ঢাকা, রবিবার   ১২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৭ ১৪২৭

পাবনায় মিশু হত্যার এক বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামী

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা থেকেঃ

প্রকাশিত : ০৯:২৮ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র এসএম মিশকাত আহমেদ মিশু হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যা কান্ডের মূল আসামি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত বছরের ৭ নভেম্বর রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে দূর্বৃত্তরা উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এদিন সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দূর্বৃত্তরা এই এই ঘটনা ঘটায়।  মিশু পাবনা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম মোস্তফার ছেলে। 

পরিবারের অভিযোগ, মিশুকে হত্যা করা হয়েছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে। প্রথমে মিশু হত্যা মামলাটি পাবনা সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে দায় সারা চার্জশীট দাখিল করে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেয়া চার্জশীটের উপর নারাজি পিটিশন দায়ের করা হয়। পরে আদালত অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে মামলাটি পিবিআই’র উপর ন্যাস্ত করে। পরিবারের অভিযোগ মিশু হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে প্রধান আসামী। 

নিহত মিশু’র বাবা সৈয়দ গোলাম মোস্তফা জানান, অজ্ঞাতদের আসামী করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত করে ৬ জনকে এই হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। এই মামলার এক আসামী ইয়াছিন আলী রাহাতকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় সে। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে এই হত্যাকান্ডের সাথে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতা এবং তার সহযোগী তসলিম হোসেন সেতু সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানায়। 

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া রাহাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মোতাবেক তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে আদালতে দাখিলকৃত চার্জশীট থেকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতা ও তার সহযোগী তসলিম হোসেন সেতুর নাম বাদ দিয়ে দেয়। তিনি বলেন, দাখিলকৃত ওই চার্জশীটে আমি নারাজি পিটিশন দায়ের করি। আদালত চার্জশীট দাখিলের এক মাস পর মামলাটি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পাবনাস্থ পিবিআইয়ের উপর ন্যাস্ত করা হয়।    

নিহত মিশকাতের মা লুৎফা শিরিন লুনা আবেগআপ্লুত হয়ে বলেন, মিশু আর ফিরবে না। তবে আমার মিশুকে যারা মেরেছে। সেই সব খুনীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটাই আমার চাওয়া। প্রকৃত আসামীদের যেন মামলা থেকে বাদ দেয়া না হয়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে এটা আমার জোরদাবী।  

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাবনাস্থ পিবিআই কার্যালয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ বলেন, মামলার অগ্রগতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। সমস্ত টেকনিক্যাল বিষয়গুলো এবং পূর্ববতি তদন্ত প্রতিবেদন, জবানবন্দি সকল বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এসআই সবুজ আরো বলেন, মামলার অন্যতম এক আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তি যত বড় ক্ষমতাধরই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

আরকে//