ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৭:৪৩:৫৬

‘আ.লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে লন্ডনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর সঙ্গে তারেক রহমান ও ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে বসে বিএনপি মহাসচিবের গোপন বৈঠকে তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে।’আজ সোমবার বেলা ১২টায় নোয়াখালীর মাইজদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই, সেটি বুঝেই তারা এ ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সচেতন জনগণ এসব ষড়যন্ত্র বোঝে। তার অবশ্যই এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। এতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন থেমে থাকবে না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।’এসএ/  

নির্বাচন উপলক্ষে বান্দরবানে বিদেশিদের নিষেধাজ্ঞা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের ১০ দিন আগে এবং ভোটের ৬ দিন পর্যন্ত বান্দরবানে বিদেশিদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা সভায় এই তথ্য জানান হয়। এবিষয় জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন,নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ছয় জানুয়ারি পর্যন্ত বান্দরবান ভ্রমণে বিদেশিদের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বান্দরবানে বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের সময় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে এটি কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে ১৭ দিন কোনও বিদেশি নাগরিক বান্দরবান ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাই ২০ ডিসম্বের থেকে ছয় জানুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি নাগরিক বান্দরবানে ভ্রমণ বন্ধ রাখা হবে। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালাম ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

‘একমাত্র রাষ্ট্রপতিই খালেদা জিয়াকে ক্ষমা করতে পারেন’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার দুপুরে ফেনী পৌর প্রাঙ্গণে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দুই বছরের অধিক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না। কাদের বলেন, দেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। এ পরিবেশ নষ্ট হলে বিএনপির জন্যই হবে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা তাদের সেক্রেটারি জেনারেলের অফিসে গিয়ে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছেন। এ সময় ফেনী-২ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, মহিলা সংসদ সদস্য জাহানারা বেগম সুরমা, ফেনী-১ আসনের এমপি শিরীন আখতার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। একে//

১৯ হাজার পিছ ইয়াবাসহ এক মাদক বিক্রেতা আটক

চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী থানার চর পাথরঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ইয়াবাসহ মো. ইব্রাহীম খলিল (৩৩) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) ভোরে এ অভিযান চালায় র‌্যাব-৭ এর একটি দল। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চর পাথরঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ইব্রাহিম খলিলকে আটক করা হয়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন থেকে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হত। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত মাইক্রোবাসটির আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। কেআই/

