ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৫৫:৫৫, বুধবার

যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণে যেসব আয়োজন

ইস্টার সানডে

যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণে যেসব আয়োজন

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইস্টার সানডে আজ রোববার। এটি খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস। বাইবেল অনুযায়ী, কালভেরি পর্বতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান যিশু। মৃত্যুর ঠিক তিনদিন পর ছিল রোববার, আর সেই পবিত্র দিনে পুনরুত্থান হয় যিশুর। মৃত্যু থেকে পুনরায় জীবিত হয়ে স্বর্গে ফিরে যান তিনি। বলা হয়, যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থান কিংবা নবজন্মকে স্মরণ করার জন্য এই বিশেষ দিনটির নামকরণ করা হয়েছে দেবী ‘ইয়োস্ত্রে’র নাম অনুসারে। জার্মান প্যাগান ধর্মের এই দেবী ইয়োস্ত্রের নাম থেকে এসেছে ইস্টার শব্দটি। তিনি ছিলেন নবজন্ম এবং উর্বরতার দেবী। ছোট খরগোশ এবং ডিম ছিল তার প্রতীক। যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণ করতে ইস্টারের ৪৫ দিন আগে থেকে শুরু হয় বিশেষ কর্মসূচি প্রায়শ্চিত্তকাল। প্রায় ছয় সপ্তাহের এই সময়ে রোববার দিন বাদে প্রতিদিন নানাভাবে নিজের পাপের জন্য অনুতাপ প্রার্থনা করে খ্রিস্টানরা। উপবাস থাকা, নিয়মিত প্রার্থনা আর পাপস্বীকারের মাধ্যমে পালিত হয় প্রায়শ্চিত্তকাল। রোববার বাদে উপবাস থাকার এই কর্মসূচি চলে ৪০ দিন। এছাড়া প্রায়শ্চিত্তকালে প্রতি শুক্রবার বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্ত করে খ্রিস্টানরা। কারণ বাইবেলের মতে, যিশুর মৃত্যু হয়েছিল শুক্রবারে ঠিক দুপুর তিনটায়। ইস্টার সানডের আগের শুক্রবার তাই বেশ ঘটা করে পালিত হয় গুড ফ্রাইডে। অনেকে এই দিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বা গ্রেট ফ্রাইডে বলেন। কালো পোশাক পরে সেদিন যিশুখ্রিস্টের মৃত্যুর শোক অনুভব করতে খ্রিস্টানরা সমবেত হন গির্জায়, চলে বিশেষ প্রার্থনা। তবে বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পালিত হয় না। বলা হয়, ২১ মার্চের পর যখন আকাশে প্রথম দেখা যায় পূর্ণ চাঁদ, তার পরের রোববার পালন করা হয় ইস্টার। মূলত গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বেশ কয়েকটি দিনপঞ্জিকার হিসেব মিলিয়ে বের করা হয় ইস্টারের তারিখ, যা ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে। ইস্টারের একটি বড় আকর্ষণ হল, ‘ইস্টার এগ’ বা ‘ইস্টারের ডিম’। ডিমকে ধরা হয় নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে, ঠিক যেমন করে নতুন জীবন পেয়েছেন যিশু। ইস্টার উপলক্ষ্যে মুরগির সেদ্ধ করা ডিমের খোলসের উপর তৈরি করা হয় নানা ধরনের নকশা। পেঁয়াজের খোসা, বাদাম, ফুলের পাঁপড়ি থেকে শুরু করে রংতুলি, সুতা-জরি আরও অনেককিছু দিয়ে সাজানো হয় এই ডিমগুলো। দেশ এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী এর ব্যবহার ভিন্ন। আমেরিকাসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে ইস্টারের আগের দিন চলে ডিমে নকশা করার কাজ। সারাদিন ডিমে নকশা করার পর রাতের বেলা পরিবারের ছোটরা ঘুমিয়ে পড়লে বড়রা ডিমগুলো লুকিয়ে ফেলেন বাড়ির বিভিন্ন স্থানে। এরপর ইস্টার সানডের সকালে শুরু হয় ডিম খোঁজার প্রতিযোগিতা। সেদ্ধ করা মুরগির ডিম ছাড়াও এখন পাওয়া যায় চকলেট ডিম এবং প্লাস্টিকের ডিম, যেগুলোতে থাকে নানা ধরনের ক্যান্ডি। ডিম নিয়ে করা হয় আরও একটি বিশেষ খেলা, যার নাম এগ রোল। এই খেলায় শিশুরা তাদের নকশা করা ডিমকে লম্বা হাতলওয়ালা একটি চামচ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। যার ডিম যত দ্রুত পৌঁছাতে পারবে সীমানায়, সেই হবে বিজয়ী। আমেরিকার বাইরে ইউরোপের অনেক দেশে এই খেলার প্রচলন রয়েছে। ইস্টার উপলক্ষে ডিম নিয়ে নাচানাচিও করা হয়! মেঝেতে অনেক নকশা করা ডিম ঢালাওভাবে বিছিয়ে তার উপর শুরু হয় নাচ। লক্ষ্য একটাই, ভাঙা