ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬

স্মার্টফোনে চলচ্চিত্র নির্মাণ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:২০ পিএম, ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:১০ পিএম, ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার

সম্প্রতি দেশের অন্যতম ডিজিটাল কন্টেন্ট প্ল্যাটফর্ম আইফ্লিক্সে প্রচারিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘ফেরার গান’। সাফল্যের শিখরে থাকা এক রকস্টারের অকস্মাৎ পতনের গল্প নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ব্যতিক্রম এই জন্যে যে এটির সম্পূর্ণ চিত্রায়ন হয়েছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস১০ প্লাস হ্যান্ডসেটে।

তূলনা অর্থে নয়, তবে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ এর নায়ক চরিত্রে যেমন বাস্তব জগতের সুপারস্টার উত্তম কুমার ছিলেন বলে দর্শক সহজেই মূল গল্পে ঢুকে যেতে পেরেছে, ফেরার গানের ক্ষেত্রেও বাস্তব জীবনের রকস্টার জন কবিরকে দেখে যেন মনে হবে গল্পটা তারই। হয়তো বাস্তব জীবনে রকস্টার বলেই এই চরিত্রে জন কবিরকে অভিনয় করতে হয়নি মোটেই, বরং পুরো সময়টা জুড়েই ছিলো জন এর সাবলীলতার ছাপ। বিশেষ করে কিছ কিছু দৃশ্যে একজন শিল্পীর গাইতে না পারার যে আকুতি, এটি হয়তো জন কবির ছিলেন বলেই এতো নিখুঁত ভাবে ফুটে উঠেছে পর্দায়।

চলচ্চিত্র নির্মাণে নবীন নির্মাতাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতো একান্তই নিজস্ব নির্মাণ পরিচালনা করবার জন্যে। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয় হবার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নির্মিত চলচ্চিত্র প্রকাশের একটা সুযোগ তৈরি হয়। তবে একান্তই পেশাদার কাজের সুযোগ তৈরি হয় বিভিন্ন কন্টেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাড়ায় নির্মাণের চিত্রগ্রহণ, লাইটিং এর মতো খরুচে বিষয়গুলো। এই দিকগুলো বিবেচনায় ফেরার গান রীতিমতো মাইলফলক হয়ে থাকবে দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যে। যোগাযোগের জন্যে প্রতিনিয়ত স্মার্টফোনেই যে সৃষ্টিশীল কিছু নির্মাণ করা সম্ভব এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ করেছেন ফেরার গান এর পরিচালক শাফায়েত মনসুর রানা। হাতে একটা দারুণ স্ক্রিপ্ট আর হাতের নাগালে অভিনয় শিল্পী আর সম্পাদনার কাজের সুবিধা থাকলেই যে কিছু একটা করে দেখানো যায় আর সেই নির্মাণ জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমেও প্রচার হতে পারে পেশাদার কাজ হিসেবে এর সবচেয়ে বড় উদাহারণ এই চলচ্চিত্রটি।

স্মার্টফোনে চলচ্চিত্র নির্মাণ যে চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়াটিই সহজ করেছে এমনটি নয়। এমনকি চলচ্চিত্রে দৃশ্যায়নে স্মার্টফোনের ব্যবহার নির্মাণ খরচ কমিয়ে দেবার মাধ্যমে চিত্রায়ন বাদে অন্যান্য বিষয়ে বেশী বাজেট বরাদ্দ করবার। এছাড়া দুর্গম কোন স্থানে শ্যুটিং এর ক্ষেত্রে লজিস্টিক সমস্যার প্রায় পুরোটাই মিটিয়ে দিতে পারে স্মার্টফোনের ব্যবহার। চলচ্চিত্র হিসেবে ফেরার গান হয়তো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে খুব বড় নাম হয়ে থাকবেনা, কিন্তু এদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ শিল্পে ফেরার গানে যে নির্মাণ বিপ্লব ঘটানো হয়েছে স্মার্টফোন ব্যবহারে, এর মাধ্যমে ‘ফেরার গান’ অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হয়ে থাকবে দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ শিল্পের ইতিহাসে।

এসএ/