ঢাকা, রবিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬

‘উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা সমাধানেই দেশের যথার্থ উন্নয়ন’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৪২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে। এখন আর কেউ দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতে পারে না। এভাবে দেশ আগাতে থাকলে আগামী  ২০৪১ সালে আমরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ একটি দেশ দেখতে পাবো। কিন্তু অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে টেকসই ও যথার্থ করতে অবশ্যই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সব ধরণের সমস্যা সমাধান করতে হবে। আজ ১৬ জানুয়ারি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)’র অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রতি বছরের ন্যায় “ উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই  উন্নয়নের সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা ” শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। (অব) ইঞ্জি. খালেদা শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে হওয়া এ সেমিনারে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভাঙ্গন, সাইক্লোনের প্রভাব, জনগণের আর্থ-সামাজিক ক্ষতি, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সমৃদ্ধ করতে উপকূলীয় অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যাকে সমাধান ব্যতিরেকে সম্ভব না। কেননা অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই হোক তা যদি দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা না পায়। তবে তা জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারবে না। 

অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের আগামী পথচলাতে সাহায্য করবে। ইতোমধ্যে বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট,সাতক্ষীরা অঞ্চলের জন্য বাঁধ নির্মাণ ও তীররক্ষাসহ একাধিক কাজে বৈদেশিক অর্থায়নে প্রায় ৩২৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান যা ২০২২ সাল নাগাদ শেষ হবে।

এছাড়া শতবর্ষের পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যানের হটস্পটগুলোর মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। যা বাস্তবায়নে একাধিক প্রকল্প নেয়া হয়েছে এবং আরো প্রকল্প নেয়ার লক্ষ্যে বৈদেশিক উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে আমাদের আলোচনা চলমান।  

বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, পানি আইনের জন্য এখন আমাদের কাজের কাঠামোতে স্বকীয়তা এসেছে এবং সিইআইপি নামক প্রকল্পে আমরা উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭ টি ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডার মেরামতে কাজ করছি। জলবায়ুগত পরিবর্তনের জন্য এখন শুষ্ক মৌসুমেও তিস্তা, গড়াই নদীতে ভাঙ্গন হচ্ছে যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। 

এর আগে উপকূলাঞ্চলের তীররক্ষা ও বাঁধের ওপর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অব. ইঞ্জি. হাবিবুর রহমান। তাঁর উপস্থাপনার ওপর মুক্ত আলোচনা করা হয় এবং আগামীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগভিত্তিক অন্যান্য সমস্যা নিয়েও গভীর বিশ্লেষণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আগত ইঞ্জিনিয়াররা। 

আরকে//