যাবে না কোনো ডিম। এই খেলার উৎপত্তি জার্মানিতে। আর বুলগেরিয়া, গ্রিস এবং সাইপ্রাসের অধিবাসীরা ইস্টারের দিন পরিবারের সদস্যদের গায়ে ডিম ছুড়ে মারেন। ডিম না ভাঙাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। লেবাননে ইস্টারের আগের দিন বাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয় নকশা করা ডিমগুলো। ইস্টারের দিন বাড়ির বাচ্চারা সেই ডিম ভেঙে খায় এবং বিশ্বাস করে যিশু পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়াতে ইস্টারের পরের দিন চলে পানি খেলা। সকালবেলা একটি বিশেষ কঞ্চির সাহায্যে পছন্দের নারীর গায়ে আলতোভাবে আঘাত করেন পুরুষেরা, অনেকে ছুড়ে মারেন ঠাণ্ডা পানি। কথিত আছে, আগামী এক বছরের জন্য নারীদের সৌন্দর্য এবং সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে এই বিশেষ কঞ্চির আঘাত পাওয়া জরুরি! এমনকি কোনো নারীকে যদি আঘাত না করা হয়, তবে তিনি মন খারাপ করেন। রীতি অনুযায়ী নারীরা পুরুষদের একটি করে ডিম উপহার দেন, যেগুলো তারা নিজের হাতে নকশা করে থাকেন। অথবা তার বাড়িতে দাওয়াত করেন। আর যদি কোনো বাচ্চা আসে, তবে তাকে দেওয়া হয় মিষ্টি কিংবা খুচরো পয়সা। সেদিন বিকেলে প্রতিশোধ নিতে পারেন নারীরা, তখন তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো পুরুষের গায়ে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া পোল্যান্ডে চলে দিনব্যাপী পানি খেলা। ইস্টার বানি অর্থাৎ ইস্টারের খরগোশ হল অনেকটা সান্তাক্লজের মতো। বলা হয়, ইস্টারের আগের দিন রাতে ঝুড়িতে করে রঙিন ডিমসহ নানা ক্যান্ডি এবং খেলনা নিয়ে শিশুদের বাড়িতে রেখে যায় ইস্টার বানি। উর্বরতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয় খরগোশকে। চকলেট ইস্টার বানি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে ডিম কিংবা খরগোশ, কোনোটির উল্লেখ নেই বাইবেলে। গুয়াতেমালা এবং ব্রাজিলে ইস্টার উপলক্ষে রাস্তা সাজানো হয় এক ধরনের বিশেষ কার্পেট দিয়ে, যা তৈরি হয় বিভিন্ন রংয়ের ফুলের পাপড়ি এবং কাঠের গুঁড়ি দিয়ে। ইস্টারের ঠিক ৪৯ দিন আগে অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলিয়ান কার্নিভাল। ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয় চারদিনব্যাপী এই উৎসব। এসএ/
আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইস্টার সানডে আজ রোববার। এটি খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস। খ্রিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসীদের মতে, ইস্টার সানডেতে যিশুখ্রিষ্ট মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়ে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। পুণ্য শুক্রবার বা গুড ফ্রাইডেতে বিপথগামী ইহুদি শাসকগোষ্ঠী তাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে যিশুখ্রিষ্টকে অন্যায়ভাবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে রোববার তিনি মৃত্যু থেকে জেগে ওঠেন বা পুনরুত্থান করেন। যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থানের এই রোববারকেই ইস্টার সানডে বা পুনরুত্থান রোববার বলা হয়। খ্রিষ্টধর্ম মতে, দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। এটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দের দিন। চল্লিশ দিনের প্রায়শ্চিত্তকাল বা রোজা শেষে এ ইস্টার সানডে তাদের জন্য বয়ে আনে আনন্দের বারতা। আজকের দিনটিকে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করবে তারা। এ উপলক্ষে দেশের সব চার্চে বিশেষ খ্রিষ্টযোগ বা প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইস্টার সানডে উপলক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন, খ্রিষ্টান লীগ এবং ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ নেতারা পৃথক বিবৃতিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এসব বিবৃতিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এসএ/  

‘খ্রিস্টাব্দ’ ও ‘খ্রিস্টপূর্বাব্দ’-এর জন্মকথা

‘খ্রিস্টাব্দ’ শব্দটির শুরুর কথা আমরা অনেকেই জানতে চাই। তাই এর উৎপত্তির একটু ধারণা দেওয়ার জন্যই আজকের লেখা। আসলে খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টের জন্মের বছর থেকে যে বছর গণনা করা হয়, তাকেই খ্রিস্টাব্দ বলে। যিশুখ্রিস্টের জন্ম, জীবন, সেবা কাজ, মৃত্যু, পুনরুত্থান অবিস্মরণীয় করে রাখার জন্য সাধু গ্রেগরি নতুন এ বছরের গণনা শুরু করেছেন। আর বর্তমান পৃথিবীতে এ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও প্রচলিত। আমাদের অনেকেরই জানা আছে, বছর গণনায় ইংরেজিতে BC ও AD দুটি শব্দ প্রচলিত। BC শব্দের অর্থ হলো Before Christ, বঙ্গানুবাদ হলো খ্রিস্টপূর্ব বা খ্রিস্টপূর্বাব্দ। আর AD এসেছে লাতিন শব্দ Anno Domini Nostri Jesu Christi-যার ইংরেজি অনুবাদ হলো The year of our Lord, বঙ্গানুবাদ হলো খ্রিস্টাব্দ। সহজ কথায় বলা যায়, যিশুখ্রিস্টের জন্মবছর থেকে যে বছরের গণনা শুরু করা হয়েছে, তা-ই হলো খ্রিস্টাব্দ (AD)। আর যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগ থেকে যে বছর গণনা করা হয়, তা হলো খ্রিস্টপূর্বাব্দ (BC)। এ গণনারীতি অনুযায়ীই কোনও শূন্য বছর নেই, অর্থাৎ যিশুখ্রিস্টের জন্মবছরই হলো খ্রিস্টপূর্ব (BC) বছরের শেষ বছর আর খ্রিস্টাব্দের (AD) প্রথম বছর। বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে, গণমাধ্যমে, পত্রপত্রিকায়, অফিস-আদালতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খ্রিস্টাব্দকে ইংরেজি বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেকে লেখে এভাবে, ‘২০১৮ ইং’। ১ জানুয়ারিকে অনেকে বলে, ‘ইংরেজি’ বছরের প্রথম দিন। প্রকৃতপক্ষে এ পৃথিবীতে ইংরেজি বছর বলতে কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই। একেবারেই ভুল করে তা ব্যবহার করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ করছি। অনেকে আবার অজ্ঞানতাবশত তা করছে। সঠিকটা জানা, ব্যবহার করা ও প্রয়োগ করাই তো প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির পরিচয়। ইতিহাস বিকৃত করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যবহার বা শব্দের ভুল প্রয়োগ কোনোভাবেই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। বরং আমাদের দায়িত্বশীল কাজ হলো, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া। তাদের বিভ্রান্ত না করা।

ধরা পড়লো বাইবেলের জাল পান্ডুলিপি

যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাদুঘরে হিব্রু বাইবেলের আদি পান্ডুলিপির ৫টি খন্ড জাল প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত হওয়ার পর  সেগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিব্রু বাইবেলের পান্ডুলিপির আদি নিদর্শন ধরা হয় ডেড সি স্ক্রলকে। এতদিন এর জাল খন্ডগুলোই প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছিল ওয়াশিটন ডিসির বাইবেল জাদুঘরে। শেষপর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খন্ডগুলো জাল প্রমাণিত হওয়ায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আদি হিব্রু বাইবেলের ১৬টি খন্ড ছিল ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরে। এর মধ্যে ৫টি খন্ড পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল জার্মানিতে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরীক্ষার ফলাফলে পান্ডুলিপির আদি রুপের সাথে এগুলোর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করে ২০১৭ সালে বাইবেল জাদুঘরটি চালু করেন একজন খৃষ্টান এবং ধনকুবের স্টিভ গ্রিন। হিব্রু বাইবেলের পান্ডুলিপির সন্ধান মিলেছিল কিভাবে? হিব্রু বাইবেলের প্রথম খন্ডের খোঁজ মিলেছিল ১৯৪৭ সালে। তখন এটি পাওয়া গিয়েছিল ডেড সি`র উত্তর পশ্চিম তীর থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে কামরান নামের পাহাড়ি মরু এলাকার গুহা থেকে। এক বেদুঈন বালক ভেড়া চড়াতে গিয়ে এই পান্ডুলিপিটি পেয়েছিল। বেদুঈন বালকের পরিবার সেই পান্ডলিপি পুরাকীর্তি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। পরে সেই পান্ডুলিপি খৃষ্টান ধর্মযাজকের হাতে যায়। তবে আমেরিকান স্কুল অব রিসোর্চের একজন গবেষক ড. ট্রেভর পান্ডুলিপি দেখে এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন। পরে এগুলোই অনেকে অর্থের লোভে জাল করে সম্পদশালী আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দেয়। ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরে হিব্রু বাইবেলের যে ১৬টি পান্ডুলিপি ছিল, সেগুলোর মধ্যে ১৩টি খন্ড পড়ার পর বাইবেলের পন্ডিতরা এর বেশ কয়েকটি জাল বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পন্ডিতরা এই খন্ডগুলো পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেন। তখন ৫টি খন্ড জার্মানিতে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় ৫টি পান্ডুলিপি জাল বলে ধরা পড়ে। জাদুঘরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফরি ক্লোহা বলেছেন, পরীক্ষার ফলাফল ভিন্ন হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। একইসাথে তিনি বলেছেন, ঘটনাটি তাদের জন্য শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইবেলের পান্ডুলিপির সত্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে তারা যে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং স্বচ্ছ্বতার ব্যাপারে তাদের যে প্রতিশ্রুতি আছে, সেটা মানুষ অনুধাবন করবে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে বাইবেল জাদুঘরটির মালিক স্টিভ গ্রিন এর আগেও এ ধরণের বিতর্কে জড়িয়েছেন। গত বছরই গ্রিনের কোম্পানি ‘হবি লবি’র বিরুদ্ধে ইরাক থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চোরাচালানের অভিযোগ এসেছিল। শেষপর্যন্ত সেই অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ঐ কোম্পানিকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হয়।   তথ্যসূত্র: বিবিসি   এমএইচ/

ইস্টার সানডে কি?

আজ ১ এপ্রিল, রোববার। খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা আজ মহাসমারোহে পালন করছে মৃত্যুঞ্জয়ী প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থান মহোৎসব পাস্কা বা ইস্টার। আজ আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে, পালন করা হচ্ছে প্রভু যিশুর গৌরবময় পুনরুত্থান। হিব্রু ভাষায় পাস্কা মানেই হলো পেরিয়ে যাওয়া বা পার হয়ে যাওয়া। যিশুর পুনরুত্থান পাপের ওপর বিজয় এনেছে। মানুষকে পাপ থেকে মুক্ত করেছে। এই অর্থেই আজকের এই মহোৎসবের নাম পাস্কা। যিশুর পুনরুত্থানে মানুষের জীবনে উষার আলোর উদয় হয়েছে। তাই এই পর্বের নাম ইস্টার। বস্তুত, শনিবার রাত থেকেই এই নবজীবনের মহোৎসব শুরু হয়। শনিবার রাতে নিস্তার জাগরণী উপাসনায় যিশুর পুনরুত্থান ঘোষণা করা হয় এবং সবাই মেতে ওঠে পুনরুত্থানের আনন্দে। জ্বালানো হয় পুনরুত্থানের প্রদীপ, এক বিরাট আকারের মোমবাতি, যা ঘোষণা করে : যিশুর পুনরুত্থান মানুষের জীবনে এনেছে নতুন আলো, নতুন জীবন; যিশুর পুনরুত্থান দূরীভূত করেছে পাপের অন্ধকার; মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ী যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে হয়েছে নবীভূত। আজকের এই মহোৎসব আলোর মহোত্সব। আজ নতুন সাজে ছোট-বড় সবাই পুনরুত্থানের খ্রিষ্টযাগে তথা উপাসনায় অংশগ্রহণ করে। উপাসনার পরেই চলে আপন আপন কৃষ্টিতে ইস্টারের শুভেচ্ছা বিনিময়। ঘরে ঘরে আজ আয়োজন করা হয় দই-চিড়া-মুড়ি-মুড়কির মতো হরেক রকম মুখরোচক আহারসামগ্রী। এতে অংশগ্রহণ করে ঘরের সবাই, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই। এসএ/

জগত আলোকিত হোক

যীশু জগতের আলো। বিশ্বের কোটি কোটি খ্রিষ্টধর্ম বিশ্ববাসীর এটাই বিশ্বাস। যীশু ধর্মের জন্যে, সত্যের জন্যে, মানুষের কল্যাণের জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর ছোঁয়ায় অসুস্থ সুস্থ হয়েছে, অন্ধ পেয়েছে দৃষ্টিশক্তি, নিষ্প্রাণ পেয়েছে প্রাণ। যীশু ছিলেন বিশ্বজনীন মমতার মূর্ত প্রতীক। মানুষের পরিত্রাণের জন্যে যীশুর ভালোবাসার দলিল হচ্ছে পবিত্র বাইবেল। পবিত্র বাইবেলে রয়েছে এক শাশ্বত অনুসরণ, ঈশ্বরের উপাসনা কর, সৃষ্টির সেবা কর আর অপেক্ষা কর যীশুর পুনরাগমনের। [যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বাইবেল সোসাইটির ইংরেজি অনুবাদ The Holy Bible, New International Version থেকে কিছু বাণীর সরল বাংলা মর্মার্থ হচ্ছে বাইবেল কণিকা] ১) আমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নাই। আমিই ন্যায় বিচারক এবং ত্রাণকর্তা। পৃথিবীর মানুষেরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তোমরা পরিত্রাণ পাবে। কারণ আমিই একমাত্র ঈশ্বর, আর কোনো উপাস্য নাই। [ইশাইয়া ৪৫:২১-২২] সূত্র: কোয়ান্টাম কণিকা একে// এআর  

শুভ বড়দিন আজ

আজ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বিদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’। এদিন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিস্ট জন্মগ্রহণ করেন। পবিত্র নগরী বেথেলহেমে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ঈশ্বরের বাণী মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং মানব সমাজকে ঈশ্বরের কৃপায় নিয়ে আসতে জন্ম হয় যীশু খ্রিস্টের। মানব জাতিকে পাপ মুক্ত করা এবং সঠিক পথে পরিচালনা করাই ছিল খ্রিস্টের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই বাংলাদেশেও যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় বড়দিন। সকালে গির্জায় প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের দিনের আয়োজন। বাসা বাড়িতে তৈরি হবে কেক এবং বিশেষ খাবার।  বড়দিনকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত রাজধানী। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই গীর্জা, হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গীর্জার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রজ্জলিত হবে মোমবাতি। লাগানো হয়েছে বড়দিনের অন্যতম আকর্ষন ‘ক্রিস্টমাস ট্রি’। অনেক হোটেল-রেস্টূরেন্টে আগত অতিথিদের স্বাগত জানাতে রাখা হয় সান্তা ক্লস। এ সময় শিশুদের চকলেট এবং উপহার দিয়ে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে। বড়দিন উপলক্ষ্যে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বিঘ্নে বড়দিন উদযাপনের জন্য দেশজুড়ে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীতে নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ।   এসএইচএস/এমআর  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি