ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ২:২৫:৫৩

রঞ্জন মল্লিকের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পূজার বাদ্য’ 

রঞ্জন মল্লিকের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পূজার বাদ্য’ 

আশ্বিন মাস- শারদীয় দুর্গা পূজার মাস। শরতের শিশির ভেজা সকালে পূজার বাদ্যে ঘুম ভাঙ্গে । ঘুম থেকে উঠে শশব্যস্ত হয়ে ছেলে-বুড়ো, যুবক-যুবতী সকলেই পূজা মন্ডপের দিকে ভো-দৌড়। ঢাকের বাদ্যে পূজারির মনে ঐ সময় কি যেন এক সন্মোহনের সৃষ্টি করে। মায়ের আরাধনায় সবাই যেন মগ্ন।   শুরু হয়েছে দুর্গা পূজা। পূজাকে উপলক্ষ করে নির্মিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পূজার বাদ্য’। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন রঞ্জন মল্লিক।  অতিথি হিসেবে আছেন- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, সাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, নৃত্য শিল্পী পূজা দাশগুপ্ত, কণ্ঠ শিল্পী ভাস্বর বন্দ্যাপাধ্যায় ও রানা দাশগুপ্ত।    মা দুর্গা ধরাধামে এলে ভক্তরা নানা আয়োজনে মাকে তুষ্ঠ করার চেষ্টা করেন। তাই পূজা নিয়ে মন্ডপে মন্ডপে চলে বিবিধ আয়োজন, উঠে আসে নানা কথা। এ সময় কাব্য গীত ও সংস্কৃতির যেন এক চিরন্তন বন্ধনে আমরা আবদ্ধ হই। সারাদিন রাত পূজার বাদ্যে আমরা একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। পূজোর সেই আনন্দ নিয়ে এই সব প্রাজ্ঞজনেরা কথা বলেছেন।   ‘পূজার বাদ্য’ অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে একুশে টেলিভিশনে বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৯.৩০ মিনিটে। অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রযোজক রঞ্জন মল্লিক বলেন, প্রতি বছরই আমাদের মাঝে পূজা ফিরে আসে। এ সময়টা সবাই খুব আনন্দ উল্লাস করে। তাই পূজা নিয়ে এই ভিন্ন আয়োজন, ভিন্ন ধাঁচের এই অনুষ্ঠানটি নির্ম াণ করি যাতে দর্শক আনন্দের মাঝে আরও একটু বাড়তি আনন্দ পায়।        কেআই/এসি   
‘মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছি’

শুধু পূজা নামেই পরিচিত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা। ছোট থাকতেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনি নিয়ে গান গাইতেন তিনি। মায়ের অনুপ্রেরণায় গান শেখা। নতুন কুঁড়িতে পরপর তিনবার পুরস্কার পাওয়াসহ জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। কিন্তু শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন ২০০৮ সালে একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় সেরা সাতজনের মধ্যে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘পূজা’ জনপ্রিয় হয় সাতজন নামী সংগীত পরিচালক নিয়ে কাজ করার পর। এরপর বেশ কয়েকটি অ্যালবামে নিজের কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতা মাতিয়েছেন তিনি। বর্তমানে অ্যালবামের পাশাপাশি স্টেজ, টিভি শো, মিউজিক ভিডিও এবং প্লেব্যাকে তার যত ব্যস্ততা। ইটিভির একুশের সকালে আজকের অতিথি ছিলেন- পূজা। তার সঙ্গে ইটিভির আলাপচারিতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সাক্ষাৎকার। ইটিভি : শুভ সকাল। কেমন আছেন? পূজা : এইতো ভালো আছি। এখানে এসে আরও ভালো লাগছে। ইটিভি : আপনি গানের মানুষ। গান দিয়েই পরিচয়। গান দিয়েই জনপ্রিয়তা। শুরুতেই বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই। সম্প্রতি কি কি কাজ করলেন? পূজা : কিছুদিন আগে দুটি গান প্রকাশ পেয়েছে। ‘একটাই তুমি’ শিরোনামে তাহসান ভাই এর সঙ্গে একটি গান রিলিজ হয়েছে। অন্যটি বেলাল ভাই এর সঙ্গে। ‘ও পরানের পাখি রে’ শিরোনামের একটি গান। মূলত ‘ও পরানের পাখি রে ...’ একটি পুরনো গানের কথা। অনুমোতি নিয়ে সেখানে থেকে দুটি লাইন এবং বাকি লাইনগুলো অন্য কথা দিয়ে নতুন করে গানটি গাওয়া হয়েছে। ইটিভি : আপনি ইতিমধ্যে গানের মধ্য দিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারপরও নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করার প্রচেষ্টা সব সময়ই সব শিল্পীর থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতি বা চেষ্টা কেমন চলছে? পূজা : আমার কাছে মনে হয় আমি যেমনই থাকি না কেনো গানের চর্চাটা কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয়। আমি যেহেতু একটা প্রতিযোগিতা থেকে এসেছি, সেটা আমাকে একটি ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু এরপর থেকেই আমার যুদ্ধটা শুরু হয়েছে। ইটিভি : বিভিন্ন সময় টিভি শো অথবা দেশে-বিদেশে স্টেজ শো করা হয়। এমন কোন অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই যা আগে বলা হয়নি! পূজা : একবার পূজার সময় খামারবাড়ি এলাকায় আমার একটা শো ছিল। ওই সময় শো শেষে একজন চানাচুর বিক্রেতা স্টেজে উঠে আসে। তার হাতে কিছু বাতাসা ও আইসক্রিম ছিল। সে কাছে এসে বললো- ‘আপু আমি আপনার গান এতো বেশি পছন্দ করি যে- আমার সামর্থ অনুযায়ি এগুলো দিলাম।’ বিষয়টা আমার এতো বেশি ভালো লেগেছে, যা আমার সব সময় মনে থাকে। ইটিভি : বর্তমানে সঙ্গীত শিল্পীদের গানের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব একটি বড় প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনিও গানের ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। বিষয়টাকে আপনি কেমন দেখেন? পূজা : আমরা আসলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিউজিক ভিডিওটি করছি। তবে আমি আগে বলি যে- গানটা ভালো হতে হবে। গানটি যদি ভালো না হয়, তবে যতই ভালো ভিডিও তৈরি করি না কেনো সেটা বেশি দিন টিকবে না। তাই গানের কথা, সুর এগুলোর উপর জোর দেওয়া উচিত। ইটিভি : আপনাকে টিভি শো, স্টেজ শো, ফটোশুটসহ মিউজিক ভিডিওর মডেল হতে হচ্ছে। নিজের ঠিক রাখার একটা বিষয় তো থাকেই। যদিও আপনি কণ্ঠ শিল্পী তবে আউট লুকের বিষয়টি ভাবতেই হয়। এতো ব্যস্ততার মধ্যে নিজের যত্ন নিচ্ছেন কিভাবে?    পূজা : (হেসে) সত্যি কথা বলতে আমি আসলে ওরকম যত্ন নিই না। তারপরও চেষ্টা করি একটু ঠিক থাকার। এক একবার এক এক রকম করে নিজেকে প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার জন্য নিয়ম করে কিছুই করা হয় না।   ইটিভি : সব কিছুর পরেও পূজা একজন সঙ্গীত শিল্পী। নিয়মিত চর্চা কি করা হয়?   পূজা : যখনই সময় পাই চর্চা করি। দিনে অন্তত একবার হলেও বসা হয়। তাছাড়া ফেরদৌস আরা ম্যাডামের কাছে তালিম নিচ্ছি। ইটিভি : গানের জগতে আসতে বা প্রতিষ্ঠিত হতে পরিবারের কতটুকু সাপোর্ট পেয়েছেন? কে আপনাকে বেশি উৎসাহ দিয়েছে। বাবা, নাকি মা? পূজা : ছোট বেলায় পুরোটাই মায়ের সহযোগীতা ছিল। মাও গান করতেন। বিয়ের পরে অবশ্য তিনি চালিয়ে যেতে পারেনি। মায়ের ইচ্ছে ছিল তার স্বপ্নটা মেয়ের মাধ্যমে পূরণ হোক। বাবা শুরুর দিকে এটা চাইতেন না। পরবর্তীতে যখন বাবা দেখলেন আমি গানকে বেশি পছন্দ করি, সময় দিচ্ছি, লেগে আছি, তখন থেকে তিনিও সাপোর্ট দিতে লাগলেন। [অনুষ্ঠান : একুশের সকাল উপস্থাপনা : এলিনা শাম্মী অনলাইন সম্পাদনা ও শ্রুতি লিখন : সোহাগ আশরাফ] পুরো অনুষ্ঠানটি দেখতে ভিডিও দেখুন : এসএ/