নূর অাহামদ : শ্রমিক রাজনীতির কিংবদন্তী

‘মৃত্যু’। চিরাচরিত সত্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু তারপরও কিছু মৃত্যু অামাদের নাড়া দেয়। জগৎ সংসারে এনে দেয় কিছু শুণ্যতা। কিছু মৃত্যুর অভাব কখনোই পূরণ হয় না। পূরণ করার কথা কেউ ভাবেও না। তোমনি ভাবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি শুণ্যতার সৃষ্টি হলো। চলে গেলেন কিংবদন্তী তুল্য শ্রমিক রাজনীতিবিদ নূর অাহমেদ। যিনি গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় নিজেকে গণমানুষের কাজে লাগিয়েছেন। সীতাকুন্ড- বাড়বকুন্ড- ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চলে তিনি ছিলেন মহিরূহ। পুঁজিবাদী রাজনীতির ঝনঝনানি নয়, পেশী শক্তির দাপট নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার অাদায়ের রাজনীতিই তাকে করে তুলেছিল রাজনীতির নায়ক। নূর অাহমেদ কখনো এমপি, মন্ত্রী হননি। চকচকে গাড়ীও তার ছিল না। তবু ছিলেন সীতাকুন্ডের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের নেতা।প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নূর অাহমেদ- এর জন্ম হয়েছিল সাধারণ একটি পরিবারে। অাশেপাশের খেটে খাওয়া মানুষদের লড়াই দেখতে দেখতেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। নূর অাহমেদের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ছয় দফা অান্দোলনে। সমসাময়িক কালে অন্য অনেকের মতো তিনিও বাঙ্গালীর এ মুক্তির সনদকে প্রথম দীক্ষা হিসেবে নিয়েছিলেন। ৬৯- এর গণঅভ্যুথানে তিনি ছিলেন সীতাকুন্ডের প্রথম সারির সংগঠক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুখোমুখি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে তার সাহস ও ব্যক্তিত্ব তার পরবর্তী রাজনীতির গতি নির্ধারণ করে দিয়েছিল।মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শেখ ফজলুল হক মণি বাংলাদেশ অাওয়ামী যুবলীগ গঠন করলে তিনি সীতাকুন্ড উপজেলায় (তৎকালীণ সীতাকুন্ড থানা) এর অাহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারাদেশে যেসব নেতাকর্মী মোশতাক- জিয়া সরকারের রোষানলে পড়েছিল নূর অাহামেদ ছিলেন তাদের একজন। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি সীতাকুন্ড থানায় বাকশাল- এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। সভাপতি হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল অালম। একই সময়ে তিনি বাড়বকুন্ড-কুমিরা- ফৌজদারহাট শিল্পাঞ্চলে জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা ও সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যা বর্তমানে উপজেলা শ্রমিক লীগের কাঠামোতে পরিচালিত হয়। নূর অাহমেদ কতোটা জনপ্রিয় তা একটা সহজ বিষয়ে প্রমাণিত, তা হলো তিনি মৃক্যুকালীন মুহুর্তেও এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একটি সংগঠনে টানা এতোদিন নেতৃত্ব ধরে রাখা প্রমাণ করে নির্মোহ ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ ছিলেন। ৮০ ও ৯০ - এর দশকে এ অঞ্চলের রাজনীতি ছিল শ্রমিক নির্ভর। স্বৈরাচার বিরোধী অান্দোলনকে দাউ দাউ অাগুনে রূপ দিয়েছিল ছাত্ররা ও শ্রমিকরা। অার শ্রমিকদের মধ্যমণি ছিলেন নূর অাহামেদ। সে সময় তিনি সীতাকুন্ড উপজেলায় অাট দশ, সাত দল ও পাঁচ দলের সমন্বয়ে গঠিত বাইশ দলীয় ঐক্যজোটের অাহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এতোটাই জনপ্রিয় ছিলেন তাকে এরশাদ সরকারের পুলিশ গ্রেফতার করলে স্থানীয় জনগণ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। তুলে ফেলা হয়েছিল রেললাইনের স্লিপার। বাধ্য হয়ে সরকার তাকে মুক্তি দিয়েছিল। অামাদের দেশে অন্য অনেক রাজনীতিবিদরা এমন জনপ্রিয়তার সুযোগ গ্রহণ করে। অনেকের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হয় জনপ্রিয়তা। কিন্তু নূর অাহামেদ ছিলেন ব্যতিক্রম। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৮৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। এরশাদ সরকারের দেওয়া ঐ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ছিলেন সীতাকুন্ডে বাকশাল ও অাওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তৎকালীন সরকারের পাতানো নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট বাক্স ছিনতাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। সীতাকুন্ডেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নূর অাহামদের নিশ্চিত বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা চেয়েছিল এর পাল্টা জবাব দিতে। কিন্তু বাধ সাধেন নূর অাহামদ। তিনি বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান হতে গিয়ে যদি অামাকে পেশীশক্তি প্রয়োগ করতে হয় তাহলে অামার চেয়ারম্যানগিরি দরকার নেই।’ তার এই নীতিবোধ মর্যাদার দিক থেকে তাকে অন্য অনেকের উর্দ্ধে তুলে দিয়েছিল।জাতীয় রাজনীতির অাদর্শিক প্রশ্নে ১৯৯১ সালের ১৪ অাগস্ট বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগ ও বাকশাল এক হয়ে যায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অানুগত্য প্রকাশ করেন অাব্দুর রাজ্জাক। সারা দেশের মতো সীতাকুন্ডেও বাকশাল অাওয়ামী লীগে মিশে যায়। নূর অাহামদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা অাওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। মৃত্যুকালীন সময়েও  উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব পালন করছিলেন। পর পর তিনবার তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়াত রাজনীতিবিদ অাহসান উল্লাহ মাষ্টারের বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন নূর অাহামদ।শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষে তিনি ইরাক, থাইল্যান্ড, লিবিয়া ও লেবানন সফর করেন। এসব সফরকালীন সময়ে তিনি সঙ্গে করে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে যেতেন। ইরাক সফরকালীন সময় ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন- এর হাতে নৌকা তুলে দিলে সাদ্দাম হোসেন তাকে অনেক্ষণ জড়িয়ে ছিলেন।নূর অাহামদ একা নন, তার পুরো পরিবারটিই বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের রাজনীতিতে দু:সময়ে ভুমিকা রেখেছিলেন। যা সীতাকুন্ড- উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। নূর অাহামদ- এর অাপন সহোদর নুরুল অামিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহজালাল হল ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অারেক ভাই অাজম খান সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তার ভাই নাসির অাহামদ স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব ছিলেন বেশ কয়েকবার। নূর অাহামদ- এর ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ইউসুফ খান সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।বর্তমানে তিনি সৌদি অারবস্থ রিয়াদ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের এক নিষ্ঠতার সাথে লেগে থাকা খুব কঠিন ব্যাপার। অার সেই কঠিন কাজটি করে গেছেন নূর অাহামদ ও তার পরিবার।নূর অাহামদ অাজ নেই। স্ত্রী অানোয়ারা বেগম, চার মেয়ে, তিন ছেলে, পাঁচ ভাই, তিন বোন, দলীয় অসংখ্য নেতা কর্মী, হাজার হাজার শ্রমিক রেখে পাঁচ ডিসেম্বর তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।সাদা পাঞ্জাবী, সাদা পাজামা, কাঁধের উপর শাল ছিল তার নিয়মিত পোষাক। ধূমপান করতেন। ধীর পায়ে ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তিনি হাঁটতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষের মাঝ দিয়ে। তিনি সচেতন ছিলেন কিন্তু অহংকারী ছিলেন না। তার মধ্যে কোন ছলচাতুরী বা ভন্ডামী ছিল না। কোন জটিল মারপ্যাঁচের ধার ধারতেন না। তিনি ছিলেন তার মতো। এ অঞ্চলের মানুষ অারেকজন নূর অাহামদ পাবেন না। কিন্তু চাইলে পেতে পারে তার অাদর্শ, সংগ্রাম। যা টিকে থাকে যুগের পর যুগ। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা।অা অা//  

৮ ডিসেম্বর : ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিন বিনা যুদ্ধে হানাদারমুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সরাইল উপজেলা।১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলাকে হানাদারমুক্ত করার পর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ দক্ষিণ দিক থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একই সঙ্গে মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্টের ডিভিশন আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শহরের চারপাশে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর শক্ত অবস্থানে থাকায় হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে।তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কেএম লুৎফুর রহমানসহ কারাগারে আটকে রাখা অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে পৌর শহরের কুরুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।এছাড়া শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা কলেজের হোস্টেল, অন্নদা স্কুল বোর্ডিং, বাজার ও গুদামসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর বিনা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মুক্ত ঘোষণা করে।এদিন সকাল ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী। আজ দিনটি পালনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। এসএ/

নুর আহমেদ ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু

মৃত্যু মানুষের জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হলেও কিছু কিছু মৃত্যু আপনজনদের দারুণভাবে নাড়া দেয়। মৃত্যুবরণকারী যদি রাজনৈতিক নেতা হন, তাহলে তা শুধু পরিবার-পরিজনে সীমিত থাকে না- তার ঢেউ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনেও লাগে। হঠাৎ করে যে ত্যাগী রাজনীতিকের জীবন প্রদীপ নিভে গেলো তিনি হলেন-শ্রমজীবী মানুষের বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল নেতা, গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, একসময়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে (সীতাকুণ্ড বাকশালের সাধারণ সম্পাদক) আমার অগ্রজ সহযোদ্ধা ও অভিভাবক, সীতাকুণ্ডের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক,বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর আহমেদ (৮০)। গত ৫ডিসেম্বর সকালে তিনি চমেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৪ মেয়ে ২ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর দিন বিকেলে সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা ও সন্ধ্যায় নিজগ্রাম সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজাশেষে পারিবারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয়মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আহমেদকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আ ম ম দিলসাদের সঞ্চালনায় মরহুম নুর আহমেদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তৃতা করেন স্থানীয় এমপি দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এস আল মামুন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলীম উল্রাহ ও মরহুম নুর আহমেদের ছোটভাই সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ইউছুফ খান। শ্রমিকনেতা নুর আহমেদ, আমাদের সবার প্রিয় নুর আহমেদ। সীতাকুণ্ডের এক সময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি। সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক-কর্মচারিদের যিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন ও সুখ-দুঃখের সাথী। শ্রমজীবী মানুষের এ প্রিয় নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এরশাদ সরকারের আমলে শ্রমিক-জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলসড়ক অবরোধ তৈরি করে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিলে তখনকার শাসকগোষ্ঠী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বাড়বকুণ্ডের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ (যেখানে তিনি চাকরি করতেন) থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ড সদরের বর্ণালী ক্লাব ও সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের কাকার মালিকানাধীন ইউনাইটেড ফার্মেসির দোতলায় ছিল তার বসারস্থান। শিল্প-কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে নুর আহমেদ ভাইয়ের কাছে ছুটে আসতো। মনোযোগ সহকারে তিনি সবার কথা শোনতেন এবং সাধ্যমতো তা সমাধানের চেষ্টা করতেন। তার মধ্যে কোনও ছলচাতুরি ছিল না, ছিল না কোনও ভণ্ডামি। অত্যন্ত সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান নেতা ছিলেন তিনি। নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন বরাবরই আপোসহীন ও অটল। ১৯৮৮ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করার কথা। কিন্তু কেন্দ্রবন্ধ করে জালভোট দ্বারা প্রতিপক্ষ শাসকদল সমর্থিত প্রার্থী তাকে পরাজিত করে। একইভাবে ভোট নেওয়ার তারও শক্তি-সামর্থ সবই ছিল কিন্তু তিনি অনিয়মের আশ্রয় নেননি। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘দু’নম্বরী করে আমার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার কোনও দরকার নেই।’ স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনসহ রাজনীতির কঠিন সময়ে নুর আহমেদভাই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ছিলেন সীতাকুণ্ড বাকশালের সাধারণ সম্পাদক। তারই নেতৃত্বে সৈয়দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও আমি (মোহাম্মদ ইউসুফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সীতাকুণ্ড উপজেলা জাতীয় ছাত্রলীগ) বাকশালকে সীতাকুণ্ডে সাংগঠনিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাপক শ্রম-মেধা ব্যয় করেছিলাম।সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে আমাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।রাজনীতির এ দুঃসময়ে নুর আহমেদভাই ছিলেন আমাদের ছায়ার মতো। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সংগ্রামী চেতনা ও অসীম সাহস আমাদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করতো। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও বাকশাল একিভূত হওয়ায় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যায়। কাছ থেকে দেখা সহজ-সরল এ মানুষটি আগাগোড়াই ছিলেন রাজনীতিক। চট্টগ্রাম অঞ্চলে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়সহ প্রতিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিজ বিত্তবৈভবের কথা চিন্তা না করে জীবনের বেশিরভাগ সময় রাজনীতির জন্যে ব্যয় করেছেন; মানুষের জন্যে কাজ করেছেন। ভোগের চেয়ে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে তিনি গণমানুষের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ত্যাগের মহিমায় তিনি ভাস্বর হয়ে ওঠেছিলেন। জীবনের শেষসময়ে এসে অসুস্থ রাজনীতির হিসাব নিকাশ মেলাতে না পেরে তিনি মানসিক যাতনায় ভোগতেন। নিজের মতো করে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিচরণ করতে না পেরে চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করতেন রাজনৈতিক সতীর্থদের কাছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার যৌক্তিক পরিণতি না ঘটলেও মৃত্যুর একদিন আগেও মধ্যরাত পর্যন্ত দলীয় নেতাদের নিয়ে সীতাকুণ্ডের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পরদিন সকালে হঠাৎ হার্টস্ট্রোক করে দলীয় নেতা-কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের শোকসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চিরতরে বিদায় নিলেন। পরিশেষে প্রয়াত নুর আহমেদভাইয়ের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। লেখকঃ প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী

রাষ্ট্রপতি তিন দিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বিকেলে

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) ও বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ)-তে বেশ কিছু অনুষ্ঠানে যোগদান করতে তিন দিনের সফরে আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন জানান, রাষ্ট্রপতি শনিবার ভাটিয়ারীর বিএমএ-তে প্রেসিডেন্ট প্যারেড-২০১৮-তে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, এছাড়া রাষ্ট্রপতি পরের দিন রোববার বিএনএ-তে মিডশিপম্যান-২০১৬ ব্যাচ ও ডিরেক্ট এন্ট্রি অফিসার-২০১৮/বি ব্যাচ শীতকালীন প্রেসিডেন্ট মার্চ পাস্ট (কুচকাওয়াজ)-২০১৮-তেও যোগ দেবেন। রাষ্ট্রপতি রোববার বিকেলে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। সূত্র: বাসস একে//

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তারেক (৩০) নামে তালিকাভুক্ত এক জলদস্যু নিহত হয়েছেন। র‌্যাব-৭র কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মগনামা এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ওয়ান শুটারগান, ২৩ রাউন্ড গুলি এবং চার রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। নিহত তারেক কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরংয়ের আবদুস শুক্কুরের ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ জলদস্যু দিদারের নেতৃত্বাধীন দিদার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে দাবি র‌্যাবের। মেজর মেহেদী হাসান জানান, সম্প্রতি জলদস্যুরা সাগর থেকে কয়েকটি মাছ ধরার বোট অপহরণ করে মালিকদের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ আদায় করতে তারেকসহ একদল জলদস্যু পেকুয়ার মগনামায় আসে। খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি টহল দল সেখানে অভিযানে গেলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে এক জলদস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একে//

লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৪ ডিসেম্বর। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল-শামসদের সহযোগিতায় নৃশংস হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষত-বিক্ষত। ১৯৭১ সালের এ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে, এ জেলায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। তাদের হত্যা, লুট, আর পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তিপায় জেলাবাসী।লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৯ মাস জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ২২ টি সম্মুখ যুদ্ধসহ ২৯টি দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এতে শহীদ হন ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মুক্তিকামী বাঙ্গালী। পাক-হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রহমতখালী খালের ওপর নির্মিত মাদাম ব্রিজটি উড়িয়ে দেন। আজও এর স্মৃতি হিসেবে ব্রিজের লোহার পিলার দাঁড়িয়ে আছে।৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন এ জেলায় উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্র গুলো হল- কাজির দিঘীর পাড়, মিরগঞ্জ, চৌধুরী বাজার, দালাল বাজার, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, চর আলেকজান্ডার সিড গোডাউন, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জের গোডাউন এলাকা। যুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক লোক শহীদ হয়েছেন। সদর উপজেলায় ২৩ জন, রামগতিতে ২জন, কমলনগর ১জন, রায়পুরে ৭জন ও রামগঞ্জে ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।এ সব যুদ্ধে আবু ছায়েদ, আবদুল হালিম বাসু, রবীন্দ্র কুমার সাহা, মাজহারুল মনির সবুজ, মুনছুর আহাম্মদ, চাঁদ মিয়া, মো. মোস্তফা মিয়া, জয়নাল আবেদিনসহ ৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু নিরীহ মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন।মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ধরে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে চালায় নারকীয় তান্ডবলীলা। হানাদার বাহিনী শহরের বাগবাড়ীতে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী হাজার হাজার নর-নারীকে ধরে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করতো এবং যুবতীদের পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে বাগবাড়ীস্থ গণকবর, মাদাম ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গর্তে পুতে ফেলতো। এছাড়াও বহু মুক্তিকামী বাঙালিকে হত্যা করে রহমতখালী নদীর খরস্রোতে ফেলে দিয়েছিল হানাদাররা।১৯৭১ সালের ২১ মে ভোর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর ও দক্ষিণ মজুপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় পাকহানাদার বাহিনী ভয়াবহ তান্ডবলীলা চালায়। বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়ে, বহু মানুষকে গুলি ও বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করাসহ নির্যাতন চালায় তারা। এ সময় ১১টি বাড়ির ২৯টি বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই করে দেওয়া হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও হানাদারদের গুলিতে প্রাণ হারায় প্রায় ৪০ জন নিরস্ত্র বাঙ্গালী। এ সব নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে শহরের বাগবাড়ীস্থ গণকবর, মাদাম ব্রিজ, পিয়ারাপুর ব্রিজ ও মজুপুরের কয়েকটি হিন্দু ও মুসলমান বাড়ি।১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী, সুবেদার আব্দুল মতিন, আ.ও.ম. শফিক উল্যা, হামদে রাব্বীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে। অবশেষে, ৪ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা।লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হুমায়ুন কবির তোফায়েল বলেন, মুক্তির ৪৭ বছর পরেও এদেশের অলিগলিতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাক-হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসররা। অথচ এরাই সেদিন পাকিস্তানিদের সাথে আঁতাত করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এদের তালিকা করে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।সূত্র : বাসসএসএ/

রফতানিতে ইপিজেড ক্যাটাগরিতে সব ট্রফি প্যাসিফিক জিন্সের

২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় রফতানিতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেছে চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ। টানা সপ্তমবারের মতো স্বর্ণপদক লাভ করল প্রতিষ্ঠানটি। ইপিজেড ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদকের পাশাপাশি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদকও পেয়েছে দেশের এই শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ। রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদকগুলো নেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন এবং পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল জিন্স স্বর্ণপদক, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড রৌপ্য এবং জিন্স-২০০০ লিমিটেড ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর জানিয়েছেন, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ মোট ১৯টি জাতীয় রফতানি ট্রফি অর্জন করেছে। একে//

কুবিতে নানা আয়োজনে নবান্ন উৎসব পালিত

পিঠা উৎসব, নাচ-গান, কবিতা, খেলাধুলাসহ নানা আয়োজনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নবান্ন উৎসব-১৪২৫ পালিত হয়েছে। রোববার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই উৎসব শুরু হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। এ সময় তিনি মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা ও মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার জয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। কুবির সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবর্তনের উদ্যোগে আয়োজিত নবান্ন উৎসবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মো. জিয়া উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মো. বেলাল হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রতিবর্তনের প্রচার সম্পাদক জান্নাতুল কাউসার নিজের তৈরি গহনার পসরা সাজিয়ে বসেন। স্টলের নাম ছিল ‘আয়নাঘর’। পাশেই ছিল পিঠা উৎসবেন পসরা। হরেক রকমের পিঠা সাজিয়ে বসেছিল সংগঠনের সদস্যরা। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন অনুপ্রাস-কণ্ঠ চর্চা কেন্দ্র, ব্যান্ডদল প্লাটফর্ম ও প্রতিবর্তনের সদস্যরা তাদের পরিবেশনায় নবান্ন উৎসব মাতিয়ে রাখে। একে//

চট্টগ্রামে যে সব আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে চট্টগ্রামে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। রোববার ইসি সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬,৭ ও ৮ ডিসেম্বর। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব আতিয়ার রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন যদি আপিল বাতিল করে তবে সেই প্রার্থী আদালতেও যেতে পারবেন। চট্টগ্রামে যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন : (চট্টগ্রাম-১) মীরসরাই আসনে বিএনপির শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও মোশাররফ হোসেন। (চট্টগ্রাম-২) ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী ও জাকের পার্টির আবদুল হাই। (চট্টগ্রাম-৩) সন্দ্বীপ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ মোস্তাফা কামাল পাশা ও জাসদ (ইনু) আবুল কাশেম। চট্টগ্রাম-৪ বিএনপির আসলাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাকের ভুঁইয়া। চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। (চট্টগ্রাম-৬) রাউজান আসনে বিএনপির সামির কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মোরশেদ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।  (চট্টগ্রাম-১৩) পটিয়া আসনে এলডিপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় এলডিপির শিল্প-বাণিজ্য সম্পাদক এম ইয়াকুব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তালেব বেলালী। (চট্টগ্রাম-৭) রাঙ্গুনিয়া আসেন বিএনপির তিন প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত ও আবদুল আলীম। (চট্টগ্রাম-১৫) সাতকানিয়া-লোহাগড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর জব্বার। (চট্টগ্রাম-১৩) আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ, বিএনএফ প্রার্থী নারায়ন রক্ষিত ও গণফোরামের উজ্জল ভৌমিক। (চট্টগ্রাম-১৪) চন্দনাইশ আসনে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ফারুকী, স্বতন্ত্র মনিরুল ইসলাম, মো. শাহজাহান ও জসিম উদ্দীন। কেআই/ এসএইচ/

সন্দ্বীপ ‘ল’ স্টুডেন্ট’স ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির মতবিনিময়

সন্দ্বীপ ‘ল’ স্টুডেন্ট’স ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সন্দ্বীপের সিনিয়র আইনজীবীদের পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সন্দ্বীপ ‘ল’ স্টুডেন্ট’স ফোরামের উদ্যোগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম এম. এ. আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেট সংলগ্ন লাউঞ্জে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি এম হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বি. এম. আসলাম হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিম কোর্ট ডিভিশনের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. ইমলাক, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ- সভাপতি ও সন্দ্বীপ ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশানের সচিব অ্যাডভোকেট মো. সেকান্দর বাদশা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাকসুদুল মাওলা নাছির, সাবেক সহযোগী জি.পি. অ্যাডভোকেট মো. সলিম উল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পি. পি. অ্যাডভোকেট মো. খন্দকার আরিফুল আলম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান সোহান, অ্যাডভোকেট মাহিদুল মাওলা মুকুট, অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসাইন, অ্যাডভোকেট আকবর মাহমুদ বাবর, এডভোকেট কমিশনার অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট কমল দাশ, অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী ফরহাদ, সংগঠনের সভাপতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম রাফি। বক্তারা বলেন, আইনের শিক্ষার্থীরাই সমাজের এবং রাষ্ট্রের জন্য আইডল। তাদেরকে সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্বের অনেক বড় বড় রাজনৈতিক ও সাহিত্যিকেরা আইনের শিক্ষার্থী ছিলেন। একমাত্র আইনের শিক্ষার্থীদের বিসিএস এবং বিজেএস উভয় সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ আছে যা অন্য শিক্ষার্থীদের নেই। তারা এই সংগঠনের সব নেতৃবৃন্দেরকে আগামী দিনে আইন পেশায় এসে সততা এবং দক্ষতার সহিত কাজ করার পাশাপাশি সন্দ্বীপে সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এলাকার মানুষের কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।  সন্দ্বীপ ‘ল’ স্টুডেন্টস ফোরামের নব নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি ও সন্দ্বীপের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময়ে সোনালী সন্দ্বীপ.কম সহ-সম্পাদক মোবারক হোসেন ভূঁইয়াসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কেআই/ এসএইচ/  

কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ তরুণী আটক

নভোএয়ারে একটি ফ্লাইটে ঢাকা যাওয়ার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ নাফিজা আকতার (২১) নামের এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগে ৭৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আটক নাফিজা পঞ্চগড় জেলার মিঠাপুকুর এলাকার মো. রফিকের মেয়ে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/ তদন্ত) খাইরুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তল্লাশির সময় আটক নাফিজা আকতারের কাছে ৭৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ইয়াবাসহ নাফিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। খাইরুজ্জামান আরও বলেন, গ্রেফতারতকৃত নাফিজা আকতারকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেআই/ এসএইচ/

চবি শিক্ষার্থীদের খরচ কমাবে জোবাইক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক নম্বর গেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি, ইনস্টিটিউট বা আবাসিক হলে ১৫ থেকে ৩০ টাকা খরচে নিজ গন্তব্যে যেতে হতো। এখন আর এত টাকা খরচে নিজ গন্তব্যে যেতে হবে না। এখন থেকে মাত্র তিন টাকায় নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেবে মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক সাইকেল শেয়ারিং সার্ভিস ‘জোবাইক’। তবে এর জন্য ৫ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড সময়ের ভেতর নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। এর চেয়ে বেশি সময় নিলে পরবর্তী ৫ মিনিটের জন্য আবারও তিন টাকা লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট, জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের সামনেসহ ১২টি স্থানে পাওয়া যাবে এ সব সাইকেল। গত কয়েকদিন কমেন্ট ও ম্যাসেজের মাধ্যমে অনেকেই জোবাইক সাইকেল শেয়ারিং কীভাবে কাজ করবে জানতে চেয়েছেন। যেভাবে ব্যবহার করা যায়: জোবাইক অ্যাপস দিয়ে সাইকেলের গায়ে লাগানো কিউআর কোড স্ক্যান করলে সাইকেলের লক খুলে যাবে এবং গন্তব্যে যাওয়ার পর যে কোনও মুক্ত স্থানে পার্ক করে লকটি আটকিয়ে দিতে হবে। জোবাইকের মালিকানায় ক্যাম্পাসে সাইকেল থাকবে। যেভাবে টাকা কাটবে: একাউন্টে আগে থেকে রক্ষিত টাকা থেকে টাকা কেটে রেখে দেওয়া হবে। একাউন্ট হ্যান্ড ক্যাশ দিয়ে রিচার্জ করা যাবে। ঠিক যেভাবে মোবাইল নম্বর রিচার্জ করা হয় সেভাবে কিন্তু ভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে। পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং গ্রিন এই ট্রান্সপোর্টেশন ব্যবস্থা চীন, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয় এ সাইকেল শেয়ারিং। ছেলে-মেয়ে উভয়ের ব্যবহার উপযোগী হিসেবে তৈরি জোবাইকের স্মার্ট এই সাইকেলের সঙ্গে আছে অত্যাধুনিক লক, সোলার প্যানেল এবং জিপিএস পদ্ধতি। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল শেয়ারিং চালু হয়েছে। সেখানে বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে এ সার্ভিস। তবে এ জন্য প্রথমে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাপটি ব্যবহার করে যে কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের ভেতরে সাইকেলের সঙ্গে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই ১২ জায়গায় সাইকেল পাওয়া যাবে। জোবাইকের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট ইসতিয়াক আহমেদ শাওন একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, ক্যাম্পাসে বিদ্যমান পরিবহন সংকট নিরসনের পাশাপাশি দেশের ট্যুরিজম ইন্ড্রাস্ট্রি এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনসহ সবদিক চিন্তা করেই আমাদের জোবাইক পদ্ধতি চালু করা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এক হল থেকে অন্য হলে এবং হল থেকে ক্লাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যানবাহন সহজলভ্য করতে সাইকেল শেয়ারিং সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। গন্তব্যে যাওয়া ছাড়াও অনেকে এই সাইকেল শরীর চর্চার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবে। জোবাইকের চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লিডার মাইনুল ইসলাম একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, ১৫ দিনের ভেতরে আমাদের জোবাইক পদ্ধটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এক নম্বর গেট থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ফ্যাকাল্টি পর্যন্ত অটোরিকশা করে যেতে ৩০ টাকা আর সিএনজি অটোরিকশায় ১২ টাকা খরচ হয়। আবার জিরো পয়েন্ট থেকে ওইসব জায়গায় অটোরিকশা করে ১৫ টাকা আর সিএনজি অটোরিকশা করে ৬ টাকা খরচ হয়। সাইকেল শেয়ারিং সার্ভিস চালু হলে জিরো পয়েন্ট থেকে ৫ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পৌঁছালে ৩ টাকা আর এক নম্বর গেট থেকে ১০ মিনিট সময়ের মধ্যে পৌঁছালে খরচ পড়বে মাত্র ৬ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মিজবাহ বলেন, যেখানে প্রতিদিন শুধু ক্যাম্পাসে পরিবহন খরচ ৩০ থেকে ৫০ টাকা যেত, এ সাইকেল সার্ভিস চালু হলে সর্বোচ্চ খরচ হবে ১৫ টাকা। যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, এ জোবাইক ব্যবস্থা পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং গ্রিন ট্রান্সপোর্টেশন। তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে। এ সার্ভিস চালু হলে একদিকে যেমন খরচ কম পড়বে অন্যদিকে পরিবহন সংকটও মিটবে। একে//

চবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি অনুমোদন

বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী আল ফয়সাল খানকে সভাপতি এবং ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী চৌধুরী সাজিদ মোস্তফা আশফিকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হয়। শুক্রবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আসিফ জামান রূপম এবং সাধারণ সম্পাদক সাকির মজুমদার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের ‘সমান্তরাল’ সংগঠন হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির চবি শাখায় অন্তত ২৪টি সহ-সভাপতি, ৪৬টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯টি সাংগঠনিক সম্পাদক পদ রয়েছে। এছাড়াও দফতর, প্রচার, সাহিত্য, সমাজসেবা, মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ ও উপ-পদ রয়েছে এ কমিটিতে। নতুন কমিটির বিষয়ে সংগঠনটির সদ্য মনোনীত সভাপতি আল ফয়সাল খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতেই এ সংগঠনের যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জাগিয়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করব। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত বই-পুস্তক, সাময়িকী ইত্যাদি বিলির মাধ্যমে তার আদর্শকে সর্বত্র ছড়াতে চাই আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় অনেকটা ঝিমিয়ে পরা এ সংগঠনটিকে চাঙ্গা করতে ছায়া সংগঠনের কাজ করবে এটি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সংবর্ধনাসহ নানা সামাজিক কাজ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’ একে//

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হাবিব উল্লাহ হাবিব (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুর পুরানপাড়া এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা, ২টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১৪টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত হাবিব উল্লাহ হাবিব ওই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ী হাবিব উল্লাহকে আটকের পর টেকনাফের বাহারছড়া শাপলাপুর পুরানপাড়া এলাকায় অভিযানে গেলে আগে থেকে সেখানে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে আহতবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একে//

কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদার জামিন

কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্ববর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম সামছুল আলম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে আট যাত্রীর মৃত্যুর হয়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলায় হয়। একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, অপরটি হত্যা মামলা। মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। একে//

পটিয়াকে বদলে দিয়েছেন এমপি সামশুল হক

  পটিয়া থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার এমপি পদপ্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী উন্নয়নের মাধ্যমে পটিয়াকে বদলে দিয়েছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের নেতারা। মঙ্গলবার পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় নেতার বলেন, এমপি সামশুল হক বিগত দুই মেয়াদে পটিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। বর্তমানে আরও প্রায় ৫শত কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বলতে গেলে স্বাধীনতার পর থেকে নানান ষড়যন্ত্রে পটিয়ার উন্নয়নের চাকা যেন পিছনেই চলেছিল। কিন্তু বিগত দুই মেয়াদে জনগণের রায় নিয়ে এমপি সামশুল হক চৌধুরী পটিয়ার সদর থেকে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত উন্নয়নের মাধ্যমে পটিয়াকে রোল মডেলে পরিণত করেছেন। নেতার আরও বলেন, শিক্ষা স্বাস্থ্য যোগাযোগ আইন-শৃঙ্খলা, নারীর ক্ষমতায়ন, অসহায় দু:স্থদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে পটিয়ার মাটি ও মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। বর্তমানে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দান করেছেন। তাকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে পটিয়ার উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য পটিয়ার সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সব অংগ সংগঠনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়রসহ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দেবব্রত দাশ, জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামশুদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, নাছির আহমদ চেয়ারম্যান, আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, এম এ হাসেম, মাহবুবুর রহমান, গাজী ইদ্রিস, ইনজামুল হক জসিম, আহমদ নুর, রনবীর ঘোষ টুটুন, ইব্রাহিম বাচ্চু, শাহীনুল ইসলাম শানু, আইয়ুব বাবুল, আলমগীর আলম, আবদুল খালেক, আজিমুল হক, আলমগীর খালেদ, আবু ছালেহ চৌধুরী, ফজলুল হক আল্লাই, এম এন এ নাছির, নাছির উদ্দিন প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামশুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশব্যাপী যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত করেছে, তা বিগত সময়ে কোনও সরকার করেনি। দৃশ্যমান উন্নয়ন রাস্তা-ঘাট, বড় বড় ব্রীজ, কালভার্ট, কমিউনিটি ক্লিনিক, সোলার বাতি, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ছাড়াও বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামুল্যে বই, উপবৃত্তি, ভিজিএফর চাউল, ১০ টাকার চাউল এগুলো শেখ হাসিনার সরকার চালু করেছে। তাই শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারো শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে ও পটিয়ায় নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে সাধারণ জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। আআ//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি