ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬

বিবর্ণ থেকে আজ দিন শুরু করবে বাংলাদেশ 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:২৫ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

প্রথমবারের মত গোলাপি বলে খেলতে নেমে ইন্দোর টেস্টের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে প্রথম ইনিংসের প্রথমদিনেই ক্রিজে দাঁড়াতে পারেনি মুমিনুলরা। 

টপ ও মিডল অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে ফেরার মধ্যদিয়ে মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। গোলাপি বল আর দিবারাত্রির ম্যাচ নিয়ে যে শঙ্কায় ভুগছিলেন টাইগাররা, তা যেন এদিন চেপে বসেছিল তাদের কাঁধে। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সেই গোলাপি বলেই দিন পার করেছে কোহলিরা। প্রথম দিনে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৪। যেখানে ৬৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনে আজ মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।

ফলে, প্রথম টেস্টের ন্যায় এ ম্যাচেও বিবর্ণ থেকে কোহলিদের বিপক্ষে আজ মাঠে নামবে মুশফিকরা।  অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৫৯ ও আজিঙ্কা রাহানে ২৩ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন। 

ইন্দোর টেসে প্রথম ইনিংসে অনুজ্জ্বল ছিলেন বিরাট কোহলি (০)। দ্বিতীয় ইনিংসে সুযোগ থাকলেও নামতেই হয়নি তাকে। প্রথম ম্যাচে ২৪৩ রান করলেও গোলাপি বলের যুগের প্রথম ইনিংসে ১৪ রান করেন মায়াঙ্কা আগারওয়াল।

ক্রিজে থাকায় কোহলি ও রাহানেকে দ্রুত ফেরাতে না পারলে ইন্দোর টেস্টের ফল দেখতে হতে পারে মুমিনুল-মাহমুদুল্লাহদের। 

এদিকে, ইন্দোর টেস্টে আলো ছড়াতে পারলেও, গোলাপি অধ্যায়ে এখনো জ্বলে উঠতে পারেননি আবু জায়েদ রাহী। অবশ্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত ১৪ রানের মাথায় রাহীর বলে বাউন্ডারি হাকাতে গিয়ে আল-আমিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত শর্মা। কিন্তু, সহজ সে ক্যাচ ছেড়ে দেন আল-আমিন। যদিও, বেশিদূর যেতে পারেননি রোহিত। ইবাদাত হোসেনের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ২১ রানে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় ওপেনার। 

এদিন, গোলপি যুগে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম উইকেট তুলে নেন আল-আমিন। মায়াঙ্কা আগারওয়ালকে ফেরান তিনি। আর পুজারা ও রোহিতকে ফিরিয়ে ২ উইকেট ঝুড়িতে জমা করেন ইবাদাত হোসেন।

কলকাতার ইডেনে বাংলাদেশে সময় দুপুর দেড়টায় দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৩ নভেম্বর) মাঠে নামবে উভয় দল। 

এর আগে ইন্দোর টেস্টের মতোই শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ঐতিহাসিক ইডেনে টস জিতে আবারও আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশ অধিনায়কের এ সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হতে বেশি সময় লাগেনি। ১৭ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। শুরুর এই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি সফরকারীরা। 

প্রথমবারের মতো ইডেন গার্ডেনসে ও গোলাপি বলে খেলতে নামা টাইগারদের প্রথম ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ৩০ ওভার তিন বল। যাতে মাত্র ১০৬ রানেই অলআউট হয় মুমিনুল হকরা। যেখানে শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরেছেন মুমিনুল, মিঠুন, মুশফিকসহ চারজন। 

বাংলাদেশের ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানই ছিল ২৯। যা আসে ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিকের ব্যাট থেকে। একপর্যায়ে ৬০ রানে ছয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভালো খেলছিলেন লিটন দাসও। তবে মোহাম্মদ শামির বলে মাথায় আঘাত পেয়ে অবসর নেয়ার পরে ম্যাচ থেকেও ছিটকে যান তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে করেন ২৪ রান। তার বদলি হিসাবে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৮ রান। 

আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে ইশান্তের শিকার হওয়া নাইম হাসানের ব্যাট থেকে। এই তরুণও শামির বলে আঘাত পেয়েছিলেন। তিনিও আর পরে মাঠে নামতে পারেননি। তার বদলি হিসাবে খেলছেন তাইজুল ইসলাম।

ভারতের বোলারদের মধ্যে এদিন ত্রাস ছড়ান পেসাররাই। যাতে জাদেজার একটি মাত্র ওভার ছাড়া হাত ঘোরাতেই হয়নি অশ্বিনের। ফলে টাইগারদের দশটি উইকেটের সবকটিই ভাগাভাগি করে নেন ভারতীয় পেস ত্রয়ী ইশান্ত শর্মা, উমেশ জাদব ও মোহাম্মদ শামি। 

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ত্রাস সৃষ্টি করে ক্যারিয়ারে ষষ্টবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করেন ইশান্ত। বাকি পাঁচ উইকেটের মধ্যে উমেশ তিনটি ও শামি দুটি করে ভাগ করে নেন। 

এআই/