ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬

সৎকর্মের প্রতিদান দশ গুণ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:১১ পিএম, ১৮ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

কিয়ামত দিবসে যারা সৎকর্ম নিয়ে আসতে পারবে তাদেরকে আল্লাহ দশগুণ বা তার চেয়েও বেশি পরিমাণ পুরস্কার দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত মেহেরবান। তিনি তার সকল বান্দার মঙ্গল চান। এ জন্য তিনি সৎকর্মের প্রতিদিন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন এবং অসৎকর্মের জন্য যতটুকু পাপ করা হয়েছে ততটুকু শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।

পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন : যে একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে (পরকালে), সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি অসৎকর্ম নিয়ে আসবে সে এটিরও প্রতিফল পাবে। তাদের (অসৎ কর্মশীলদের) ওপর জুলুম করা হবে না। (সূরা আনআম ৬:৬১)

সৎকর্ম সম্পাদন করার পর মনে যদি গর্ব-অহঙ্কার দানা বাঁধে তাহলে তা ত্রুটিযুক্ত হয়ে যাবে। আর সৎকর্ম সম্পাদন করার পর যদি ভালো কাজ করার শক্তি দেবার জন্য স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতায় মন অবনত হয়ে আসে তাহলে সেই সৎকর্ম অক্ষত থাকবে এবং এর মান উন্নত হয়ে যাবে।

যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পরিবর্তে মানুষকে সন্তুষ্ট করা বা মানুষের কাছ থেকে বিনিময় পাবার উদ্দেশ্যে সৎকর্ম করা হয়ে থাকে তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাতে আল্লাহর কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না।

যদি কাউকে আর্থিক, সামাজিক বা শিক্ষাগত অনুগ্রহ (সাহায্য) করার পর খোটা দেয়া হয় তাহলে তাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যদি অসহায় বঞ্চিতদের সেবা দান করার সময় তাদের সম্মান না দেখিয়ে তাচ্ছিল্য করা হয় তাহলে আল্লাহ সে সৎকর্মকে গ্রহণ করবেন না ও ক্ষেত্রভেদে শাস্তি দিবেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহর ঘোষণা: অতঃপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তিনি তাদের পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো বেশি দেবেন কিন্তু যারা হেয় জ্ঞান করে ও অহঙ্কার করে তাদেরকে যন্ত্রণায়ক শাস্তি প্রদান করবেন। আল্লাহ ছাড়া সে বন্ধু বা সাহায্যকারী পাবে না। (সূরা নিসা ৪:১৭৩)

অতএব সৎকর্মের পূর্ণ ও বর্ধিষ্ণু প্রতিদান পেতে হলে আমাদের কিছু নিয়মনীতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে অন্যথায় সব প্রচেষ্টা পণ্ডশ্রম হয়ে যাবে। সৃষ্টির সেবামূলক কাজ যেমন দুস্থ, বঞ্চিত, অসুস্থ, ধূলিমাখা অসহায় অভিভাবকহীন জনগোষ্ঠীকে আমরা যখন সেবা-সাহায্য বা পরামর্শ দান করি তখন আমরা যেন তাদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা, মমতা ও সম্মান প্রদর্শন করি। আমরা মনে রাখবো তারা হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত মেহমান। আমরা যেন তাদেরকে করুণার পাত্র মনে না করি বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করি।

যদি বঞ্চিতদের সেবা করার সময় সামান্যতম তাচ্ছিল্য ভাব আসে তাহলে সৎকর্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ রাগান্বিত হবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ভেতর পড়তে হবে।

কাউকে রক্ত দেবার পর যদি অহঙ্কারে বুক ফুলে ওঠে আর মনে হয় অনেক কিছু করে ফেলেছেন। তবে আপনার সৎকর্মটি অহঙ্কার মিশ্রিত হবার সম্ভবনা থাকে এবং আল্লাহ সৎকর্ম হিসেবে কবুল নাও করতে পারেন। তাই রক্তদান করার পর স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করুন- ‘হে সৃষ্টিকর্তা আমাকে রক্তদান করার যে সুযোগ দিয়েছো সে জন্য তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমাকে সুস্থ রাখো যাতে আমি সব সময় মানুষের কল্যাণে রক্তদান করে যেতে পারি। আমার সৎকর্মকে তুমি কবুল কর।’

যদি কোন নিকটাত্মীয় এতিমকে পড়াশুনার জন্য বা স্বাবলম্বী করার জন্য নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করে থাকেন তাহলে আমি সাহায্য করেছি এ কথা বলে বুক ফুলিয়ে গর্ব করবেন না বা কারো কাছে এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, এমনকি পরবর্তীতে এর বিনিময়ে কোন উপকার নেবার চেষ্টা করবেন না নচেৎ আপনার সৎকর্মটি অর্থহীন হয়ে যাবে। আপনার সাহায্যের কথা গোপন রাখুন এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

যদি কোন ডাক্তার গরিব রোগীকে চিকিৎসা দেবার সময় তাকে হেয় জ্ঞান করেন, রোগীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেন তাহলে তা সৎকর্ম না হয়ে শাস্তির কারণ হবে। একই রোগীকে যদি কোন ডাক্তার সম্মানজনক আচরণের সঙ্গে যত্ন সহকারে রোগী দেখেন ও মমতার স্পর্শে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তা সৎকর্ম বলে গণ্য। হবে।

মোটকথা সৎকর্ম কতটুকু করা হলো তার চেয়ে তা কিভাবে করা হলো, ওই সময় মনের অবস্থা কেমন ছিল আর সৎকর্ম করার পর মনের অবস্থা কেমন হলো এবং যাদেরকে সেবা দান করা হলো তাদের সঙ্গে কি আচরণ করা হলো এসবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাহাড় পরিমাণ সৎকর্ম করেও যদি গর্ব, অহঙ্কার, খোটা ও প্রদর্শনেচ্ছা থেকে বাঁচা না যায় তাহলে কিয়ামতের দিন কৃত সৎকর্মের ওজন একটি মাছির পাখার সমানও হবে না।

আর স্রষ্টার কাছে সমর্পিত হয়ে সঠিক পন্থায় সামান্য সৎকর্ম করলে তা আল্লাহ বৃদ্ধি করে দেবেন ও কিয়ামত দিবসে পাহাড় পরিমাণ সৎকর্ম হিসেবে দৃশ্যমান হবে।

 

তথ্যসূত্র : ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরীর প্রশন্তি ও প্রাচুর্যের সোপান গ্রন্থ।

এএইচ/