ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০২৪,   বৈশাখ ৬ ১৪৩১

‘কয়েকদিনের ব্যবধানে চারজন সাংসদের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টের’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:১৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:২১ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়াত সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক হঠাৎ করেই এত তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবেন তা কখনও ভাবতেও পারিনি। তার কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম ছিল অসামান্য।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, কয়েকদিনের ব্যবধানে বর্তমান সংসদের চারজন সংসদ সদস্য মারা গেলেন। মানুষ জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। এর আগে সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, ডা. মোজাম্মেল হক, আবদুল মান্নান এবং সবশেষ আজ (মঙ্গলবার) ইসমাত আরা সাদেক মারা যান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিসেস সাদেক আসলে একজন গৃহিণী ছিলেন। তিনি রাজনীতিতে তেমন একটা সক্রীয় ছিলেন না। তার স্বামী প্রয়াত এএসএইচকে সাদেক যখন ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে তাকে মন্ত্রী বানাই। শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে তিনি অনেক কাজ করে গেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করা, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করার জন্য গঠিত কমিটিও তারই নেতৃত্বে ছিল। মন্ত্রী সাদেক ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে বারবার ভিয়েনাতে গেছেন, প্ল্যান্টের অনেক কাজ তিনি করে গিয়েছেন। এ ছাড়া সুন্দরবনকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণার ক্ষেত্রেও তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ইসমাত আরা সাদেককে জনপ্রশাসনের দায়িত্ব দিলাম। তখনও তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে বসতাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি কাজ করতেন। প্রতিটি কাজে তার সততা ও একাগ্রতা ছিল অসামান্য।

তিনি বলেন, মিসেস সাদেক মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেখা করে আমাকে বললেন শরীরটা ভুব খারাপ। অপারেশন করতে হবে। তখন তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলাম- অপারেশনের আগে দ্বিতীয় অভিমত নিন। অনেকক্ষণ কথা হল। কিন্তু উনি আজ আর নেই। কেশবপুরের উন্নয়নে উনি অনেক কাজ করে গেছেন। উনাকে কষ্ট বা ভুগতে হল না। কিন্তু তিনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি।

এর আগে সংসদে শোক প্রস্তাব দেওয়া হয়। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খান, আকম সারোয়ার জাহান ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান।

আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। পরে প্রয়াত সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন এবং মোনাজাত শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বাকি কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদের অধিবেশন বুধবার বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী।

এসি