ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬

যেসব লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর জমছে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১৪ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আধুনিকতার নামে ভুল জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম এসবের প্রভাব পড়ে কিডনিতে। চিকিৎসকরা বলেন কিডনি রোগ হলো নিরব ঘাতক। কোনও জানান দিয়ে আসে না, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই এই রোগটি প্রকাশ পায়। কিডনির সমস্যার মধ্যে ড্যামেজ হওয়া এবং পাথর জমার রোগই বেশি। বর্তমানে আমাদের দেশে কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

সাধারণত কিডনির প্রতি খেয়াল রাখতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি খাওয়ার পরিমাণ ঠিক আছে কি না, কোমর বা তলপেটে কোনও ব্যথা হচ্ছে কি না কিংবা প্রস্রাবের সময় কোনও জ্বালা বা সমস্যা হচ্ছে কি না— এইগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখি আমরা। তবে কিডনিতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না বা অজান্তেই পাথর জমছে কি না তা টের পেতে এটুকু সাবধানতাই যথেষ্ট নয়।

নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিডনিতে পাথর কোথায় রয়েছে, কতগুলো রয়েছে এসবের উপরেও এই অসুখের লক্ষণ নির্ভর করে। তাঁদের মতে, ‘যদি খুব ছোট আকারের অল্প কয়েকটা পাথর থাকে, তাহলে কোনও লক্ষণ নাও বোঝা যেতে পারে। তবে সংখ্যায় বেশি হলে বা আকারে বড় হল অবশ্যই স্পষ্ট কিছু উপসর্গ থাকে। কেবলমাত্র সাধারণ ক’টা লক্ষণের বাইরেও কিছু উপসর্গ থাকে।’

লক্ষণ জানা থাকলে কিডনির অসুখ নিয়ে আগাম সচেতন হওয়া যায়, এতে শারীরিক কষ্টও কিছুটা লাঘব করা সম্ভব হয়। আবার দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় অস্ত্রোপচার এড়ানোও যায় অনেক সময়।

এবার কিডনিতে পাথর জমার লক্ষণ সম্পর্কে জানা যাক...
* কিডনির সমস্যা এলে সবার আগে প্রভাব পড়ে প্রস্রাবে। রঙের বদল হলে খেয়াল রাখুন। লালচে বা বাদামি প্রস্রাব কিডনিতে পাথর জমলেও হয়। তাই প্রস্রাবের রঙ এ রকম দেখলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন।

* অনেকের ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর সমস্যা জানান দেয় কোমরের ব্যথা দিয়ে। যদিও নানা কারণেই কোমর ও তলপেটে ব্যথা হতে পারে। তবে প্রস্রাবে জ্বালা, রঙের বদল এসবের সঙ্গে কোমর ও তলপেটে ব্যথা থাকলেও সচেতন হোন।

* ঘুসঘুসে ঘুরে ফিরে জ্বর আসে কারও কারও ক্ষেত্রে। সঙ্গে বমি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

* প্রায়ই মূত্রথলি বা প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়? তাহলে প্রথম থেকে সতর্ক হয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই কিডনির যত্ন নিতে প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু রুটিন পরীক্ষা করান। সঙ্গে শরীরের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করুন নিয়ম করে।

এএইচ/