ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২০ ১৪২৭

কেন পরোপকারী হবেন

আউয়াল চৌধুরী

প্রকাশিত : ০৪:১১ পিএম, ৫ মে ২০২০ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:১৫ পিএম, ৫ মে ২০২০ মঙ্গলবার

ইসলামে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে। বর্তমানে যে করোনা মহামারি চলছে এ সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য। ইসলাম চায় আপনার পাশের মানুষটি যেন কষ্টে না থাকে। তার মসিবতে আপনি তার পাশে দাঁড়াবেন। রাসুলে পাক (সা.) এর বিভিন্ন হাদিস এবং পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট, অন্যের উপকার করলে আল্লাহ খুশি হন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব। 

এখন কিভাবে আপনি অন্যের উপকার করবেন। উপকার নানাভাবেই করা যায়। আর্থনৈতিকভাবে, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করা যেতে পারে। যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো পরিস্থিতিতে তার সামর্থ্য অনুযায়ী পরোপকার করতে পারে। অনেকের ধারণা, অর্থ দিয়েই বুঝি শুধু অন্যর উপকার করা যায় কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। আপনার মুখের একটা বাক্যে দিয়েও আরেকজনের উপকার করতে পারেন। কাউকে ভালো একটি পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন- আপনি যদি একজন নেশাখোরকে এ পথ থেকে ফেরান, কোনো শিশুকে শিক্ষা দান করেন, কাউকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কষ্টের কথাটি শোনেন সবই আপনার পরোপকার বা অন্যের প্রতি সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে।  

রাসূল (সা.) পরোপকার সম্পর্কে বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তির সামনে ভালো কাজ করা সুযোগ আসে সে যেন এটাকে গুরুত্ব দেয়। কারণ কেউ জানে না যে, কখন এই সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। 

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)'র আরেকটি হাদিসে আহলে বাইতের সদস্য ইমাম বাকির (আ.) পরোপকারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, তিনটি বৈশিষ্ট্য আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ভালো কাজ হিসেবে গণ্য হয়। এগুলো হলো, একজন মুসলমান যখন অন্য মুসলমানকে খাবার দিয়ে তার ক্ষুধা মেটায় আল্লাহ তখন ভীষণ খুশি হন। এছাড়া কেউ যখন অন্যের সমস্যার সমাধান করে এবং কারো ঋণ পরিশোধ করে দেয় তখনও আল্লাহ খুশি হন। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক সূরা ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন, তারাই সংযমী, যারা স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল অবস্থায় দান করে, যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।

অর্থাৎ আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে দানের কোনো বিকল্প নেই। আর যিনি পরোপকার করেন তার ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে উঠে। এ ধরণের সৎ কাজ গোটা মানব সমাজকেই প্রভাবিত করে এবং পরোপকারের সংস্কৃতি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা থেকে সবাই উপকৃত হয়। সব মানুষ একে অপরের সহযোগী হয়ে যায়। লোক দেখে বাছাই করে পরোপকার করার প্রয়োজন নেই। যখন যেখানে সুযোগ তৈরি হবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘যদি তোমরা দান, সদকা, সাহায্য-সহযোগিতা প্রকাশ্যে করো তাও ভালো, আবার তোমরা দুস্থ, নিঃস্ব, ছিন্নমূল, এতিম, গরিব, অসহায়দের অতি সঙ্গোপনে চুপে চুপে দান করো তা আরও উত্তম।’ 

অন্য আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের কাছে কোনো দুর্দশাগ্রস্ত গরিব, এতিম, অসহায় ও দুস্থ মানুষ কিছু চাইলে তাকে ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দিও না। 

এখন চলছে পবিত্র রমজান মাস। এ মাসটি অত্যান্ত ফজিলতের। বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় এ মাসের ইবাদতের সওয়াব অন্য সময় থেকে অনেক বেশি। কেউ যদি এ সময় দান করে তাহলে তিনি তা ফেরত পাবেন বহু গুনে। তাই পবিত্র এ মাস হতে পারে পরোপকারের উত্তম একটি সময়। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে উত্তম ইবাদত। 

হযরত সালমান ফার্সি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, হে লোক সকল তোমাদের মধ্যে এমন একটি মাস আসছে, যে মাসে এমন একটি রজনী আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ পাক এই মাসে রোজা ফরজ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এই মাসে একটি নেক কাজ করলো, সে যেন রমজান ছাড়া অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। সে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এসি