ঢাকা, শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৩ ১৪২৮

‘স্বপ্ন কুটির’ উপহার পাচ্ছেন গফফার-জাহিমা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৫৪ পিএম, ১৬ মে ২০২০ শনিবার

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন নিত্য আয়ের মানুষ। কর্মহীন ৭০ বছর বয়সী দিনমজুর আব্দুল গফফারও। ৬৫ বছর বয়সী স্ত্রী জাহিমাকে নিয়ে চলছে নিঃসন্তান দম্পতির বাঁচার লড়াই। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামে। লকডাউনের শুরুতে পাট শাক খেয়ে পার করেছে কয়েকটি দিন।  

এমন পরিস্থিতিতে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিল ঝড়। গত এপ্রিল মাসের প্রথমে ঝড়ে ভেঙে যায় এই দম্পতির একমাত্রা ছনের ঘর। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করেছে কয়েকদিন। বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় আসলে স্থানীয়রা এক মাসের খাবারের ব্যবস্থা করেন ও দুই বান টিন কিনে ঘরটি মেরামত করে দেন। 

কিন্তু আব্দুল গফফারের জীবনে ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তার একটি স্থায়ী ঘর বানানো সম্ভব হয়নি। নিঃসন্তান এই দম্পতির কাছে স্থানীয় ঘর যেন স্বপ্নের মতো। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণে এগিয়ে এসেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস) এর স্বেচ্ছাসেবীরা। ‘স্বপ্ন কুটির’ নামে একটি স্থায়ী ঘর করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। 

আধা পাকা ‘স্বপ্ন কুটির’ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সংস্থাটির একজন স্বেচ্ছাসেবক (আর্কিটেকচার) নকশা তৈরি করেছেন। স্থানীয় মিস্ত্রি দিয়ে নকশা অনুযায়ী সম্ভাব্য খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট খরচ হবে ৯৮ হাজার ৩৫০ টাকা। পরিবারটির জন্য একটি টিউবওয়েল ও একটি বাথরুমও নির্মাণ করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্বেচ্ছাসেবীদের। 

ঘর নির্মাণের অর্থ সংগ্রহের জন্য সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সিসিএস এর অফিসিয়াল পেজে এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়। পোস্টে ঘরের নকশ ও খরচের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। 

বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে ওই পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক টাকার জোগাড় হয়েছে। পোস্টে অর্থ সংগ্রহের তথ্য ও হিসাবও নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ। 

তিনি জানান, যারা সহায়তা করছেন তাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছাসেবী আবার নিজেরাই ডোনার। সিসিএস এর স্বেচ্ছাসেবীরা ছাড়াও অনেকেই অর্থ সহায়তা করছেন। কয়েকজন প্রবাসীও সহায়তা করেছেন। সিসিএস এর ওয়েবসাইটে (www.ccsbd.net) গিয়ে ডোনেট অপশনে অনুদান দেয়া যাবে। অথবা হটলাইনে ০১৯৭৭৪৫৩৬৫৩ নাম্বারে যোগাযোগ করা বা উক্ত নম্বরে বিকাশ ও নগদ এবং 2776 নম্বরে রকেট থেকে (সবগুলো মার্সেন্ট) পেমেন্ট করে অনুদান দেয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তি।

এমবি//