ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬

দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিন : প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ৬ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:৩৭ পিএম, ৬ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিএনপি-জামাত জোট বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে এর সমুচিত জবাব দিতে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ ও ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগ হেলসিংকির হোটেল কেম্পে  এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে, নানা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তাই প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উচিৎ হবে, এর সমুচিৎ জবাব দেওয়া।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাংলাদেশে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা বিশ্বের দরবারে মেলে ধরার জন্যও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিন দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টার কারণে ঈদযাত্রায় কোনো সমস্যা হয়নি।

বিএনপি-জামায়াত তাদের বিদেশে পাচার করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের দ্বারা বিত্তশালী হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই অর্থের সাহায্যে তারা বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র বিদেশীদের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন,‘যারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সফল হবেন তাদেরকে দলে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।’

শেখ হাসিনা যে যেখানে বসবাস করছেন সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি পরামর্শ দেন।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দের সঙ্গে বলেন, লাখ লাখ মানুষ তাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আপনজনের সঙ্গে নিরাপদে পবিত্র ঈদ উদযাপন করেছে।

তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রায় জনগণ প্রায় যানজট মুক্ত পরিবেশে রাস্তায় চলাচল করেছে, একইসঙ্গে রেলপথ, নদীপথ এবং আকাশ পথেও তাদের চলাচলের সুবন্দোবস্ত ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং জনগণ যার সুফল পেতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি- কেননা জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবনই বিপন্ন জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষতায় এসে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত করে, কিন্তু এরপরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আবার ক্ষমতায় এলে দেশটি পুনরায় খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে অন্যদেশের কাছে বিক্রি করে দেয়ার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

বিএনপি-জামায়াতের সেই সরকারের সময় দেশের নিয়ন্ত্রণহীন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ তখন বিশ্বে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যম্পিয়ন হয়েছিল।’

তিনি বলেন, বিএনপি-জাময়াতের সেই দুঃশাসন এবং অপকর্মের জন্যই পরবর্তীতে এক এগারোর সৃষ্টি হয় এবং দেশে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী সেই তত্ত্বাবধায়কের আমলে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গত ১০ বছরে বাংলাদেশ চমকপ্রদ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে যা বহিঃবিশ্বে দুর্ভিক্ষ, ঘুর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অতীত পরিচয়কে মুছে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।’

তাঁর সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোন একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, কেউ গৃহহীন থাকবে না।

দেশবাসীর কর্মসংস্থান এবং দেশের শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের দেশব্যাপী একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক জাপান সফরকালীন চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট এসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরের প্রসংগ তুলে ধরে বলেন, ‘এটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

‘এছাড়া, সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরে পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে তাঁর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়,’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ এবং ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আলী রমজান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ফিনল্যান্ড এবং নরওয়ের প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে একটি কনসুলেট অফিস খোলার প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এমএইচ/