ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ৬:৫৭:২৬

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখলো টাইগার যুবারা

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখলো টাইগার যুবারা

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো স্বাগতিক বাংলাদেশ।
দেশে ফিরেই সাকিবকে দেখতে গেলেন মাশরাফি

এশিয়া কাপ মিশন শেষে শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন টাইগাররা। আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোটরবাইকে চেপে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চলে গেলেন টাইগারদের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। উদ্দেশ্য দলের চালিকাশক্তি সাকিব আল হাসানকে এক নজর দেখা এবং তার বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া। হাসপাতালে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে। দু’জনই আফসোস-অনুশোচনায় পুড়েছেন শিরোপা জিততে না পারায়। জানা গেছে, দু’জনের আলাপে সাকিবের খেলতে না পারার কথা উঠে এসেছে বারবার। সাকিব থাকলে কখন কি করতেন এমন আফসোস মাখা কথাবার্তাই মাশরাফির মুখে ছিল বেশি। আরও জানা গেছে, মেহেদি হাসান মিরাজও আজ রোববার সকালে সাকিবকে দেখতে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, গতকাল শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো পিতা হওয়া ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ এসেছিলেন নিজের টেনশন দূর করতে, প্রিয় বড় ভাইয়ের সঙ্গে খানিক আড্ডা দিতে। এছাড়া মাশরাফি আসার আগে রোববার সাকিবের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আজ রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তারপর চিকিৎসা চলবে বাসায়। আর মাস তিনেক মাঠের বাইরে থাকতে হবে সাকিবকে। এ দিকে, নিজের কবজির চিকিৎসা করাতে ইংল্যান্ড যাওয়া তামিম মুঠোফোনে সাকিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানা গেছে, তামিম ইংল্যান্ডে চিকিৎসা বিষয়ে সাকিবকে ধারণা দিয়েছেন। আর তাই শেষপর্যন্ত সাকিব নিজেই ঠিক করবেন তার পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরার কথা ছিল সাকিবের। কিন্তু সেদিন সকালেই চোট পাওয়া হাতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। আর দেরি না করে ছুটে যান অ্যাপোলো হাসপাতালে। চোট পাওয়া বাঁ হাতের কড়ে আঙুল থেকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে। একে//

নতুন রেকর্ড গড়লেন মিরাজ

খেলায় অনেক ধরনের রেকর্ড হয়ে থাকে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত অনেক রেকর্ড গড়েন অনেক। এবার এশিয়া কাপে নতুন এক রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে অসাধারণ কিছু করতে পারেননি এই খেলোয়াড়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে একটি নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সূচনাকারী প্রথম বাংলাদেশি হলেন মিরাজ। লিটন দাসের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সূচনা করতে নামার পর বোলিংয়েও প্রথম ওভারটি করেন এ অফস্পিনার। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এই প্রথম এমন শুরু করলেও বিশ্ব ক্রিকেটে কিন্তু এমন নজির রয়েছে অনেক অনেক। এমনকি বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পর্যন্ত দুটি ওয়ানডেতে ব্যাটিং-বোলিং শুরু করেছেন। সবচেয়ে বেশি এমন করেছেন ভারতের মনোজ প্রভাকর ও জিম্বাবুয়ের নেইল জনসন। তারা দুজনেই ছিলেন পেসার। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ ও শ্রীলংকার তিলেকারত্নে দিলশানও অনেক ম্যাচ ব্যাট-বলে শুরু করেছেন। তারা দুজনেই স্পিনার। এসএইচ/  

যে ৯ কারণে বাংলাদেশের হার

এশিয়া কাপে লড়াই করেও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না মুস্তাফিজুর-রুবেলরা। বাংলাদেশের এই হারের পিছনে যেমন রয়েছে তাদের চাপ না নিতে পারার সমস্যা, তেমন বলতেই হবে ভারতের লোয়ার মিডল অর্ডারের ইস্পাত কঠিন মানসিকতা। বিশেষ করে ধোনি-কার্তিকের পর কেদার, ভুবি এবং জাডেজার লড়াই। এখন দেখে নেওয়া যাক ভারতের এশিয়া কাপ জয়ের কয়েকটি কারণ। কেদার-কুলদীপদের বোলিং: বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন এবং মেহদি অসামান্য শুরু করেছিলেন। যেভাবে তারা খেলছিলেন, এক সময় মনে হচ্ছিল তিনশো রান সহজেই উঠবে। কিন্তু, তখনই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন রোহিত। দারুণ অধিনায়কত্ব করেন। ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরান কেদার যাদব।লড়লেন একা লিটন: রূপকথার ইনিংস খেললেন বাংলাদেশের লিটন দাস। দলকে দারুণ একটা শুরুই শুধু দিলেন না, করলেন শতরানও। কিন্তু, মেহদি আউট হওয়ার পর অন্য দিকে লিটনকে সাহায্য করার মতো আর কাউকে পাওয়া গেল না।ফ্যাক্টর যখন ধোনি: মিঠুনকে রান আউট বা লিটন দাসকে স্টাম্প— সব ক্ষেত্রেই বড় ফ্যাক্টর হতে দেখা গেল ধোনিকে। একাধিক সময় রোহিত শর্মাকে উপদেশ দিতে দেখা গেল। দলের সব থেকে সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সামনে থেকে দলকে সাহায্য করে গেলেন।ভারতের অনবদ্য ফিল্ডিং: যে দক্ষতায় রবীন্দ্র জাডেজা মিঠুনকে রান আউট করালেন, বা বুমরা বাউন্ডারি থেকে মাহমুদুল্লার ক্যাচ ধরলেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাই বলে। উইকেটের পিছনে ধোনির ছিলেন চমকপ্রদ। আড়াইশোর কমে আটকে রাখা: প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে লড়াইতে ফিরে আসেন রোহিতরা। অনবদ্য বোলিং-ফিল্ডিং সঙ্গে রোহিত-ধোনির যুগলবন্দিতে অসাধারণ গেলপ্ল্যান ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। আড়াইশোরও কমে বাংলাদেশকে আটকে রাখেন ভারতীয় বোলাররা। ভারতের যা ব্যাটিং শক্তি তাতে এই রান খুবই সামান্য। শিখর-রোহিত জুটি: রান কম থাকলেও বাংলাদেশ চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। সবাইকে চমকে মেহদি হাসান মিরাজকে দিয়ে বোলিং সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। কিন্তু, শিখর ধাওয়ন ও রোহিত শর্মা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ইনিংস শুরু করে পার্থক্য গড়ে দেন। শিখর অল্প রানে ফিরে গেলেও রোহিত শর্মা ফের বড় রানের দিকেই এগোচ্ছিলেন। ধোনি-কার্তিক জুটি: দ্রুত রোহিত আর রায়ুডু ফিরে যাওয়ায় একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, তখনই কার্তিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে তোলার কাজ শুরু করেন ধোনি-কার্তিক। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে দলকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যান ধোনিরা। জাডেজা-ভুবনেশ্বরের যুগলবন্দি: এমএস ধোনি ফিরে যাওয়ার পর সামান্য চাপ তৈরি হয়েছিল। আশঙ্কার মেঘ তৈরি করেছিল কেদার যাদবের চোট। আর তখনই জুটি বাঁধের জাডেজা এবং ভুবনেশ্বর কুমার। কোনও তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন। যে ভাবে জাডেজা এবং ভুবি খেললেন, তাতে একটি বারের জন্য মনে হয়নি তাঁরা চাপে রয়েছেন। কেদারের লড়াই: আর সব শেষে বলতেই হবে কেদার যাদবের লড়াই। চোট পাওয়ার পরও দলের স্বার্থে মাঠে নামলেন। ঠিক মতো হাঁটতে না পারলেও তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। দলকে জিতিয়েই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন কেদার। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার। এসএইচ/

বাংলাদেশকে টুপি খোলা অভিনন্দন: শেবাগ

ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেবাগ ক্রিকেট নিয়ে বরাবর সোশ্যাল সাইটে সরব থাকেন। এবার এশিয়া কাপ নিয়েও ছিলেন তিনি সরব। সোশ্যাল সাইটে তিনি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খেলা সম্পর্কে। বাংলাদেশকে জানিয়েছেন অভিনন্দন আর ভারতকে দুর্বল দিক কাটিয়ে উঠতে দিয়েছেন পরামর্শ। এশিয়া কাপ জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে শেবাগ লিখেছেন, ট্রফিটা কত কাছে, কিন্তু এখনও অনেক দূরে। দলের মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই বীরত্বপূর্ণ লড়াই দেখানোর জন্য বাংলাদেশ দলকে হ্যাটস অফ (টুপি খোলা অভিনন্দন)। অন্যদিকে ট্রফি জিতলেও ভারতের খেলা দেখে খুশি নন ভারতের সাবেক এই মারকুটে ওপেনার। শেবাগ বলেন, জিতলেও ভারতের কিছু জায়গায় এখনও অনেক কাজ করার দরকার রয়েছে। আমি আশা করি, তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে। প্রসঙ্গত, এশিয়া কাপের ফাইনালে শেষ বলে ভারতের কাছে হেরে আরো একবার ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হলো না টাইগারদের। আরকে//

কোহলির মুখে বাংলাদেশের প্রশংসা

এশিয়াকাপে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে শেষ বলে হেরে আবারও এশিয়া কাপের শিরোপা হাতছাড়া হয়ে গেছে টাইগারদের। উত্তেজনায় মোড়ানো দুবাইয়ের ফাইনাল ৩ উইকেট হারের পর ভারতের তারকা খেলোয়াড় বিরাট কোহলির প্রশংসা পেয়েছে টিম বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে বিশ্রামে ছিলেন কোহলি। তার জায়গায় ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিত শর্মা। দলের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের শিরোপা নিজেদের কাছে রেখেছে তারা। এজন্য অবশ্য পোড়াতে হয়েছেন অনেক কাঠখড়। বাংলাদেশের দুর্দান্ত ক্রিকেটের সামনে ২২৩ রানের লক্ষ্যটাও ভারতের জন্য হয়ে পড়েছিল পাহাড়সমান। হারতে বসেও জেতে যায় অবশেষে। দলের বাইরে থেকে উপভোগ্য এক ফাইনাল দেখার পর বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেছেন বিরাট কোহলি। নিজের টুইটারে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি বাংলাদেশের চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য। কোহলি লিখেছেন, বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ কঠিন লড়াইয়ের জন্য। টুইটারের প্রথম অংশে লিখেছেন ভারতকে নিয়ে, ‘এশিয়া কাপে সপ্তম শিরোপা আমাদের। গত রাতে কঠিন ম্যাচ জেতার জন্য দুর্দান্ত কাজ করেছে ছেলেরা। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। সেবারও বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙে শিরোপা উদযাপন করে ভারত। তবে এবারের যন্ত্রণা সবচেয়ে বেশি। ২২২ রানের সংগ্রহ নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে বাংলাদেশ। এসএইচ/

ছয়বার ফাইনাল খেলেও ঝুলিতে নেই শিরোপা

এশিয়া কাপের ফাইনালে শেষ বলে পরাজয়ের কষ্ট ভুলতে অনেকটাই কষ্টের। অনেকেই হয়তো শান্তনার বানিতে বলবে ‘এটা শুধুই আরেকটা ম্যাচ’। কিন্তু গত ৯ বছরে কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা না জিততে পারা, ছয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপা না পাওয়া কষ্টের পরিসংখ্যান কিভাবে মুছবে? ছয়বার ফাইনালের মধ্যে রয়েছে তাও আবার ওই ভারতের বিপক্ষেই দু’বার! কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশ প্রথম খেলে ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে। ওই সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের আক্ষেপ জাগানিয়া পরাজয়। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে আবার পরাজয়। এবার প্রতিপক্ষ ভারত (৮ উইকেটে)। ২০১৮ সালে ঘরের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানের পরাজয়। চলতি বছরেই নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে শেষ ওভারে নাটকীয় পরাজয় (৪ উইকেটে)। আর সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের ফাইনালে ৩ উইকেটের পরাজয়। সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছেই। বারবার এই তীরে এসে তরী ডুবার যন্ত্রণা সহ্য করা অনেক কঠিন। এই মৌসুমেই ফিনিশিংয়ে সমস্যার কারণে আরও দুই ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে, দেরাদুনে আফগানদের বিপক্ষে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত সিরিজে। অথচ আফগানদের বিপক্ষে শেষ ওভারে মোস্তাফিজ ঠিকই জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। একই কীর্তি তিনি ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও প্রায় গড়েই ফেলেছিলেন। সেই ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচের পার্থক্য একটাই, সেবার শেষ ওভার করেছিলেন আর এবার ৪৯তম ওভার। আক্ষেপ থেকেই গেলো, শেষ ওভারটা যদি মোস্তাফিজ করতে পারতেন! এমন আক্ষেপের গল্প মন ভেঙে দেওয়া ছাড়া কি আর করতে পারে। তবু মাত্র ২২২ রানের পুজি নিয়ে বুক চিতিয়ে বাঘের মতো লড়াই করেই হেরে যাওয়াটুকুই সান্ত্বনা। একদিন এই আক্ষেপ ঘুচবে সমর্থকদের এমনটাই আশা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে টাইগারদের লড়াইয়ের প্রশংসা বৃষ্টি বইছে। আরকে//

যে কারণে শেষ ওভার করলেন মাহমুদউল্লাহ

এশিয়া কাপেই সুপার ফোরের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। ৬ বলে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ওভারে আফগানরা নিতে পেরেছিল ৪ রান। সেইসঙ্গে হারিয়েছিল ১ উইকেট। ফলে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৩ রানের রোমাঞ্চকর এক জয়। শুক্রবার রাতে ফাইনালেও খেলা গড়ায় শেষ ওভারে। এদিন ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ৬ রান। আর শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক। কারণ ৪৯তম ওভারটি মুস্তাফিজুর রহমান করায় তার ১০ ওভারের কোটা শেষ হয়। আর ১০ ওভারের কোটা শেষ হয়ে গিয়েছিল মাশরাফি, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপুরও। তাই এবার আর ভাগ্য পাশে ছিল না বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। আরও একটি ফাইনাল দুঃখগাথা হয়ে রইল বাংলাদেশের জন্য। ৫০তম ওভারটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দিয়ে করানোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মাশরাফি বলেন, ভারত যেভাবে রান করছিল, তাতে মুস্তাফিজকে ৪৯তম ওভারে বোলিংয়ে আনা ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ রান আটকানোটা তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এদিন শেষ ২ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১১ রানের। ১ ওভারেই খেলা শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই মাশরাফি ৪৯তম ওভারটা করতেই বল তুলে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজের হাতে। কাটার মাস্টার নিরাশ করেননি। ৩ রান দিয়ে উইকেটও নিয়েছেন ১টি। তাতে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলাটা বেঁচে থাকল। আর সেই খেলা গড়ায় শেষ বল পর্যন্তও। তবে মাশরাফি-রুবেল-অপুর ১০ ওভারের কোটা শেষ হলেও বাকি ছিল মিরাজের ওভার। কিন্তু শুরুতে বল করা মিরাজ ৪ ওভারেই দেন ২৭ রান। তাই শেষ ওভারে মিরাজকে আনতে সাহস পাননি নড়াইল এক্সপ্রেস। আসলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একাধিক ম্যাচেই শেষ ওভারে বীরত্ব দেখিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তাই সেই কথা মাথায় রেখেই সৌম্য সরকারকে আনার কথা ভেবেও মাহমুদউল্লাহর হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক। ওই সময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে মাশরাফি বলেন, রিয়াদকে বলছিলাম, ওরা মারতে যাবে। আর মারতে গেলে মিস হিট হতে পারে। বিশেষ করে কুলদীপ মারার চেষ্টা করবে। যাদব যেহেতু ব্যাটসম্যান, ও হয়তো তা করবে না। পঞ্চম বলটাই কিন্তু কুলদীপের ব্যাটে ইনসাইড এজ হয়েছিল। আসলে এ রকম পরিস্থিতিতে একটু ভাগ্যেরও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মাশরাফি। মাশরাফির মতে, ভালো ফাইট করেছে রিয়াদ। খেলা গড়িয়েছিল শেষ বল পর্যন্ত। লেগ বাইয়ের বদৌলতে রান পেয়ে যায় ভারত। ওই বলটা হয় ডট হতে হতো অথবা আউট। ও ইয়র্কারই করেছিল। কিন্তু বলটা প্যাডে পড়ে গেল। শেষ বলে রান না হলে ম্যাচ গড়াত সুপার ওভারে। আসলে ভাগ্য সহায় ছিল না। একে//

আমরা শেষ বল পর্যন্ত লড়েছি: মাশরাফি

এশিয়া কাপে টাইগারদের অনেকেই ছিলেন ইনজুরি আক্রান্ত। আর সেই দল নিয়েই ফাইনাল খেলল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অবশ্য ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ। তারপরও যা খেললেন সেটাই বা কম কম কী! এর মূলমন্ত্র কী? জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বললেন, আমরা হৃদয় দিয়ে খেলেছি। শেষ বল পর্যন্ত লড়েছি। শুক্রবার রাতে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে গেল টিম বাংলাদেশ। এর ফলে সাধের বড় কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপাটা অধরাই রয়ে গেলে টাইগারদের। তবে যে ভঙ্গুর দল নিয়ে ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ, সেটাই বা কম কিসের? পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাশরাফি বলেন, আমরা হৃদয় দিয়ে খেলেছি। শেষ বল পর্যন্ত লড়েছি। আর এটাই চেয়েছিলাম আমরা। টাইগারদের অধিনায়ক বলেন, শেষ পর্যন্ত বলতে হবে ব্যাটিং ও বোলিং- দুটোতেই আমরা ভুল করেছি। গেল কয়েক বছরে আগে ব্যাট করে আমরা ২৪০ প্লাস করলেই ম্যাচ জিতেছি। আজও সেটা ব্যাটসম্যানদের কাছে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বোলাররা সত্যিই দারুণ করেছে। মাশরাফি বলেন, ভারত যেভাবে রান তুলছিল তাতে ৪৯তম ওভারটা মোস্তাফিজকে দিয়ে করানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই রান আটকাতে তাকে দিয়ে তখন বোলিং করানোটা সময়ের দাবি ছিল। আর ওই সময় পার্টটাইমার কারও হাতে বল তুলে দেওয়াটা হিতে বিপরীত হতো বলে মনে করেন নাড়াইল এক্সপ্রেস। একে//

বাংলাদেশ দল দারুণ খেলেছে: রোহিত

মাত্র ২২২ রান নিয়েই ভারতের সঙ্গে ফাইট করল টিম বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাতর টাইগাররা। তবুও বাহ্বা তাদের প্রাপ্য। তাই লাল-সবুজ জার্সিধারীদের প্রশংসার বৃষ্টিতে ভেজালেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শুক্রবার রাতে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ভারত অধিনায়ক বলেন, শুরুতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। সূচনালগ্নে আমাদের চাপে রেখেছিল তারা। তবে আমরা ভালো করে জানতাম, বল পুরনো হলে ফিরে আসতে পারব। তাই শেষ পর্যন্ত ফলটা আমাদের পক্ষেই এসেছে। রোহিত বলেন, বাংলাদেশ বেশ ভালো দল। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। এছাড়া মাশরাফি সবসময়ই সতেজ। সর্বোপরি, বাংলাদেশ দল দারুণ খেলেছে। তারকা ক্রিকেটার আরও বলেন, গোটা টুর্নামেন্টেই আমরা ভালো খেলেছি। আর তাই সেই পুরস্কারই পেলাম। একে//

ম্যাচসেরা লিটন

লিটন দাস। ভারত-বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ফাইনালের নায়ক। তার প্রতিভা নিয়ে এখন আর কারও মনে কোনো সংশয় নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরমার তিনি। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয়ের দেখা পেতে তার অবদান অনেক বেশি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগটি তিনি পাচ্ছিলেন না। এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে অনবদ্য সেঞ্চুরি দিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন।তবে দল জয়ের দেখা না পেলেও পুরস্কার ঠিকই তার হাতে উঠেছে। ফাইনালে হেরেও ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতার দিনে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন লিটন। সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝে একপ্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। শুরু থেকেই স্বভঙ্গিমায় খেলে যান এ ওপেনার। চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মাত্র ৮৭ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। করুণ পরিস্থিতিতে লড়ে যাচ্ছিলেন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত আউট থামিয়ে দেয় তাকে। সেঞ্চুরির পর হাত খোলার প্রস্তুতি নেন লিটন। ঠিক সেই মুহূর্তে কুলদ্বীপের বলে মাহেন্দ্র সিং ধোনির স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। ফাঁদে পড়েন বললে ভুল হবে, তাকে ট্র্যাপে ফেলা হয়। চায়নাম্যান বোলারের বলটি মিস করলেও পা দাগের মধ্যেই ছিল তার। তবু রিপ্লে দেখেন আম্পায়ার। কয়েকবার জুম করে দেখার পর তাকে আউট দিয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার রড টাকার। এতে থামে মারকুটে ব্যাটসম্যানের লড়াই। এর আগে ১১৭ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন সম্ভাবনাময়ী এ ওপেনার। এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি