ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

সোলাইমানি হত্যার কারণ জানালেন ট্রাম্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:০৫ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার | আপডেট: ০১:০৬ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু নয়, তা থামাতেই দেশটির বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানি কমান্ডারকে হত্যায় নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হতে পারে, বিশ্লেষকদের এমন ধারণার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। 

শুক্রবারের ওই হামলার পর ফ্লোরিডায় নিজের মালিকানাধীন বিলাসবহুল মার-এ-লাগো রিসোর্টে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

শনিবার (৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত চারটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ওই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিসহ ৮ জন নিহত হন। 

হামলার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয় ‘ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়।’

সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘নিহত ইরানি সামরিক কমান্ডার আমেরিকানদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।’ 

তিনি বলেন, ‘সোলাইমানি আমেরিকান কূটনীতিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার চক্রান্ত করছিল। কিন্তু আমরা তাকে খতম করে দিয়েছি। যুদ্ধ শুরু করতে নয় বরং যুদ্ধ থামাতে আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছি।’ 

আমেরিকা ইরানের সরকার পরিবর্তন চায় না বলেও জানান ট্রাম্প।

গত সপ্তাহেই ইরাকে মার্কিন হামলায় তেহরান সমর্থিত ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত হিজবুল্লা গোষ্ঠীর ৩০ জনের মৃত্যু হয়।  ওই হামলার পরপরই বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। 

ওই হামলায় ইরানকে দায়ী করে চরম মূল্যদিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় তেহরান-পেন্টাগন সম্পর্ক। এর এক সপ্তাহের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটলো। 

এদিকে, ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে এক ড্রোন হামলায় হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আরেক ইরানি কমান্ডারকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ভোরে চালানো ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। 

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক টানাপোড়ন চলে আসছিল। এ নিয়ে ইরানের ওপর দফায় দফায় হুমকি ও সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রীদের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প।

আমেরিকার এ হুমকিকে কখনোই পাত্তা দেয়নি তেহরান। উল্টো বারবার হামলা-পাল্টার হুমকি দিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে এ হামলার ঘটনায় ইরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন। এ নিয়ে গতকাল থেকে সকল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এখন শীর্ষে। 

এআই/