ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৮ ১৪২৬

ডিআইজি মিজান গ্রেফতার হচ্ছেন না কেন?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:১০ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ১০:১৮ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯ রবিবার

নানা ঘটনায় আলোচিত পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। আদালত দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ডিআইজি মিজান এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? সে কি দুদকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?’

রোববার (১৬ জুন) হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আদালতে লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আবদুল মতিন খসরু।

ডিআইজি মিজানুর রহমান ক্ষমতা বলে এক নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতন এবং নানা হুমকির ঘটনায় আলোচনায় আসেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের এখন তদন্ত চালাচ্ছে দুদক।

এর মধ্যে সম্প্রতি দুদকের পরিচালক এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের তথ্য ফাঁস করে ফের আলোচনায় আসেন তিনি।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘুষের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২ মে পর্যন্ত দুই দফায় (প্রথমে ২৫ লাখ, পরে ১৫ লাখ) এই টাকা দেওয়া হয়। লেনদেন হয় রমনা পার্ক ও পুলিশ প্লাজায়। এছাড়া এনামুল বাছির একটি প্রাইভেট কারও চেয়েছেন তার কাছে।

রোববার শুনানী শেষে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, শুনানী চলাকালে আদালত কিছু প্রশ্ন রেখেছে আমার কাছে। তারা বলেন, আপনাদের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো দেশের জন্য এলার্মিং। আমি বলেছি, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন? ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।

খুরশীদ আলম খান বলেন, আমি তখন বলেছি, ঘুষের বিষয়ে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। তারপর অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না।

এ সময় আদালত বলেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। এই মামলায় তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না?

ডিআইজি মিজানের দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়া এবং তদন্তাধীন বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সংবাদ মাধ্যমে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে। অন্যদিকে দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে তথ্য পাচারের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘুষ লেনদেন নিয়ে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

গত বছর এক নারীকে জোর করে বিয়ে করে আলোচনায় আসেন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। এরপর তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয় তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে। ডিআইজি মিজান তদন্ত তার পক্ষে নেওয়ার জন্য এনামুল বাছিরকে ৪০ লক্ষ টাকা ঘুষ দেন।

কিন্তু এনামুল বাছির টাকা নিয়েও যখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দেন তখন ডিআইজি মিজান ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি ফাঁস করে দেন। তিনি দাবি করে বলেন, এনামুল বাছির আমার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চেয়েছেন। আমি তাকে ৪০ লক্ষ টাকা দিয়েছি।

আদালত ঘুষ লেনদেনের এই বিষয়টিকে সামনে এনে রবিবার দুদক আইনজীবীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ডিআইজি মিজান এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? অন্য দিকে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঘুষ দেওয়াও ফৌজদারি অপরাধ।

এসি