ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬

মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের রায় আপাতত বহাল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৫২ এএম, ২৩ জুন ২০১৯ রবিবার

মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নিয়ে সরকারের গেজেট ও পরিপত্র অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। সেই বাতিলাদেশের স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে করা আবেদনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

রোববার স্থগিতের আবেদনে নো অর্ডার দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের আদেশ আপতত বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ওমর সাদাত ও এ বি এম আলতাফ হোসেন।

ওমর সাদাত বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলো। রোববার সে আবেদনের ওপর আপিল বিভাগ নো-অর্ডার আদেশ দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রয়েছে।’

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাস এবং ১৩ বছর নির্ধারণ নিয়ে করা পৃথক ১৫ টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯ মে রোববার এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই রায়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর সংজ্ঞা সংক্রান্ত ২ ধারার ১১ উপধারা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধদের সম্মানি পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা এর সংজ্ঞা ও বয়স নির্ধারণ’ করে গেজেট জারি করা হয় বলে আইনজীবীরা জানান। গেজেটে বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি একটা পরিপত্রের মাধ্যমে সে গেজেট সংশোধন করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১২ বছর ৬ মাস। ওই দুটি গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধার হাইকোর্টে পৃথক পৃথক রিট দায়ের করেন।

১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে-সরকারের জারি করা এমন গেজেট কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

এমএস/