ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭

‘চাহিদার ৩৫ শতাংশ রক্ত দান করেন স্বেচ্ছা রক্তদাতারা’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার

দেশের মোট রক্তের চাহিদার আট লাখ ব্যাগ রক্তের মধ্যে শতকরা ৩৫ ভাগ রক্ত আসে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মাধ্যমে। জন্ম থেকে শুরু করে যেকোনো মানুষের যেকোনো সময়ে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। রক্তের এই প্রয়োজন মেটাতে স্বেচ্ছা রক্তদাতারা আন্তরিক মানবতা নিয়ে রক্তদান করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

 রবিবার (২৬ জানুয়ারি ২০২০) সন্ধ্যায় এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি ভবন) এ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। 

এ সময় সচিব আরো বলেন, অনেক মানুষের কাছে বিলিয়ন ডলার থাকতে পারে কিন্তু মানবকল্যাণে তারা সেভাবে কাজ করছে না। একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতার অবস্থান সেইসব ধনীদের চেয়ে অনেক উপরে। মানব কল্যাণে আমরা যেটুকু করবো সেটিই আমাদের সঙ্গে যাবে। আর কিছুই আমরা সঙ্গে নিতে পারব না।

সভাপতির বক্তব্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী বলেন, আমাদের দেশে নিরাপদ রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতারা যেভাবে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে অচিরেই দেশের রক্তের পুরো চাহিদা পূরণ হবে।

আইডিইবি মিলনায়তনে কমপক্ষে ১০ বার রক্তদানের মাধ্যমে সিলভার ক্লাব, ২৫ বার রক্তদানের মাধ্যমে গোল্ডেন ক্লাব এবং ৫০ বার রক্তদানের মাধ্যমে প্লাটিনাম ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করেছেন এমন তিন শতাধিক রক্তদাতাকে সম্মাননা ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদ প্রদান করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ। 

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষে মিস জাহিন ওয়াহাব এবং কোয়ান্টাম ল্যাব থেকে নিয়মিত রক্ত গ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া রোগী নিলুফার ইয়াসমিন তার অনুভূতি বর্ণনা করেন।   

প্রসঙ্গত, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বহুমুখী সেবামূলক কাজের একটি হচ্ছে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম। নিয়মিত রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতারা দূরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন। তাদের হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেক কম থাকে। নিঃস্বার্থ এ সেবাকার্যের লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ১১ লক্ষাধিক ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করেছে এবং রক্তদান বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। 

আরকে//