ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৩৭:১৪, বুধবার

০১ এপ্রিল: টিভিতে আজকের খেলা

০১ এপ্রিল: টিভিতে আজকের খেলা

আইপিএলে রাতে মুখোমুখি হবে পাঞ্জাব-দিল্লি। আজ রয়েছে ফুটবলের মজাদার কয়েকটি ম্যাচ। এছাড়া টেনিস প্রেমিদের জন্য রয়েছে ইন্ডিয়ান ওপেন। চলুন এক নজরে জেনে নিই টিভি পর্দায় রয়েছে আজ যে সব খেলা- ক্রিকেট আইপিএল পাঞ্জাব-দিল্লি সরাসরি, রাত ৮-৩০ মিনিট, চ্যানেল নাইন স্টার স্পোর্টস ওয়ান ও টু পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম ওয়ানডে, হাইলাইটস, সকাল ৯টা টেন ক্রিকেট ফুটবল প্রিমিয়ার লিগ আর্সেনাল-নিউক্যাসল সরাসরি, রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ওয়ান বুন্দেসলিগা বেস্ট অব দ্য মান্থ সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিট স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ওয়ান ব্যাডমিন্টন ইন্ডিয়ান ওপেন সরাসরি, বেলা ১-৩০ মিনিট স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট টু একে//
একই দিনে হার জোকোভিচ-ওসাকার

ইন্ডিয়ান ওয়েলস টেনিস প্রতিযোগিতা থেকে একই দিনে ছিটকে গেলেন এই মুহূর্তে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই সেরা খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচ এবং নাওমি ওসাকা। অথচ সচরাচর এমন দেখা যায় না।   জোকোভিচ এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তৃতীয় রাউন্ডে হারলেন, যাকে এর আগে আটবার হারিয়েছিলেন। ফিলিপ কোলস্রাইবার। জার্মান তারকার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৩৯। এই প্রথম তিনি জোকোভিচকে হারালেন। কোলস্রাইবার জিতলেন ৬-৪, ৬-৪। হারের পর জোকোভিচ বলেন, হার কেউই পছন্দ করে না। আমিও করি না। এমন দিন কখনও কখনও চলে আসে। খুব দ্রুত ভুলে যেতে চাই এই ম্যাচটা। আমার ফোকাস এখন মায়ামি মাস্টার্স। আর মেয়েদের সিঙ্গলসে ওসাকাকে ছিটকে দেন ৬-৩, ৬-১। ফলে সুইজারল্যান্ডের তারকা বেলিন্দা বেনচিচ। তবে হারলেও নিজের প্রচেষ্টায় খুশি ওসাকা। যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার পরে সদ্য যিনি বিশ্বের একনম্বরে আসনে বসেছেন। কয়েক দিন আগে তার কোচকেও ছেঁটে ফেলেছিলেন ওসাকা। তার নতুন কোচ এ দিন উপস্থিত ছিলেন। ওসাকা বলেন, সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তন করলে তার একটা প্রভাব তো পড়বেই। তবে নতুন দলের জন্য প্রথম প্রতিযোগিতা হিসেবে আমরা খারাপ করে দেখাইনি। সেটাই সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

যে কারণে ফেডেরারের সঙ্গে দেখা করলেন না জোকোভিচ

এটিপি এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ক্রিস কারমোডের অপসারণ নিয়ে দু’ভাগ টেনিস দুনিয়া। আরও ভাল করে বললে, পুরুষদের টেনিস। যার একদিকে আছেন রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদালের মতো মহাতারকা। অন্যদিকে, প্লেয়ার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বের এক নম্বর নোভাক জোকোভিচ। অবস্থা এতটাই অগ্নিগর্ভ যে, এ ব্যাপারে কথা বলতে রজার ফেডেরার দেখা করতে চেয়েছিলেন নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে। কিন্তু জোকোভিচ তার সঙ্গে দেখা করেননি। যা ফেডেরার নিজেই স্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে এটিপি প্রেসিডেন্টকে ভোটাভুটিতে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ২০১৪ থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কারমোডের আমলেই পুরুষদের টেনিসে আরও রমরমা দেখেছে বিশ্ব। ব্যবসায়িক উন্নতির সঙ্গে রেকর্ড পুরস্কার মূল্যও দেখা গেছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামে। তাই ফেডেরার, নাদালরা তার অপসারণের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু জোকোভিচের নেতৃত্বেই সরানো হয় কারমোডেকে। ভোটাভুটির আগেই ফেডেরার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন নোভাকের সঙ্গে। কিন্তু ‘সময় নেই’ বলে এড়িয়ে গেছেন সার্বিয়ান তারকা। ‘ভোটাভুটির আগে চেষ্টা করেছিলাম নোভাকের সঙ্গে দেখা করার। দুর্ভাগ্যবশত ওর সময় নেই। ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হয়নি। তবে ঠিক আছে। নিশ্চয়ই ওর এ ব্যাপারে অনেক কিছু করার রয়েছে, ’বলেছেন সুইস মহাতারকা। যিনি নিজেও প্লেয়ার্স কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এখানেই থামেননি, ফে়ডেরার আরও বলেছেন, ‘আমি নোভাককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার সঙ্গে দেখা করার সময় হবে কি না। ও তখন বলল, পরের দিন দেখা করবে। কিন্তু ততক্ষণে তো সব সিদ্ধান্ত নেওয়াই হয়ে যাবে। আমি এখনও ওর সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।’ ফেডেরার এর পরে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, কেন তিনি কারমোডের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার পক্ষে। ২০ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক বলেছেন, ‘আমি জানতে চাই কেন কারমোডেকে সরানো হল। এর পরে কী করতে চাইছে ওরা। কারমোডে এমন কী করতে পারেনি, যার জন্য ওকে সরে যেতে হল।’ টেনিসের স্বার্থে এ ব্যাপারে আরও গভীরে যেতে চাওয়ার ইচ্ছা জানান ফেডেরার। তবে তার জন্য তিনি কোনও রাজনীতিতে থাকতে চান না। এ ব্যাপারে রাফায়েল নাদালও যে তার সঙ্গে এক মত তাও জানিয়ে দিয়েছেন সুইস কিংবদন্তী। ‘সব সময় এ সব নিয়ে চিন্তা করলেও হবে না, দূরে সরে গেলেও হবে না। আমি রাফার সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের দু’জনেরই মত এক। তা ছাড়া ব্যাপারটা আমার আর ওর দু’জনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর চাই। যা হয়েছে তার সব উত্তর আমার কাছে পরিষ্কার নয়। প্লেয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে আমায় কথা বলতে হবে,’ বলেন রজার। এটিপি টুরের ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তার কথা বলতে ভোলেননি ফেড এক্সপ্রেস। ‘এটা জানা তো খুব জরুরি যে টুর কোন দিকে যাচ্ছে। কীভাবে এর পরে টুর এগোবে। কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অনেক প্রশ্নেরই উত্তর নেই। যদি উত্তরগুলো পেয়ে যাই, তাহলে আমার মন শান্ত হবে। শুধু আমার জন্যই নয়, অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও তাই। অনেক খেলোয়াড়ই কারমোডেকে সমর্থন করছে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

