ঢাকা, বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২১ ১৪৩২

১৪ বছরে ২৮৬টি বিয়ে!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১৬ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

বিয়েকে নেশা ও পেশা করে নিয়েছেন যুবক জাকির হোসেন ব্যাপারী। শুধু টাকা কামানো এবং ভোগের জন্য এই পথ বেছে নিয়েছেন। একুশ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন জাকির। এখন তার বয়স পঁয়ত্রিশ চলে। এই ১৪ বছরে প্রতারণার মাধ্যমে ২৮৬টি বিয়ে করেন। দামি দামি পোশাক পরিধান আর পটু কথায় তরুণীদের ভুলিয়ে বিয়ে করতেন। চাকরি বা ব্যবসা না করেও চলাফেরা করেন দামি গাড়িতে। এই চাকচিক্য দেখে জাকিরের প্রতারণায় সহজেই পা দিত মেয়েরা।

রাব্বি নামে সবার কাছে পরিচয় দেন জাকির। তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিত্যপুর থানার দূর্গাপুর। পিতার নাম মৃত মনির হোসেন। আর বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয়েছে এ/পি সেবা ৩৭, আহসান মোল্লা রোড, হোসেন মার্কেট, গাজীপুর সিটি। শুধু বিয়েই করতেন না, গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়েও নিতেন। 

গত বুধবার তেজগাঁও থানায় এক তরুণী প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় তেজগাঁও থানা পুলিশ রাজধানীর মনিপুরি পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে নিলে অকপটে বিয়ে এবং প্রতারণার কথা স্বীকার করেন রাব্বি।

তেজগাঁও থানার ইনচার্জ শামীম অর রশিদ তালুকদার বলেন, রাব্বি একজন প্রতারক। বিয়ে আর প্রতারণার মধ্যে দিয়েই চলছিল রাব্বির জীবন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দিত রাব্বি। সে ২০০৫ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন। এরপর থেকে প্রতিমাসেই একটি করে বিয়ে করতেন। তার বিয়ে করা এক স্ত্রীসহ ( শাপলা বেগম) একটি চক্র আছে। আর নতুন শ্বশুর বাড়ি থেকে নানা কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই হচ্ছে তার মূল ব্যবসা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় নিজেকে অবিবাহিত এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। তাদের মধ্যে অনেককে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর জাকির নববধূর বাসায় থাকতেন এবং কৌশলে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এসব বিয়ের খবর তিনি কোনো স্ত্রীকে জানতে দিতেন না। আবার সবারই গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ওই সব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখাতেন।

তেজগাঁও থানার ওসি আরও জানান, সম্প্রতি ফেসবুকে বিয়ের নামে আরেকটি প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন বাব্বি। অবশ্য এবার তিনি নিজেই ফাঁদে পড়েন, আগেভাগেই প্রতারণার শিকার নারী বুঝে ফেলেন রাব্বির উদ্দেশ্য। 

ওই তরুণী জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে গত ৩১ অক্টোবর রাব্বির সঙ্গে তার পরিচয়। এর পর ভুলিয়ে-ভালিয়ে তার সঙ্গে রাব্বি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর গত ৭ নভেম্বর নিজস্ব সিন্ডিকেটের হুজুর ডেকে তাকে বিয়েও করেন। নানা বিপদ বা সমস্যার কথা বলে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাকির।

ইতিমধ্যে রাব্বির ১৪টি বিয়ের কাবিনসহ তার প্রতারণায় ব্যবহৃত অসংখ্য ছবি, ফেসবুকের চ্যাটবক্সে কথোপকথনের স্ত্রিনশট ও ভিডিও ক্লিপ পুলিশের হাতে এসেছে। এছাড়া পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতারণার ফাঁদ পেতে তরুণীদের সর্বস্ব লুটে নিতে রাব্বির রয়েছে এক সিন্ডিকেট চক্র। সংঘবদ্ধ ওই চক্রে রয়েছে নকল কাজী ও মৌলভি। এই চক্রের কিছু নারী-পুরুষকে নিজের মা-বাবা ও ভাইবোন বানিয়ে জাকির তরুণীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিত।

এএইচ/