রী বাধা দেন না। অনেক কিছুই তিনি গ্রহণ করেন। ভাবনার বিষয়গুলো নেন, ওগুলো তিনি ভাবেন। কিন্তু সেটি সব সময় গ্রহণ করতে পারেন না। কেউ কেউ সব প্রস্তাব গ্রহণ করতে দেন না।

আরকে//