ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬

রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া যাদের কাজ

তবিবুর রহমান 

প্রকাশিত : ০৮:১৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ০৮:২৭ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

মানুষকে ভালোবেসে যতগুলো ভাল কাজ করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদান। দিন দিন স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ছে। এই সব রক্তদাতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করছেন জুবায়ের মাহমুদ (মামুন)।মুমূর্ষ রোগীদের রক্তের প্রয়োজনে তিন বছর আগে ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান ব্লাড ফাউন্ডেশন’ নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলেছিলেন মামুন।যার মাধ্যমে নীরব-নিভৃতে ৩ বছর যাবত আর্তমানবতার সেবায়, মুমূর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে নিরলস কাজ করে চলেছে। এই গ্রুপের বর্তমান সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার। তিন বছরে এই গ্রুপে ২০হাজার ডোনার তৈরি হয়েছে এখন থেকে।

শরীরের রক্ত দিয়ে তারা অন্যের জীবন বাঁচাতে জাগরিত প্রাণ। সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন অভিনব এই ব্লাড ব্যাংক। অন্যের রক্ত যোগাড় করে দেওয়ায় যাদের কাজ। রক্ত কোন ব্যাগে ভরে রাখা হয় না, থাকে ডোনারের শরীরে। আর ডোনারের নাম, ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও ফোন নম্বর লেখা থাকে রেজিষ্ট্রারে। প্রায়োজনেই স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিক বা দেশের যে কোন স্থানে গিয়ে বিনামূল্যে রক্ত দান করেন ডোনাররা। 
আর্তমানবতার সেবায় ২০১৬ সালের শেষের দিকে গ্রুপটি খোলা হয়। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জুবায়ের মাহমুদ (মামুন) এর সঙ্গে কথা হয় একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদকের।তিনি বলেন, তার বাবা তিন বছর আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে হার্ট জড়িত সমস্যার নিয়ে ভর্তি হয়। তার বাবার জন্য রক্তের প্রয়োজন ছিল। তখন রক্তের যোগাড় করতে অনেক কষ্ট ও বেগ পোহাতে হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আর কোন মানুষের পড়তে না হয়। এই চিন্তা মাথায় রেখেই  এই গ্রুপ খোলা হয়। 
গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার পর রক্ত না পাওয়া গেলে, তারা ডোনার লিস্ট থেকে ডোনারদের ফোন দিয়ে রক্তদানের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেন। এইসব রক্তদানে রক্তদাতা ও রক্তগ্রহিতা উভয়েই আমাদের অপরিচিত। রোগীর রক্ত যোগাড়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন নেই।

আমাদের এখানে কেউ ছাত্র, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকুরীজীবী, কেউবা বেকার, সবাই নিজের সময়, অর্থ ও শ্রম দিয়ে শুধু মাত্র আত্মতৃপ্তি আর মনবতার জন্য এই কাজ গুলো করে থাকি। তবে বন্যার্তদের সাহায্য, শীতবস্ত্র ও ঈদে এতিম বাচ্চাদের জন্য আমরা সকলে মিলে সাহায্য দিয়ে ও পরিচিত মহলের সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। জুবায়ের মাহমুদ (মামুন) আরো বলেন, প্রতিদিনই এই প্রুপ থেকে ৩ ০০ থেকে ৪০০ ব্লাড রিকুয়েস্ট আসে। গ্রুপ  থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ডনার জোগাড় করে দেওয়া হয়।

গ্রুপে মূল্য উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, মুলত রক্তের প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের সাথে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের একটি সরাসরি সেতুবন্ধন করে দেয়াই এর কাজ! রক্তের জরুরি প্রয়োজনে কাউকে যেন দিশেহারা হয়ে এদিক সেদিক ছোঁটাছোটি করতে না হয়, অসহায় গরীব মানুষগুলোকে যেন উচ্চমূল্য দিয়ে রক্ত কিনতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই করে দেয়। 

আমরা অনেক সময়ই যে গ্রুপের রক্ত হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই, সেই গ্রুপের কোন রক্তদাতা হয়ত আমাদের আশেপাশেই থাকে, কিন্তু না জানার অভাবে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনা। সেই যোগাযোগটিই করে দেয় ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান ব্লাড ফাউন্ডেশন’!

আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ব্লাড ডোনার আর্কাইভ টিকে ওয়েবসাইটে সীমাবদ্ধ না করে মোবাইল এসএমএস বেইসড করে ফেলা এবং জিপিএস এর ব্যাবহার (ডোনারদের বর্তমান অবস্থান নির্ণয় করা) সহ স্মার্টফোনের এপ্লিকেশনের সাথে একে ইন্টিগ্রেট করা। এতে করে যে কেউ জরুরি প্রয়োজনে, কোন প্রকার ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও তার চারপাশের ডোনারদের তথ্য পেয়ে পাবে।

টিআর/