ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ২ ১৪২৬

থানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে, তদন্ত কমিটি গঠন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫৬ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাবনার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামের এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে শোকজ করে ধর্ষণের মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

পুলিশ সুপার বলেন, সদর থানার যশোদল গ্রামের এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গৌতম কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে পুলিশ। বিকেলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় ধর্ষণ মামলা হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে ওসি ওবাইদুল হককে শোকজ করা হয়েছে। থানা চত্বরে তার এমন কাজ করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে ওই নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অপহরণকারীরা। পরে ওই নারী কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে তিনি বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাসেলকে আটক করে পুলিশ। তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন ওসি ওবাইদুল হক।

এনএস/