‘এখন লেখালেখি করে সময় কাটছে’

রূপালি পর্দার প্রথম ‘রূপবান’ তিনি। আছে আরও অনেক স্মরণীয় চরিত্র। সংসারও করেছেন এক নায়কের সঙ্গে (আজিম)। এখনো অভিনয় করে চলেছেন ‘সুজাতা’। ‘রূপবান’, ‘ডাক বাবু’, ‘জরিনা সুন্দরী’, ‘অপরাজেয়’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘আলিবাবা’, ‘বেঈমান’, ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, ‘প্রতিনিধি’ সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে সোনালী যুগের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন তিনি। জমিদার বাড়ির এই মেয়েটির নাম তন্দ্রা মজুমদার। এখন লোকে তাকে ‘সুজাতা আজিম’ নামেই চেনেন। কুষ্টিয়ার থানাপাড়া জমিদার বাড়ির মেয়েটি জন্মের মাত্র ছয় মাস পরই বাবাকে হারান। তাদের বিরাট জমিদার বাড়ি ছিল। কয়েক বিঘা জমির ওপর অবস্থিত ছিল সেই বাড়ি। এত বড় বাড়ি পুরো অঞ্চলে মনে হয় একমাত্র তাদেরই ছিল। সে বাড়িতেই শৈশব কেটেছে সুজাতার। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুজাতা জানালেন সেই সব দিনের গল্প। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ একুশে টিভি অনলাইন : কেমন আছেন? চিত্রনায়িকা সুজাতা : অনেক ভালো। একুশে টিভি অনলাইন : আপনি কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা। সেই ষাটের দশক থেকে চলচ্চিত্রের সঙ্গে পথ চলা শুরু। এখনও অভিনয় করছেন। আজকের এই দিনে পেছনে ফিরে যখন তাকান সেই সোনালী দিনগুলোর কথা মনে পড়ে নিশ্চই। কেমন অনুভুতি হয়?   চিত্রনায়িকা সুজাতা : আসলে এক একটা বয়সে এক একটি সময় আসে। সেই ৬৩ সালে আমি যখন চলচ্চিত্রে আসি তারপর থেকে অনেক স্মৃতি রয়েছে। অনেক কিছু দেখেছি। এখনও দেখছি। আসলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সবাইকেই থাকতে হয়। তখন কিন্তু সাদা-কালোর যুগ ছিল। এখনকার মত ডিজিটাল ছিল না। তখন আমরা খুব কষ্ট করে অভিনয় করেছি। তখনকার সময়ে অভিনয়ে নামাটা বেশ কষ্টকর বিষয় ছিল। এখন কিন্তু সেটি নেই। একুশে টিভি অনলাইন : যতোটুকু শুনেছি আপনি জমিদার পরিবারের মেয়ে। অভিনয়ের নেশা কিভাবে হলো? চিত্রনায়িকা সুজাতা : বাবাকে হারাই সেই ছোট বেলায়। মা মাত্র ২৭-২৮ বছরে বিধবা হয়েছিলেন। আরও কিছু ঘটনা আছে আমাদের জমিদারি নিয়ে। সে কথা থাক। দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন পর মা আমাদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমালেন। আমরা প্রথমে পুরান ঢাকায় উঠলাম। তারপর ৪০ টাকা বাড়িভাড়ায় নতুন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে চলে এলাম। একদিন আলাপ প্রসঙ্গে সেই বাড়ির বাড়িওয়ালার ভাই মাকে বললেন, তার সঙ্গে মঞ্চের পরিচালক আমজাদ হোসেনের পরিচয় আছে। মা তাকে অনুরোধ করে বললেন, বাবা আমার ছোট মেয়েটাকে যদি অভিনয়ে দিতে পারতাম তাহলে খুব ভালো হতো। মায়ের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, তার কোনো একটি সন্তান সিনেমার জগতে আসুক। তিনি উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা দেখতে খুব ভালোবাসতেন। সেসব দেখেই তিনি এই জগতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি আমাকেও এসব সিনেমা দেখতে উৎসাহিত করতেন। এমনকি আমার মা বাড়িতে সুচিত্রা সেনের অনুকরণে অভিনয়ও করতেন। একটু বড় হয়ে আমিও যখন সুচিত্রা-উত্তমের সিনেমা দেখতে শুরু করলাম, তখন থেকে মাকে আমার ‘গুরু’ আর সুচিত্রা সেনকে ‘আদর্শ’ হিসেবে মেনে এসেছি। তারপর তো আমজাদ হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি আমাকে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দিলেন। ঢাকায় অনেক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছি। পরবর্তীকালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা, নারায়ণ চক্রবর্তী, আমজাদ হোসেনের অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। নাজমুল হুদা বাচ্চু, ইউসুফ ইমাম, ইমাম ভাই নামে এক ভদ্রলোকের নাটকেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এসব মানুষের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। একুশে টিভি অনলাইন : সিনেমায় এলেন কিভাবে? চিত্রনায়িকা সুজাতা : ‘রূপবান’খ্যাত সালাহউদ্দিন সাহেব তার ‘ধারাপাত’ সিনেমার জন্য একটি নতুন মুখ খুঁজছিলেন। আমজাদ ভাই তখন তার সহকারী পরিচালক ছিলেন। যত দূর মনে পড়ে, তখনই আমি আমজাদ ভাই পরিচালিত ‘মায়ামৃগ’ নাটকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছিলাম। তিনি আমার কথা সালাহউদ্দিন সাহেবকে বললেন। ধারাপাতের পরিচালক নাটকটির মঞ্চায়নের দিন আমার অভিনয় দেখতে এলেন। আমাকে দেখে তার পছন্দ হলো। অভিনয়ও ভালো লাগল। এর পরই তার সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে মনোনীত করলেন। তবে সিনেমায় একটি নাচের দৃশ্যের মাধ্যমে আমার প্রথম আগমন। সেই সিনেমাটির নাম ছিল ‘দুই দিগন্ত’; কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে প্রথম মুক্তি পেয়েছে ‘ধারাপাত’। এই আমার পথচলা শুরু হলো।’ একুশে টিভি অনলাইন : নায়ক আজিমের সঙ্গে বিয়ে হলো কবে? চিত্রনায়িকা সুজাতা : ১৯৬৭ সালের জুলাইয়ে আজিম সাহেবের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও সিনেমায় অভিনয় করেছি। আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো বাধা আসেনি। যদিও আমার শাশুড়ি একটু পর্দা করতেন। তবে কোনো দিন আমি মেকআপ মুখে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনে যাইনি। তারাও আমাকে মেয়ের মতো স্নেহ করেছেন। বিয়ের ১০ বছর পর ১৯৭৭ সালে আমাদের ঘর আলো করে সন্তান ফয়সাল জন্ম নিল। আমি সংসার ও চলচ্চিত্র—দুটি দিকই একসঙ্গে চালিয়ে গিয়েছি। কোনো অসুবিধা হয়নি। একুশে টিভি অনলাইন : আপনি যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন সেই সময়টাকে স্বর্ণালী যুগ বলা হয়। এখনও সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু সে সময়টার মত নির্মাণ হচ্ছে না। বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? চিত্রনায়িকা সুজাতা : আসলে ভালো গল্প থাকতে হবে। তখন অনেক ভালো ভালো নির্মাতারা ছিলেন, এখনও আছে। এখনও ভালো সিনেমা হচ্ছে। তবে সময়কে ধরতে হলে যা যা প্রয়োজন তার অভাব রয়েছে বলেই এখন এই অবস্থা। একুশে টিভি অনলাইন : অবসর সময় কি করেন? চিত্রনায়িকা সুজাতা : আমি লেখালেখি পছন্দ করি। একটি উপন্যাস লিখছি। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। সেটা নিয়েই অবসর সময়টা কেটে যাচ্ছে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনাকে নিয়ে লিখতে গেলে আপনার অজানা সব কথা শুনতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তারপরও আমি আমাদের যতটুকু সময় দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। চিত্রনায়িকা সুজাতা : তোমাকেও ধন্যবাদ। একুশে টেলিভিশনকেও ধন্যবাদ। সুজাতা অভিনিত সিনেমা [আগুন নিয়ে খেলা’, ‘মোমের আলো’, ‘মেঘভাঙা রোদ’, ‘ডাক বাবু’, ‘মধুমালা’, ‘সাইফুলমুলক বদিউজ্জামান’সহ আরো অনেক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলাম। আমার নামকরা ছবির মধ্যে আরো আছে—নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘এতটুকু আশা’, মহিউদ্দিন ভাইয়ের ‘গাজী-কালু-চম্পাবতী’, খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘রাজাসন্ন্যাসী’, নুরুল হক বাচ্চুর ‘বড় বউ’, বশির আহমদের ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, সফদার আলী ভুঁইয়ার ‘কাঞ্চন মালা’, ইবনে মিজানের ‘জরিনা সুন্দরী, ‘নাগিনীর প্রেম’, নাজমুল হুদা মিঠুর ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’, আজিম সাহেব পরিচালিত ‘টাকার খেলা’, ‘প্রতিনিধি’, ‘বদলা’, নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’, হাসান ইমাম পরিচালিত ‘লালন শাহ’, ইবনে মিজান পরিচালিত ‘তিতুমীর’, ‘নাগিনীর প্রেম’, ‘আমির সওদাগর’, ‘ভেলুয়া সুন্দরী’, রাজ্জাক পরিচালিত ‘বেঈমান’, ‘আপনজন’, সুমিতাদির (দেবী) ‘মোমের আলো’, ‘মায়ার সংসার’, ‘আদর্শ ছাপাখানা’ ইত্যাদি।] এসএ/  

জয়ের ‘বাউন্সারে’ নার্ভাস নাবিলা (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা। দর্শকপ্রিয় উপস্থাপক ও অভিনেত্রী। উপস্থাপনার বাইরে মডেলিং, চলচ্চিত্র, ও টিভি নাটকে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। তবে ২০১৬ সালে নাবিলা প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ সিনেমাতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। সিনেমাতে চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এটিই ছিল অভিনেত্রীর ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার। সম্প্রতি নাবিলা একুশে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘উইথ নাজিম জয়’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন। যেখানে অনুষ্ঠান উপস্থাপক অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা দেখে শুরুতেই নার্ভাস হয়ে যান নাবিলা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জয়ের এক প্রশ্নের জবাবে নাবিলা বলেন, ‘একটু ভয় পাচ্ছি। একটু নার্ভাস হচ্ছি। এতোটা সুন্দর বিশেষণ দিয়ে আপনি কথা শুরু করেছেন, যতোদূর দেখেছি সব সময়ই আপনি সুন্দর কথা দিয়ে শুরু করেন কিন্তু তারপর এক একটি প্রশ্নের গুলি বা বারুদ যখন আসে সবাইকেই নার্ভাস হতে হয়। এটা ভেবেই আমি একটু নার্ভাস।’ এপর্যন্ত নাবিলা একটি মাত্র সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এরপর আর তাকে নতুন কোন সিনেমায় দেখতে পায়নি দর্শক। এরই মাঝে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু আয়নাবাজিতে নাবিলার অভিনয় দেখে দর্শক তার কাছে আরও কিছু আশা করে এবং তাকে বড় পর্দায় দেখতে চায়। বিষয়টি নিয়ে নাবিলার মন্তব্য কি এবং সে বিষয়ে তিনি কি ভাবছেন জয়ের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে আসলে আমার একার কিছু করার নেই। আমি এভাবে শুরু করিনি যে আমাকে নায়িকাই হতে হবে। অথবা আমাকে শুধু ফিল্মই করতে হবে। এর আগেও আমার সিনেমার অফার এসেছে। কিন্তু এই গল্পটা আমার ভালো লেগে গেছে। এই সিনেমার স্ক্রিপ্টটা যখন আমি শুনি, তখন শুনেই ভালো লাগে। আপনারা দেখেছেন, আমার চরিত্রাটি কিন্তু খুব একটা কঠিন কিছু ছিল না। যেহেতু অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার আগে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না তাই আমি এমনই একটি ভালো গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। যখন সিনেমাটি খুব বেশি ভালো হয়ে যায় ঠিক তখনই আমার আগ্রহ বেড়ে যায় সিনেমা করার ক্ষেত্রে। এরপর আমার কাছে বেশ কিছু কাজ এসেছে। কিন্তু আমি ওরকম গল্প ঠিক পাইনি। হ্যাঁ, দর্শক বঞ্চিত হচ্ছে। আমিও বঞ্চিত হচ্ছি। কারণ আমি সেরকম স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি না যেটা আমি পছন্দ করি। অনুষ্ঠানটির বিস্তারিত জানতে ও দেখতে নিচের ভিডিওটি দেখুন - এসএ/

‘নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করতে চাই’

রাসেদ মামুন অপু। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা। নিজের অভিনয় কৌশল ও দক্ষতা দিয়ে একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত অসংখ্য ভালো নাটকে অভিনয় করে জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। শুধু নাটকে নয়, চলচ্চিত্রেও নিজের কারিশমা দেখিয়েছেন এই তারকা। কিভাবে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে নিজেকে প্রকাশ করেতে হবে তা তিনি ভালো করেই রপ্ত করেছেন। বিশেষ করে নাটকে নিজস্ব একটি স্টাইল ও ভাষার ব্যবহার করে ভক্তদের খুব কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন ‘সিটিবাস’ খ্যাত এই তারকা। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বর্তমান ব্যস্ততার কথা জানালেন অপু। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : কেমন আছেন? উত্তর : অনেক ভালো। প্রশ্ন : সব সময়ই ঈদকে ঘিরে একটা ব্যস্ততা থাকে ছোটপর্দার তারকাদের। আপনি ছোটপর্দার একজন জনপ্রিয় তারকা। গত ঈদকে ঘিরে কেমন ব্যস্ততা গেছে? উত্তর : নাটক নিয়েই ব্যস্ততা গেছে। বেশ কিছু নাটক প্রচার হয়েছে। দশটার মত হবে। কিছু নাটকে ব্যতিক্রমি চরিত্র ছিল। আবার কিছু সাধারণ। এই তো। প্রশ্ন : শুরুর দিকে আপনি নাটকে একটি অঞ্চলের ভাষা ব্যবহার করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। তারপর আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। চরিত্রকে কিভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেন? উত্তর : ওটা তো আসলে উপাসনার জায়গা! সে ক্ষেত্রে আমাকে হেল্প করেছে দীর্ঘ দিনের থিয়েটার চর্চা। যখন একটা নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, আর সেখানে আমাকে যে চরিত্রটি দেওয়া হয় সেটাকে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। বয়স, অবস্থান, স্থান, কাল, অবজারভেশন সব কিছু মিলিয়ে কাজটি করতে হয়। আসলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রশ্ন : আমাদের চ্যানেলগুলোতে নাটক প্রচারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় দেখা যায়, তা হচ্ছে দর্শক সময় মত আনন্দের সঙ্গে নাটকটি উপভোগ করতে পারছেন না। বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনা, একই সময়ে অধিকাংশ চ্যানেলে নাটক প্রচার সহ আরও অনেক কিছু। দর্শক এখন তাই ইউটিউব মুখি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন? উত্তর : আমি বলবো বাধ্য করা হচ্ছে। সঠিক কোন ডিজাইন নেই। আমি নিজের নাটক দেখতে বসলেও আমার সঙ্গে যারা থাকে তারাও বিব্রত হয়। নিজের কাছে নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। মনে হচ্ছে যে- অনেকটা জোর করে তাদের বসিয়ে রেখেছি আমার নাটকটি দেখানোর জন্য। নাটক তো টিভির জন্যই নির্মাণ করা হয়। মানুষ তো নাটক টিভি চ্যানেলেই দেখবে। কিন্তু সঠিক কোন প্রক্রিয়া নেই। প্রক্রিয়াটি যদি ভালো হতো তাহলে দর্শক কখনও ইউটিউব মুখি হতো না। দর্শক কিন্তু টাটকা জিনিসই পছন্দ করে। প্রশ্ন : আমাদের নির্মাতারা অনেক প্রতিকুলতা সত্যেও ভালো ভালো নাটক দর্শকদের উপহার দিচ্ছেন। কিন্তু তারা যে পরিশ্রম করছেন তার বিনিময়ে তেমন কিছুই পাচ্ছেন না। এ বিষয়টা সম্পর্কে আপনি কি বলবেন? উত্তর : যারা আসলে দর্শক, যারা নাটক দেখেন, তারা হয়তো অনেকে বুঝতেও পারবেন না, অনুভবও করতে পারবেন না, কতটা কষ্ট ও ত্যাগের পর একজন নির্মাতা একটি নাটক নির্মাণ করেন। মাত্র দুই দিনে এতো অল্প বাজেটে নির্মাতারা যেসব নাটক নির্মাণ করছেন আমি তো বলবো তাদের সেলুট করা উচিত। একটি নাটকের পেছনে নির্মাতা সহ অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকৌশলি যারা থাকেন সবাই কি পরিমাণ পরিশ্রম করেন তা যদি সবাই জানতো তবে বুঝতে পারতো কতটা কষ্ট করে একটা নাটক হয়। আমাদেরকে বাজেট দেওয়া হচ্ছে না, আমাদেরকে অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না, বলা হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। অথচ শত্রুপক্ষের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র। তারপরও আমাদের নির্মাতারা, আমাদের শিল্পীরা অসম্ভব ভালো কিছু করছে। এটি পারছে কারণ এর পেছনে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। প্রশ্ন : আপনাকে আমরা চলচ্চিত্রেও দেখেছি। চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আপনার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানাতে চাই। উত্তর : আমার অভিনিত ‘কমন জেন্ডার’ সিনেমাটি বেশ সাড়া জাগানো একটি চলচ্চিত্র। মূলত হিজড়া সম্প্রদায়দের নিয়ে নির্মিত হয় সিনেমাটি। তাদের জীবনযাত্রা, দুঃখ, কষ্ট, মৌলিক অধিকারগুলোর ক্ষেত্রে তাদের যে বঞ্চনা এসবই উঠে এসেছে এই সিনেমায়। এটি ছাড়া চলচ্চিত্রে আমার খুব বেশি কাজ করা হয়নি। সর্ব শেষে একটি সিনেমায় অতিথি চরিত্রে কাজ করেছি। প্রশ্ন : আগামীতে চলচ্চিত্রে কোন ধরণের চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে? উত্তর : সিনেমায় আমার পছন্দের চরিত্র নেগেটিভ। আগামীতে নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে। অনেক ভালো লাগলো। ভালো থাকবে। ধন্যবাদ। এসএ/

একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই : চঞ্চল

অভিনেতা ও মডেল চঞ্চল চৌধুরী। চলচ্চিত্র এবং নাটকে সমানতালে অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। দুই মাধ্যমে সমান জনপ্রিয় তিনি। সম্প্রতি আয়নাবজি সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে গ্রহণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বর্তমানে বেশ কিছু নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চঞ্চল অভিনিত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দেবী’ সিনেমাটি। নতুন এ চলচ্চিত্র নিয়ে দারুণ আশাবাদী চঞ্চল। ‘দেবী’ নিয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘উপন্যাসটির সঙ্গে পাঠকদের আগে থেকেই জানাশোনা আছে। মিসির আলী চরিত্রটিও সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। মোটামুটি সিনেমার গল্প সম্পর্কে সবারই পূর্ব ধারণা থাকবে। তবে শিল্প মানেই প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আবিস্কার করা। তাই সিনেমার গল্পে দর্শকরা নতুনত্ব খুঁজে পাবেন। সিনেমার নির্মাতা অনম বিশ্বাস খুবই ভালো কাজ করেছেন। চিত্রগ্রাহক খসরু গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে সিনেমাটিতে অপূর্ব দৃশ্যায়ন করেছেন। জয়া আহসানও পরীক্ষিত অভিনেত্রী। আর আমি যে কোনো চরিত্র করার সময় একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই। মিসির আলী চরিত্রটিতে আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেবী’ অনুদানের সিনেমা হলেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এমন আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র সত্যিই আমাদের দেশে খুব একটা দেখতে পাই না। সবকিছু মিলিয়ে ‘দেবী’তে অবশ্যই নতুন কিছু রয়েছে, যা দর্শকদের ভালো লাগবে। তবে উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে শতভাগ মেলানো কষ্টসাধ্য। মূল গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন আইডিয়ার সন্নিবেশনে ভালো কিছু সবাই দেখতে পাবেন বলেই বিশ্বাস। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পাবে।’ আরটিভিতে আজ প্রচারিত হবে তার অভিনীত নাটক ‘মজনু একজন পাগল নহে’। নাটকটি নিয়ে তিনি বলেন, নাটকটি প্রচারের পর থেকে অসংখ্য দর্শকের সাড়া পেয়েছি। এতে বোঝা যায়, নাটকটি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। যখন নাটকের কাজ শুরু করেছিলাম, তখনও মনে হয়েছিল, নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে। বৃন্দাবন দাসের ভিন্নধর্মী কাহিনীর জন্যই এমন ধারণা হয়েছিল। তিনি নাটকে হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের গহিনে লুকিয়ে থাকা চেহারা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়টি অনেকের মনে দাগ কেটেছে। এসএ/

‘১৯ বার আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে [বিআইসিসি] এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ প্রদান করেছেন। রোববার বিকেলে ২৪ ক্যাটাগরিতে শিল্পী ও কলাকুশলীর মধ্যে এ পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতাকে। পুরস্কার প্রাপ্তির পর একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একুশের রাত’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন চিত্রনায়িক চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। অনুষ্ঠান উপস্থাপক ছিলেন- অঞ্জন রায়। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন অভিনেতা ফারুক। শুরুতে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হয় ববিতার কথা। তিনি তো অসাধারণ অভিনেত্রী। তার অভিনয়ের ধারেকাছে অনেকেই যেতে পারবে না। উনি আজ যে সম্মান পেয়েছেন সে জন্য আমি তাকে অন্তর থেকে শুভেচ্ছা জানাই। আমি নিজেও মনে করি যে আমি ভাগ্যবান। কারণ তার সঙ্গে আমি বহু সিনেমা করেছি।’ পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভুতি নিয়ে ফারুক বলেন, ‘এটা অনেক বড় সম্মান। আমরা সারাজীবন যে মেধা, শ্রম, কষ্ট করেছি তার জন্যই এই সম্মাননা। আমার মনে হয়, শিল্পীদের জন্য আরও কিছু করতে পারে সরকার। যেমন আমাদের ভিআইপি স্ট্যাটাস নেই, এটা শিল্পীদের থাকা জরুরি। আমি চলচ্চিত্র পরিবারকে ভালো রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। চলচ্চিত্রে অসহায় শিল্পীদের দিকেও সরকারের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।’ এ সময় আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, ’১৯ বার আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারণ একটাই বঙ্গবন্ধুর কথা বলা, এক কথা আপস না করা। বিষয়টি এমন যে- তুমি আসো আমাদের দলে, তা না হলে তোমার হবে না। শিল্প-সংস্কৃতিতে আমার মনে হয় এটা করা ঠিক না।’ বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, ‘চলচ্চিত্র তার নিজের গতি, নিজের জায়গা থেকে কথা বলে। চলচ্চিত্র নিয়ে যদি এখন কিছু বলতে যাই তবে বলবো- সিনেমা হলগুলো ঠিক করতে হবে। সিনেমা হলের মালিকেরা কিন্তু আমাদের এই পরিবারেরই একটি অংশ। এই বিষয়টিকে আমার ভাবতে হবে। আমার, বলছি এক কারণে যে- অনেকেই এটিকে আমার বলেন না। প্রথম কথা প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সিনেমা কিন্তু থেকে নেই। নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে।’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কি ইচ্ছে করে না যে কাজ করি। আমারও ইচ্ছে করে। যখন আমি বলবো যে- কাজ করব। তখন আসবে- চরিত্রটা কি? তখনই তারা বিপদে পড়ে যাবে। আমাকে যদি বলা হয় আপনি নায়িকার বাবার চরিত্র করেন আমি তো করব না। আমার জায়গা এটা না। আমার কাজ হচ্ছে সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমার দর্শকরা কিন্তু আমাকে ভালোবাসে। ওই ভালোবাসাটাই আমাকে আনতে হবে। তাহলেই চলচ্চিত্রের জন্য উপকার হবে।’ পুরো অনুষ্ঠানটি দেখতে ভিডিওটি ক্লিক করুন : এসএ/

স্ট্যান্ডআপ কমেডি বিনোদনের বড় মাধ্যম হতে পারে: আবু হেনা রনি

স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান আবু হেনা রনি। কলকাতার দর্শকপ্রিয় কমেডি শো ‘মীরাক্কেল’-এর সুবাদে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন টেলিভিশন শো, নাটক, সিনেমার কাজ নিয়ে। বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে এই কমেডিয়ানকে। একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একুশের সকাল’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কৌতুক অভিনেতা রনি জানালেন অনেক অজানা কথা। তাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- সোহাগ আশরাফ আবু হেনা রনিকে এদেশের দর্শক একজন কমেডিয়ান হিসেবে চিনলেও বর্তমানে তিনি মিডিয়ার বেশ কয়েকটি মাধ্যমে কাজ করছেন। বর্তমানে দুটি টিভি উপস্থাপনা করছেন রনি। এছাড়া দেশে এবং দেশের বাইরে স্ট্যান্ডআপ কমেডি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে তার। একই সঙ্গে সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই তারকা। যা এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এটি রনির তৃতীয় চলচ্চিত্র। নতুন এই সিনেমাটির নাম ‘তুই আমার রানী’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের সজল আহম্মেদ ও কলকাতার পীযূষ সাহা। সিনেমার কাহিনী লিখেছেন পীযূষ সাহা নিজেই। বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাত এবং তার বিপরীতে এ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন টালিউড অভিনেতা সূর্য। মিষ্টি-সূর্য ছাড়াও ‘তুই আমার রানী’ সিনেমাতে রয়েছেন আবু হেনা রনি, সজল, রেবেকা রউফ, রাজেশ শর্মা, সুপ্রিয় দত্ত, দোলন, কাঞ্চন। কলকাতার জি-বাংলা চ্যানেলের মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার সিক্স এ পারফর্ম করে ভারত ও বাংলাদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন রনি। অগনিত ভক্ত বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদের ভালোবাসায় সীক্ত হয়েছেন আবু হেনা রনি। এরপর দেশে ফিরে সেই দর্শক প্রিয়তা কতটা কাজে লেগেছে এমন প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ওখানেই আমার সুযোগ ছিল। ওরা বলেছিল যে- রনি, তুমি আমাদের টিমে থেকে যাও। কারণ ওখানে যারা টিমের মধ্যে থাকে অর্থাৎ গ্রুমার হিসেবে কাজ করে আমারও সেই গ্রুমার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে ওই ডিরেক্টরের অন্যান্য অনুষ্ঠানও থাকে। সেখানে কাজ করার সুযোগটা ছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা, পরিবারের সবাই এদেশে। দেখা গেছে যে- আমি ওখানে মনের দিক থেকে সেইভাবে কাজ করতে পারব না। কিন্তু আমরা ওখানে প্রমাণ করে এসেছি যে- এই কাজটি আমরা এদেশেও করতে পারব। আমাদের দেশে অনেক ডিরেক্টর, অনেক চ্যানেল, কিন্তু এদেশে এসে সেই সুযোগটি আসেনি। কেউ ই ভাবেনি যে- ওরা এই কাজটি করতে পারে। ছোট ছোট আয়োজ হয়েছে কিন্তু কেউ এখনও ভাবেনি যে- স্ট্যান্ডআপ কমেডি বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। ফলে আমরা এখনও সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারিনি। তবে বসে নেই রনি। চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছেন নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই কিছু করার। এ বিষয়ে রনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই একটা ইচ্ছা আছে। আমি হয়তো মিডিয়ায় এখনও ভালো কিছু করতে পারিনি। কিন্তু সারা বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি জেলায় স্ট্যান্ডআপ কমেডি ক্লাব করে ফেলেছি। প্রত্যেকটি জেলার নামে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন ধরুন- নাটক কমেডি ক্লাব, রাজশাহী কমেডি ক্লাব এরকম। প্রত্যেকটি এলাকায় বড় মাঠে বা শিল্পকলায় ক্লাবের শিল্পীরা শো করে যাচ্ছে।’ রনির বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ৫নং চামারী ইউনিয়নের বিলদহর গ্রামে। তিনি আঃ লতিফ মাষ্টার ও বিনা বেগমের ছেলে। মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার এর ৪০টি পর্বে অংশ নিয়ে ২৫টিতে একক ও যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন রনি। প্রত্যেকটি পর্বে তার পারফর্ম মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। শুধু অভিনয়, উপস্থাপনা বা কমেডি শো-ই নয়; রনি নিয়মিত লেখা-লেখিও করছেন। এ পর্যন্ত তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ পেয়েছে। লেখালেখি প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘যখন প্রথম বইটা প্রকাশ হয় তখন সবার আগে বাবাকে খবরটা জানাই। প্রথম কপিটা হাতে নিয়ে দৌঁড়ে বাবার কাছে গেলাম। গিয়ে বাবাকে বললাম- আব্বা আব্বা এই বই মেলায় আমার বই বের হচ্ছে। আব্বা বললো- খুব ভালো হয়েছে, এবার তুই বের হ। বাবার কথা হচ্ছে- আমি নিজে বই পড়তাম না, সেই আমি বই লিখছি। হা হা হা।’ বই লেখার অনুপ্রেরণা কি করে হয়েছে- জানতে চাইলে কৌতুকের ছলে মজা করে হেঁসে রনি বলেন- ‘আমার হাতের লেখা ভালো ছিল। হা হা হা।’ তিনি বলেন, ‘আমার বইগুলো এক একটা একেক রকম ভাবে লেখা। একটা বাচ্চাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বই। মজার মজার প্রশ্ন-উত্তর। আর একটি হচ্ছে- কিভাবে স্ট্যান্ডআপ কমেডি করতে হয়, তা নিয়ে লেখা। আর একটা মীরাক্কেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। এসএ/

আজ প্রচার হবে ইত্যাদির সংকলিত পর্ব   

আজ বিটিভিতে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির সংকলিত পর্ব প্রচার হবে। ইতিপূর্বে প্রচারিত ইত্যাদির কয়েকটি পর্ব থেকে সংকলন করে সম্পাদনার টেবিলে তৈরি করা হয়েছে এ পর্বটি।   মূল পর্বটি প্রচার হয়েছিল ২০০৬ সালের জুলাই মাসে। যেহেতু এই সংকলিত পর্বটি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সময় প্রচার হবে তাই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ বিষয়ই বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে সাজানো হয়েছে। এ পর্বে রয়েছে কয়েকটি হৃদয়ছোঁয়া প্রতিবেদন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথম কুমির চাষ প্রকল্প ও ঢাকায় বসবাসকারী একজন চীনা নাগরিকের ওপর প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদনে ফুল বেচাকেনা নিয়ে একটি চমৎকার প্রতিবেদন দেখা যাবে। এ ছাড়া নিয়মিত সেগমেন্টগুলো তো থাকছেই। অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। সংকলিত এ পর্বটি আজ রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদের পর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে প্রচার হবে। এসি       

ডায়লগ ডেলিভারির সময় হাসি চেপে রাখতে হয়েছিল : বুবলি

বাংলা সিনেমার বর্তমান সময়ের হার্টথ্রুব নায়িকা শবনম বুবলি। একের পর এক সিনেমা করে হিট। এবারের ঈদে বুবলি ও সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত দু’টি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবি দুটি হচ্ছে ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া ও নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা’ এবং ‘সুপারহিরো’। ছবি দুটির শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই আলোচিত হচ্ছিল। ছবি দুটি নিয়ে প্রত্যাশা, শুটিংয়ের মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে বুবলি কথা বলেছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাওন সোলায়মান। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো- ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার অভিনীত সিনেমা আসছে প্রেক্ষাগৃহে। এই বিষয়েই শুরুতে জানতে চাইব আপনার কাছে। বুবলিঃ ঈদে যে দু’টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে তা হলো ‘সুপারহিরো’ এবং ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’। দু’টি ছবি আসলে একদমই দুই ধরনের। যেটা আমরা সব শিল্পীরাই বলে থাকি যে ‘একটু অন্যরকম’। আমার মনে হয় যে আসলে দর্শকরা যখন হলে গিয়ে দেখবেন ছবি দুটো তখন তারা এই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। কারণ সুপারহিরো ছবিটি হচ্ছে একদমই অ্যাকশন ধরনের ছবি। রোমান্স,কমেডি সব বাণিজ্যিক সিনেমাতেই থাকে। কিন্তু কিছু ছবি আসলে কিছু কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। সেদিক থেকে বললে সুপারহিরো অ্যাকশন থ্রিলার ছবি। দেশপ্রেম আছে এটিতে। দেশের প্রতি ভালবাসার ব্যাপারগুলো দেখানো হয়েছে। সুপারহিরো সিনেমার গল্পটাই মূলত এর প্রাণ। আর ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ সিনেমাটি মূলত কমেডি বেইজড। সুপারহিরোর থেকে একেবারেই উলটো। দুটো অঞ্চলের ব্যাপার তো বোঝাই যাচ্ছে। তবে সিনেমাটি আধুনিক সময়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আমরা শুধু যে গ্রামের কথা বলছি, আঞ্চলিক; তা না। মানে মডার্ণ একটা ব্যাপার দেখানো হয়েছে যেখানে দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হাসি-দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে। আর কিছু বলব না। বাকিটা দর্শকদের জন্য থাকলো। তারা হলে গিয়ে দেখবেন। ইটিভি অনলাইনঃ চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া নামটাই বেশ মজার। তো এই সিনেমার শ্যুটিং করতে গিয়ে নিশ্চয়ই অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের পাঠকদের জন্য তার কিছুটা শেয়ার করতেন আমাদের সঙ্গে... বুবলিঃ আসলে মজার ঘটনা সব সেটেই টুকটাক হয়। হঠাৎ করে বলতে গেলে আর কিছু মনে পরে না। তবে এই সিনেমার শ্যুটিং এর পুরো কাজটাই ছিল মজার। আমাদেরকে সেটে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে হয়েছে। ডায়লগ ডেলিভারির সময় আমাদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। কষ্ট এই জন্য করতে হয়েছে যে, হাসি চেপে রাখতে হচ্ছিল। সিনেমার ডায়লগগুলো বেশ মজার। তবুও ধরেন আমি চরিত্রের মাঝে আছি। বেশ সিরিয়াস। কিন্তু আশেপাশে ইউনিট সদস্যদের দিকে তো চোখ চলে যায়। সবার মুখে একটা হাসি হাসি ভাব। তখন আসলে নিজের হাসিটা দমিয়ে রাখা বেশ কষ্টকর। তারপর যখনই শ্যুটিং – কাট হতো অমনি আমরা সবাই মিলে হাসি। আমি বলব, এই সিনেমার অভিনয়ের পুরো অংশটাই আসলে বেশ মজার ছিল। ইটিভি অনলাইনঃ সিনেমা দু’টিতে অভিনয়ের জন্য আপনাকে আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। সেগুলো কী ধরনের ছিল? বুবলিঃ প্রতিটি সিনেমার প্রতিটি চরিত্রই নতুন। আর নতুন একটি কাজ করতে গেলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে এই সিনেমা দু’টির জন্য আসলেই বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’র জন্য আমাকে নোয়াখালীর ভাষা শিখতে হয়েছে। শুধু শিখতে না সেটাকে রপ্তও করতে হয়েছে। আর সুপারহিরো’র বিষয়টা পুরো উলটো। এই সিনেমার জন্য আমাকে ফাইটিং শিখতে হয়েছে। রীতিমত পেশাদার ট্রেইনার দিয়ে ফাইটিং শিখতে হয়েছে। এরজন্য বেশ কষ্টও হয়েছে। দেখা গেছে, আজ ফাইটিং শট ছিল। প্রশিক্ষণ নিয়ে শ্যুটিং করে যখন কাজ শেষ করলাম তখন শরীরে ব্যথা করছে। কিন্তু এরপরেও পরের দিন শ্যুটিং করে যেতে হয়েছে। এ ধরনের ভারি কাজ করার পর যে বিশ্রাম দরকার তাও পায়নি। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। হলে যাবেন? বুবলিঃ জ্বী, হলে যাব। গত কয়েক বছর ধরে যেটা হচ্ছে ঈদে যেহেতু সিনেমা মুক্তি পাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে সেহেতু বেশ উত্তেজনা কাজ করে। পাশাপাশি আবার একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার যে দর্শকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে সেটি নিয়ে। অনেকটা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার মতো। সারা সময় যে শ্যুটিং এ কষ্টটা আমরা করি তা দর্শকদের ভালো লাগছে এটা দেখতে পারলে খুব ভালো লাগবে। নিজের কাজকে সার্থক মনে হবে। আর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য হলে যাওয়ার থেকে ভালো কোন উপায় নেই। ইটিভি অনলাইনঃ আমরা সাক্ষাৎকারের একেবারেই শেষ পর্যায়ে। দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপনি কী কিছু বলবেন? ইটিভি অনলাইনঃ দর্শকদেরকে জানাচ্ছি ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা। ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে এটুকুই বলব যে, আসুন আমরা সবাই বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে থাকি। হলে গিয়ে বাংলা চলচিত্র দেখি। আর আপনাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। আপনাদের যেন আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারি তার জন্য দোয়া করবেন।  আরও পড়ুন অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি : বুবলি ঈদ সালামির জন্য দুলাভাইদের অপেক্ষায় থাকতাম : বুবলি / এআর /

ঈদ সালামির জন্য দুলাভাইদের অপেক্ষায় থাকতাম : বুবলি

সময়ের আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলি। একের পর এক সিনেমা করে হিট। এত অল্প সময়ে এতগুলো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেওয়া দেশের আর কোনো নায়িকার পক্ষে সম্ভব হয়েছে কি-না ভেবে দেখতে হবে। সংবাদ পাঠিকা থেকে চলচ্চিত্রে আসা এ সুদর্শনীর গুণ শুধু অভিনয়ে-ই সীমাবদ্ধ নয়। তার রান্নারও প্রশংসা আছে। ঈদের তার বিশেষ রেসিপির জন্য মুখিয়ে থাকেন পরিবার ও স্বজনরা। এমনটিই জানালেন বুবলি। শুধু রান্না নয়, ঈদ কিভাবে কাটে, শৈশবের ঈদ, বিশেষ এই দিনটিতে সাজগোঁজ, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা একুশে টিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন ‘বসগিরি’ সিনেমার এ নায়িকা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাওন সোলায়মান। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব আজ তুলে ধরা হলো-    ইটিভি অনলাইনঃ সারা বছর তো কাজেই ডুবে থাকেন। ঈদের সময়টা আপনি কীভাবে উপভোগ করেন? এই দিনের প্ল্যানে কী কী থাকে আপনার? বুবলিঃ ঈদের দিনের থেকে ঈদের আগের দিন নিয়ে আমার অনেক প্ল্যান থাকে। ওইদিনটায় ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। ঈদের দিন আসলে তো মনে হয় চলেই গেল। ঈদের আগের দিন যেটা হয় আমরা বোনেরা মিলে মেহেদী দিই। ঈদের দিনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলতে থাকে। আর ঈদের দিনের কথা বললে এই দিন মূলত আমার বাসাতেই থাকা হয়। যত কাজই থাকুক না কেন আমি চাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করি। আরেকটা ব্যাপার যে, আগে যেটা হতো ঈদের জন্য নতুন জামা কিনতাম, সেগুলো লুকিয়ে রাখতাম। এ ব্যাপারগুলো এখন আর হয় না। এখন তো কাজের জন্যও আমাদের প্রায়ই শপিং করতে হয়। তাই লুকিয়ে রাখার সেই ব্যাপারগুলো নেই। তবুও ঈদের দিন তো একটা নতুন জামা পরতেই হয়। ঈদের দিন তাই চাই খুব লাইট কালারের (হালকা রঙের) কোন পোশাক পরতে যেটা আরামদায়ক হবে। আর দুপুরের পর থেকে বেশ গর্জিয়াস জামাকাপড় পরা হয়। এছাড়া এবারের ঈদে একুশে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘স্টার কুইজে’ অংশ নেব। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন দেবাশীস বিশ্বাস আর প্রযোজন করবেন মাসুদুজ্জামান সোহাগ। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে রান্না ঘরে যান? বুবলিঃ রান্না করা আমার খুব পছন্দের একটি বিষয়। আমার মনে হয় একটি মেয়ের আসল সৌন্দর্য থাকে তার রান্নার হাতের মধ্যে। আমি যেহেতু ছোট তাই আম্মু রান্না করতে দেন না। তবে ঈদে অন্তত কিছু না কিছু আমার রান্না করা চাই-ই চাই। ইটিভি অনলাইনঃ এবারের ঈদে কী রান্না করবেন? বুবলিঃ আমার এবার পরিকল্পনা আছে গরুর কালাভুনা রান্না করার। এটার রেসিপি আমার বড় বোনের কাছ থেকে শিখেছি। গরুর মাংস আর ঝাঁল; দুটোই আমার বেশ পছন্দের। আমার রুমের বারান্দায় বোম্বাই মরিচের দুই-তিনটা গাছ আছে। আর ফিন্নি রান্না করব। বলতে পারেন ঝাল আর মিষ্টির ভালো একটা কম্বিনেশন থাকবে।  ইটিভি অনলাইনঃ এখনকার ঈদে কী করা হয়? সালামি দেন নাকি সালামি নেন? বুবলিঃ খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন। সালামি নিয়ে অনেক ইতিহাস আছে। আমরা চার ভাই বোন। দুই বোন বড় আর আমার ছোট একটা ভাই আছে। তো ছোটবেলা থেকেই সালামি পেয়ে আসছি। বড়দের সালাম করতাম, সালামি পেতাম। যাই পাই তাই একটা মজা ছিল। তো আমার বড় দুই দুলাভাই একটা ট্রিকস করেছেন। সেটা হচ্ছে যে, ওনারা ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা আগে তাদের সালাম করবে তারা সালামি বেশি পাবে। তো আমি আর আমার ছোট ভাই যেটা করতাম সকাল থেকেই দুলাভাইদের জন্য দরজার কাছে অপেক্ষা করতাম। কারণ তারা আসলেই আগে সালাম করতে পারলেই সালামি বেশি পাওয়া যাবে। এখন যেটা হয় সালাম করি আবার সালামি-ও দিতে হয়। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ছোট বাচ্চারা আছে। ওদেরকে দিই। এটা অনেক মজার। ইটিভি অনলাইনঃ ব্যক্তি বুবলিকে নিয়ে কিছু আলাপ করি। আপনি এখনও পড়াশুনা করছেন। সামনের পরিকল্পনা কী? বুবলিঃ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ফার্স্ট সেমিস্টারের পড়ছি। এটা শেষ করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু আমাদের যেভাবে কাজ করতে হয় তাতে পড়ালেখাটা ঠিক নিয়মিত না। আপনি হয়তো জানেন যে, ঢাবিতে ক্লাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপস্থিতি না থাকলে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে দেয় না। সেকারণে যেটা করি যখনই ব্যস্ততা কম থাকে তখন টানা একটা সেমিস্টার শেষ করে ফেলি। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার একাধিক সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। হলে যাবেন? বুবলিঃ জ্বী, হলে যাব। গত কয়েক বছর ধরে যেটা হচ্ছে ঈদে যেহেতু সিনেমা মুক্তি পাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে সেহেতু বেশ উত্তেজনা কাজ করে। পাশাপাশি আবার একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার যে দর্শকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে সেটি নিয়ে। অনেকটা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার মতো। সারা সময় যে শ্যুটিং এ কষ্টটা আমরা করি তা দর্শকদের ভালো লাগছে এটা দেখতে পারলে খুব ভালো লাগবে। নিজের কাজকে সার্থক মনে হবে। আর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য হলে যাওয়ার থেকে ভালো কোন উপায় নেই। আরও খবর অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি : বুবলি আগামী পর্বে থাকছে ‘ডায়ালগ ডেলিভারির সময় হাসি চেপে রাখতে হয়েছিল’   / এআর /

উইথ নাজিম জয়ে চাঁদনী

জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী অনেক দিন ধরেই রয়েছেন মিডিয়ার আড়ালে। এবার সেই আড়াল ভেঙ্গে হাজির হচ্ছেন একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘উইথ নাজিম জয়’ অনুষ্ঠানে। সেখানে আলোচিত উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের মুখোমুখি হবেন। বলবেন নিজের না বলা অনেক কথা। মাসুদুজ্জামান সোহাগের প্রযোজনায় এবারের পর্বে চাঁদনীর সঙ্গে আরও থাকছেন সাংবাদিক এম এস রানা এবং কৌতুক অভিনেতা মীরাক্কেলের সজল।   ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানটির রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। অতিথি আড্ডায় নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন চাঁদনী। অনুষ্ঠানের একটি পর্যায়ে চাঁদনী জানান, ‘সম্প্রতি আঁংটি বদল হওয়া সঙ্গীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার এবং অভিনেত্রী তানিয়া হোসেনের সম্পর্ক কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি’। আড্ডা গল্পে চাঁদনী তার জীবনের আরও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।     একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘উইথ নাজিম জয়’ অনুষ্ঠানটির এবারের পর্বটি প্রচার হবে ৩০ মে বুধবার রাত ১০টায়।  এসি   

নারীকে বুদ্ধি, মেধা, ইচ্ছা শক্তি দিয়ে জয় করতে হবে

একজন সৃষ্টিশীল নির্মাতা ও মানুষ তখনই সফল হন যখন পর্দায় তার নামটি না দেখে নির্মাণশৈলী, সংলাপ, রুচিশীল সেট, পাত্রপাত্রীর বাচনভঙ্গি দেখেই দর্শক বলে দিতে পারেন এটি সম্ভবত ওই নির্মাতা বা রচয়িতার নাটক। এসব ক্ষেত্রে বলা যায় তিনি পুরোপুরি সফল। মিডিয়ায় তার সুনাম রয়েছে যে, তিনি একজন স্মার্ট ও রুচিশীল নাট্যনির্মাতা। শুধু নাটক নির্মাণই নয়, নাটক রচনাতেও তিনি সমান পারদর্শী। বলছি দেশের খ্যাতিমান নারী নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর কথা। নাট্য নির্মাতা হিসেবে মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। এরপর গত ১৭ বছরে ৩৬০টির মত নাটক নির্মাণ করেছেন এই নারী নাট্য সৈনিক। এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মনকাড়া নাটক। যা মানুষকে কাঁদিয়েছে, বিনোদিত করেছে, ভবিয়েছে। যদিও তার অধিকাংশ নাটকের কাহিনী প্রেম ও ভালোবাসা কেন্দ্রীক। তবে এই রোমান্টিকতাকে তিনি দেখিয়েছেন নানা আঙ্গিকে, নানা মাত্রায়। একজন সফল নারী নাট্যসৈনিক কিভাবে এই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন, কতটুকু পরিচ্ছন্ন ও গুছানো হলে একজন নারী সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে পারেন সেই সব কথা জানিয়েছেন তিনি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার নাটক নির্মাণের গল্প, ভাবনা ও ১৭ বছরে নিজের সফলতার নানা বিষয়। চয়নিকা চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই নারী দিবসের শুভেচ্ছা রইলো। দিদি কেমন আছেন? চয়নিকা চৌধুরী : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। দেশের ও বিশ্বের সকল নারীদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। ইটিভি অনলাইন : দিদি আপনি একজন নারী নাট্যসৈনিক। একজন নারী হয়ে ৩৫০টির অধিক নাটক নির্মাণ করেছেন। কিভাবে সম্ভব হলো? এই অনুপ্রেরণা পেলেন কিভাবে? চয়নিকা চৌধুরী : অনুপ্রেরণাটা আসলে নিজের থেকেই আসে। নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে আসে। নিজের ভালোলাগা থেকে আসে। আমি যদি মনে করি যে, আমি এই কাজটি করব, তাহলে আমি সেটা করি। যত্ন এবং ভালোবাসা যদি মনের মধ্যে থাকে, আন্তরিকতা যদি থাকে তাহলে কোন কিছুই আটকে থাকে না। হয়তো অনেক ঝড় আসে, বিপদ আসে কিন্তু ইচ্ছা শক্তিটা যদি প্রখর হয় তাহলে একটা মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধ্য। ইটিভি অনলাইন : ২০১৮ সালের মধ্যে কি ৪০০ নাটকের মাইল ফলকে পদার্পণ করতে পারবেন? চয়নিকা চৌধুরী : না না। এতো তো সহজ না। আসলে মার্কিনটা আমার কাছে বড় কিছু না। এটা আসলে হয়ে এসেছে। আমি অনেক ডিসিপ্লিন। গুছিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। তবে আমার মার্ক থাকে যে কবে কোথায় কোন কাজটি করলাম। এটা থাকা ভালো। ৪০০ আসলে অনেক বড় ব্যাপার। এখন আমার ৩৬০টি নাটক হলো। আরও ৪০টি নাটক মনে হচ্ছে না এ বছর করতে পারবো। ইটিভি অনলাইন : আমরা আপনার নাটকে প্রেম, ভালোবাসা, রোমান্টিকতাই বেশি দেখি। আপনার নির্মাণের মধ্যে ঘুরে ফিরে কেন এগুলোই বেশি আসে? চয়নিকা চৌধুরী : আসলে দুনিয়াতে ভালোবাসা ছাড়া কোন কিছুই হয় না। ভালোবাসাটা আসলে অনেক বেশি প্রয়োজন। তবে আমি যে শুধু রোমান্টিক নাটক বানিয়েছি তা কিন্তু নয়, এই নারী দিবসেও আমার দুটি নাটক যাচ্ছে। আমি বিজয় দিবস, ২৬শে মার্চ, বাবা দিবস, মা দিবসেও নাটক করেছি। হয়তো রোমান্টিক নাটকটা আমার ক্ষেত্রে একটু বেশি ভালো হয়। একই সঙ্গে দর্শকও হয়তো আমাকে রোমান্টিক নাটকের নির্মাতা হিসেবে বেশি পছন্দ করে। আর ভালোবাসাটা আমার কাছে সব থেকে বড়। এটা ছাড়া আসলে কোন কিছুই সম্ভব না। ইটিভি অনলাইন : অনেকেই নাটক নির্মাণ করছেন। বিশেষ করে আমাদের দেশে অনেক পুরুষ নির্মাতা রয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে একজন নারী হয়েও আপনার কাজের মান অনেক পুরুষ নির্মাতার চেয়েও ভালো হচ্ছে। দর্শকই এটি মূল্যায়ন করছেন? আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? চয়নিকা চৌধুরী : ওই যে বললাম, ইচ্ছা। মনের ইচ্ছা, যত্ন, ভালোবাসা এগুলো আসলে অনেক প্রয়োজন। হয়তো আমি মেয়ে তাই আমার মধ্যে গোছানো জিনিসটা বেশি থাকে। অথবা ম্যাচিং, কেয়ারিং এবং অ্যাকটিং সবই গুরুত্ব পায়। হয়তো পুরুষ নির্মাতারা ভাবেন যে কখন কাজটি শেষ করবেন। সে তার নির্মাণটাই শুধু দেখছেন, শিল্পীর অভিনয়টাই শুধু দেখছে। অন্যকিছু হয়তো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে দর্শক এখন অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তাদের সব কিছুই দরকার। এটাই হচ্ছে কারণ। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারী শিক্ষিত হয়েও ঘরে মধ্যে বন্দি থাকতে বাধ্য হয়। তবে সেই চিন্তা ধারায় এখন অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। সংসার সামলানোর পরেও নারী এখন বাইরে অনেক সফল হচ্ছে। নারী কিভাবে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে আপনার কাছে মনে হয়? চয়নিকা চৌধুরী : এটাও আসলে মনের ইচ্ছা। অনেকে আছেন যারা ৯টা ৫টা কাজ করেন কিন্তু এর বাইরে অন্য কিছুই করেন না। আমি কিন্তু এখনও এই ১৭ বছরের ক্যারিয়ার জীবনে সকালে রান্না করেই বের হই। যখন দেশে থাকি না তখনকার কথা ভিন্ন। কিন্তু রান্নাটা আমি নিজ হাতেই করি। বাসায় যারা আছে তারা হয়তো সব গুছিয়ে দেয় কিন্তু নিজ হাতে রান্না করতেই আমি পছন্দ করি। কে কখন খাচ্ছে, কি করছে সব কিছুই কিন্তু আমাকে দেখতে হয়। এটা দেখাটাও দরকার। এটাওতো আমার একটা কাজ। ভালোবেসে, আনন্দ নিয়ে দুইটাই যখন আমি সমান তালে করতে পারবো তখনই আসলে একটা মেয়ে সার্থক। ইটিভি অনলাইন : নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করতে গেলে অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা আসে। কিন্তু সব কিছু মোকাবেলা করে কিভাবে সে এগিয়ে যেতে পারবে। আমার ম্যাসেজ কি? চয়নিকা চৌধুরী : কাজ করতে গেলে নারী-পুরুষ সবারই বাঁধা আসে। নারীদের ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি আসে। যেহেতু সৃষ্টিকর্তা তাদের নারী করে বানিয়েছেন। ওটা নারীকে বুদ্ধি দিয়ে, মেধা দিয়ে, তাদের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে একটাকে মোকাবেলা করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : আমরা তো আপনার নির্মাণে অনেক সুন্দর সুন্দর নাটক, টেলিফিল্ম দেখেছি। শুনেছি চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েও ভাবছেন। সেই সু সংবাদটি কবে আসবে? চয়নিকা চৌধুরী : ইচ্ছে আছে অনেক সুন্দর একটি সিনেমা নির্মাণ করবো। যে সিনেমা দেখে মানুষ মুগ্ধ হবে। চোখের জল ফেলবে খুশিতে বা আনন্দে অথবা কষ্টে। একই সঙ্গে বাসায় যেতে যোত ভাববে আবারও সিনেমাটি দেখবো। এমন একটি সিনেমা বানানোর খুব ইচ্ছে আছে। এখন দেখি কি হয়। ইটিভি অনলাইন : আমরা কি ২০১৮ সালেই সেই সিনেমাটি দেখতে পারবো? চয়নিকা চৌধুরী : মনে হচ্ছে। তবে আমার এই ইচ্ছেটার সঙ্গে তো আরও অনেক কিছু জড়িত। ইটিভি অনলাইন : সব শেষ প্রশ্ন। আপনি এখন ক্যারিয়ারের যেখানে অবস্থান করছেন, আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? চয়নিকা চৌধুরী : আমি একজন সফল মা হিসেবে নিজেকে দেখতে ভালোবাসি। আমার দুই সন্তান। ওরা খুব ভালো কিছু করবে। যোগ্য মানুষ হবে। মানুষ হিসেবে ভালো হবে। এটাই আমার কাছে বড় চাওয়া। আমি দেখতে চাই আমি একজন ভালো নির্মাতা। আমার সিনেমাটি অনেক ভালো হয়েছে। সুপার-ডুপার হিট হয়েছে। আর পৃথিবীতে যত বাংলা ভাষাভাষি মানুষ রয়েছেন তারা চয়নিকা চৌধুরীর নামটি জানুক। এই জানাটি যেনো আরও বৃদ্ধি পায় সেটাই চাই। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। চয়নিকা চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ। এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি