ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬

বীরপ্রতীক ওডারল্যান্ডের জন্মদিন আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫৭ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরপ্রতীক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ডের জন্মদিন আজ। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা।

ওডারল্যান্ড কানাডাস্থ বাটা কোম্পানির তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ম্যানেজার ছিলেন। তিনি টঙ্গীর বাটা জুতো কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালের ৫ মার্চ মেঘনা টেক্সটাইল মিলের সামনে শ্রমিক-জনতার মিছিলে ইপিআর-এর সদস্যদের গুলিবর্ষণের ঘটনা কাছে থেকে দেখেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৭১-এ মার্চের গণ আন্দোলন, ২৫ মার্চ এর অপারেশন সার্চলাইট এবং এর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকান্ড ও নৃশংস বর্বরতা দেখে মর্মাহত হন এবং যুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের প্রতি অপরিমেয় ভালবাসার জন্য বাঙালি জাতির কাছে তিনি বিশেষ ভাবে সম্মানিত ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও অসামান্য নৈপুণ্যতার কারণে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক সম্মাননায় ভূষিত করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর প্রতীক পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের গণবাহিনীর তালিকায় ৩১৭ নম্বর। ১৯৯৮ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ঔডারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। তিনি বীর প্রতীক পদকের সম্মানী ১০,০০০ টাকা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে দান করে দেন। একমাত্র বিদেশি হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সরকার এই খেতাবে ভূষিত করেছে। মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত অত্যন্ত গর্ব ভরে ও শ্রদ্ধার্ঘ্য চিত্তে নামের সঙ্গে বীর প্রতীক খেতাবটি লিখেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ওডারল্যান্ড নেদারল্যান্ড বংশোদ্ভূত একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও অংশ নেন।

কয়েক বছর আগে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ২০০১ সালের ১৮ মে মারা যান।
এসএ/