ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ৪:২২:৩০

সেরিনার পাশে ম্যাকেনরো

সেরিনার পাশে ম্যাকেনরো

যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ফাইনালে চেয়ার আম্পায়ারকে ‘চোর’ বলেছিলেন সেরিনা উইলিয়ামস। আর এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এবার মুখ খুললেন আর এক কিংবদন্তি জন ম্যাকেনরো। কোর্টে সেরিনার আচরণকে তিনি সমর্থন করেননি। যদিও তিনিও মনে করেন, টেনিসে পুরুষ ও নারীদের সম্পর্কে সব সময় একই নীতি নেওয়া হয় না। খেলা চলাকালীন কোচের কাছ থেকে নির্দেশ নেওয়ার অভিযোগে সেরিনার পয়েন্ট, গেম কেড়ে নেওয়ার পরে আর্থিক জরিমানা হয় ফাইনালে। যা নিয়ে ম্যাকেনরো বললেন, ‘সেরিনা যা বলেছে তার চেয়েও খারাপ কথা আমি আম্পায়ারদের সম্পর্কে বলেছি। র‌্যাকেট তো ভেঙেইছি। কিন্তু কখনও আমাকে এত বড় শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। যা প্রমাণ করে সার্কিটে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। এই বৈষম্য নিয়ে সেরিনা যা বলেছে তা একশো ভাগ সত্যি।’ পাশাপাশি চব্বিশটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক আর এক কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্ট কিন্তু সেরিনার সমালোচনাই করেছেন। তার বক্তব্য, ‘আমাদের নিয়ম মেনেই খেলতে হবে। দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, কোনও কোনও খেলোয়াড় নিজেকে আইনের উর্ধ্বে মনে করে। বিশেষ করে ম্যাচে হারার সময়। সেরিনা যেমন ওর হাঁটুর বয়সি নেওমি ওসাকার বিরুদ্ধে প্রথম সেটে দাঁড়াতেই পারেনি। মনে হয় এটাই নিতে পারেনি সেরিনা।’ সেরিনা আপাতত নিজে এই ধরনের বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে এসে জানালেন, ফ্যাশন আর নিজের পরিবার নিয়েই কথা বলতে তিনি আগ্রহী। নিজের মেয়ে, স্বামী ও ফ্যাশন নিয়ে তিনি বললেনও অনেক কথা। কিন্তু সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ফাইনালের বিতর্কিত প্রসঙ্গ একাধিক বার উঠল। এবং সেরিনাকে তা নিয়ে কথাও বলতে হল। তাকে বলা হয়, ‘এমন নয় যে এই প্রথম আপনাকে অবিচারের শিকার হতে হল। কিন্তু এই ধরনের ঘটনার পরে, প্রতি বারই দেখা যায় আপনি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আশা করি এবারও তেমন কিছুই হবে।’ এমন কথায় সেরিনার প্রতিক্রিয়া, ‘আপনাদের কথায় আমি সব সময়ই অনুপ্রাণিত হই। নিজের খেলাকে উন্নত করতেও সারাক্ষণ চেষ্টা করে যাই।’ সঙ্গে মজা করে যোগ করলেন, ‘এমনিতেই আমি খুব পরিশ্রমী। এমনকি নিজের মেয়েকে মানুষ করার ব্যাপারেও। তা ছাড়া ফ্যাশন নিয়েও আমার দুর্বলতা আছে। টেনিসের মতোই এই জায়াগাটাতেও আমি সেরা হতে চাই। আর তার জন্য সব সময় ভাবনা-চিন্তা করি।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//
সন্তানের অপেক্ষায় সানিয়া, চলছে পারিবারিক পার্টি

টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। অপেক্ষায় আছেন কোল জুড়ে সন্তান আসার। শুধু অপেক্ষা নয়, নিজের গর্ভাবস্থা বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করছেন তিনি। যার প্রমাণ পাওয়া গেলো তার ইন্সটাগ্রামে। মা হতে চলা সানিয়া সম্প্রতি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ‘পাজামা পার্টি’ করেছেন। সেই পার্টির মজার সব ভিডিও এবং ছবি পোস্ট করেছেন ইন্সটাগ্রামে। সেই সঙ্গে তিনি লিখেছেন ‘সব আকারে এবং সব মাপে আমাদের পাওয়া যায়। কিন্তু এরা আমার জীবনের ধ্রুবক ... ধন্যবাদ সবাইকে!’ পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে সানিয়া এবং তার বোন আনাম, বিভিন্ন পশুর বিশেষ ধরণের পাজামা পরেছেন। সানিয়া একটি সবুজ রঙের হাতির পোশাক পরেছেন, তার বোন আনাম গোলাপী খরগোশের মতো পোশাক পরেছেন। অন্য ছবি আর ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে মজার সব পারফর্ম্যান্স আর বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সানিয়া একটি কেক কাটছেন। তাতে চিৎকার করে তিনি তার স্বামী পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘মিস ইউ’! ইন্সটাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে মিস করেছি। কিন্তু দায়িত্ব তো সবার আগে।’ উল্লেখ্য, অক্টোবরে সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের প্রথম সন্তানের জন্ম হতে চলেছে। সূত্র : এনডিটিভি এসএ/

