ঢাকা, শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭

বহাল তবিয়তে শিশু নির্যাতনকারী সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ৫ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার

শিশু নির্যাতনকারী সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

শিশু নির্যাতনকারী সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপালপুর গ্রামের বন্ধন তালিমুল কোরআন নূরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ আমিরুল ইসলামের হাতে শিশু ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে একুশে টেলিভিশনের অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর মাদ্রাসার পক্ষ নিয়ে তা মিমাংসার জন্য তদবির শুরু করেছে মাতব্বররা। এ ঘটনায় এখনও কোনও ব্যবস্থা না নেয়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছে ওই শিক্ষক। 

এদিকে, থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়া ৬ বছরের ছাত্র রিফাত হোসেন (৬) এখনও তার বাম কানে কোনও কিছু শুনতে পারছে না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তার বাবা বুলবুল ইসলাম জানান, সংবাদ প্রকাশের পর প্রভাবশালী মাতব্বররা বিষয়টি মিমাংসা করে নেবার জন্য বার-বার তাগাদা দিচ্ছে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। তবে উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবার কথা জানিয়েছে।

জানা যায়, ১৩ বছর আগে গোপালপুরে বন্ধন তালিমুল কোরআন নুরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। বছর খানেক আগেও এলাকার এক শিশুকে মারধরের কারণে ১৫/২০ জন ছাত্র-ছাত্রী সেখানে ভয়ে পড়া বাদ দিয়েছে।

তবে তাতেও থেমে নেই শিশু নির্যাতন। গত ২ মার্চ মাদ্রাসায় লেখাপড়া অবস্থায় মাদ্রাসার মুহতামিম ইসলামী জলসার আলোচক মাওঃ আমিরুল ইসলাম ক্লাস চলাকালীন সময় বকাঝকা করে রুপনাই পূর্ব পাড়া গ্রামের শিশু রিফাতকে (৬) কানে সজোরে থাপ্পড় মারে। তখন যন্ত্রনায় চিৎকার শুরু করে সে বাড়ি চলে আসে। এরপর রাতে অসুস্থ হলে কান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে সিরাজগঞ্জে একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে চিকিৎসক ডাঃ শফিউল ইসলাম ঘটনা শুনে বিস্মিত হন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন তার পরিবারকে। 

বুধবার সকালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আনা হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। তখন তার বাবা বুলবুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মর্মাহত হন। এ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহলে বয়ে যায় নিন্দার ঝড়।

এ বিষয়ে শিশু রিফাতের বাবা জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর থেকে প্রভাবশালী মাতব্বররা বারবার বাড়ি এসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। তার পরও ওই মাদ্রাসার শিক্ষকের কঠোর শাস্তি চাই। 

এদিকে, এর আগেও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে এসে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে ১৫/২০ জন ছাত্র-ছাত্রী। এর মধ্যে রুপনাই পুর্ব পাড়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে জুবায়দা (৬), রিপনের ছেলে আলিফ (৫), হারুনের ছেলে শাওন (৮) অন্যতম। 

নির্যাতিত এক শিশুর দাদা নওশাদ আলী জানান, যথাযথ ব্যবস্থা না নেবার কারণেই একের পর এক বন্ধন মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই এবার যেন প্রশাসন তাদের ছাড় না দেয়। 

অন্যদিকে, মাদ্রাসার নির্যাতনকারী মুহতামিম মাওঃ আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে তা মিমাংসার পর্যায়ে আছে। 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রহমত উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনা তদন্তে কাজ চলছে। আমি নিজেও গিয়ে নির্যাতিতদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। 

এনএস/