চলতি বছরেই বিয়ের কোর্টে নামছেন নাদাল

‘বিয়ের জন্য অনেক সময় রয়েছে হাতে, কোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার পরই বিয়ের কথা চিন্তা করব।’ জীবণের দ্বিতীয় ইনিংস সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে এমনটাই জানিয়েছিলেন নাদাল। সম্প্রতি জকোভিচের কাছে হেরে দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া ওপেন জয়ের অদূরেই থমকে যেতে হয়েছে তাকে। তবে এবার সময় হয়েছে ব্যক্তিগত জীবন কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই সাতপাঁকে বাধা পড়তে চলেছেন ক্লে কোর্টের রাজা রাফায়েল নাদাল। পাত্রী দীর্ঘদিনের বান্ধবী মারিয়া ফ্রান্সিসকা পেরেলো। ২০১৮ মে মাসে বান্ধবীর সঙ্গে নাদাল বাগদান পর্ব সেরে ফেলেছেন বলেই সূত্রের খবর। তবে রাফার বিয়ের প্রস্তাবে পেরেলোর সম্মতি জানানোর বিষয়টি এতদিন পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন অপেক্ষা জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার। বৃহস্পতিবার টুইটারে এই খবর নিশ্চিত করেছে এটিপি। উল্লেখ্য, চোটের কারণে দীর্ঘদিন কোর্টের বাইরে থাকার পর চলতি বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে রাফাকে পাওয়া গিয়েছিল পুরনো মেজাজেই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কোনও সেট না খুঁইয়ে ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে বিশ্বের পয়লা নম্বরের কাছে নাস্তানাবুদ হতে হয় প্রাক্তন বিশ্বের পয়লা নম্বরকে। ম্যাচ হারের পর জোকারের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক জানান, ‘নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিলেও জকোভিচকে আটকানো মুশকিল ছিল।’ রড লেভার এরিনায় দ্বিতীয়বার মুকুট জয়ের অদূরে থামতে হলেও সামনে ফরাসি ওপেন। এখন তাকেই পাখির চোখ করছেন ফরাসি ওপেনের অবিসংবাদী নায়ক। আর টেনিসের অফ সিজনে অর্থাৎ অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের শুরুর দিকে পেরেলোর সঙ্গে চার হাত এক করবেন রেকর্ড ১১টি ফরাসি ওপেনের মালিক। দীর্ঘ ১৪ বছর সম্পর্কে থাকার পর অবশেষে চলতি বছরেই পরিণতি পেতে চলেছে রাফা-পেরেলোর এই সম্পর্ক। ম্যানাকোরে রাফায়েল নাদাল অ্যাকাডেমির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন রাফার বান্ধবী মেরি পেরেলো। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

ফাইনালে নাদাল-জোকোভিচ, এগিয়ে কে?

শুক্রবার নোভাক জোকোভিচ যে দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন, ভাবা যায় না। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন লুকাস পুইকে হারিয়ে ফাইনালে জোকোভিচই উঠছেন, কিন্তু সেটা এত অনায়াসে আসবে ভাবা যায়নি। দেড় ঘণ্টাও লাগল না জোকোভিচের জিততে। স্কোর ৬-০, ৬-২, ৬-২। রড লেভার এরিনায় অনেকে দর্শকাসনে গুছিয়ে বসতে না বসতেই ৫-০ এগিয়ে গিয়েছিলেন জোকোভিচ। একেবারে ইঞ্চি মাপা শটে ২৮ নম্বর বাছাইকে বিশেষত কোণাকুনি আক্রমণ করে গেছেন তিনি। সাতবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙেছেন কিন্তু কখনও মনে হয়নি প্রতিপক্ষ ওর সার্ভিস ভেঙে দিতে পারেন। এবার বহু প্রতীক্ষিত ফাইনাল! জোকোভিচ বনাম নাদাল। সাতবছর আগে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই দু’জনের মহাকাব্যিক পাঁচ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের ফাইনালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এ বারও ঠিক সে রকমই দ্বৈরথের অপেক্ষায় টেনিস বিশ্ব। মঞ্চটাও তৈরি। দু’জনেই সেরা ছন্দে রয়েছেন। অনেকে অবশ্য জোকোভিচকেই এগিয়ে রাখছেন এই লড়াইয়ে। যে রকম ২০১২-র দ্বৈরথে জোকোভিচ জিতেছিলেন। আসলে এই ফাইনালে মুখোমুখি এক এবং দুই নম্বর। একজনের দখলে ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম, অন্য জনের ১৪। রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকোভিচের মধ্যে ৫৩তম সাক্ষাৎ হতে চলেছে। এই দ্বৈরথ কিন্তু টেনিস ক্লাসিকের অংশ। দু’জনেই তাদের সেমিফাইনালে দেখিয়ে দিয়েছে, কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। এখনও যে ওদের সঙ্গে টেনিস দুনিয়ার বাকি প্রতিপক্ষদের কত ব্যবধান, দু’টি সেমিফাইনালই তার প্রমাণ। একটা ব্লকবাস্টারই আশা করা যাচ্ছে আগামীকাল রোববার। টেনিস ভালবাসে এমন কেউ এই ম্যাচ থেকে দূরে থাকতে পারবে না। বিশেষ করে নাদাল যেভাবে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরেও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে, তা দেখে যে কেউ অবাক হবেন। এ ছাড়া জোকোভিচ কিন্তু নাদালের চেয়ে একদিন কম বিশ্রাম পাচ্ছেন। যার জন্য কিছুটা হলেও সুবিধা পাবেন নাদাল। দু’জনেই দুরন্ত অ্যাথলিট। চার ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা একইভাবে খেলতে পারেন। অবশ্য এবার ফাইনালটা পাঁচ-ছ’ঘণ্টা চলার সম্ভাবনা কম। কারণ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ‘সুপার টাইব্রেক’ নামে নতুন নিয়ম চালু হয়ে গেছে। যে নিয়মে পঞ্চম সেটে ৬-৬ গেমে চলে এলে ১০ পয়েন্টের টাইব্রেক হবে। টাইব্রেক জিততে হলে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দু’পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে হবে। তবে যদি ১০-১০ পয়েন্ট হয়ে যায়, তাহলে সেট জিততে ১২-১০ করতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এই নতুন নিয়মে কে বেশি সুবিধা পাবেন? নোভাক না নাদাল? কে কোন স্ট্র্যাটেজিতে খেলতে পারেন? দু’জনেই যেহেতু পরস্পরকে কোর্টে খুব ভাল করে জানেন, তাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইবেন রোববারের ফাইনালেও। নোভাককে বলা হয় ‘কাউন্টার পাঞ্চার।’ ওর রক্ষণ দুরন্ত। তার সঙ্গে বড় গুণ হল, রক্ষণাত্মক শটকেও আক্রমণে বদলে দিতে পারেন। তবে নাদালের ফোরহ্যান্ডও অনেক উন্নত হয়েছে। তাই ফাইনালে ফোরহ্যান্ড যদি ঠিকঠাক জায়গায় রাখতে পারেন তাহলে নাদালই এগিয়ে থাকবেন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জিতেও অস্বস্তিতে পড়লেন নাদাল

ফ্রান্সেস টিয়াফোর বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৩৯। জীবনে একবার মাত্র এটিপি খেতাব জিতেছেন। গত বছর ‘ডেল রে বিচ ওপেন’। যে প্রতিযোগিতার কথা খুব বেশি কেউ শোনেননি। অবশ্য গত মৌসুমে উইম্বলডনে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছান। টিয়াফোর মতো প্রতিপক্ষ রাফায়েল নাদালের সামনে পড়লে যা প্রত্যাশিত সেটাই হল মঙ্গলবার রড লেভার এরিনায়। হাসতে হাসতে স্প্যানিশ মহাতারকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন ৬-৩, ৬-৪, ৬-২ সেটে জিতে। টিয়াফোর বয়স একুশ। নাদাল কিন্তু উনিশ বছরে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন। তাও সেমিফাইনালে রজার ফেডেরারকে হারিয়ে। তবু যে মঙ্গলবার গোটা ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ মোট ন’টি গেম জিতলেন সেটাই আশ্চর্যের। যেখানে রাফা শুধু হার্ড কোর্টেই ম্যাচ জিতেছেন ৪২৫টি। সাধে কি এখানে এবার ফেডেরারকে হারিয়ে ওঠা স্তেফানোস চিচিপাস বলে দিয়েছেন, ‘ক্লে-র মতোই হার্ড কোর্টেও নাদালকে হারানো কার্যত অসম্ভব। সার্কিটে ওর চেয়ে কঠিন কোনও প্রতিপক্ষ আছে কি না আমি জানি না।’ ঘটনাচক্রে গ্রিসের চিচিপাসকেই সেমিফাইনালে নাদালের সঙ্গে খেলতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গলবার তিনি হারিয়েছেন স্পেনের রবের্তো বাউতিস্তা আগুতকে। যে খেলার ফল ৭-৫, ৪-৬, ৬-৪, ৭-৬। মাত্র এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে জয়ের পরে কোর্টে নাদালের সাক্ষাৎকার নিলেন কিংবদন্তি জন ম্যাকেনরো। মজা করে ‘মায়োরকার নায়ককে’ মনে করালেন যে, এবার তো ম্যাচ জিতলেই টিয়াফো নিজের টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলছিলেন। ‘তুমিও এবার সেটা করে দেখাও।’ এমন রসিকতায় অস্বস্তিতে পড়ে যান নাদাল, ‘আরে কী যে বলেন। ওর মতো সুন্দর শরীর তো আমার নয়।’  ম্যাকেনরোর মতে, রাফা এই মুহূর্তে জীবনের সেরা ফোরহ্যান্ড শট খেলছেন। সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় বললেনও সে কথা। তাতে নাদালের প্রতিক্রিয়া, ‘অফ-সিজনে ফোরহ্যান্ডে প্রথম শট আর সার্ভিস নিয়ে প্রচুর খেটেছি। যে কারণে প্রচুর পয়েন্টও এবার পাচ্ছি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন উন্নতিতে আমি দারুণ খুশি।’ নাদাল কিন্তু উন্নতির জন্য অনেকটাই কৃতিত্ব দিয়েছেন তার বর্তমান কোচ কার্লোস ময়াকে। বলেছেন, ‘আমাদের টিম-ওয়ার্ক অসাধারণ। ও থাকায় চাপ অনেক কমে যায়।’ নাদাল গ্র্যান্ড স্ল্যামে এই নিয়ে ত্রিশবার সেমিফাইনালে উঠলেন। মেলবোর্নে দ্বিতীয় বাছাই। এখানে এসেছেন একাধিক চোটে ভুগে। অথচ এবার একটিও সেট হারেননি। সেমিফাইনালে তার সামনে ফেডেরারকে হারিয়ে চমকে দেওয়া চিচিপাস। তাকে নিয়ে কী ভাবছেন ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক? ‘গত বছর থেকেই দেখছি গ্রিসের ছেলেটা অসম্ভব উন্নতি করছে। তা ছাড়া এখানে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের (ফেডেরার) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জিতেছে। আজও বাউতিস্তার বিরুদ্ধে দারুণ খেলল। এই ধারাবাহিকতা রাখলে আগামী বহু দিন ও সেরাদের একজন হয়ে থাকতে পারে। তাই আমার কাজ বেশ কঠিন।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

মেলবোর্নে এক নম্বরের পতন, চমকে দিচ্ছেন সেরিনা

শেষবার যখন মেলবোর্নে এসেছিলেন সেরিনা উইলিয়ামস, তখন তিনি পাঁচ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সেই অবস্থাতেই তিনি সপ্তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতেন। কার্যত সেরিনা যখন জিতছেন, কেউ জানতই না যে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরে নিজেই তা ফাঁস করেন। দু’বছর পরে সেই মেলবোর্ন পার্কেই মা হয়ে ফিরে এসে ফের টেনিস জগতকে চমকে দিচ্ছেন সেরিনা। যে রকম আক্রমণাত্মক টেনিস খেলে সোমবার তিনি বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড় সিমোনা হালেপকে হারিয়ে দিলেন, তা দেখে কে বলবে এখন তার বয়স ৩৮! ৬-১, ৪-৬, ৬-৪ জয়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল যেন সেই পুরনো সেরিনার ঝলক। সেই অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গি। সেই মরিয়া মনোভাব। যিনি স্টেফি গ্রাফের রেকর্ড ভেঙে ইতিমধ্যেই জিতে ফেলেছেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। আর একটি জিতলেই ধরে ফেলবেন মার্গারেট কোর্টের সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অনন্য রেকর্ডকে। তবে পুরনো সেই সেরিনার একাধিপত্য দেখা যায়নি। বরং হালেপ মাঝেমধ্যেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, কেন তিন এক নম্বর। তৃতীয় সেটে তিনবার ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান সেরিনা। শেষ পর্যন্ত তার অদম্য মনোভাবেরই জয় হয়। ‘দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হল,’ জেতার পরে বলেন সেরিনা, ‘সিমোনা বিশ্বের এক নম্বর। আমাকে অনেক উন্নত টেনিস খেলতে হত জিততে গেলে। আমি খুব খুশি প্রিয় এই কোর্টে ফিরে জিততে পেরে।’ কীভাবে সম্ভব হল এই প্রত্যাবর্তন? জিজ্ঞেস করায় বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরার জবাব, ‘আমি একজন ফাইটার। কখনও লড়াই ছাড়ি না। কখনও হাল ছাড়ি না। সব সময় পরিশ্রম করে যাই। অলৌকিক ব্যাপার যে, আমি আজ এখানে এই কোর্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমি প্রত্যেকটা পয়েন্টের জন্য নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করি।’ জীবনের যে কোনও খাতে সফল হতে চাওয়া অনেকের জন্য ‘মোটিভেশনাল স্পিচ’-এর মতো শোনাচ্ছিল তখন কোর্টে দাঁড়িয়ে সেরিনার সেই কথাগুলো। মেলবোর্ন পার্কে সোমবারের পরে বলাবলি শুরু হয়ে গেছে, টেনিসের সবার সেরা রেকর্ড মার্গারেট কোর্টের কীর্তি এ বারেই তিনি ধরে ফেলবেন কি না। হালেপকে হারানোর পরে তার সামনে কী রকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে, দেখে নেওয়া যাক। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হবেন ক্যারোলিনা প্লিসকোভার। তার পরে দেখা হতে পারে নেয়োমি ওসাকা অথবা এলিনা সোয়াইতোলিনার সঙ্গে। যেভাবে হালেপের সঙ্গে তিনি ঝোড়ো গতিতে শুরু করেন এবং পরে নাছোড় ভঙ্গিতে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যান, তা দেখে সেরিনা-ভক্তরা আশাবাদী হয়ে উঠতেই পারেন। হালেপের বিরুদ্ধে প্রথম সেট তিনি জেতেন ঝড়ের গতিতে মাত্র ২০ মিনিটে। যেন র‌্যাপিড ফায়ার রাউন্ড চলল। তার পরে হালেপ দুর্দান্ত ভাবে ম্যাচে ফেরেন। কিন্তু মেলবোর্নের গরমেও শেষ পর্যন্ত কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা দেখান সেরিনা। রড লেভার এরিনায় পনেরো হাজার দর্শকের সামনে অদ্ভুত এক ম্যাচ হয়ে গেল। যেখানে বিশ্বের এক নম্বর খেলছেন আন্ডারডগ হিসেবে। যেখানে বিশ্ব সেরার চেয়েও তার উল্টো দিকে থাকা প্রতিপক্ষের জয় দেখতে বসে আছেন বেশি সমর্থক। এমন এক প্রতিপক্ষ, যিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই জিতেছেন সাতবার। দু’বছর আগে এখানেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জিতেছিলেন শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এবার হয়তো প্রিয় কোর্টই হয়ে থাকছে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ!   সূত্র: আনন্দবাজার একে//

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: দুই বছর পর কোয়ার্টারে জোকোভিচ

রজার ফেডেরারের বিদায়ের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই আরও এক ইন্দ্রপতন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল সোমবার মেলবোর্ন পার্কে। ফেডেরার যেমন রোববার প্রথম সেটে জেতার পরে দ্বিতীয় সেটে হেরে গিয়েছিলেন, ঠিক একই চিত্রনাট্য দেখে এবার প্রমাদ গুনেছিলেন নোভাক জোকোভিচের ভক্তরা। সুইস মহাতারকার ঘাতক ছিলেন গ্রিসের ২০ বছর বয়সি স্তেফানোস চিচিপাস। এবার সেই ভূমিকায় দেখা যেতে পারত রাশিয়ার ২২ বছর বয়সি দানিল মিদভিদিভকে। শেষ পর্যন্ত ভক্তদের স্বস্তি দিয়ে দু’বছর পরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেন সার্বিয়ান তারকা। তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে রুশ প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬-৪, ৬-৭ (৫), ৬-২, ৬-৩ হারিয়েছেন জাকোভিচ। গত মৌসুমে উইম্বলডন এবং যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জেতার পরে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফির হ্যাটট্রিকের থেকে আর তিন ধাপ দূরে বিশ্বের এক নম্বর জোকোভিচ। গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ফেডেরারের বিদায়ের পরে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে রকম ছন্দে খেলছেন জোকোভিচ, ১৫ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবারই হাতে তুলবেন মেলবোর্ন পার্কে। কোর্টে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মজা করে বিশ্বের এক নম্বর বলেও দেন, ‘আমার পরবর্তী ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন নজর রাখছে ধরে নিয়ে বলছি, জিতে দারুণ লাগছে। এত তরতাজা জীবনে কখনও নিজেকে মনে হয়নি।’ খেলোয়াড় জীবনের মোট ১৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে মেলবোর্ন পার্ক থেকে ছ’টি খেতাব জিতেছেন জোকোভিচ। রেকর্ড সাত নম্বর ট্রফি জেতার দৌড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তার সামনে এবার অষ্টম বাছাই কেই নিশিকোরি। জাপানি তারকার চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারলে তাকে সেমিফাইনালে ২০১৬-র উইম্বলডন রানার্স মিওস রাওনিচ বা ২৮ নম্বর বাছাই লুকাস পওলির সামনে পড়তে হতে পারে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ফাইনালে হতে পারে বিশ্বের এক বনাম দুই অর্থাৎ নোভাক-রাফা দ্বৈরথ। জোকোভিচকে অবশ্য শেষ তিনটি হার্ডলের আগে আরও একটা চ্যালেঞ্জ সামলাতে হচ্ছে। সেটা ক্লান্তি। ‘ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট শারীরিক দিক থেকে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলাম না। দেখা যাক পরের দিন শরীর কী রকম থাকে। ক্লান্তিটা ঠিক কাটিয়ে উঠতে পারব এই আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’ সোমবার ম্যাচের পরে বলেছেন জোকোভিচ। ক্লান্তির কারণও রয়েছে। মেলবোর্নের গরমের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীর লম্বা র‌্যালির সঙ্গেও পাল্লা দিতে হয়েছে তাকে। জোকোভিচ বলেছেন, ‘বেশির ভাগ সময়েই একে অন্যকে তাড়া করে গিয়েছি আমরা। এক এক সময় তো ৪০-৪৫টা র‌্যালিও হয়েছে। সেই কারণেই হয়তো এই ক্লান্তি ভাবটা এসেছে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘তবে ক্লান্তিটা সামান্যই। খুব একটা চিন্তার কিছু দেখছি না।’ ক্লান্তির সমস্যা ভোগাতে পারে জোকোভিচের শেষ আটের প্রতিদ্বন্দ্বী নিশিকোরিকেও। যাকে কোয়ার্টারে উঠতে লড়তে হল পাঁচ ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। তিনি হারান ২৩ নম্বর বাছাই পাওলো কারেনো বুস্তাকে ৬-৭ (৮), ৪-৬, ৭-৬ (৪), ৬-৪, ৭-৬ (৮)। এই নিয়ে তিনটি পাঁচ সেটের ম্যাচ খেললেন তিনি এবার। সোমবার দু’সেট হারার পরে তৃতীয় সেটে টাইব্রেকারে ৫-৮ পিছিয়ে ছিলেন নিশিকোরি। এই সময়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পাওলোর একটি শট নেটে লেগে কোর্টে পড়ার পরে লাইন জাজ আউট কল করেন। ফিরতি শটে নিশিকোরি ব্যাকহ্যান্ড উইনার মারেন। ক্ষুব্ধ পাওলো রিপ্লের দাবি করলে দেখা যায় তার শট আউট ছিল না। কিন্তু চেয়ার আম্পায়ার থমাস সুইনি পয়েন্ট দেন নিশিকোরিকে। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ হন স্প্যানিশ খেলোয়াড়। মেজাজের সঙ্গে ছন্দও হারান। ম্যাচ জয় থেকে মাত্র দু’পয়েন্ট দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার পরে ম্যাচটাই হেরে বসেন। নিশিকোরির সঙ্গে হাত মেলানোর পরে কোর্টে নিজের কিট ব্যাগও ছুড়ে ফেলেন রাগে। শুধু তিনিই মেজাজ হারাননি সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। কানাডার রাওনিচের বিরুদ্ধে স্ট্রেট সেটে হারার পরে চতুর্থ বাছাই আলেকজান্ডার জেরেভ কোর্টে র‌্যাকেট আছড়ে ভাঙেন। উত্তাপ কিন্তু ক্রমশ বাড়ছে মেলবোর্নে! সূত্র: আনন্দবাজার একে//

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ফেডেরারের বিদায়

রজার ফেডেরার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গত দুইবার টানা ট্রফি জিতেছেন। কিন্তু রোববার তার হাঁটুর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে হারলেন ফেডেরার। ২০১৬-র সেমিফাইনালের পরে এই প্রথম কোনও ম্যাচ হারলেন মেলবোর্ন পার্কে। তবে গ্রিসের যে তরুণ ফেডেরারকে হারালেন, সেই স্তেফানোস চিচিপাসকে কিন্তু গত মাসেই হপম্যান কাপে ফেডেরার হারিয়ে দিয়েছিলেন। চিচিপাসের বয়স মোটে ২০ বছর হলেও, যথেষ্ট কঠিন প্রতিপক্ষ। দুরন্ত ছন্দে আছেন। দু’বছর আগেও র‌্যাঙ্কিং ছিল ২১০। এখন বিশ্বের ১৫ নম্বর। মেলবোর্নে খেলছেন ১৪ নম্বর বাছাই হিসেবে। ছয় ফুট চার ইঞ্চি লম্বা। প্রচণ্ড আগ্রাসী টেনিস খেলতে পারেন। অনেকে তো এখনই বলতে শুরু করেছে এই ছেলেটা এক নম্বরে উঠে আসার যোগ্য। ভবিষ্যতই বলবে কখনও এক নম্বরে উঠে আসতে বা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারবেন কি না। রোববার চার সেটের লড়াইয়ে ফেডেরার ৭-৬ (১৩-১১), ৬-৭ (৩-৭), ৫-৭, ৬-৭(৫-৭)-এ হারলেও ম্যাচটা কিন্ত যথেষ্ট হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। ফেডেরারের দ্বিতীয় সেটে চারটা সেট পয়েন্ট পেয়েও কাজে লাগাতে না পারাটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফেডেরারকে হারাতে চিচিপাসের স্ট্র্যাটেজি ছিল ভীষণ আগ্রাসী খেলতে হবে, গতি বাড়াতে হবে। তাই প্রথম থেকেই ফেডেরারকে গতির চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। যার সামনে ১২টা ব্রেক পয়েন্ট পেয়েও কাজে লাগাতে না পারাটাই কাল হল ফেডেরারের। এখন কিন্তু নামী খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফিটনেসের দিক থেকে এগিয়ে থাকা তরুণ প্রজন্মের ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে। তাই চোট-আঘাত সামলে শুধু দক্ষতা দিয়ে টানা দু’সপ্তাহ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সোজা নয়। এই গ্রহে ফেডেরারের চেয়ে বেশি বার আর কারও হাতে উইম্বলডনের পুরুষদের সিঙ্গলসে সোনালি ট্রফিটা দেখা যায়নি। আটবারের চ্যাম্পিয়নের কাছে উইম্বলডন ঘর-বাড়ির মতো চেনা। স্ট্রবেরি, ক্রিম, সবুজ ঘাস, সাদা টেনিস পোশাকের মতো গত দু’দশকে ফেডেরারও উইম্বলডনের অঙ্গ হয়ে উঠেছেন। গত বছর ফেডেরারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এখানে অবসর নিতে পারাটা ওর অন্যতম ইচ্ছে। এবার ট্রফিটা জিতে ঘোষণাটা করার চেয়ে ভাল মুহূর্ত আর কী হতে পারে! একে//

ওজনিয়াকিকে হারিয়ে জবাব শারাপোভার

শুক্রবারের মেলবোর্ন জুড়ে আলোচনা ছিল একটাই। মারিয়া শারাপোভার কাছে মেয়েদের গতবারের চ্যাম্পিয়ন ক্যারোলিন ওজনিয়াকির হার! অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সাবেক ‘নাম্বার ওয়ান’কে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন শারাপোভা। শুক্রবার মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে প্রথম সেটে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন ওজনিয়াকি। কিন্তু শেষ সেটে আর আটকাতে পারেননি শারাপোভাকে। দুই ঘণ্টা ২৪ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৩ গেমে জেতেন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী রুশ তারকা। ডোপিংয়ে কলঙ্কিত মারিয়া নির্বাসন শেষ করে কোর্টে ফিরলে এই ওজনিয়াকিই বলেছিলেন, ‘শুধু ওর গ্ল্যামারের জন্যই এত দিন বাইরে থেকেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাছাই তালিকায় দিব্যি জায়গা করে নিচ্ছে।’ শারাপোভা কিন্তু পাল্টা কিছু বলেননি। বললেন না শুক্রবার ওজনিয়াকিকে হারিয়েও। হয়তো ঠিক করে রেখেছিলেন, জবাবটা কোর্টে দেবেন। দিলেনও। এবং এই জয়ে তার শরীরী ভাষায় চুঁইয়ে পড়ল তৃপ্তি। দু’হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তার মুখে খেলে গেল বিখ্যাত সেই হাসি। ভুললেন না, শূন্যে চুম্বন ছুড়ে দিতেও। কোন রহস্যে জয়?  এমন প্রশ্নে মারিয়ার জবাব, ‘অভিজ্ঞতা এক অমূল্য বস্তু। জানতাম ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন। আমার মতো না হলেও, অভিজ্ঞতাতেও খুব পিছিয়ে নেই। কিন্তু এই মানের ম্যাচের জন্যই তো এত দিন নিজেকে তৈরি করেছি। তাই শেষ পয়েন্টও আমিই জিতলাম।’ ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন শারাপোভা চতুর্থ রাউন্ডে খেলবেন স্বাগতিক খেলোয়াড় অ্যাশলি বার্টির বিপক্ষে। একে//

তৃতীয় রাউন্ডে জোকোভিচ

এগারো বছর আগে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব এসেছিল এই মঞ্চেই। এবং সে দিনের ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী আবারও তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। যথারীতি বৃহস্পতিবারের রড লেভার এরিনা দেখল নোভাক জোকোভিচের বিরুদ্ধে জো উইলফ্রিড সঙ্গার হার। বিশ্বের এক নম্বর তারকা ম্যাচ জিতলেন ৬-৩, ৭-৫, ৬-৪ ফলে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আর এক আকর্ষণীয় তথ্য। ২০০৮ সালের সেই স্মরণীয় ফাইনালের পরে এই প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসরে সঙ্গা খেলতে নেমেছিলেন অবাছাই হিসেবে! দু’ঘণ্টা চার মিনিটে ম্যাচ জিতে জোকোভিচ বলেন, আমার মনে হয় সঙ্গাও সেই ম্যাচের কথা ভোলেনি। তার পরে বহু উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছি আমরা। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচে বেশি মনঃসংযোগ করছি। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে দুই পরিচিত প্রতিপক্ষের দ্বৈরথের তুলমূল্য বিচারে কেউ কারও চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে বা পিছিয়ে ছিলেন না। কিন্তু জোকোভিচ জিতলেন কোর্টে অসম্ভব ক্ষিপ্রতাকে কাজে লাগিয়ে। নোভাকের কথায়, ‘জো’র বিরুদ্ধে খেলা আমার কাছে রীতিমতো এক কঠিন পরীক্ষা দেওয়ার মতো। আমি প্রথম সেট থেকে খুব সতর্ক ছিলাম।’ বরং ম্যাচ জিতে সঙ্গার প্রতি সম্ভ্রম ফুটে উঠেছে সার্বিয়ান তারকার গলায়। বলেছেন, ‘হাঁটুর সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগেছে সঙ্গা। অবাছাই হিসেবে খেলতে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, র‌্যাঙ্কিং দিয়ে ওর যোগ্যতা মাপতে যাওয়া বোকামি।’ বিদায় নিলেন স্ট্যানিসলাস ওয়ারিঙ্কা। চার সেটের টানটান লড়াইয়ে তাকে হারালেন কানাডার মিয়োস রাওনিচ। তার পক্ষে ফল ৬-৭ (৪), ৭-৬ (৬), ৭-৬ (১১) এবং ৭-৬ (৫)। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে বিদায় নিলেও এটিপি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জোকোভিচের বিদ্রোহ নিয়ে তোপ দেগে গেলেন ওয়ারিঙ্কা। এক চিঠিতে ওয়ারিঙ্কা লিখেছেন, ‘গত পাঁচ বছরে টেনিস ঠিক লক্ষ্যেই এগিয়েছে। জোকোভিচ এটা কিন্তু নিশ্চিত করতে পারবে না, নতুন চিফ এগজিকিউটিভ এলেই টেনিস বিশ্বের ছবি পাল্টে যাবে। নোভাকের ভাবনার বিরোধী আমি।’ এ দিন পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জাপানের কেই নিশিকোরি হারিয়েছেন ইভো কার্লোভিচকে। যিনি ম্যাচে মেরেছেন ৫৯টি এস সার্ভিস! ৬-৩, ৭-৬ (৮), ৫-৭, ৫-৭, ৭-৬ (১০) ম্যাচ জিতে নিশিকোরির মন্তব্য, ‘আমি সারা বছরেও বোধহয় এতগুলো এস সার্ভিস মারি না।’ বিদায় নিয়েছেন দমিনিক থিম। ১৯ বছরের অস্ট্রেলীয়, ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে খেলতে আসা অ্যালেক্সেই পপিরিনের বিরুদ্ধে তৃতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমের পরে ম্যাচ ছেড়ে দেন তিনি। সেই সময়ে পপিরিনের পক্ষে স্কোর ছিল ৭-৫, ৬-৪, ২-০। পনেরো বছর পর তৃতীয় রাউন্ডে উঠলেন পাঁচ অস্ট্রেলীয়! সূত্র: আনন্দবাজার একে//

তৃতীয় রাউন্ডে নাদাল, সুর পাল্টালেন জোকোভিচ

রাফায়েল নাদালের খেলায় দেখা গেল তার সেরা ফর্মের ঝলক। তার জোরেই অবলীলায় উতরে গেলেন অস্ট্রেলীয় ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা। সব চেয়ে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু এডবেনের বিরুদ্ধে একবারের জন্যও পুরনো চোট নিয়ে সমস্যায় পড়েননি। নাদাল জিতলেন ৬-৩, ৬-২, ৬-২। তৃতীয় রাউন্ডেও স্পেনীয় মহাতারকাকে খেলতে হবে এক অস্ট্রেলীয়, অ্যালেক্স ডি মিনরের সঙ্গে। বুধবার রড লেভার এরিনায় গোটা স্টেডিয়াম কিন্তু অস্ট্রেলীয় এডবেনের জন্য গলা ফাটাল। এমনকি এক সময় এক দর্শক বলে বসলেন, ‘রাফা, আমাদের ছেলেটাকে একটু ছেড়ে দাও না...।’ নাদাল ‘ছেড়ে দেওয়ার’ মেজাজে ছিলেন না। স্কোর লাইনেই তা পরিষ্কার। ম্যাচের পরে বললেন, ‘চোটের জন্য অনেক প্রতিযোগিতায় খেলিনি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শুরুর দিকে অসুবিধে হয়। তবু আজ কার্যত নিখুঁত ম্যাচ খেললাম। বিশেষ করে সার্ভিস আর প্রথম শটগুলো ঠিকঠাক হয়েছে। ‘ এ দিকে, আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নোভাক জোকোভিচ এ দিন বললেন, তার সংস্থা (খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া সংস্থা, নোভাক যার প্রেসিডেন্ট) এবার নাদাল আর রজার ফেডেরারের পরামর্শ নেবে। সার্বিয়ান তারকা এমনকি জানালেন, তিনি নিজে রজারদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রসঙ্গত, এটিপি টুরের চিফ ক্রিস কার্মোডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন নোভাকরা। তাকে পদচ্যুত করার লক্ষ্য। সঙ্গে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইত্যাদি নিয়েও তাদের লড়াই। জোকোভিচ বলেছেন, অবশ্যই আমরা রাফা, রজারের সঙ্গে কথা বলব। আসলে এটা নিয়ে কথা বলার সময়ই পাচ্ছিলাম না। সম্ভব হলে মেলবোর্নেই কথা বলব। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ইভান্সের কাছে কঠিন পরীক্ষা দিলেন ফেডেরার

কথায় বলে ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ। রজার ফেডেরারও সে রকমই বলছেন। অস্ট্রেলীয় ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রিটেনের ড্যান ইভান্সের সঙ্গে খেলতে নামার আগে সুইস মহাতারকারও সে রকমই মনে হয়েছিল। ‘যেন নিজের প্রতিবিম্বের সঙ্গেই খেললাম। ও তো হুবহু আমার মতোই খেলে। তাই ম্যাচের আগে কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না কোন স্ট্র্যাটেজিতে খেলব। ম্যাচেও সেটাই হল। ব্যাপারটা বুঝে উঠতে উঠতেই তিন নম্বর সেটে পৌঁছে গেলাম।’     জিতলেন অবশ্যই ফেডেরার। তবে প্রথম দু’টি সেট জিততেই তার লেগে গেল প্রায় দু’ঘণ্টা। কিন্তু মজা হচ্ছে, ম্যাচের পরে জিম কুরিয়রকে কোর্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইভান্স নয়, বেশি কথা বললেন সেরিনা উইলিমাসকে নিয়ে। স্বীকার করলেন, সেরিনার বিরুদ্ধে খেলতে নেমে তিনি একেবারে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। জানুয়ারির শুরুতে সেই অবিশ্বাস্য এবং স্বপ্নের দ্বৈরথের সাক্ষী হতে ভিড় উপচে পড়েছিল। উপলক্ষটা হপম্যান কাপ। হলই বা প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা। মিক্সড ডাবলসে লড়াই হচ্ছে, কোর্টে ফেডেরারের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে সেরিনা, এ হেন ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী হতে কে না চাইবে! আসল কথা, সে দিন সব চেয়ে বেশি উত্তেজিত ছিলেন রজার নিজেই। সুইস মহাতারকা এতটাই ভক্ত সেরিনার! বললেন, ‘মনে হয় সেরিনার সঙ্গে আমার খেলাটা টেনিসের সুন্দরতম ঘটনাগুলোর একটা। সারা শহর (পার‌্থ) এই ম্যাচটা নিয়ে আলোচনায় মেতেছিল। হয়তো গোটা অস্ট্রেলিয়াই।’ সে দিনের ম্যাচ প্রসঙ্গে তার আরও কথা, ‘কী সুন্দর পরিবেশে খেলেছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমাদের মধ্যে ম্যাচের ব্যাপারটা যে চোখের সামনে ঘটছে, তা ভেবে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম।’ সে দিনের সেই ম্যাচে ফেডেরারের সুইজারল্যান্ডই জিতেছিল। কিন্তু এত দিনে সুইস মহাতারকা স্বীকার করলেন, সে দিন তার নিজের মনের অবস্থাটা কী হয়েছিল, ‘মেনে নিচ্ছি, সেরিনার বিরুদ্ধে ঠিকঠাক সার্ভিসটা সে দিন করতে পারছিলাম না। নিশ্চয়ই ওর শরীর থেকে কোনও জ্যোতি বেরোচ্ছিল। বিশ্বাস করুন, এ সব মজা করে বলছি না।’ ইভান্সকে বুধবার ফেডেরার হারালেন ৭-৬ (৭-৫), ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩ সেটে। ম্যাচ চলাকালীন একটু-আধটু বৃষ্টিও হল। তা নিয়ে আম্পায়ার মারিয়ানা ভেলোভিচের সঙ্গে অল্পসল্প তর্কেও জড়ালেন। কোর্ট ভিজে যাচ্ছিল বলে ম্যাচ চালানোর পক্ষপাতী ছিলেন না। তাই বিরক্ত হয়ে এক বার বলে ফেললেন, ‘যতক্ষণ না পিছলে পড়ে কারও পা ভাঙছে, ততক্ষণ খেলে যেতেই হবে।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য অল্প সময়ের জন্য হলেও খেলা বন্ধই করতে হয় আম্পায়ারকে। তখন ম্যাচে ফেরার জন্য কার্যত প্রাণপাত করছেন ইভান্স। যদিও রজারের অভিজ্ঞতার কাছে তা শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়। রজার অবশ্য ইভান্সের প্রশংসাই করলেন, ‘অনেক দিন থেকে ওকে চিনি। ইভান্স বেশ ভাল খেলে। ওর স্লাইস শটগুলোর তো কোনও জবাব নেই। ভাল লাগছে, তার পরেও জিততে পেরেছি ভেবে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি