ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:১৬:৫৪

বিডিইউ’র ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ফল প্রকাশ

বিডিইউ’র ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ফল প্রকাশ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’ (বিডিইউ) প্রথমবারের মতো স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির ফল প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (http://bdu.ac.bd) এবং ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট http://admission.bdu.ac.bd - তে এক যোগে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ফল প্রকাশ করা হয়। ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীদের ভর্তি আবেদন ফরমে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে এসএমএসের মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বছর (২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে) প্রথম বারের মত একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ায় ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ’র ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রথম বারের ভর্তিতে সর্বোচ্চ জিপিএ’র ভিত্তিতে দুটি বিভাগে ৫০ জন করে মোট ১০০ জন আবেদনকারীকে ভর্তির জন্য মনোনীত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মনোনীত আবেদনকারীরা আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পুরণ ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেটের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এ বছর প্রথম বারের মত দুটি অনুষদের অধীনে দুটি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। প্রথম বার চালু হওয়া দুটি অনুষদ হলো ক.) প্রকৌশল অনুষদ খ.) শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদ। এর মধ্যে প্রকৌশল অনুষদের অধীনে রয়েছে একটি বিভাগ ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের অধীনে রয়েছে অন্য একটি বিভাগ আইসিটি ইন এডুকেশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর জানান, প্রথম বারের ভর্তিতে ৮ হাজার ৫০৫ জন ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২১১ জনের এসএসসি এবং এইচএসসি দুটিতেই জিপিএ ৫ রয়েছে। সেখান থেকে সর্বোচ্চ মেধার ভিত্তিতে ১০০ জন আবেদনকারীকে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। উপাচার্য বলেন, প্রথম বারের ভর্তির আবেদনে ছাত্র এবং ছাত্রীদের অনুপাত ৬৫: ৩৫ এর মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে মেধা তালিকায় ছাত্র এবং ছাত্রীর অনুপাত ৭০: ৩০। এখানে উল্লেখ্য যে দুটি বিভাগের মধ্যে আইসিটি ইন এডুকেশনে মেধা তালিকায় মেয়ে শিক্ষার্থী প্রথম হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশকে টেকসই ও পরিকল্পিত উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন শেখ হাসিনা। অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর জানান, আমরা ১০০ জন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই শিক্ষাবর্ষে কাজ করবো। অমাদের লক্ষ্য এই তরুনদের বিশ্বমানের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে তোল। এবং তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দানের উপযোগী করে গড়ে তোল। একে//
নোবিপ্রবিতে ‘ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন’ ২১ মার্চ শুরু

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ছায়া জাতিসংঘ সংস্থার’ অধীনে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন। আগামী ২১-২৪ মার্চ ৪ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সমগ্র দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের কোলাহলে মুখরিত হতে যাচ্ছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। ২০১৫ সালে এই সংস্থাটি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করে। এর ঠিক পরের বছরই তারা একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তর থেকে তারা বিপুল সাড়া পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন যাতে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি জড়ো হয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালেও এই সংস্থাটি তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সমর্থ হয়। গত দুই বছরের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং সর্বমহলে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। এবারও বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর স্বতঃস্ফূর্ত  অংশগ্রহণ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ একটি সম্মেলন আশা করা যাচ্ছে। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়োজনকে সফল করার জন্য তারা দিন-রাত অক্লান্ত  পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাইরে থেকে আগত প্রতিনিধিদের সঠিকভাবে আতিথেয়তা প্রদান করা এবং পূর্বের সম্মেলনগুলোর ন্যায় মান অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। ছায়া জাতিসংঘ একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম যাতে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘের আদলে সাজানো কমিটিগুলোতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। জাতিসংঘের আদলে ছায়া সম্মেলনে বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর কিভাবে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব সে বিষয়টি সম্পর্কেও জানা যায় এই সম্মেলন থেকে। শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে কূটনীতি,আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গন, জাতিসংঘ ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা লাভ করে থাকে। তাছাড়া এর মাধ্যমে আত্মোন্নয়নমূলক বিভিন্ন গুণাবলি যেমন,গঠনমূলক চিন্তাধারা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, সংকটপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাবলীল বাচনভঙ্গি, দলগতভাবে কাজ করা, সুস্থ বিতর্ক চর্চা ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে থাকে। এ প্রসঙ্গে নোবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড.এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, `নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা অবশ্যম্ভাবী। ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ সব সময় সমর্থন পেয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে। এই সম্মেলনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।’ কেআই/    

