ঢাকা, রবিবার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬

বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে ছাত্রকে শিক্ষকের মারধর

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৭:৩১ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নিজ ছাত্রের বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে শ্রেণি কক্ষের মধ্যেই ছাত্রকে মেরে গুরুতর আহত করেছেন শিক্ষক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আদীপুরে রাজবাড়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

জানা যায়, মামুনুর ইসলাম রাজবাড়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র (টিটিসি) ইলেক্ট্রিক ট্রেডে’র নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার মামুনুর শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল এমন সময় শিক্ষক আব্দুর রব তার সহযোগী সাদ্দামসহ কয়েকজনকে নিয়ে কোন কারণ ছাড়াই মামুনুরকে মারধর করেন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার ডান চোখের উপরে ৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক। আহত মামুনুরকে উদ্ধার করার সময় টিটিসি’র অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাহায্য চাওয়া হলেও কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তার সহপাঠীরা। 

মামুনুরের বাবা টিটিসি’র সহকারী ড্রাইভিং গেষ্ট ট্রেইনার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে ইলেক্ট্রিক ট্রেডের শিক্ষক আব্দুর রবের বিরোধ রয়েছে। ইতোপূর্বে আব্দুর রব আমাকে মারধর করার জন্য সন্ত্রাসীদের ভাড়াও করেন।’ তার সঙ্গে বিরোধের জেরে শিক্ষক আব্দুর রব মামুনুরকে মেরেছেন বলে অভিযোগ করে জহুরুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তিনি আমাকে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি।’ 

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, টিটিসি’তে অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে এক শিক্ষক গত ১০ জুলাই জেলাপ্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও প্রদান করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ফাতেমা নারগিসের সঙ্গে ইলেক্ট্রিক শিক্ষক আব্দুর রবের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

ছাত্রকে মারধরের ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সাথে ঐ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ফাতেমা নারগিসের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মহিউদ্দিন জানান, অভিযোগটির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমএস/আরকে