ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬

দাঁতে ব্যথা হলে কী করবেন?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০৬ পিএম, ২৩ জুন ২০১৯ রবিবার

দাঁত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার খেতে এবং কথা বলতে দাঁতের সাহায্য লাগে। তেমনি সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি করে। আমাদের নানা কু’অভ্যাসের জন্য দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর একপর্যায়ে অনুভব হয় ব্যথা। এই ব্যথা ক্রমে তীব্রতর হয় এবং অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ নেয়। অনেক সময় ইনফেকশনও হতে পারে। তবে নিজের সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকতে পারবেন।

দাঁতের ব্যথা নিয়ে ভুক্তভোগীই ভীষণরকম ভীত থাকেন। কারও কথায় এই ব্যথা নাকি মৃত্যুযন্ত্রণার সমান। কেউ বলে, আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়। অনেকের বক্তব্য, দাঁতে যেন সুচ ফোটানো হচ্ছে। তাই দাঁতের ব্যথা নিয়ে প্রতিটি মানুষকে প্রথম থেকেই সচেতন থাকতে হবে। এবার জেনে নিন দাঁত ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা:

দাঁতে গর্ত
সঠিক উপায়ে দাঁত না মাজলে বা খাওয়ার পর ভালো করে মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতের মধ্যে খাবার আটকে থাকতে পারে। সেই খাবার দাঁতের মধ্যে পচে গিয়ে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের ক্যালশিয়ামকে টেনে নেয়। ফলে দাঁতের সেই অংশে গর্ত তৈরি হয়। কিছু দিন পর গর্তটি দাঁতের নার্ভ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেই তৈরি হয় সমস্যা। বাইরে থেকে গর্ত হয়ে রোগ-জীবাণু নার্ভে আক্রমণ করে। দেখা দেয় ইনফ্লামেশন। তখনই শুরু হয়ে যায় অসহ্য যন্ত্রণা।
দাঁতের মধ্যে কালো দাগ হল গর্তের প্রাথমিক লক্ষণ। এই গর্ত নার্ভ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা করানো ভালো। এটাই হল রোগের প্রাথমিক পর্যায়। এক্ষেত্রে দাঁতে ফিলিং করতে হয়। অর্থাৎ দাঁতের গর্তকে নির্দিষ্ট উপায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নানা ধরনের ফিলিং রয়েছে— টেম্পোরারি, সেমি পারমানেন্ট ও পারমানেন্ট। আবার দাঁতের গর্ত স্নায়ুতে পৌঁছে ইনফ্লামেশন তৈরি করলে চিকিৎসা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দাঁত বাঁচানোর একমাত্র পথ হল রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট।

দাঁতে আঘাত লেগে ভাঙা
কোনও কারণে দাঁতে আঘাত লেগে নির্দিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে বা ফ্র্যাকচার হলে নার্ভ এন্ডিং বেরিয়ে আসে। ফলে নার্ভে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নার্ভে সংক্রমণ হলে তীব্র ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এই সমস্যার সমাধানে দাঁতটিকে ক্যাপিং করতে হয়।
অনেক সময় আঘাত লেগে পুরো দাঁতটি উপড়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানসম্মত ভাষায় এর নাম অ্যাভালশন। এক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার মধ্যে সেই নির্দিষ্ট দাঁতটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা ওই দাঁতটিকে পুনরায় সেখানে বসিয়ে দিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে উপড়ে যাওয়া দাঁতটিকে সঙ্গে সঙ্গে সংগ্রহ করে দুধ, ডাবের জল বা মুখের লালার মধ্যে ডুবিয়ে দিতে হবে। এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

দাঁতের গোড়ায় ময়লা জমা
মাড়ি ও দাঁত একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকে। এবার দাঁতের গোড়ায় ময়লা জমলে মাড়ি ও দাঁতের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। একে অপরের থেকে দূরে সরে আসে। ফলে সেই জায়গায় অসংখ্য নার্ভ রুট বেরিয়ে যায়। এই নার্ভ রুটগুলো সংবেদনশীল হয়ে পড়লে মূল নার্ভে সেই বার্তা পৌঁছায়। এর থেকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মাড়ির চিকিৎসা করতে হবে।

হাড়ে ইনফেকশন
প্রাথমিকভাবে দাঁতের ব্যথাকে আমল না দিলে দাঁতের নার্ভের মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক সময় এ থেকে মাড়ির হাড়ে ইনফেকশন হয়। এক্ষেত্রে হাড়ে পুঁজ পর্যন্ত জমে। মুখ ফুলে যায়, জ্বর আসে, তীব্র যন্ত্রণা হয়। এর চিকিৎসা হল রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট। এছাড়াও বর্তমানে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওই মৃত দাঁতটিকে জীবন্ত করে তোলা যায়।
এ ছাড়া দাঁতের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে লবঙ্গ তেল লাগাতে পারেন। চাইলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেটও খেতে পারেন। তবে ব্যথা কমাতে সেঁক দেবেন না। এর ফল হতে পারে উল্টো। এই সমস্যা একদমই জমিয়ে রাখা উচিত নয়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান বর্তমান পত্রিকা।

এএইচ/আরকে