দেল পোত্রোকে হারিয়ে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ

ইউএস ওপেনের ফাইনালে জুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোকে হারিয়ে পিট সাম্প্রাসের সঙ্গে এক আসনে চলে এলেন নোভাক জোকোভিচ। এ জয়ের মাধ্যমে জীবনের ১৪তম গ্রান্ড স্লাম জয় করেন তিন। রাফায়েল নাদালের থেকে আর মাত্র ৩টি গ্রান্ড স্ল্যামে পিছিয়ে জোকোভিচ। ইউএস ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচ দেল পোত্রোকে হারিয়ে দেন স্ট্রেট সেটে। খেলার ফলাফল ৬-৩, ৭-৬ ও ৬-৩। ২০১১ ও ২০১৫ সালে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন জোকারকে অবশ্য কঠিন লড়াইয়ে ফেলে দিয়েছিলেন পোত্রো। সেকেন্ড সেটে জোকোকে ঘামিয়ে দেন ওয়ার্ল্ড নাম্বার থ্রি পোত্রোরো। তবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলায় টিকে থাকেন নোভাক। হাঁটুর অস্ত্রপচার থেকে ফিরে চারটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে তিনটিতে জিতলেন সার্বিয়ান এই স্টার। রবিবার যে কোর্টে খেলে ইউএস ওপেন খেতাব জোকো তুলে নিলেন সেখানেই জীবনের ১৪তম গ্রান্ড স্ল্যাম টাইটেল জিতেছিলেন পিট সাম্প্রাস। এমএইচ/

প্রথম জাপানি হিসেবে ওসাকার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়

ইউ এস ওপেনে মার্কিন তারকা সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জাপানের নাওমি ওসাকা। এ দিন চেয়ার আম্পায়ারকে চোর, প্রতারক বলে বিতর্কে জড়ালেন সেরেনা উইলিয়ামস। খেলার মধ্যেই কোচিং নেওয়া, চেয়ার আম্পায়ারকে গালি দেওয়া এবং র‌্যাকেট ছোড়ার (র‌্যাকেট অ্যাবিউস) মতো একাধিক অভিযোগে জর্জরিত মার্কিন টেনিস তারকা। বিতর্কে জড়িয়ে পয়েন্ট খোয়ানো এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্রেট সেটে নবাগতা ওসাকার কাছে হার। সব মিলিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শেষ হল মেয়েদের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন। আর কেরিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। ম্যাচের ফল ৬-২, ৬-৪। প্রথম বার কোনও জাপানি হিসেবে ইউএস ওপেন জিতে ইতিহাসে ঢুকে পড়লেন তিনি। একই সঙ্গে মা হওয়ার পর গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন ফের অধরাই থেকে গেল সেরেনার। কিন্তু হেরেও প্রচারের আলো সেরেনার দিকেই। কারণ একাধিক বিতর্ক। প্রথম অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালীন কোচিং নেওয়া। প্রথম সেট ৬-২-এ জেতেন ওসাকা। দ্বিতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমে সেরেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার কোচ প্যাট্রিক মৌরাতগ্লু তাকে ইশারায় পরামর্শ দিয়েছেন। চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস র‌্যামোস তাকে ডেকে সতর্ক করেন। কিন্তু সেরেনা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। চেয়ার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বলেন, ‘জেতার জন্য আমি কখনও প্রতারণার আশ্রয় নিই না। তার চেয়ে হেরে যাওয়াই আমার কাছে শ্রেয়।’ কিছুক্ষণ পর ফের খেলা শুরু হয়। সেরেনা তখন ২-১ এ এগিয়ে। সেই সময়ে ফের চেয়ার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে মসৃণভাবে খেলা পরিচালনার কথা বলেন তিনি। আরও এগিয়ে সেরেনার পক্ষে ফল দাঁড়ায় ৩-১। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেরেনার পর পর দু’টি ডাবল ফল্ট এবং ব্যাক হ্যান্ডের একটি শট নেটে আটকে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরেন ওসাকা। এবং মেজাজ হারান সেরেনা। নিজের র‌্যাকেট মাঠে ছুড়ে দেন। ভেঙে যায় র‌্যাকেটটি। তার জেরে পয়েন্ট পেনাল্টি হয় তার। ফলে পরের গেমে চাপে পড়ে যান ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। ওসাকা ৪-৩ লিড নিয়ে নেওয়ার পর ফের চেয়ার আম্পায়ার র‌্যামোসের সঙ্গে ফের সেরেনা বাদানুবাদ জুড়ে দেন। র‌্যামোসকে উদ্দেশ্য করে বারবার বলতে থাকেন, ‘আমি প্রতারক নই। আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন। আপনি চোর, প্রতারক। আপনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে আমি যে ম্যাচে খেলব, আপনি আর আম্পায়ার থাকবেন না।’ এই সময় সেরেনাকে কোর্টের মধ্যেই কাঁদতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, দুই ম্যাচ রেফারিকেও কোর্টে নেমে আসতে হয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনেন দুই রেফারি। কিন্তু এই তর্কাতর্কির জন্য ফের ‘ভার্বাল অ্যাবিউস’-এ পয়েন্ট কাটা যায় সেরেনার। তার জেরে ওসাকার পক্ষে ফল দাঁড়ায় ৫-৩। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন ওসাকা। স্ট্রেট সেটে ম্যাচ জিতে ইউএস ওপেন খেতাব পকেটে পুরে নেন ২০ বছরের জাপানি তারকা। সেরেনার কোচ প্যাট্রিক মৌরাতগ্লু পরে ইএসপিএন-এ একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, তিনি ম্যাচ চলাকালীনই সেরেনাকে হাতের ইশারায় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সেরেনা সেটা খেয়াল করেননি। এই ঘটনায় টেনিসপ্রেমীদের অনেকেরই মনে পড়ে গেছে ২০০৯ সালে ইউএস ওপেন ফাইনালের কথা। কিম ক্লিস্টার্সের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচেও সেরেনার বিরুদ্ধে লাইন জাজকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ এবং চেয়ার আম্পায়ারকে কটূ কথা বলার অভিযোগ ওঠে। ওই ম্যাচেও হেরে যান মার্কিন তারকা। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ফেডেরার-অস্ত্র প্রয়োগ করতে চান সেরিনা

এক বছর আগে ঠিক এই সময়ে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। মেয়ে অলিম্পিয়া জন্মানোর পরে শারীরিক সমস্যায় তার জীবনসংকটে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভাবতে পারেননি এক বছরের মধ্যেই তিনি সেই লড়াই জিতে টানা দু’নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠবেন। তিনি সেরিনা উইলিয়ামস। সেমিফাইনালে অ্যানাস্তাশিয়া সেভাস্তোভাকে ৬-৩, ৬-০ উড়িয়ে দিয়ে সেরিনা শুধু রেকর্ড সাত নম্বর যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জেতার সামনেই নয়, তার সামনে ২৪ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়েরও হাতছানি। ‘হাসপাতালের শয্যায় নড়াচড়া করতে পারছিলাম না, হাঁটতে পারছিলাম না, কিছুই করার মতো অবস্থা ছিল না। তার মাত্র এক বছর পরে সেভাবে পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস করতে না পেরেও টানা দু’নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠে দারুণ লাগছে। এত দ্রুত এত দূর আসার পরে আমি জেতার জন্য মুখিয়ে রয়েছি,’ ফাইনালে ওঠার পরে বলেন সেরিনা। ২০১৫ এবং ২০১৬ যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে সেমিফাইনালে ছিটকে গিয়েছিলেন সেরিনা। এবার যদি তিনি খেতাব জিততে পারেন, তাহলে ক্রিস এভার্টকে ছাপিয়ে যাবেন মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জয়ী হিসেবে। সেই লড়াইয়ে ফাইনালে সেরিনার সামনে শুধু বাধা একটাই। ২০ বছর বয়সি জাপানের  বিস্ময়-কন্যা নাওমি ওসাকা। যিনি ২২ বছর পরে প্রথম জাপানি নারী হিসেবে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েছিলেন আগেই। শেষ চারে স্থানীয় তারকা ম্যাডিসন কিইজকে ৬-২, ৬-৪ হারিয়ে প্রথম জাপানি নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠার নজির গড়েছেন। শেষ চারে বিপক্ষ ১৩টি ব্রেক পয়েন্ট পেলেও সব ক’টিই বাঁচান ওসাকা। কীভাবে তিনি এতগুলো ব্রেকপয়েন্ট বাঁচালেন জানতে চাইলে ওসাকা বলেন, ‘তখন শুধু ভাবছিলাম, সেরিনার বিরুদ্ধে আমাকে খেলতেই হবে ফাইনালে।’ কেন এ রকম ভাবছিলেন তিনি, ব্যখ্যা করতে বললে ওসাকার চটপট উত্তর, ‘কী বলছেন আপনি, ওর নাম সেরিনা, তাই চেয়েছিলাম।’ অবশ্য এর আগে সেরিনার মুখোমুখি হননি ওসাকা, এমন নয়। মার্চে মায়ামি ওপেনে তিনি সেরিনাকে হারিয়েছিলেনও। কিন্তু সেই সেরিনা আর এখনকার সেরিনা এক নন। তখন সদ্য মেয়ে হওয়ার পরে কোর্টে নেমেছিলেন মার্কিন তারকা। ছন্দে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে ১৭ নম্বর বাছাই সেরিনা বরং ফাইনালে ওসাকার বিরুদ্ধে নয়া কৌশল প্রয়োগ করতে চান। তার সেই কৌশল ফাঁসও করে দিয়েছেন তিনি। সেরিনা বলেছেন, রজার ফেডেরারের বিখ্যাত ‘এসএবিআর’ কৌশল প্রয়োগ করতে চান তার চেয়ে ১৬ বছরের জুনিয়র প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে। কী সেই কৌশল? ২০১৫ সালে হার্ডকোর্ট মৌসুমে ফেডেরারের চালু করা এই কৌশলের নাম ‘সিক্রেট অ্যাটাক বাই রজার’। বিপক্ষের সার্ভিসের সময় তার অজান্তে দ্রুত নেটের কাছে উঠে এসে হাফ বলিতে রিটার্ন শট মারা। যে কৌশলে দেখা গেছে ফেডেরার রিটার্ন ঠিক কোথায় রাখতে পারে প্রতিপক্ষের আন্দাজ করা ভীষণ কঠিন হয়ে যায়। ফলে সহজ পয়েন্ট তুলে নেন ফেডেরার। এ ব্যাপারে সেরিনা বলেন, ‘আমি এই কৌশলটা অনুশীলন করে যাচ্ছি। কোন ম্যাচে আমি কৌশলটা প্রয়োগ করব সেটা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের উপরে। এ রকম (ওসাকা) খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আমি অনেক ম্যাচ আগে হেরেছি। তাই এবার একটু অন্য রকম কিছু প্রয়োগ করার কথা মাথায় রয়েছে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

প্রথম জাপানি হিসেবে ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওসাকা

ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন জাপানি টেনিস তারকা নাওমি ওসাকা। আর এর মধ্য দিয়ে কোনো গ্রান্ড স্লামের প্রথম ফাইনালে পৌঁছেছেন দেশটির কোনো তারকা। এদিকে ইউএস ওপেনের ফাইনালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী টেনিসের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। সেমি-ফাইনালে ৩৬ বছর বয়সী সেরেনার সামনে দাঁড়াতেই পারেননি লাতভিয়ার আনাস্তাসিয়া সেভাস্তোভা। মাত্র এক ঘণ্টার লড়াইয়ে ৬-৩, ৬-০ গেমে সেভাস্তোভাকে উড়িয়ে দেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী সেরেনা। অন্যদিকে শেষ চারে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কিসকে হারিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পা রাখেন ওসাকা। আগের তিন দেখায় কখনোই কিসকে হারাতে না পারা ২০ বছর বয়সী ওসাকা সেমি-ফাইনালে জেতেন ৬-২, ৬-৪ গেমে। শনিবার ফাইনালে ওসাকাকে হারাতে পারলে মার্গারেট কোর্টের ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন সেরানা। এমজে/

যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে গরমে দশ বার জামা বদল!

এ রকম কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে আগে কবে দেখা গেছে মনে করা যাচ্ছে না। নোভাক জোকোভিচ বনাম জন মিলম্যানের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ের মাঝেই যা ঘটল। দ্বিতীয় সেট চলার সময় হঠাৎই জোকোভিচের প্রতিদ্বন্দ্বী খেলা থামিয়ে দেন। চেয়ার আম্পায়ারকে অনুরোধ করেন, পোশাক পাল্টানোর জন্য। কারণ আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড গরমে তিনি এতটাই ঘামছিলেন যে কোর্টও পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছিল। যে কোনও সময় পা পিছলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এড়াতেই এই অনুরোধ করেন মিলম্যান। চেয়ার আম্পায়ার তার অনুরোধ রাখেন। আপত্তি করেননি জোকোভিচও। তার নিজেরও তো কম অস্বস্তি হচ্ছিল না এমন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। পরে জোকোভিচ বলেন, ‘এমন গরমে আমারও সমস্যা হচ্ছে, মিলম্যানেরও হচ্ছে। ও ক্ষমা চাইল, ম্যাচের মধ্যেই পোশাক পাল্টাতে যেতে হওয়ায়। আমি বললাম, ঠিক আছে তুমি যেতে পার। আমি ততক্ষণ একটু জিরিয়ে নিই। আমারও তখন একটু বিশ্রাম দরকার ছিল।’ তবে এখানেই বিতর্ক থামছে না। শেষ ষোলোয় মিলম্যানের কাছে হারার পরে রজার ফেডেরার কোর্টের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ৩৭ বছর বয়সি সুইস তারকা গত পাঁচ বছরে এত আগে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে বিদায় নেননি। ফেডেরারে বক্তব্য ছিল, আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে নতুন ছাদ বসানোর পরে সঠিকভাবে হাওয়া চলাচল হচ্ছে না। ‘এই পরিবেশ প্রতিযোগিতাটাকে একেবারে অন্য রকম করে দিয়েছে। পোশাক ঘামে ভিজে উঠছে। কোর্টে খেলতে গিয়ে মনে হচ্ছে গতি কমে গেছে। বলও ভিজে যাচ্ছে। উইনার মারতে গিয়ে মনে হচ্ছে সব কিছুই ধীর গতিতে হচ্ছে,’ বলেছিলেন ফেডেরার। একই সুর শোনা গেল জোকোভিচের মুখেও। তিনি বলেন, ‘দিনে খেলতে হোক বা রাতে, কোর্টে যথেষ্ট পরিমাণে হাওয়া চলাচল হচ্ছে না। আমার এ রকম কখনও ঘাম হয় না। প্রত্যেকটা ম্যাচের জন্য অন্তত ১০টা করে জামা আনতে হচ্ছে তাই। দুটো গেমের পরেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। রজারকেও এখানকার মতো কখনও আগে ঘামতে দেখিনি। কোর্টে নামার পরে তো মনে হচ্ছে যেন সাওনা বাথ নিতে নেমেছি।’ শুধু তাই নয়, বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন প্রাক্তন মার্কিন তারকা জিম কুরিয়রও। একটি চ্যানেলে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে কুরিয়র দাবি করেছেন, মার্কিন খেলোয়াড়দের সুবিধা দিতে কোর্টের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ মার্কিন টেনিস সংস্থার কর্তাদের মনে হয়েছে, কোর্টের গতি কমলে সুবিধে হবে সে দেশের খেলোয়াড়দের। সঙ্গে প্রচণ্ড গরম এবং আর্দ্রতা ও নতুন ছাদ বসানো আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে হাওয়া চলাচলের সমস্যা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে খেলোয়াড়দের জন্য। তা ছাড়া কোর্টের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য আরও বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের প্রতিটা পয়েন্টে। আরও বেশি র‌্যালি হচ্ছে। দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন তারা। মার্কিন টেনিস সংস্থার টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর ডেভিড ব্রিউয়ারও স্বীকার করে নিয়েছেন কোর্টের গতি কমিয়ে দেওয়ার কথা। তবে তার বক্তব্য, গত বছর খেলোয়া়ড়রা জানিয়েছিল কোর্টের গতি খুব বেশি। তার পরেই তারা এ রকম করেছেন। কিন্তু তার বক্তব্যের পরেও বিতর্ক থামছে কোথায়! সূত্র: আনন্দবাজার একে//

সেমিতে জকোভিচ, প্রতিপক্ষ নিশিকোরি

রূপকথার গল্পের মতোই ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন জন মিলম্যান। রজার ফেদেরারকে হারিয়ে দিয়ে ৫৫ নম্বর এ তারকা হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন টেনিস বিশ্বে। শেষ পর্যন্ত নোভাক জকোভিচের কাছে হার মানলো সে রূপকথার গল্প। আর এতেই সেমিতে পা দেন জকোভিচ।  গতকাল ফ্ল্যাশিং মিডোর সেন্টার কোর্টে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে সহজেই অসি উঠতি তারকাকে পরাজিত করে গত ১১ বছরে ১১বারের মত ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেন সার্বিয়ান এ সুপারস্টার। এদিকে ২১তম বাছাই নিশিকোরি ক্রোয়েশিয়ান তারকা মারিন সিলিচকে ৪ ঘন্টা ৮ মিনিটের দীর্ঘ লড়াই শেষে ২-৬, ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৪-৬, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছেন।কব্জির ইনজুরির কারনে গত বছর ইউএস ওপেনে খেলতে না পারা জাপানি তারকা কেই নিশিকোরি এবার ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় জকোভিচকে পরাজিত করে প্রথমবারের মত কোন এশিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেছিলেন নিশিকোরি।এমজে/

হয় বেশি খেলো, নয় ব্যাট তুলে রাখ: ফেদেরারকে ক্যাশ

ইউএস ওপেন থেকে ছিটকে গেছেন সাবেক নাম্বার ওয়ান টেনিস তারকা রজার ফেদেরার। ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫৫ নম্বরে থাকা মিলেনিয়ামের কাছে সহজ হারের পর ফেদেরারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই অনেকেই তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন টেনিস ব্যাট ঘুচিয়ে রাখার। তাদের একজন সাবেক উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন প্যাট ক্যাশ। এদিকে আরও কয়েক বছর আগেই ফেদেরার যুগের অবসান হয়েছে বলে আসছেন বেশ কয়েকজন টেনিস বোদ্ধা। তবে তাদের বোকা বানিয়ে দিয়ে ২০১৭ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ ২০টি গ্রান্ড স্লামজয়ী এ তারকা। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেও ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনে সুবিধে করতে পারেনি ফেদার। তাই অনেকেই বলছেন ৩৭ বছর বয়সী ফেদেরারকে অবশ্যই টেনিস ব্যাট তুলে রাখা উচিত। তবে অনেকেই বলছেন, নিজের স্বর্ণযুগ এখনো অতীত হয়নি তার। তারই প্রমাণ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। আর তাই প্যাট ক্যাশ বলেন, হয় ফেদেরারকে বেশি বেশি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে, নয় তাকে ব্যাট তুলে রাখতে হবে। এমজে/

টানা তৃতীয়বার সেমিতে রাফা

প্রথম সেট ০-৬ হেরেও রাফায়েল নাদাল শেষ পর্যন্ত জিতলেন। এর আগের তিনবার এমন পরিস্থিতি তিনি সামলাতে পারেননি। হেরে গিয়েছিলেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু এবার ব্যর্থ হননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের শেষ চারে উঠে গেলেন রাফা। জিততে অবশ্য চার ঘণ্টা ৪৯ মিনিট লড়াই করতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যে ফের একটা সেট টাইব্রেকারে হারেন স্প্যানিশ তারকা। তবু তাকে দমাতে পারেননি দমিনিক থিম। গতবারের চ্যাম্পিয়ন নাদাল জেতেন ০-৬, ৬-৪, ৭-৫, ৬-৭ (৪-৬), ৭-৬ (৭-৫)। যে জয় নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে টেনিস দুনিয়ায়। প্রথম সেটে বিশ্রী হেরেও কী করে ম্যাচে ফিরে এলেন নাদাল, কী করেই বা জয় পেলেন, এই প্রশ্নটাই ভেসে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। যার উত্তরে নাদাল বলছেন, ‘অনেকে ব্যর্থ হলে র‌্যাকেট বা স্ট্রিংয়ের দোহাই দেয়। আমি ও সব করি না। সামনের দিকে তাকাই। মানসিকতায় বদল আনার চেষ্টা করি। আর সেটা করতে গেলে অজুহাত দেওয়া যায় না। সত্যিটা হল, ম্যাচে ফেরার জন্য বা জেতার জন্য ভাল খেলতে হবে। কঠিন পরিস্থিতিতে এটাই মাথায় থাকে।’ মঙ্গলবার রাতেও জয়ে ফেরার লড়াইয়ে এই নীতিই নিয়েছিলেন নাদাল। শীর্ষ বাছাই স্প্যানিশ তারকা বলেন, ‘জীবনে দীর্ঘ ও কঠিন ম্যাচ অনেক খেলেছি আমি। আজকেরটা আর একটা। নিজের সেরাটা যখন দিই, যখন একেবারে সঠিক মানসিকতা নিয়ে কোর্টে নামি, জিতি বা হারি, তখনই তৃপ্তি পাই। এটাই আসল কথা।’ ম্যাচের শেষ সেটে যে টাই ব্রেকার হয়, তাতেও ৫-৫ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষটুকু সামলে নিয়ে ম্যাচ জিতে নেন কিংবদন্তি তারকা। এমন কঠিন ম্যাচ জেতার পরে আবেগটাও চেপে রাখতে পারেননি তিনি। প্রতিপক্ষ থিমকে জড়িয়ে ধরে তার কানে কানে কিছু বলতে দেখা যায় তাকে। কী বলেছিলেন থিমকে? নাদাল বলেন, ‘আমি থিমের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম। ও দারুণ ছেলে। আমার খুব ভাল বন্ধু। ওর সামনে আরও অনেক সুযোগ আসবে বড় প্রতিযোগিতা জেতার।’ এমন স্মরণীয় ম্যাচে হেরে কষ্ট নেই তার বিপক্ষেরও। বন্ধুর কাছে এই হারের পরে থিম বলেন, ‘এই ম্যাচটা চিরকাল মনে থাকবে আমার। টেনিস বরাবরই এমন নির্দয়। এই ম্যাচে হার কারও প্রাপ্য নয়। কিন্তু একজনকে তো হারতেই হয়। শেষ সেটে টাই ব্রেকারে ৫০-৫০ অবস্থা ছিল। কিন্তু রাফা আমার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট বেশি তুলে ম্যাচটা জিতে নেয়।’ এই নাদালের কাছেই জুনে ফরাসি ওপেন ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন থিম। এ দিন তৃতীয় সেটে ৫-৩ ও চতুর্থ সেটেও ৪-২ এগিয়ে ছিলেন অস্ট্রিয়ান তারকা। জেতার পরে তার কাছে গিয়ে নাদাল দুঃখ প্রকাশ করেন। যা শুনে হাসিই পেয়েছে থিমের। বলেন, ‘সত্যিই ও দুঃখিত কি? মনে হয় না। ও দারুণ ছেলে। কারও কাছেই হারতে চাই না আমি। তবে এখন আমি চাইছি রাফাই এই খেতাবটা জিতুক।’ এই নিয়ে টানা তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে উঠলেন নাদাল। চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্র ওপেন খেতাব জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামা স্প্যানিশ তারকা এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ১৮ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা হবে তার। তবে তার আগে সেমিফাইনালে নাদালকে খেলতে হবে খুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোর বিরুদ্ধে। যিনি জন আইসনারকে হারান ৬-৭, ৬-৩, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ সেটে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জয়ী জোকোভিচ, হারলেন শারাপোভা

যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে ফেডেরার পতনের দিনে নারীদের সিঙ্গলসে হারলেন মারিয়া শারাপোভাও। জন্মদিনেই চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে তাকে হারালেন স্পেনের কার্লা সুয়ারেস নাভারো। ম্যাচের ফল ৬-৪, ৬-৩। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে জিতেছিলেন শারাপোভা। ২০১২ সালের পরে যদিও তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারেননি। সুয়ারেসের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষাতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার হারলেন তিনি। এর আগে রাতের ম্যাচে ২৩ টির মধ্যে ২২ টি আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে জিতেছেন শারাপোভা। সেই শারাপোভাকে রাতের ম্যাচেই হারিয়ে নিজের ৩০তম জন্মদিনে কার্লা বলে যান, ‘জানতাম এখানে রাতের ম্যাচ খেলায় মারিয়ার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। কাজেই সেই ম্যাচে আমাকে সেরা টেনিস খেলতে হত। নিজেকে তাই বলছিলাম, মারিয়াকে হারাতে কোর্টে দৌড়াও ও খেলো।  ভাবেই জয় ছিনিয়ে এনেছি।’ তবে এই মুহূর্তে নিউ ইয়র্কে বেশ গরম। ফলে কোর্টে নেমে হাঁসফাঁস অবস্থা খেলোয়াড়দের। এই গরমকে হারাতে পারেননি রজার ফেডেরার। কিন্তু তার মোকাবিলা করেই কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। সার্বিয়ান টেনিস তারকা হারান অবাছাই জোয়াও সউসাকে। ম্যাচের ফল ৬-৩, ৬-৪, ৬-৩। স্ট্রেট সেটে ম্যাচ জিতে জোকোভিচ বলে যান, ‘স্ট্রেট সেটে ম্যাচ জিতে ভাল লাগছে। সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।’ অন্য ম্যাচে সপ্তম বাছাই মারিন চিলিচ বেলজিয়ামের দাভিদ গোফাঁকে ৭-৬, ৬-২, ৬-৪ সেটে হারিয়ে দিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। জিতেছেন কেই নিশিকোরি, ম্যাডিসন কিইস ও নওমি ওসাকাও। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

বড় বোনের বিরুদ্ধে সেরা ম্যাচটা খেললেন সেরিনা

খুব সহজেই সেরিনা উইলিয়ামস তার বড় বোন ভিনাসকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছে গেলেন। মাত্র ৭১ মিনিটে ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী ম্যাচ বের করলেন ৬-১ ৬-২ সেটে। চিকিৎসার কারণে সেরিনাকে এই ম্যাচে খানিকক্ষণের জন্য বিরতি নিতে হয়। শেষ ষোলোতে তিনি খেলবেন এবার এখানে সিমানো হালেপকে হারিয়ে চমকে দেওয়া এস্তোনিয়ার ৩৩ বছরের কাইয়া কানেপির সঙ্গে। যিনি এবার ফ্লাশিং মিডোজে একটিও সেট হারেননি। এমনিতে সেরিনা দারুণ খুশি এতটা দাপট নিয়ে বোনকে হারাতে পেরে, ‘কোর্টে ফেরার পরে আজই সেরা ম্যাচটা খেললাম।’ এত বড় ব্যবধানে এর আগে একবারই সেরিনা হারিয়েছেন ভিনাসকে। ২০১৩ সালে  জিতেছিলেন ৬-১, ৬-২। চার্লস্টনে। মার্গারেট কোর্টেও তিনি মাত্র তিনটে গেম খুইয়ে জিতলেন। বোনকে এত ভাল খেলতে দেখে অবাক ভিনাসও, ‘আমি খুব বেশি ভুল করিনি। কিন্তু ও সবই প্রায় ঠিক করেছে। আমার মনে হয় এই প্রতিযোগিতায় এবার এ রকম ছন্দেই খেলে যাবে সেরিনা।’ ট্যুরে এই নিয়ে আঠারো বার সেরিনা হারালেন ভিনাসকে। এ হেন একপেশে ম্যাচের পাশে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল রাফায়েল নাদালের সঙ্গে রাশিয়ার কারেন খাচানভের। ম্যাচের মীমাংসা হল চার সেটে। স্পেনীয় মহাতারকা শেষ পর্যন্ত জিতলেন ৫-৭, ৭-৫, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৭-৩) সেটে। জীবনের চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জয়ের লক্ষ্যে নাদালকে এবার খেলতে হবে জর্জিয়ার নিকোলাস বাসিলাসভিলির সঙ্গে। খাচানভের বিরুদ্ধেই তিনি এখানে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের সামনে পড়লেন। শুরুর দু’রাউন্ড জেতেন একটিও সেট না খুইয়ে। খাচানভ বলেছেন, ‘অনেক দিন থেকেই ওর খেলা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। সে ভাবেই তৈরি হয়েছিলাম। অবশ্যই আমি কীভাবে খেলি সেটাও ও জানে। হয়তো তাই এত ভাল একটা ম্যাচ হল।’ রুশ প্রতিপক্ষের প্রশংসা করেছেন রাফাও, ‘ও খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে তাই বেশ ভাল লাগছে। আসলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ম্যাচ জিততে পারলে নিজের আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায়। আশা করছি, পরের রাউন্ডগুলোয় সেটা কাজে আসবে।’ এ দিকে রজার ফেডেরারকে এখানে তৃতীয় রাউন্ডে খেলতে হবে নিক কিরিয়সের সঙ্গে। ফেডেরার পাঁচ বার যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে জিতেছেন। তাই বয়স বাড়লেও তাকেই ফেভারিট বলা হচ্ছে। কিন্তু কিরিয়সও অঘটন ঘটানোর ব্যাপারে আশাবাদী। দু’জনের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১৫ সালে মাদ্রিদ ওপেনে। সে বার কিন্তু ফেডেরারকে হারিয়ে সত্যিই অঘটন ঘটান। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় নাদাল, নোভাক জোকোভিচদেরও হারিয়েছেন কিরিয়স। এবারের ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘রজার আমার প্রিয় খেলোয়াড়। ওর বিরুদ্ধে আমি সব সময় আন্ডারডগ। কখনও কখনও আন্ডারডগ থাকাই ভাল। তা হলে চাপ অনেক কম থাকে।’ তার আরও কথা, ‘এই ম্যাচটা নিয়ে আমার  প্রত্যাশা অনেক বেশি। কেন যেন মনে হচ্ছে, খুব ভাল খেলব। রজারের সঙ্গে খেলতে নেমেই ধন্য হয়ে যাচ্ছি এমন মানসিকতা নেই। আমার বিশ্বাস, এবার জিততেও পারি।’    সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি