ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬

বেপরোয়া পিকআপ, নিহত ছাত্রলীগ নেতার দাফন সম্পন্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৫৫ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ও এমসি কলেজের মেধাবী ছাত্র হাসান আহমদ সুমন

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ও এমসি কলেজের মেধাবী ছাত্র হাসান আহমদ সুমন

সুনামগঞ্জের ছাতকে বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের চাপায় নিহত সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ও এমসি কলেজের মেধাবী ছাত্র হাসান আহমদ সুমনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ববীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামে তাহার নিজ বাড়ীর দক্ষিণের মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। 

এর আগে তার জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আরমান আহমদ শিপলু, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক গণ যোগাযোগ বিষয়ক উপ-সম্পাদক সম্পাদক ময়নুল ইসলাম ফয়সল, সিলেট মহানগর তাতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বুলবুল, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নজির হোসেন লাহিন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী ও মহানগর ছাত্রলীগের ২ শতাধিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। 

দুই ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে সুমন ছিল ষষ্ট। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবারের সদস্যরা। 

নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুমন দুর্ঘটনার দিন সকালে সিলেট থেকে নিজ গ্রামে মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি আসেন। ওইদিন বিকেলে আবার সিলেটে ফেরার পথে ছাতক উপজেলার বড়কাপন পয়েন্টে পৌঁছা মাত্রই মোটর সাইকেল নিয়ে সাইড করা অবস্থায় ঘাতক পিকআপ ভ্যান গাড়ি তাকে চাপা দেয়। 

এদিকে জানা যায়, সুমনকে চাপা দেয়ার কিছুক্ষণ আগে বড়কাপন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছোট্ট শিশু সাগরকে পিকআপ ভ্যানটি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার পা ভেঙ্গে যায়। তখন চালক বেপরোয়া হয়ে একটু সামনে এগিয়েই সুমনকে চাপা দিয়ে আরও ২০ গজ সামনে গিয়ে এক নারী পথচারীকে চাপা দিলে দুজনেই ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানটি আটক করেন। 

এ ব্যাপারে নিহত সুমনের বাবা এখলাসুর রহমান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে বাড়ি থেকে সিলেটের পথে যাচ্ছিল। বড়কাপন পয়েন্টে যেতেই পিকআপ ভ্যানের চালক বেপরোয়াভাবে আমার ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে আমাদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে আমার ছেলের প্রাণ। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে এই ঘাতক চালকের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি। 

এনএস/