এসএসসির তিনটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন 

এসএসসির তিনটি লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপর কুমার সরকার জানান, বিশ্ব ইজতেমার কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষারও তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।   ইজতেমার কারণে সব শিক্ষা বোর্ডেরই পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।    রসায়ন, ব্যবসায় উদ্যোগ ও পৌরণীতি ও নাগরিকতা বিষয়ক পরীক্ষাটি ১৬ ফ্রেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষি শিক্ষা, সংগীত, বাংলা ভাষা সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা সাহিত্য পরীক্ষাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৮ ফেব্রুয়ারির জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি পরীক্ষা ২ মার্চ সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সঙ্গীত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এসি    

ইন্টার্নিশিপ করতে ভারতে যাচ্ছেন হাবিপ্রবির ১১৮ শিক্ষার্থী

ইন্টার্নশীপের করতে ভারতে যাচ্ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ১১৮ জন শিক্ষার্থী। এ উপলক্ষে তাদের হাতে কীটবক্স তুলে দেওয়া হয়। কীটবক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক । এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের কিছু দাবী তুলে ধরেন, পাশাপাশি এই ইন্টার্নশীপের ব্যবস্থা করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, আমি সব সময় শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করতে চাই। বিদেশে ইন্টার্নশীপ চালু করে আমি কোন দয়া দেখাইনি। এটা তোমাদের পাওনা ছিল। বিদেশ থেকে ফিরে শিক্ষার্থীরা এই জ্ঞান দেশের কাজে লাগাবে বলে বিশ্বাস করি।’ পাশাপাশি এই সফরের সময় নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে ও খাবারের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে কৃষক সেবা কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের কাজ ও অনেকদূর এগিয়েছে এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, এই সফরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে মেডিসিন অবস্টেটিকস ও সার্জারির জন্য সকল ধরণের যন্ত্রপাতি প্রদান করা হচ্ছে। এমবিবিএস ডাক্তারদের ন্যায় ভেটেরিনারির শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপের জন্য এ ধরণের সফরে সরকার অর্থায়ন করবে। উল্লেখ্য,আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা ইন্টার্নশীপের জন্য যাত্রা শুরু করবেন। এখানে যারা ভালো করবেন তাদের মধ্যে থেকে প্রথম ১০ জন ২০ দিনের সফরে থাইল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কেআই/

মাভাবিপ্রবিতে দুই দিনব্যপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

‘ভালো জীবনযাত্রার জন্য নিরাপদ পরিবেশ’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) দুইদিনব্যপী ‘পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ১ম আর্ন্তজাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজিল্যান্ডের ইউনির্ভাসিটি অব সেন্টারবুরি এর পরিবেশ রসায়নের প্রফেসর ড. ব্রেট রবিনসন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম ইমামুল হক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সাযেন্স অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এস.এম সাইফুল্লাহ। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহবায়ক ড. শামীম আল মামুন। কেআই/

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।     এছাড়াও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বৃহষ্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বলেছেন, ‘এবারের পরীক্ষায় মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন।’ ২০১৮ সালের তুলনায় এবছর এক লাখ ৩ হাজার ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী বেশি পরীক্ষা দেবেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ হাজার ২২৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ হাজার ২০৫ জন।’এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষাথীর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি ভোকেশনাল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন রয়েছে। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭ এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮২ টি। এছাড়াও বিদেশি আটটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩৪ জন্য পরীক্ষাথী রয়েছে। অন্যান্যবারের মতো এবারও প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্যরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ শিক্ষক/ অভিভাবক/ সাহায্যকারী বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে বলে সন্মেলনে জানানো হয়। এছাড়াও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে নজরদারি থাকবে মনিটরিং কমিটির।অন্যান্য বছরের মতো এবারও সকালের পরীক্ষা ১০ থেকে ১টা এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সকল পরীক্ষার্থীকে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও পরীক্ষার ২৫ মিনিট পূর্বে এসএমএস এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রশ্নে পত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ব্যতিত (ছবি তোলা যায় না এমন ফোন) অন্য কেউ মোবাইলফোন/ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।  

সেরা শিক্ষার্থী হওয়ার ৫ সূত্র

ক্লাসে প্রথম হওয়ার জন্য অসাধারণ মেধাবী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আসলে ক্লাসে প্রথম হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী তার জীবনে পরিপূর্ণতার স্বাদ পেতে পারে, সেরা ছাত্র বা ছাত্রী হতে পারে, যদি তার জীবনযাত্রায় আনতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। আর ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব পাঁচ উপায়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো- নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখুন শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস-এর শিক্ষাবিষয়ক প্রফেসর হার্বার্ট ওয়ালবার্গ-এর মতে, সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সব সময় টপ রেজাল্ট করতে পারে না। দেখা গেছে, বেশি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় ভালো রেজাল্ট করে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা। কারণ অতিরিক্ত মেধাবীদের মধ্যে ‘অল্প পড়ালেখা করলেই ভালো রেজাল্ট করতে পারি’ এমন মনোভাব কাজ করে। এই দম্ভের জন্যে তার মধ্যে কাজে লেগে থাকার গুণটি থাকে না। সে ক্লাসে পড়াশোনায় কখনো ১ম হলেও পরবর্তী জীবনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না। আসলে সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে এই যে, ক্লাসে প্রথম হওয়ার যোগ্যতা আমাদের সবারই আছে। কিন্তু আমরা হতে পারি না। কারণ আমরা আমাদের ভেতরের শক্তিটাকে অনুভব করি না। তাই যতক্ষণ না আপনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছেন, প্রথম হওয়ার জন্যে প্রচণ্ড ইচ্ছা অনুভব করছেন, ভবিষ্যতের জন্যে আপনার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত খারাপ রেজাল্ট আপনার পিছু ছাড়বে না। আর এমনটি ভাবতে না পারার কারণ হচ্ছে দুর্দশার বৃত্ত। এবং এই বৃত্ত ভাঙার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন প্রতিনিয়ত আমরা অবচেতন মনে যা ভাবি, বাস্তবতা আমাদের সে দিকেই নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে আমরা আত্মপ্রকাশ করি সেভাবেই। আসলে মন যা ভাবতে পারে, যা বিশ্বাস করতে পারে তা অর্জন করতে পারে। আর এখানেই মনছবির শক্তি। তবে অধিকাংশ মানুষ সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে না তার মনের ইচ্ছাটাকে। নির্ধারণ করতে পারে না তার লক্ষ্যকে। প্রকৃত লক্ষ্যের খোঁজে সে ছুটে চলে এক পথ থেকে আরেক পথে। শুধু খুঁজে দেখে না তার মনের ভেতরে। এ দিকে ফুরাতে থাকে তার শক্তি শ্রম সময়ের মত আরও অনেক মূল্যবান সম্পদ। তাই সাফল্যের জন্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে নিয়ন্ত্রণে রাখুন ভালো শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে। তাই তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন তৈরি করে। এভাবে তাদের জীবনে সৃষ্টি হয় কর্মছন্দ। ফলে পড়ালেখায় সাফল্য আসে সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায়। আর এই রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি কাজ সময়মতো করার অভ্যাস যদি আপনি গড়তে পারেন তবে লাভবান হবেন সামগ্রিক জীবনে। বড় স্বার্থের জন্যে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করুন আমরা সবাই ভালো কিছু করতে চাই। সফল হতে চাই। কিন্তু আমাদের অধিকাংশের কাছে এই চাওয়াটা শুধু চাওয়াতে সীমাবদ্ধ। আমরা চাই মাঝে মাঝে পড়ালেখা করব, টিভি-সিনেমা দেখব, আড্ডা দেবো, গান শুনব, গল্পের বই পড়ব। জীবনটাকে তো উপভোগ করতে হবে! তারপর যদি পরীক্ষায় এ প্লাস না পাই তাহলে পরে হায় হায়। কিন্তু একজন ফার্স্টবয় কি এভাবে ভাবে? ভাবে না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পড়ালেখা এবং ফার্স্ট হওয়া। এর জন্যে যা যা করা দরকার, যেভাবে করা দরকার এবং যা বর্জন করা দরকার, সে তা-ই করে। তাই আপনিও ঠিক করুন, প্রয়োজনে কোনটি আপনি ত্যাগ করবেন? এজন্যে মনকে বোঝাতে হবে যে, মন, এখন আমার জীবন গড়ার সময়। পড়ালেখা করা ছাড়া অন্য কিছু করার জন্যে সামনে অনেক সময় আছে। এখন যদি কষ্ট স্বীকার করি তাহলে আমার শেষ ভালো হবে। তখন এ কষ্ট শতগুণে আমার আনন্দের কারণ হবে। সমস্যাকে সম্ভাবনা মনে করুন ভালো স্টুডেন্টদের সাফল্যের পেছনে রহস্য হচ্ছে তাদের প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে জীবনের পথচলা সব সময় সহজসরল নয়। প্রতিটি দিন নতুন নতুনভাবে আসে। কখনো আসে সফলতা নিয়ে আবার কখনো ভরপুর থাকে ব্যর্থতায়। সফল মানুষদের জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সামনে এগিয়ে যায়। আসলে জীবনের এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোলেই সমাধান পাওয়া যাবে। এটা সম্ভব হবে তখন যখন কেউ অনেক বাধা-বিপত্তির মুখেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারবেন। শুকরিয়া আর আনন্দের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রত্যয়ী থাকবেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিটি সমস্যাকে তাই সম্ভাবনা হিসেবে মনে করুন।

৩৭১ শিক্ষক পাচ্ছেন বিএড স্কেল

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ৩৭১ জন শিক্ষককে বিএড স্কেল দেওয়া হচ্ছে। রোববার (২০ জানুয়ারি) অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।     সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। সভায় উপস্থিত ছিলেন, অধিদপ্তরের দুজন পরিচালক, মাদরাসা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক, শিক্ষা অধিদপ্তরের নয় আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিএড স্কেল পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা: ঢাকা বিভাগে ৪৯, বরিশাল অঞ্চলে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ২৬, কুমিল্লায় ২৭, খুলনায় ৪৯, ময়মনসিংহে ৩৩, রাজশাহীতে ৬৭, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেট অঞ্চলে ২৯ শিক্ষককে বিএড স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমপিও কমিটির সভায়। এসি   

টাইম স্কেল পাচ্ছেন ৩২ জন শিক্ষক 

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ৩২ জন শিক্ষককে টাইম স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অধিদপ্তরের দুজন পরিচালক, মাদরাসা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক, শিক্ষা অধিদপ্তরের নয় আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। টাইমস্কেল পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা: ঢাকা বিভাগে ৫ জন, বরিশাল অঞ্চলে ২ জন, খুলনায় ১, ময়মনসিংহে ৫, রাজশাহীতে ৪ এবং রংপুরের ১৫ জন শিক্ষককে টাইম স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসি    

আজ জাবিতে ক্লাস নেবেন হাছান মাহমুদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস নেবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার সেখানে তিনি ক্লাস নিতে যাচ্ছেন। এ দিন বিকাল তিনটার দিকে ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার কথা রয়েছে তার। গতকাল বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একটি ক্লাস নিলে সেখানকার শিক্ষার্থীরা ড. হাছান মাহমুদকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পেতে ইচ্ছা পোষণ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি এবং অনুরোধে ড. হাছান মাহমুদ গত সেপ্টেম্বর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন হাছান মাহমুদ। বেলজিয়াম ব্রিজ ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস থেকে ‘হিউম্যান ইকোলজি’ ও ইউনিভিার্সিটি অব লিবহা দু ব্রাসেলস থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে মাস্টার্স করেন। এরপর পরিবেশ রসায়ন বিষয়ে বেলজিয়ামের লিম্বুর্গ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে ব্রাসেলসের ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এ ভিজিটিং ফেলো এবং একাডেমিক বোর্ড মেম্বার হিসেবে মনোনীত হন তিনি। বর্তমানে ড. হাছান মাহমুদ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত। একে//

আশিতে এমএ পাশ

যত দিন বাঁচি, তত দিন শিখি। এ কথার মর্ম ভালোভাবে বুঝেছেন, বুঝিয়েও দিয়েছেন অশেষ কুমার মাইতি। আশি বছর বয়সে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক। খোঁচাটা এসেছিল শিক্ষক জীবনের একেবারে গোড়ায়। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে পাস কোর্সে স্নাতক হয়ে কেশপুরের মুণ্ডলিকা বিদ্যাপীঠে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অশেষবাবু। পড়াতেন বাংলা আর ইংরেজি। তবে সহশিক্ষকদের কাছে শুনতে হয়েছিল, ‘আমাদের মাস্টার ইংরেজিতে তেমন ভাল নয়।’ অশেষ কুমারের কথায়, ‘ওই কটাক্ষ ভুলতে পারিনি। পাশের গ্রামের শিক্ষকদের সঙ্গে অনর্থক আমার তুলনা করা হত। তখনই জেদ চেপে যায় ইংরেজিতে এমএ পাশ করবই।’ দীর্ঘ কর্মজীবনে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সুযোগ হয়নি। ২০০০ সালে অবসর নেওয়ার পরেও সাংসারিক দায়দায়িত্ব সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে ইচ্ছেটাকে মরতে দেননি। জেদও ছিল অদম্য। আর তার জোরেই কিছু দিন আগে ইন্দিরা গাঁধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইগনু) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর হয়েছেন এই বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘অবসর নেওয়ার পরই ইচ্ছে ছিল ইংরেজিতে এমএ করার। কিন্তু জীবনের দায়িত্ব থেকে অবসর পাইনি। তাই কিছুটা দেরি হয়ে গেল।’ পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের চনসরপুরের দক্ষিণ বাগুয়ানে বাড়ি অশেষবাবুর। যে বয়সে অশক্ত শরীর দৈনন্দিন জীবনচর্যায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেই বয়সে স্বপ্নপূরণের এই নজির অশেষবাবুকে অনন্য করেছে। তার একজন সহকর্মী বলেন, ‘উনি আমাদের থেকে বয়সে বড় ছিলেন। এ রকম দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষ আজকের দিনে বিরল। অশেষবাবুর অনুপ্রেরণাতেই আমি বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও বাংলায় সাম্মানিক স্নাতক করেছি।’ অদম্য এই বৃদ্ধের সব লড়াইয়ের সঙ্গী, তার স্ত্রী ঊষারানি মাইতিও বলছেন, ‘হাজারো সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে ও মরতে দেয়নি। এত দিনে স্বপ্ন সফল হওয়ায় আমিও খুশি। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর আগের সেই খোঁচাটা কি এখনও বেঁধে? হেসে ফেললেন অশেষবাবু। বললেন, ‘কারও উপর রাগ বা বিদ্বেষ নেই। লড়াইটা তো নিজের জন্য লড়েছি।’ আগামী লক্ষ্যও স্থির করে ফেলেছেন অশেষবাবু। তার কথায়, ‘এবার ইগনু থেকে ইংরেজি ভাষায় এমএ করব।’ ইগনুতে অশেষবাবুকে ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলেন অধ্যাপক আশুতোষ সামন্ত। তিনি বলেন, ‘এক দিনও ক্লাস কামাই করেননি মানুষটা। পড়াশোনার প্রতি ভালবাসা আর নিষ্ঠায় উনি প্রমাণ করে দিয়েছেন বয়স নেহাতই একটা সংখ্যা।’ কে বলে আশিতে আসিও না! তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি