ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ ১০:২৯:০২

১২ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম যে দ্বীপে

১২ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম যে দ্বীপে

ব্রাজিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি দ্বীপ ফার্নান্দো দে নরোনহা। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশও। তবে এতে দীর্ঘদিন ধরে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ। দ্বীপটিতে এক যুগ পর কোনো শিশুর জন্ম হলো। এজন্য দ্বীপটির বাসিন্দাদের আনন্দের শেষ নেই। দ্বীপটিতে মোট ৩ হাজার বাসিন্দা বাস করেন। সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্যের কারণে এই দ্বীপটি ২০০১ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। বিরল উদ্ভিদ এবং জীবজন্তু সমৃদ্ধ দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত অঞ্চল।দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ থাকায় এতদিন দ্বীপটির ভূখণ্ডে কোন শিশুর জন্ম হয়নি। সেখানে হঠাৎ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এক নারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নারী বলেন, তিনি জানতেনই না যে তিনি গর্ভবতী। তিনি বলেন, হঠাৎ খুব পেট ব্যথা করছিলো। টয়লেটে যাওয়ার পর দেখি দু পায়ের মাঝখান দিয়ে কি যেন একটা বের হচ্ছে। এরপর শিশুটির বাবা এসে উদ্ধার করলেন এই নারীকে। তিনি জন্ম দিয়েছেন একটি ফুটফুটে কন্যা শিশুর।তার পরিবারও জানালো গর্ভধারণ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কথা। এই সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি এক অর্থে আইন অমান্য করেছেন। তবে সে নিয়ে কর্তৃপক্ষ বা দ্বীপের বাসিন্দা কেউই ভাবছেন না। বরং সবাই তাকে সহায়তা করছেন। শিশুর জন্য দরকারি জিনিসপত্র ও কাপড় কিনে দিচ্ছেন।ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বিপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যেও পরিচিত।দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো- সেখানে একটা মাত্র হাসপাতালে মায়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগ নেই। তাই গর্ভবতীদের দ্বীপের বাইরের কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হতো।কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার ভয়ে সেখানে প্রসবের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।এই দ্বীপটি সম্পর্কে আরেকটি তথ্য হল এটি কোন পৌরসভা বা প্রশাসনের অধীনে নেই। যা আধুনিক বিশ্বে বিরল। তবে দ্বীপটিতে রয়েছে সুন্দর সমুদ্র সৈকত। যার অনেকগুলো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অতুলনীয় বলে খেতাব পেয়েছে। রয়েছে ডলফিন, তিমি, বিরল পাখি আর কচ্ছপ সহ আরো নানা প্রাণীর সংরক্ষণ।এসব প্রাণী সংরক্ষণের জন্যেও দ্বীপটিতে জনসংখ্যা কম রাখার ব্যাপারে সরকারী চাপ রয়েছে।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /
হাওয়াই দ্বীপে আগ্নেয়গিরিতে প্রকৃতির খেলা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কিলাওয়েয়া হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। জ্বালামুখ থেকে উদগীরণ হতে থাকে টগবগ করে ফুটতে থাকা লাভা, ছাই, ধোয়ার কুণ্ডলী আর গ্যাস।দু’সপ্তাহ পর এখনও অগ্ন্যূৎপাত। এই আগ্নেয়গিরির নাটকীয় কিছু ছবি এর পর থেকে বিস্ময় তৈরি করেছে অনেকের মধ্যে।আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তামসিন মাথার ও ডেভিড পাইল আগ্নেয়গিরির নাটকীয় এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন। জানা গেছে, হাওয়াই দ্বীপের সবচেয়ে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল এই কিলাওয়েয়া। ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়। সেই লাভার ঝরনা আর তার স্রোতে ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চাপা পড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরিটির কারণে দ্বীপের সাথে নতুন জমিও তৈরি হয়েছে। ২০০৮ সালে গ্যাস বের হওয়ার নতুন মুখ তৈরি হতে থাকে।কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখে রীতিমতো লাভার লেক তৈরি হয়ে গেছে।এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলে বন্যার পানির মতো গনগনে সেই লাভার উচ্চতা বাড়তে থাকে। আবার কয়েক সপ্তাহ পর আবার তা নেমে যায়।কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম। জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো। সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে যখন লাভার স্রোত নামতে থাকে তার উপরের অংশে আস্তরণ তৈরি হয়। কিন্তু নিচের দিকে ঠিকই চলে লাল গনগনে লাভার স্রোত। একই সঙ্গে আস্তে আস্তে স্তর পরে যাওয়া কালো শুকনো লাভা সামনে এগুতে থাকে। মনে হয় যেন সিমেন্টের ব্লক কিন্তু অনেক বেশি কালো তার রঙ। তার নিচে ধ্বংস হতে থাকে জমি। কখনো স্তর ভেঙে বেরিয়ে আসে নতুন সরু ধারা।ভূতাত্ত্বিকরা ১৯৯২ সাল থেকে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখছেন। কিভাবে পৃথিবীর মাটির আবরণের নিচে এর কার্যক্রম চলে সে সম্পর্কে তাদের বেশ ধারনা হয়েছে। তাদের মতে উদগীরনের ধাপে ধাপে ভূপৃষ্ঠে নতুন ফাটল দেখা দেয়। এর কোনটা দিয়ে গরম গ্যাস বের হয়। আবার কোথাও থেকে জ্বলন্ত লাভা।ধীরে ধীরে লাভা লেকে লাভার উচ্চতা কমতে থাকে এবং তা ভূপৃষ্ঠের পানির স্তরে নেমে যায়। এসময় বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের পানির সঙ্গে মিশে গেলে ধোয়ার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তৈরি হওয়া গ্যাসে থাকে সালফার ডাই-অক্সাইড। যা বাতাসের মান নষ্ট করে দেয়। তার ফলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে।আগ্নেয়গিরি নিয়ে বহু গবেষণা হলেও এর অনেক আচরণ এখনো সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া যায় না।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

নস : ভুতুড়ে এক হ্রদ

ক্যামেরুনের রাজধানীর ৩১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে একটি হ্রদ। নাম নস। এটি লম্বায় দুই কিলোমিটার, প্রশস্ত মাত্র ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। আর গভীরতা দুইশ’ ৮ মিটার। হৃদটির রয়েছে একটি কালো অধ্যায়, যে কারণে লোকজন এটিকে ভুতুড়ে হৃদ হিসেবেই জানে। ১৯৮৪ সালের কথা। তখন হৃদটিতে হঠাৎ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উদগীরিত হয়। যা বাড়তে থাকে। ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্টে নস হ্রদ থেকে উদগীরিত গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক রাতেই মারা যান ১ হাজার ৭৪৬ জন। সঙ্গে ৩ হাজার ২০০ গবাদিপশুরও সমাধি হয়। স্থানীয়ভাবে হ্রদটি অশুভ হিসেবে পরিচিত। অনেক আগে থেকেই এটিকে নিয়ে বহু লোমহর্ষক লোককথা প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই হ্রদে এক অশুভ আত্মা বাস করে, যে প্রায়ই হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী মানুষজনকে মেরে ফেলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, এই হ্রদটি ৪০০ বছর আগে এক আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ওপর সৃষ্টি হয়েছিল। এ ধরনের হ্রদে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। নস হ্রদের পানি অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে স্থির। এখানে বায়ু চলাচলের ফলে পানিতে ঢেউ ওঠে না বললেই চলে। যে কারণে হ্রদে জমে থাকা গ্যাস পানি থেকে বের হতে পারে না। ফলে পুরো হ্রদটি এক বিরাট গ্যাস চেম্বার বা প্রকোষ্ঠের মতো কাজ করে, যার ভেতর গ্যাসের চাপ অনেক বেশি। হ্রদের যতই গভীরে যাওয়া যায় ততই গ্যাসের চাপ বাড়তে থাকে। প্রতি গ্যালন হ্রদের পানিতে পাঁচ গ্যালন কার্বন ডাই-অক্সাইড মিশে আছে। পদার্থবিজ্ঞানের মতে, পুরো হ্রদটি কাজ করে বিশাল এক টাইম বোমার মতো। ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট হ্রদে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছিল। হঠাৎ হ্রদের পানি ঝর্ণা আকারে ৩০০ ফুট ওপরে উঠে গেল। খুব সম্ভবত হ্রদের তলদেশে ভূমিধস বা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। আর এটার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। আক্ষরিক অর্থেই যেন হ্রদে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যা থেকে শুরু হয় সুনামি। কিন্তু সবচেয়ে আতঙ্কের ছিল পানির সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উদগীরণ। টানা ২০ সেকেন্ড ধরে ১.২ ঘন কিমি এলাকাজুড়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্যাসের কারণে হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী কারোই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না। নস লেকের কাছে বসবাসকারী ৮০০ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জন বেঁচে যান। তাও তারা মোটরগাড়িতে করে দ্রুত সে এলাকা ত্যাগ করার কারণে। পুরো এলাকাজুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। সে যেন এক মহাপ্রলয়। ধোঁয়ার মেঘ হ্রদ থেকে ২৫ কিমি দূরে ছড়িয়ে যায়। যারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘরের বারান্দায় বা দরজা খুলে বের হয়ে আসে, তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে মারা যান। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হ্রদের আশপাশের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী ১ হাজার ৭৪৬ জন মানুষ আর ৩ হাজার ২০০ গবাদিপশু মারা যায়। হ্রদের পানি মুহূর্তে পরিষ্কার নীল রং থেকে গাঢ় লাল রং ধারণ করে। কারণ হ্রদের তলদেশ থেকে আয়রন বা লোহা ভেসে উঠছিল। ভয়াবহ এ ঘটনার পর হ্রদটিকে গ্যাসমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু তা খুব অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা ১৯৮৬ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে কোনো সময় আবারও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। সূত্র : উইকিপিডিয়া। / এআর /  

যমজদের গ্রাম

গ্রামটিতে এলে যেকোনো আগন্তুক চমকে যাবেন ৷ গ্রামের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠে, স্কুলে বা অফিসে সর্বত্র জোড়ায় জোড়ায় মুখ দেখতে পাবেন৷ গ্রামের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, তাঁর স্কুলেই ১৭ জোড়া যমজ আসে রোজ৷ আবার খেলার মাঠে যমজ খেলোয়াড়দের নিয়েও দর্শকরা মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়েন৷ ব্যাপারগুলো যেমন মজার তেমনই আশ্চর্যের৷  আশ্চর‌্য ওই গ্রামের নাম কোডিনহি। দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম এটি৷ কোচি বন্দর থেকে মাত্র ১৫০ কিমি দূরত্বে। এই গ্রামে ঢুকে এমন দৃশ্যই দেখবেন আপনি ৷ বর্তমানে এই গ্রাম বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছে ‘যমজদের গ্রাম` হিসেবে৷ বিজ্ঞানীরাও স্তম্ভিত এখানকার যমজদের ক্রমবর্ধমান জন্মহার দেখে! কোডিনহি গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে যমজ ভাই-বোন৷ গ্রামে ঢোকার আগেই সাইনবোর্ডে দেখতে পাবেন, ‘ঈশ্বরের একান্ত আপন যমজদের গ্রাম – কোডিনহি৷` এখানে হাজারটি জন্মের মধ্যে ৪২টি জন্মই যমজদের৷ ২০০৮ এর পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যাবে, এই গ্রামে জন্ম নিয়েছিল ২৬৪ যমজ শিশু, সংখ্যাটা বেড়ে এখন ৪৫০ এ দাঁড়িয়েছে৷ সারা বিশ্বে যমজ সন্তান প্রসবের যে হার, কেরালার এই গ্রামে সে হার প্রায় ছয় গুণ বেশি৷ গ্রামের ৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম হলেও হিন্দুদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্মের হার একইরকম৷ যমজের জন্মের এই আশ্চর্য ঘটনা বিশ্বে কেবল কোডিনহিতে নয়, আরও দু`টি গ্রামেও ঘটে৷ নাইজেরিয়ার ইগবো ওরা এবং ব্রাজিলের ক্যানডিডো গডোই নামের গ্রামে৷ এই দু`টি গ্রামের যমজ সন্তান জন্মের ব্যাখা অবশ্য পাওয়া গেছে৷ কিন্তু এই ইন্টারনেটের যুগে এসেও বিজ্ঞানীরা সঠিকভাবে কোডিনহির ব্যাখা দিতে পারছেন না৷ জানা গেছে, গ্রামটিতে যমজ শিশু জন্মের এই ধারা শুরু হয়েছিল ৬০-৭০ বছর আগে৷ যমজের সংখ্যা এরপর ক্রমেই বেড়েছে৷ দেখা গেছে, বিয়ের পর কোনো নারী এই গ্রামে এলে তিনিও যমজ সন্তান প্রসব করছেন৷ স্থানীয় চিকিৎসক শ্রীবিজু জানালেন, পাশ্চাত্যের মতো এ গ্রামে সন্তান জন্মের জন্য কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না৷ সাধারণত কমবয়সি নারীরাই প্রথমবারের মাতৃত্বে এমন যমজ সন্তানের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন৷ আর গ্রামবাসীরা তো যমজ জন্মের এই ব্যাপারটিকে ঐশ্বরিক আশীর্বাদ বলে ধরে নিয়েছেন৷ গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক যমজরা এখনও বেঁচে৷ কুনহি পাথুটি এবং পাথুটি নামের সত্তর বছরের এই দুই বোনের দাবি, সবটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ৷ বিজ্ঞান কিছুই করে উঠতে পারবে না৷ তাঁরা তো যমজ পেরিয়ে এখন ট্রিপ্লেট (তিনটি বাচ্চার একসঙ্গে জন্ম) আর কোয়াড্রপ্লেট মানে চারটে বাচ্চাও জন্মাতে দেখছেন৷   তবে বিজ্ঞানীরা হাল ছেড়ে দেননি৷ যমজ জন্মের নেপথ্যে জেনেটিক, অর্থাৎ জিনগত নাকি আবহাওয়ার কারণ দায়ী, তার পরীক্ষা চলছে৷ বিভিন্ন দেশ থেকে বিজ্ঞানীরা যমজদের বিভিন্ন জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করে চলেছেন৷ ২০০৬ সালে এই যমজদের সুরক্ষার জন্য সমিতিও গড়ে উঠেছে৷ দুঃস্থ যমজদের পরিবারকে সাহায্যের জন্য এই সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে৷ ভারতবর্ষে এমন সমিতি আর নেই৷ আপাতত সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের চোখের মনি এই গ্রাম৷ দেখা যাক, আরও কত কী অভিনব হয় যমজদের গ্রামে! সূত্র : ডয়েচে ভেলে। /এআর /

৪০০ বছরে একটি শিশুরও জন্ম হয়নি যে গ্রামে

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজগরের সঙ্ক শ্যাম জী গ্রাম। ভোপাল শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। গ্রামটিতে অদ্ভূত একটি ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে দিনের পর দিন।গত চারশ’ বছরেও এখানে কোনো শিশুর জন্ম হয়নি।ভাবছেন, তাহলে কি এই গ্রামে কারোর বাচ্চা হয় না? সব নারী বন্ধ্যা! বিষয়টি তেমন না। এই গ্রামে যেসব নারী অন্ত:স্বত্ত্বা হন, তারা সন্তানের জন্ম দেন গ্রামের সীমারেখার বাইরে গিয়ে। এই প্রথা চলে আসছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে, যখন এখানে হাসপাতালের সুবিধা ছিল না তখন থেকেই।কথিত আছে, গ্রামের সীমানার মধ্যে যদি কোনো নারী সন্তান প্রসব করেন, তাহলে মা ও শিশু দুজনেরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। শিশুটি হয় মৃত অথবা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মায়। মায়ের ক্ষেত্রেও মৃত্যু বা অঙ্গহানি অবধারিত বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। তারা বলছেন গ্রামের নারীদের ওপর ঈশ্বরের অভিশাপ আছে। তাই এরকমটা হয়। তাই কোনো লিখিত আইন না থাকলেও গত ৪০০ বছরে সঙ্ক শ্যাম জী গ্রামে কোনো শিশুর জন্ম হয়নি। জরুরি কোনো কারণে প্রসুতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে রোদ ঝড় উপেক্ষা করে তাকে কোনোক্রমে গ্রামের সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় প্রসবের জন্য। গ্রামটির পঞ্চায়েত প্রধান নরেন্দ্র গুর্জর জানিয়েছেন, ৯০ শতাংশ শিশুর জন্ম হাসপাতালেই হয়। একান্ত প্রয়োজনে প্রসুতিকে গ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামবাসীরা শুধুমাত্র এই প্রয়োজনের জন্যই গ্রামের বাইরে একটি ঘর-ও করে রেখেছেন।কিন্তু কবে, কিভাবে গ্রামের ওপর এই অভিশাপ এলো? গ্রামের বয়স্করা জানিয়েছেন, এর পেছনে আছে এক কীংবদন্তী। জানা যায় অভিশাপ-এর সূচনা সেই ষোড়শ শতকে। সেসমময় সঙ্ক শ্যাম জী গ্রামের মন্দিরটি তৈরি হচ্ছিল। নির্মাণ কর্মীরা কাজ করছিলেন। সেসময় গ্রামের এক সুন্দরী নারী গম ভানতে শুরু করেন। এতে নির্মাণ কর্মীদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। নির্মাণের কাজ ছেড়ে তারা এই সুন্দরীর গম ভানা দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর এতেই প্রবল চটে যান ঈশ্বর। অভিশাপ দেন গ্রামের মহিলাদের। অভিশাপটা ছিল, এই গ্রামে আর কোনো নারী সন্তানের জন্ম দিতে পারবে না। সেই থেকেই এই প্রথা চালু আছে সঙ্ক শ্যাম জী গ্রামে।কিন্তু, একুশ শতকে দাঁড়িয়ে ষোড়শ শতকের একটি কল্পকাহিনীকে কেন্দ্র করে এই প্রথা চালিয়ে যাওয়া কুসংস্কার নয় কি? এতদিনে একটি শিশুরও জন্ম হয়নি এগ্রামে, এটাও কী বিশ্বাসযোগ্য? গ্রামবাসীরা কিন্তু দৃঢ় বিশ্বাসে জানিয়েছেন, না এটা কুসংস্কার নয়। তবে, এ গ্রামের ৪০০ বছরের ইতিহাসে কোনো শিশুই গ্রামের সীমার মধ্যে জন্মায়নি, সেটাও ঠিক না। তারা বলেছেন, কখনও কখনও পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সন্তানসম্ভবা নারীকে গ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়ার উপায় হয়নি। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেছে যে অভিশাপের কার্যকারিতায় তাদের বিশ্বাস আরও বেড়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সেসব ক্ষেত্রে হয় মৃত সন্তান প্রসব করেছেন মা, কিংবা প্রসব করতে গিয়ে মায়েরই প্রাণ চলে গিয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণ না গেলেও মায়ের অঙ্গহানি হয়েছে, বা শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মেছে। তাই, অভিশাপটিকে কোনও রকম প্রশ্ন না করে তাঁরা চুপচাপ প্রথা মেনে চলাই শ্রেয় বলে মনে করেন।তবে ঈশ্বর যে গ্রামটিকে কেবল অভিশাপই দিয়েছেন তা নয়, আশির্বাদও আছে। কী সেই আশির্বাদ? ভারতবর্ষে গ্রামীন অর্থনীতিতে পানাসক্তি একটা বড় সমস্যা। এর জেরে, সংসারে অশান্তি, মাপধর, এমনকি খুন-জখমও লেগেই থাকে। গ্রামের এক প্রবীন জানিয়েছেন, সঙ্ক শ্যাম জী গ্রামে একজনও মদ মুখে তোলে না। মাংসও খায় না। এটাই একমাত্র আশির্বাদ।সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।/ এআর /

যে কফিশপের কর্মীরা সবাই প্রতিবন্ধী

ফ্রান্সে প্রতিবন্ধীদের দৈনন্দিন জীবন বেশ সংগ্রামমুখর, যা অন্যদের থেকে বেশ জটিল। পৃথিবীর সব শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অবস্থাও অনেকটা এমনই। দেশটিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান এতই অপ্রতুল যে, সরকারকে এদের কাজের জন্য আইন করতে হয়েছে। প্যারিসে এমন একটি কফি শপ নিয়ে যেখানে কাজ করা কর্মীদের সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্যারিসের এই কফি শপ তথা রেস্টুরেন্টটির নাম জয়েক্স। রেস্টুরেন্টের নামের নিচে ছোট হরফে লেখা আছে ‘সার্ভি অ্যাভেক লে কোয়েআর’। গুগল ট্রান্সলেটর বলছে যে, ফেঞ্চ এই লাইনটির বাংলা অর্থ ‘হৃদয় দিয়ে পরিবেশিত’। কফি শপের এক ঝাঁক শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মী তাদের হৃদয় দিয়েই গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করে থাকেন। শারীরিক অথবা মানসিক সীমাবদ্ধতা থাকা কর্মীদের নিয়ে পরিচালনা করা কফি শপ প্যারিসে এটিই প্রথম। এখানকার ২৭ বছর বয়সী এক নারী কর্মকর্তা আলেকজান্ড্রা বিবিসিকে জানিয়েছেন তাঁর কাজের ব্যাপারে। তিনি বলেন, আমি জয়েক্স ক্যাফের বারিস্টা দলে কাজ করি। কফি স্টেশন দেখভাল করাই মূলত আমার কাজ। এখানে কাজ করা সবাই শারীরিক দিক দিয়ে কোন না কোন সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের সবার মধ্যেই এই সীমাবদ্ধতা আছে। এই কফি শপের ব্যবস্থাপকে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ এই যে, কে কোনো কাজটি পারবে তা বুঝে সেই কাজটি তাঁকে দেওয়া। এছাড়া দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর কীভাবে তা করতে হবে তাও তাঁকে সময় নিয়ে বুঝিয়ে দিতে হয়। আলেকজান্ড্রা বলেন, ব্যবস্থাপক সময় নিয়ে আমাদেরকে আমাদের কাজ বুঝিয়ে দেন। সে কাজ কিচেনের হোক অথবা শপের মধ্যের। সাধারণের মধ্যে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কাজ সম্পর্কে ধারণা পালটে দিতেই জয়েক্সের এই উদ্যোগ বলে জানায় আলেকজান্ড্রা। জয়েক্সে কাজ করতে ভালবাসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি এখানে কাজ করতে ভালোবাসি কারণ আমি এখন মানুষদের দেখতে পারি। তাদের সঙ্গে মিশতে পারি। এখানের সবাই খুব উদার। আমার সহকর্মীরাও খুব ভালো। আমরা একে অপরের সাথে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করি। এখানে কাজ করা খুব ঝক্কির কাজ না। তবে সকালের দিকে কাজের চাপ থাকে। তবুও এটা ঠিক আছে। ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৬ শতাংশ কর্মী শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দিতে হবে। তবে আইনটি কার্যত মানা হয় খুব কম। দেশটিতে থাকা প্রতিবন্ধীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কাজ পায়। তাও নাম মাত্র কাজ। আমি এই কফি শপের আগে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। সেখানে আমাকে দিয়ে তেমন কোন কাজ করানো হতো না। তারা ভাবতেন আমি করতে পারব না। আমি কাজে কোন চ্যালেঞ্জ অনুভব করতাম না। তাই সেটি ছেড়ে জয়েক্সে এসেছি। এখানের কাজ ভালো লাগছে”-বলছিলেন আলেকজান্ড্রা। আমি খুবই লাজুক আর তাই সবার সাথে কথা বলতে পারি না। কিন্তু জয়েক্স আমাকে দিয়ে এই কাজটিই করায়। সবার সাথে কথা বলতে হয় আমাকে।   *বিবিসি অবলম্বনে //এস এইচ এস// এআর

নিউগিনীর মানুষেরা যে কারণে হাড় দিয়ে ছুড়ি বানাত

নিউগিনীর মানুষেরা একসময় মানুষ ও জীবজন্তুর হাড়গোড় দিয়ে ছুড়ি বানাতেন। প্রাণীর হাড় দিয়ে বানানো এই ছুড়ি তাদের কাছে ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। সম্যক যুদ্ধে এক দূর্দান্ত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো এই ছুড়ি। নিউগিনীর জনগন মূলত দু’টি উৎস থেকে এই হাড় সংগ্রহ করতেন। ক্যাসোয়ারি নামক ক্ষীপ্র গতিতে উড়তে সক্ষম একটি পাখির পায়ের হাড় এবং নিজেদের পূর্ব পুরুষদের মৃতদেহ থেকে এই হাড় সংগ্রহ করতো তারা। রয়েল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে এমনটাই জানা গেছে। সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ববীদ পল রসকো জানান যে, ‘নিউগিনীর পূর্ব পুরুষদের মধ্যে যারা জীবতকালে সম্যক যুদ্ধে নিজেদের সাহস ও শক্তির পরিচয় দিয়েছে তাদের উরুর হাড় দিয়ে ধারালো ছুড়ি তৈরি করত।’ সে সময় আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ের খুব প্রভাব ছিল। বিষয়টা এমন যে, জনমতে এই ধারণা ছিল যে, মৃত বাবা তার সন্তানের ওপর দৃষ্টি রাখছেন। আর আপনি যুদ্ধে আপনার বাবাকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই তখনকার সময়ে হাতিয়ার বা অন্যান্য অস্ত্রে বাবা বা তার বাবা এমন ব্যক্তিদের হাড় ব্যবহার করা হতো। ১৯৭০ সাল পর্যন্তও নিউ গিনীর বাসিন্দাদের মধ্যে এমন অস্ত্রের ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। বিশেষ করে সেপিক অঞ্চলের পুরুষেরা বড় ধরণের হামলা অথবা ছোট আকারে অ্যাম্বুশ হামলায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করতো। সম্যক হাতাহাতি যুদ্ধে এই ধরণের ছুড়ি বেশি ব্যবহৃত হতো। ধারালো এই অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষে গলা কেটে দেওয়া হতো। অস্ত্র ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবেও দেওয়া হতো এসব অস্ত্র। এমনকি অলংকার হিসেবেও অনেকে সাথে রাখতেন এসব ছুড়ি। সাথে এসব ছুড়ি থাকার অর্থ ছিল ‘শক্তি ও বিপদ’। বহনকারী শক্তি এবং সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে সতর্কতাস্বরুপ তাঁকে বিপদের কথা মনে করিয়ে দিতে এই ছুড়ি বহন করা হতো বলে জানান রসকো। সূত্রঃ সিএনএন //এস এইচ এস// এআর    

লাল নেকড়ে

লাল নেকড়ে একটি দুর্লভ প্রজাতির প্রাণী। বর্তমানে এরা বিলুপ্তপ্রায়। পূর্ব আমেরিকার আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে টেক্সাস পর্যন্ত, উত্তরে পেনসিলভেনিয়া ও দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে এদের উপস্থিতি রয়েছে। গত শতকের মাঝামাঝি সময় লাল নেকড়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পশম ও চামড়ার জন্য অবাধে শিকার, আবাসভূমি ধ্বংস এবং খাদ্যের সংকটের ফলে এদের সংখ্যা হ্রাস পায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীদের নিরলস চেষ্টায় এদের সংরক্ষণ এবং কৃত্রিম পরিবেশে প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তারের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে বন্য পরিবেশে ১০০ থেকে ১২০টি লাল নেকড়ে রয়েছে। মনে করা হয়, লাল নেকড়ে ধূসর নেকড়েদের নিকটাত্মীয়। এরা দেখতেও অনেকটা ধূসর নেকড়ের মতোই। তবে এরা আলাদা প্রজাতি এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট, কান লম্বা এবং শরীরে লালচে পশম রয়েছে। লাল নেকড়ে প্রতিবারে ৫/৬টি বাচ্চার জন্ম দেয়। বাবা-মা উভয়েই তাদের বাচ্চাদের লালন-পালন করে। এরা দলবদ্ধ সামাজিক প্রাণী। একে//

সবুজ-শ্যামলে ঘেরা ডিজিটাল সড়ক

রাস্তার পাশে বনসাইয়ের সবুজ শ্যামল সুন্দর বাগান, আলোর ঝরনা, পথিকের দু`দণ্ড বিশ্রামের স্থান। পাথুরে ফোয়ারার জলে ভেজা বাতাস শ্রান্তির দুপুরে পথিককে এনে দেয় প্রশান্তি। জলে খেলা করে মাছ। হঠাৎ কেউ দেখলে মনে করবে ইউরোপ ও আমেরিকার কোনো সড়ক। তবে এটা বিদেশের কোনো শহর সড়ক নয়। রাজধানীর বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের দু`পাশ এমন দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে গড়ে তোলা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সড়কগুলোর আদলে তৈরি করা হচ্ছে বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার সবুজ-শ্যামল ঘেরা ডিজিটাল সড়ক। এছাড়া সড়কের পাশে গড়ে তুলা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাসহ ১২টি যাত্রী ছাউনি। এগুলোর হিংসভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলছে জোরেশোরেই। গত বছরের জুলাই মাসে এই সড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হয়। ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সবকাজ শেষ হলে আগামী জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সবুজ শ্যামল ঘেরা সড়ক উদ্বোধন করবেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এ সড়কটির আধুনিকায়নের কাজ করছে ভিনাইল ওয়ার্ল্ড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে এ প্রকল্পে সরকারের কোনো টাকা ব্যয় হচ্ছে না। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে তাদের লগ্নি করা এই খরচ তুলে নেবেন বলে জানা গেছে। বনানী-বিমানবন্দর ডিজিটাল সড়কে রয়েছে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন ঘটনার ম্যুরাল। এসব ম্যুরাল অক্ষত রেখেই সৌন্দর্য বর্ধনের এই কাজ করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুড়িল, শেওড়া, কাওলা ও বিমানবন্দরসহ কয়েকটি এলাকায় ১২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যাত্রী ছাউনি থাকছে ক্যাফে ও নামাজের স্থানের পাশে। ক্যাফে থেকে হালকা খাবারসহ যে কোনো খাবার কেনা যাবে কয়েন দিয়ে। পাওয়া যাবে মোবাইল ফোন রিচার্জ ও মোবাইল টপ-আপসহ এটিএম বুথ সেবা। এ ছাড়া যাত্রী ছাউনির মধ্যে থাকবে আধুনিক টয়লেট। থাকবে মায়েদের সুবিধার্থে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, ডিজিটাল ডাস্টবিন বক্স। যেখানে ময়লা ফেললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা চলে যাবে নিচে। থাকবে ডিজিটাল বোর্ড। এতে নির্দেশনা দেয়া থাকবে কোন বাস কোথায় যাবে, সময়সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এছাড়া সড়কটির পাশে বেশ কয়েক জায়গায় ফুলের ছোট বাগান, কৃত্রিম ঝরনা, আলোর খেলা, বাহারি মাছের লেকসহ নান্দনিক দৃশ্য তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। সড়কের দু’পাশে কয়েকটি ঝরনা বসানো হয়েছে, যা থেকে পাহাড়ি ঝরনার মতো পানি ঝরতে থাকবে। বিমানবন্দর থেকে নিকুঞ্জ পর্যন্ত বাইসাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন করা হয়েছে। নিকুঞ্জ লেকে করা হচ্ছে শিশুদের পার্ক। সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় এলইডি মনিটর বসানো হবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে দেশে কোথায় কী হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার খবর ও বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠান দেখা যাবে। জানা যাবে আবহাওয়ার খবরও। এ সড়কে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগ পাওয়া যাবে। একসঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপের সিইও আবেদ মনসুর একুশে টিভি অনলাইনকে  বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ পুরোপুরিভাবে চলছে তবে আগামী মাসেই কাজগুলো দৃশ্যমান হবে। তিনি জানান, দেশের যেকোনো অভিজাত হোটেলের চেয়েও সুন্দর ও রুচিশীল করে তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার। রাস্তার দু`পাশে থাইল্যান্ড থেকে আনা ২৫ থেকে ৪০ ফুটের শত বছর বয়সী দুই হাজার বনসাই গাছ লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া ১২ মাস যেন সড়কের দু`পাশে ফুল থাকে, সে বিবেচনায় করা হচ্ছে বাগান। ঢাকা শহরে জগিং করার জায়গার বড় অভাব। সে অভাবও দূর করবে এ সড়কের ফুটপাত। যারা এ এলাকায় প্রাতঃভ্রমণ করেন, তাদের জন্য ২০০টি `গার্ডেন বেঞ্চ` করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়লা ফেলার জন্য বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। প্রতিটি ডাস্টবিনেই থাকবে তাপমাত্রা নির্ণয়, দিন ও সময় জানানোর যন্ত্র। পুরো রাস্তাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় কেউ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে না। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। আবেদ মনসুর জানান, চীন থেকে পরিচ্ছন্নতার যন্ত্র (সাকার মেশিন) আনা হচ্ছে। তা দিয়ে সহজেই রাস্তার ধুলা-বালি পরিষ্কার করা যাবে। রাস্তার দু`পাশেই তিন স্তরে লাইট বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাঝরাস্তায় ২০২টি লাইট, ফুটপাত সংলগ্নে ৮০০টি লাইট এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ে সংযোগ দেওয়া হয়েছে অসংখ্য লাইট। যা বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।  চীন থেকে আসা দুটি প্রকৌশলী দল পুরো কাজের দেখভাল করছে। সওজের ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা, শহরকে বদলে দেওয়ার সুচিন্তা, সুপরিকল্পনা, নিজের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার সৎসাহস থাকলে যে কোনো কাজই সম্ভব।   / এআর /        

যে কারণে নারী কথায় কথায় কাঁদে!

নারীকে মনে করা হয় সৌন্দর্য্যের প্রতীক। কোমলতা আর নরম মনের অধিকারী তারা। তাই তাদের সারাজীবন শুনতে হয়, ‘মেয়েরা নাকি কথায় কথায় কাঁদে’। নেদারল্যান্ডসের টিনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অ্যাড ভিঙ্গারহোয়েটস-এর এক গবেষণাতেও একই তথ্য দিচ্ছেন। গবেষণায় তিনি সাত দেশের ৫ হাজার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, মেয়েরা বছরে ৩০ থেকে ৬৪ বার অশ্রুপাত করেন। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৬ থেকে ১৭ বার। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের কান্নার সময়কালও বেশি। তাদের কান্না গড়ে ছয় মিনিট ধরে স্থায়ী হয়। অপরদিকে পুরুষের কান্না দুই থেকে তিন মিনিট। কান্নার উপর অধ্যাপক অ্যাড ভিঙ্গারহোয়েটস ‘হোয়াই অনলি হিউম্যানস উইপ: আনর‌্যাভেলিং দ্যা মিস্ট্রিজ অফ টিয়ারস’ নামের একটি বইও রয়েছে।   আর

হোটেলের খাবার প্লেট থেকে কমোড যখন স্বর্ণ!

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হোটেলগুলো সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে ভিয়েতনামের দানাং গোল্ডেন বে ফাইভ স্টার হোটেলটি এদিক দিয়ে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। হোটেলটি তার গোল্ড প্লেটেড রুম এবং অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দানাং এলাকার প্রথম গোল্ড প্লেটেড হোটেল এটি। তাদের খাবার খাওয়ার প্লেট, বাটি, চামচ ও কাপ সবই গোল্ড প্লেটেড। হোটেলের ২৮তম তলায় অবস্থিত প্রেসিডেন্ট স্যুটটিতে রয়েছে আরো বেশি স্বর্ণ। এর বাথরুমে রয়েছে গোল্ড প্লেটেড কমোড, স্বর্ণের বাথটাব এবং বেসিন। দানাং গোল্ডেন বে’র মতোই আরো একটি হোটেল হলো দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব জুমেইরাহ। কৃত্রিম দ্বীপে অবস্থিত বুর্জ আল আরব জুমেইরাহ’র রয়াল স্যুটের বেশিরভাগটাই তৈরি স্বর্ণ এবং মার্বেল দিয়ে। হোটেলে থাকা প্রতি অতিথি পান ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের একটি আইপড।  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস   আর

কংকাল থেকে সিপাহি বিদ্রোহের অজানা অধ্যায়

২০১৪ সালে লন্ডনের মাইল এন্ডে নিজের অফিস কক্ষে বসে কাজ করার সময় একটি ইমেইল পান ইতিহাসবিদ কিম ওয়াগনার, যেখানে এক দম্পতি লিখেছেন যে তাদের কাছে কংকালের মাথার খুলি আছে। কিন্তু সেটি তারা বাড়িতে রাখতে চান না আর বুঝতেও পারছেন না তাদের কী করা উচিত। কংকালের বাকি অংশ নেই। কয়েকটি দাঁতও ছুটে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার সঙ্গে থাকা কাগজটি। সেখানে একটি নোটে এই খুলির পরিচয় লেখা রয়েছে। এই খুলিটি হাবিলদার আলম বেগের। তিনি ৪৬ বেঙ্গল নর্থ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের একজন ছিলেন, যে তার রেজিমেন্টের আরও কয়েকজনের সঙ্গে বন্দুকের গুলিতে নিহত হন। তিনি ছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা। হাবিলদার আলম বেগ একটি ছোট দল নিয়ে কেল্লার দিকে যাওয়ার রাস্তা দখল করেন, যেখান থেকে ইউরোপিয়ানরা নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি ঘোড়ার গাড়িতে অতর্কিত হামলা করে কন্যার সামনেই ড. গ্রাহামকে হত্যা করেন। তার পরবর্তী শিকার ছিল রেভারেন্ড হান্টার, একজন মিশনারি, যিনি তার স্ত্রী আর কন্যার সঙ্গে পালাচ্ছিলেন। ড. হান্টারকে হত্যার পর তিনি তার স্ত্রী আর কন্যাকেও চরম নির্যাতন করে জবাই করে হত্যা করেন। আলম বেগের বয়স ছিল ৩২ বছর, ৫ ফিট সাড়ে ৭ ইঞ্চি লম্বা আর কোন ভাবেই স্থানীয়দের মতো ছিল না। এই খুলি ক্যাপ্টেন (এআর) কোস্টেলো দেশে নিয়ে আসেন, যিনি আলম বেগের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন। এই নোট থেকে যেটি পরিষ্কার যে, এই খুলিটি আলম বেগ নামের একজন ভারতীয় বিদ্রোহী সেনার, যিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করতেন আর ১৮৫৮ সালে পাঞ্জাবের কামানের মুখে বেধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যিনি নোটটি লিখেছেন, তিনিই খুলিটি ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন আলম বেগ অভিযোগ করা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নোটে কিছু বলা নেই। কার্তুজে মাখানো পশুর চর্বি ব্যবহার করলে তা ধর্মবিরোধী হবে, এই কারণে ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্থানীয় হিন্দু আর মুসলিম সেনারা। এর আগে পরে মিলিয়ে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর ভারত শাসন করেছে। ওই দম্পতি এই কংকাল খুলির বিষয়ে, আলম বেগের ইন্টারনেটে যথেষ্ট খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু সেখানে কিছু না পেয়ে এই অধ্যাপকের শরণাপন্ন হন। এরপর নভেম্বর মাসের একদিনে এই দম্পতির সঙ্গে দেখা হয় অধ্যাপক ওয়াগনারের। তারা জানান, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে তারা এই কংকাল খুলির মালিক হয়েছেন। তাদের একজন আত্মীয় কেন্টে একটি ছোট পাব কিনেছিলেন এবং তখন সেখানে একটি রুমে পুরনো বাক্স পেটরার মধ্যে এই খুলিটি পান। কেউ জানতো না পাবে কিভাবে খুলিটি এসেছে। কিছুদিন সেটা পাবের মানুষজনকে দেখার জন্য সাজিয়ে রাখা হয়। ওই দোকানের মালিক মারা যাওয়ার পর নানা হাত ঘুরে খুলিটি এই দম্পতির হাতে আসে। এরপর ওই খুলির অতীত খুঁজে বের করার কাজে নামেন ড. ওয়াগনার। প্রথমে তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, খুলিটির সঙ্গে ইতিহাসের সত্যিই কোন যোগাযোগ আছে। এজন্য তিনি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের শরণাপন্ন হন। একজন বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মতামত দেন যে, এটা মধ্য উনিশ শতকের এশিয়ান কোন যুবকের মাথার খুলি। যার বয়স হতে পারে ত্রিশের কোঠায়। কংকাল খুলি দেখে অবশ্য কিভাবে তিনি মারা গেছেন সেটা বোঝার উপায় নেই। কামানের গোলায় মারা গেলে সেটা অস্বাভাবিকও নয়। ড. ওয়াগনার আশা করেননি যিনি তিনি এই ব্যক্তির সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি কিছু জানতে পারবেন। কারণ সাধারণত ছোট সেনাদের বিষয়ে খুব একটা নথিপত্র থাকে না। ব্রিটেন বা ভারতের আর্কাইভে বহু খুঁজেও বেগের নাম কোন কাগজপত্র, প্রতিবেদন, চিঠি বা স্মরণিকায় পাওয়া গেলো না। তবে এখানে কিছু সূত্রের দেখা পেলেন ড. ওয়াগনার। আলম বেগ যাদের হত্যা করেছিলেন বলে বলা হয়েছে, তাদের পরিবারের কিছু চিঠি পত্র পেলেন ড. ওয়াগনার। সেখানে অ্যান্ড্রু গর্ডন নামের একজনের কথা জানা গেলো, যিনি নিহত ডা. গ্রাহাম আর হান্টারকে জানতেন আর বেগের মৃত্যুদণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্যকে সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন ড. ওয়াগনার। লন্ডন আর দিল্লির আর্কাইভ ঘাটতে শুরু করেন। এখনকার পাকিস্তানের শিয়ালকোট থেকে চারদিনের দূরত্বে, দেড়শ বছর আগের সেই যুদ্ধক্ষেত্রও তিনি খুঁজে বের করেন, যেখানে আলম বেগ ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান। সেই বিদ্রোহের বইপত্র, চিঠি, পিটিশন, বিবৃতি ঘাটাঘাটি শেষ করে অবশেষ আল বেগের বিষয়ে এই উপসংহারে পৌছাতে পারেন ড. ওয়াগনার। সেই বর্ণনা নিয়ে তিনি আলম বেগের খুলি নামের একটি বইও লিখছেন। আসলে তার সত্যিকার নাম আলিম বেগ, যিনি ছিলেন উত্তর ভারতের একজন সুন্নি মুসলমান। বর্তমান উত্তর প্রদেশের কানপুরে বেঙ্গল রেজিমেন্টটি গঠিত হয়েছিল। আলিম বেগও সেই এলাকা থেকে এসেছেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি ছোট একটি সেনা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। যাদের কাজ ছিল ক্যাম্প পাহারা দেওয়া, চিঠিপত্র বহন করা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপরাশি হিসাবে কাজ করা। যিনি ওই খুলিটি ব্রিটেনে এনেছিলেন, তার পরিচয় পাওয়া গেছে ক্যাপ্টেন রবার্ট জর্জ কোস্টেলো। আয়ারল্যান্ডের জন্ম এবং ১৯৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে ভারতে যান। এর দশ মাস পরে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ড. ওয়াগনার বলছেন, আমার গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, আলিম বেগকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, যদি সম্ভব হয়। এখনও এই কংকাল খুলির জন্য কোন দাবি আসেনি। তবে ভারতের নানা প্রতিষ্ঠান আর ভারতে ব্রিটিশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন ড. ওয়াগনার। তিনি বলেন, আমি চাই না, আলিম বেগের এই মাথার খুলি কোন রাজনৈতিক ইস্যু হোক বা কোন মিউজিয়ামের কাচের বক্সে শোভা পাক, অথবা কোন বাক্সে পড়ে থাকুক। আমি চাই, আলিম বেগ তার দেশে ফেরত যাক আর সম্মানের সঙ্গে তার দেশের মাটিতেই শুয়ে থাকুক। তিনি মনে করেন, আলিম বেগের কবর হওয়া উচিত রাভী নদীর মাঝের ছোট দ্বীপে, যেখানে তিনি আর সঙ্গের সেনারা ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন সেই দ্বীপটি ভারত আর পাকিস্তানের সীমান্ত। সুতরাং, আলিম বেগের চূড়ান্ত অধ্যায় লেখার এখনও কিছু বাকি রয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি একে//

আজও অজানা যেসব সত্য

অতীতের এমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেয়। যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের খোরাক যোগায়। কিন্তু কোনো কোনো ইতিহাস বিকৃতি হয়, কিছু অংশ ঢাকাও পড়ে। তবে ভবিষ্যতে কোনো না কোনোভাবে সেই সত্যের কিছুটা সামনেও আসে। এ ঘটনা মানুষকে অবাক করে দেয়। ঢাকা পড়ে যাওয়া এমনই কিছু ইতিহাসের অজানা দিক জেনেনিন- সবচেয়ে বড় ও জীবন্ত ছত্রাক বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জীবন্ত ছত্রাক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যের ম্যালহর ন্যাশনাল ফরেস্টে। বড় বড় উদ্ভিদের জন্য বিখ্যাত এই উদ্যানটি। চিকিৎসায় হিরোইন ভয়ঙ্কর মাদক নেশা হিসেবে হিরোইন’ পরিচিত থাকলেও একসময় এটি রুগীদের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হত। বিশেষ করে কাশি এবং মাথা ব্যথার জন্য চিকিৎসকরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হেরোইন ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। আলবার্ট আইনস্টাইন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন। কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখল করার পর ইসরায়েল যখন রাষ্ট্র গঠন করে ঠিক তার কিছু পরই ইহলোকে বর্তমান এই বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী। ইহুদি রাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট উইজমানের মৃত্যুর পর নেতা কে হবেন এমন প্রশ্ন যখন সামনে চলে আসে তখন অনেকেই আলবার্ট আইনস্টাইনকে ওই পদে বহাল করার পক্ষে মত দেন। সেই মোতাবেক ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন প্রস্তাব হিসেবে আইনস্টাইনকে একটি চিঠি লেখে পাঠান। চিঠিতে অনুরোধ করেন ইহুদি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য। কিন্তু ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। বিশ্বের চোখে মহান এই বিজ্ঞানী বিতর্কিতেএকটি রাষ্ট্রের সাথে নিজেকে জড়াতে চাননি। ডেভিড বেনের চিঠির উত্তরে নিজেকে অযোগ্য প্রার্থী উল্লেখ করে ইঙ্গিতেই বিষয়টি বুঝিয়ে দেন তিনি। দাঁত থাকতে যারা তার মর্যাদা দেন না যারা দাঁত থাকতে তার মর্যাদা দেন না তাদের জানা দরকার এই চিকিৎসা যখন শুরু হয় তখন কিন্তু এত সুযোগ সুবিধা ছিল না। আসল দাঁতের বদলে কৃত্রিম দাঁত লাগানো তখনও আবিষ্কার হয়নি। সেই অভাব পূরণ করতে তাই ব্যবহার করা হতো আসল দাঁত। এখন মানুষ যেমন চোখ, কিডনি দান কিংবা বিক্রি করেন, ওই সময়ও দাঁত বিক্রি বা দান করার প্রচলন ছিল। তাছাড়া দাঁতের চাহিদা মেটানোর জন্য আরো একটি পথ খোলা ছিল। সেটি হলো মৃত সৈনিক। যুদ্ধক্ষেত্রে পক্ষের বা বিপক্ষের কোনো সেনা মৃত্যুবরণ করলে তাদের দাঁত খুলে রাখা হতো।   জোসেফ স্টালিন এক সময়ের রুশ শাসক জোসেফ স্টালিন ছবির ব্যাপারে অদ্ভুত মনোভাবের পরিচয় দিতেন। তার কার্যালয়ে  তিনি কর্মীদের সাথে ছবি তুলতেন। কিন্তু যখন তাদের মধ্যে কেউ মারা যেতেন কিংবা পদচ্যুত হতেন, তখন সেই ছবি থেকে তাকে মুছে ফেলতে আদেশ দিতেন তিনি। এর ফলে দেখা যেত ছবিতে থাকা তার সঙ্গীরা একে একে মিলিয়ে গেছেন, বাকি রয়েছেন একমাত্র তিনিই। কালের আবর্তনে তিনিও একদিন হারিয়ে গেছেন! চীনের নারীরা পা সুন্দর রাখতে যা করতেন অতীতে চীনের নারীরা তাদের পা’কে সুন্দর রাখতে অদ্ভুত কাণ্ড করতেন। ছোটবেলা থেকেই কন্যা শিশুদের ছোট মাপের লোহার জুতো পরিয়ে দিতেন। যার কারণে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটলেও তাদের পায়ের পাতা বৃদ্ধি পেত না। এজন্যে নারীদের প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো। কিন্তু সৌন্দর্যের কথা ভেবে সেই বেদনা সহ্য করে নিত চীনের মেয়েরা।   আর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি