ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:১৩:৫৩

‘মামুন পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিল’

‘মামুন পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিল’

সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদ পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে নানা মত-পথ ও প্রতিযোগিতা থাকলেও মামুন সাংবাদিকতার জায়গা থেকে মামুন নিরপেক্ষ থাকতো। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, মামুন ছাত্রলীগ করত। আমাদের মধ্যেও নানা মত ও পথ আছে। নানা প্রতিযোগিতা আছে। মামুন কখনো পক্ষপাতিত্ব করত না। সে তার পেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গিতে সব বিশ্লেষণ করত। স্মৃতিচারণ করে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, মামুন যখন বাংলা ভিশনে কাজ করত তখন ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম কাভারের ব্যাপারে সে হেল্প করত। আমরাও মিডিয়া কাভারেজ সংক্রান্ত কোন যে কোন দরকারে তাকে নক করতাম। সাংবাদিক মামুন সব সময় হাসিখুশী থাকতেন এমন প্রসঙ্গে বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এক পর্যায়ে বাংলা ভিশন থেকে তার (মামুন) চাকরি চলে যায়। তখন তার মন খারাপ। তবে সে মন খারাপ দেখাতো না। পরে যোগ দেয় এশিয়া টিভিতে। দেখা হলে আমি দুষ্টুমী করতাম। কখনো তাকে রাগাতে পারিনি। মামুন একুশে টিভিতে যাওয়ার পর রোজ দেখা হতো। মামুন মানেই আনন্দ। সে সব সময় সব কিছু জমিয়ে রাখত। ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/
‘মামুনের জনপ্রিয়তার প্রমাণ পেয়েছি তার এলাকায় গিয়ে’

সদ্য প্রয়াত একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন বলেছেন, মামুনুর রশীদ কতোটুকু জনপ্রিয় ছিল তার প্রমাণ পেয়েছি তার লাশ নিয়ে যখন নড়াইল গেলাম তখন। এলাকার সর্বস্তরের লোক মামুনের জন্য হু হু করে কেঁদেছে। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্রশিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি তার বক্তৃতায় বলেন, আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করি। অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে আমার ঘনিষ্টতা। বিশেষ করে যারা প্রধানমন্ত্রীর বিট করেন তাদের সঙ্গে। এদের মধ্যে মামুন ছিল বিশেষ। মামুনের একটা অভ্যাস ছিল। যখনই মামুনকে ফোনে জিজ্ঞেশ করতাম, মামুন কোথায় আছ? মামুন উত্তরে বলত, পথে আছি। প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদের আন্তরিকতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি গ্রামের বাড়ি গেলে মামুন একদিন পরে গিয়ে হাজির হতো। যদি বলতাম, মামুন তোমাকে তো আসতে বলি নাই। কেন এসেছ? মামুন হেসে হেসে উত্তর দিত, আপনার বাড়ি আসতে হলে কী দাওয়াত লাগবে নাকি। আশরাফুল আলম খোকন আরও বলেন, মামুনকে বলতাম, মামুন বয়স ৩০ পার হয়েছে। এখন একটু ব্যায়াম কর, জগিং কর। মামুন উত্তরে বলত, খোকন ভাই আপনি বুড়া মানুষ। এগুলো আপনার করা দরকার। প্রয়াত মামুনুর রশীদ ভালো সাংবাদিকের বাইরে একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার সততা ছিল মারাত্মক। এমন প্রসঙ্গে আশরাফুল আলম খোকন বক্তব্যে বলেন, মামুন যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিট করতো তার সঙ্গে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। তাই অনেকে তার কাছে বিভিন্ন সাহায্য চাইতে আসত। এমন অনেক কাজ আমিও করে দিয়েছি। আমি কাজ করার আগে বা পরে খবর নিতাম। কারণ কোন বদনামী যাতে না হয় সেটা খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মামুন কখনো কারো কাছে এক টাকা বেনিফিট নেয়নি। অসংখ্য মানুষের উপকার সে করেছে। আমাদের দিয়ে করিয়েছে মানবতার জায়গা থেকে। তিনি আরও বলেন, মামুন খুব বেশী আয়ু পায়নি। ৩৩ বছর খুব বেশী আয়ু নয়। কিন্তু আদর্শিক জায়গা থেকে মামুনের জীবন ও কর্ম আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/

মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন(ভিডিও)

একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে একুশে পরিবার। এসময় মামুনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সবাই। তারা বলেন, মামুনের অকাল প্রয়াণে একজন তরুন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিককে হারিয়েছে দেশের গণমাধ্যম। গেল ৩ সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরপারে পাড়ি জমান একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদ। একজন প্রতিভাবান সহকর্মীর এমন আকস্মিক বিদায় এখনো মেনে নিতে পারছেননা একুশে পরিবার। বিকেলে একুশের স্টুডিওতে দোয়া অনুষ্ঠানে আসেন তার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও শুভানুদ্ধায়ীরা। মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন........। এসময় মামুন রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

ওয়েলকাম মামুন, প্লিজ...

বুঝতে পারিনি সেদিন রোববার ছিলো মামুনের জীবনের শেষ অফিস। গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রামে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ছিলো মামুন। অফিস থেকে আমাকে বলা হলো মামুনকে সহযোগিতা করতে। আমি স্ক্রিপ্ট লিখে প্যাকেজ বানানোর সময় মামুন চিরচেনা হাসিমুখ নিয়ে প্যানেলে এলো। ঢুকেই আমাকে বললো,“থ্যাঙ্কস আপা”। আমি একটু মজা করে বললাম- নট ওয়েলকাম। ওটাই ছিলো আমার সাথে মামুনের শেষ কথা, শেষ দেখা । একটু পরেই সে অফিস থেকে চলে যায়। যাওয়ার সময় দেখলাম হাসিমুখ নিয়ে সেন্ট্রাল ডেস্ক থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। আর তার পরদিন ছিলো মামুনের ডে অফ। রাতে শুনি আমাদের টগবগে তরুন সাংবাদিক মামুন আর নেই। প্রথমে দু:সংবাদটা শুনে  মনে হচ্ছিল আমি হয়ত পাগল হয়ে গেছি কিংবা কোথাও আমার বড় ভুল হচ্ছে। পরে যখন বুঝলাম নির্মম মৃত্যু কেড়ে নিয়েছে আমাদের মামুনকে, বাকি রাতটা আর ঘুমাতে পারলাম না । মামুন ছিলো আমার ডিপার্টমেন্টের দুষ্টু আর মিষ্টি ছোট ভাই, একই সঙ্গে প্রিয় সহকর্মী। শুধু আফসোস হতে লাগলো, কেন যে নট ওয়েলকাম বলেছিলাম । মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগলাম-“মোষ্ট ওয়েলকাম, মোষ্ট ওয়েলকাম মামুন । লেখক : মামুনুর রশিদের সহকর্মী। / এআর /

মামুনের বর্ণাঢ্য জীবন

মামুনুর রশিদ জন্মেছিলেন নড়াইলের অজপাড়া গা-তেলপাড়াতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে নিজেকে ক্রমেই প্রতিষ্ঠা করছিলেন সাংবাদিকতার জগতে এক উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে। সদ্য ডানা মেলা পাখি যেমন রঙ্গিন আকাশে লাফিয়ে বেড়ায়, তেমনি সাংবাদিকতায় নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গের মতো করে গড়ে তুলছিলেন তরুণ এ সাংবাদিক। তবে বিধাতার অমোঘ বিধানে জীবনের মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ণ কিংবা গোধূলি না আসতেই কালের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেল একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদকে। তার এই অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই যেন মানতে পারছেন না তার দীর্ঘদিনের সহপাঠী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, গুণগ্রাহী ও বন্ধুপরিজন। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি মামুনুর রশিদের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরই জনকণ্ঠ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মামুন। ২০০৮ সালে সদ্য স্নাতকোত্তর পাশ করা মামুনের কর্মজীবনের প্রথম দিকে সাধারণ বিটে কাজ করলেও, খুব অল্পদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিটের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। জনকণ্ঠে এক বছর থাকার পরই যোগ দেন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল-বাংলা ভিশনে। দীর্ঘ ৫ বছর বাংলাভিশনে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এসময় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিট প্রধানমন্ত্রী বিট, রাষ্ট্রপতি বিট, পররাষ্ট্র বিট, ভিভিআইপি বিট এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিটে কৃতীত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপরই সিনিয়ন রিপোর্টার যোগ দেন এশিয়ান টেলিভিশনে। এর কিছুদিন পরই দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-একুশে টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন মামুনুর রশিদ। একুশে টেলিভিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন মামুন। মামুন স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে একদিন সাংবাদিকতার দিকপাল হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশের সংবাদ ও সাংবাদিতার ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখতেন প্রয়াত গুণী এই সাংবাদিক। নটরডেম কলেজ থেকে ২০০৩ সালে মানবিক বিভাগ থেকে কৃতীত্বের সঙ্গে এইসএসসি পাশ করেন মামুন। এরপরই ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকে ২০০৭ সালে স্নাতক ও ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর একই বছর যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠে। মামুন বেড়ে উঠেছেন নড়াইলের লোহাগারা উপজেলার তেলকারা গ্রামে। তিনি মরহুম শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন সবার ছোটো। গ্রামের দুরন্তপনা জীবনে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও খেলাধূলায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপরই ছেলের উচ্চ শিক্ষার কথা চিন্তা করে, তাকে নটরডেম কলেজে ভর্তি করে দেয় তার মা-বাবা। সেখান থেকেই সাংবাদিকতার জগতে জ্বলে উঠার লক্ষ্যণ দেখা দেয় তার মধ্যে। লেখালেখিরও হাঁতেখড়ি হয় ওই ইন্টারমিডিয়েট জীবন থেকেই। এরপরই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে অনন্য উচ্চতায় এক উদীয়মান তারা। আর আজ সেই জাজ্জ্বল্যমাণ আকাশ থেকে খসে পড়া একখণ্ড ধূমকেতু, যা কেবলই স্মৃতি। স্মৃতির অম্লানে চিরভাস্মর হয়ে থাকবে আমাদের মামুন। এমজে/

মামুনের মৃত্যুতে একুশে টেলিভিশন চেয়ারম্যানের শোক

একুশে টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এস আলম গ্রুপ ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি মামুনের শোক সন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় সাইফুল আলম বলেন, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রপ্রতীক। তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিটে কাজ করছিলেন। তাঁর অকালে চলে যাওয়া আমাদের ব্যাথিত করে। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় এস আলম গ্রুপের কর্ণধার আরও বলেন, আমি তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধুমহল, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সমব্যাথী। সাইফুল আলম আরও বলেন, উদীয়মান সাংবাদিক মামুনুর রশিদ কাজের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় একুশে পরিবার সমৃদ্ধ হয়েছে বলে আমি মনে করি। তার অকালে চলে যাওয়া একুশে টেলিভিশন পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সেখানে ছুটে যান তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী একুশে টেলিভিশন পরিবারের সদস্যবর্গসহ অন্য গণমাধ্যম কর্মীরা।৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া চৌকস ও মেধাবী এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে গণমাধ্যম কর্মীরা শোকাহত। /এমজে/  

অনন্তের নক্ষত্র হয়ে থাকুক মামুন

সহকর্মী মামুনুর রশীদ (মামুন) নেই। এমন আকস্মিক খবর শোনার পর অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। এমন সুদর্শন, পরিপাটি একজন মানুষের সঙ্গে মৃত্যুর কয়েকঘন্টা আগেও প্রধানমন্ত্রীর এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। চারিদিকে কোলাহল ছিল বলে মুঠোফোনের আলাপ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছিল। তবে তার কন্ঠের দৃঢ়তা স্পষ্ট ছিল। বলছিলেন-‘মঙ্গলবার একনেক সভা আছে’। মঙ্গলবার আমার ভাগেই পড়েছিল একনেক সভার নিউজ। যাওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বিটে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি মাত্র কিছুদিন আগে। বয়সে বছর তিনেক ছোট হলেও মামুন এই বিটে অনেক অভিজ্ঞ আমার চেয়ে। প্রথমদিন প্রধানমন্ত্রীর নিউজ কাভার করতে যাওয়ার আগে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা। নিউজরুমে তার অলিখিত নির্ধারিত ডেস্কে বসা। আমাকে দেখে একফালি হাসি দিয়ে বললেন, কি!প্রথম দিন? মিস্টি পাওনা থাকলো। আমিও উৎসাহ নিয়ে বললাম-অবশ্যই। পরে কাছে ডেকে বিটের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমাকে অবহিত করলেন। যা সত্যিই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছুদিন একা বিটের নিউজ কাভার করে ক্লান্ত মামুন, তাই একজন সহকর্মী পেয়ে তার আনন্দ ছিল দেখার মতো। নির্ভার মনে হচ্ছিল। “যাক, ভাগাভাগি করে কাভার করা যাবে। একজন খুব প্রয়োজন ছিল”-এমন নির্ভেজাল আহবান কাছে টেনে নেবার জন্য যথেষ্ঠ। আবার বলছিলেন, আসলে ছুটি নিতে হবে, আর পারছি না। কি করবো..! ছুটির আকুলতা মামুনের চেহারায় স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এই ছুটি যে চিরদিনের জন্য তা বোঝার সুযোগ দেয়নি মৃত্যু। প্রিয় সহকর্মী মামুনের মৃত্যু সংবাদ যখন লিখছি, গালভরা হাসিমুখটাই বারবার ভাসছিল চোখে। আহা! কি পরিপাটি, সতেজ যুবক। নিউজের প্রতিটি লাইনের একেকটি শব্দ আমাকে বিদ্ধ করছিল ভীষণ। কিছু সময় আগেও যার সাথে কথা বলেছি, সেই প্রাণবন্ত মানুষটি নেই। তার মৃত্যু সংবাদও লিখছি আমি।খুব অল্প সময়ের কাছে পাওয়া সময়টুক থাকুক স্মৃতির ফ্রেমে। মামুন নামের এই প্রিয় মানুষটি থাকুক অনন্তের নক্ষত্র হয়ে। লেখক : প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশিদের সহকর্মী। / এআর /

শোক বইয়ে সাংবাদিক মামুন

একুশে টেলিভিনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের অকাল মৃত্যুতে মিডিয়া অঙ্গনে চলছে মাতম। তার অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না তার দীর্ঘদিনের বন্ধু-সহপাঠী, স্বজন ও কর্মস্থল একুশে টেলিভিশনের সহকর্মীরা। আর তাই স্বজন হারানো বেদনা বুকে নিয়ে শেষ বারের মতো মামুনকে এক নজর দেখতে একুশের আঙ্গিনায় ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। তার প্রথম নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের চোখে মুখে গভীর বেদনার ছাপ। অনেকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুধুই চোখের জল  ফেলেছেন। সোমবার রাত ১১টায় রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে মামুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে, তাকে নিয়ে শুরু হয়  মাতম। সেই সঙ্গে স্বজনরা আবিরাম লিখে চলেছেন স্মৃতিচারণ। শোকের মুহূর্তে একুশে টেলিভিশনে খোলা হয়েছে শোক বই। মামুনকে নিয়ে তাদের শোকগাঁথা অনুচ্চারিত শব্দগুলো একুশে টেলিভিশনের শোক বই থেকে তুলে ধরা হলো- এশিয়ান টিভি চিফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান পলাশ লিখেছেন, ‘মামুন জন্মদিনে তোমার এভাবে চলে যাওয়া বেদনার। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের উচ্চস্থান দান করুন। আমিন। আর টিভি’র রিপোর্টার  মাশায়েল অমি লিখেছেন, জন্মদিনে এভাবে চলে গেলেন এ রকম দুঃখজনক মৃত্যু যেন আর কারো না হয়। মিডিয়া চ্যানেল গুলো আপনার কাছ থেকে আরও কিছু পেতে পারতো। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসি করুন। আমিন। বাংলা ভিশনের ক্যামেরা পারসন ফজলুল হক লিখেছেন, তুমি ছিলে, তুমি নেই। তুমি থাকবে, আমার খুব কাছে। সঙ্গীত শিল্পী কনিকা দে লিখেছেন, আপনাকে অনেক ভালোবাসি।আপনি ছিলেন আছেন। বাংলাভিশন সাংবাদিক মুহিবুল্লাহ মুহিব লিখেছেন, তুমি চলে যাওয়ার  মিডিয়া অঙ্গনের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তোমাকে মিস করবো। মাই টিভির স্টাফ রিপোর্টার রাকিব হাসান লিখেছেন, আগের দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে পাশাপাশি দুই ভাই এক সঙ্গে বসেছিলাম। পর দিন রাতে তুমি চলে গেলে না ফেরার দেশে।   মানতে পারছি। ভালো থেকো।  এস এ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাহমুদুল হাসান নিবিড় লিখেছেন, জন্মদিনে বড্ড অভিমান ছিল ভাইটি আমার। তুই বুঝি সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি। যেখানে থাকো ভালো থাকো। উপস্থাপিকা ইরা শামস লিখেছেন, জন্ম নিলে মৃত্যু অনিবার্য। তবু ভাই আপনার অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছি না। আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে বেহেশত দিন। আমিন। চ্যানেল আইয়ের জাহিদ নেওয়াজ খান লিখেছেন, মামুন। ভাই আমার। কখনও দূরতম কল্পনাতেও আসেনি যে তোমার শোক বইয়ে এই আমাদের লিখতে হবে। ভালো থেকো ভাই। ক্যামেরা ম্যান মইনুল হোসেন মাসুদ লিখেছেন, জন্ম নিলেই মৃত্যু অবধারিত। তারপরও অসময়ে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না, তবুও মানতে হবে এটাই নিয়ম। আপনাকে আল্লাহ জান্নাতবাসি করুন। আমিন।। সিনিয়র রিপোর্টার জে ইউ জুবায়ের লিখেছেন, তার মৃত্যুতে শোকাহত। বলার ভাষা নেই। এই মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো না। একুশে টেলিভিশনের সাবেক হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী লিখেছেন, মামুন, তুই জীবন্ত হয়ে থাকবি। তোর হাসি মাখা মুখ নিয়ে।        এ ছাড়া আরও অসংখ্য সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক মামুনুরের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মৃত্যু অমোঘ, এঁড়ানোর সাধ্য নেই কারও। কিন্তু তার এই অকালে চলে যাওয়া নাড়িয়ে দিয়ে যায় আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে। নশ্বর এ পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়, তা যেন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন মামুন।   কেআই/এসএইচ/

মামুনকে হারানোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে: মনজুরুল আহসান বুলবুল

একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, মামুন অামাদের একুশে পরিবারের একজন অপরিহার্য্য সদস্য ছিল। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতো। প্রধানমন্ত্রী বিটে বিশ্বাস্ততার সঙ্গে কাজ করতো সে। উদীয়মান সাংবাদিক হিসেবে তাকে হারানোর যে ক্ষতি তা কাটিয়ে উঠতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অামাদের অনেক সময় লাগবে। সে এই বিটের একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন। মামুন সাংবাদিকতাকে সব কিছু দিয়ে অাঁকড়ে ধরেছিল। অাজ মঙ্গলবার একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের জানাজা শেষে তিনি একথা বলেন। সকাল এগারোটায় একুশে টেলিভিশনে এবং দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গনে মামুনুর রশীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতারা অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মামুনুর রশীদকে নিয়ে এক স্ট্যাটাসে একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল লিখেন, ‘জন্মদিন পালনে প্রথম প্রহরে সব আয়োজন নিয়ে বন্ধু শুভানুধ্যায়ীরা প্রস্তুত। কিন্তু ৩৩-এ পা দেওয়ার মাত্র ৫৬ মিনিট আগে চলে গেল মামুন । নিউজরুমে স্ক্রিপ্ট দেখে খুঁজি মামুনকে, সে নাই, রাগও করি কিন্তু রাগটি ভিত্তি পাওয়ার আগেই এসে হাজির। নিঃশব্দ হাসি দিয়ে আত্মসমর্পণ- ভাই কই ভুল করছি? কিন্তু ০৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১.০৪ মি. তার চলে যাওয়া মানে আর ফিরে না আসা! মাত্র ৩২। নানা প্রতিবন্ধকতা পায়ে দলে সাংবাদিক ‘হয়ে ওঠা’ কেবল শুরু কিন্তু এ সময়ে নাই হয়ে যাওয়া! মামুন, এটা ঠিক না! কতবার বলেছে , ভাই ৫টা বছর আপনার সঙ্গে কাজ করি, বড় সাংবাদিক হয়ে যাব। একজন আগ্রহী তরুণকে গড়ে পিটে তোলার সুযোগটাওতো হারালাম, এত আমারও ক্ষতি। এ রকম তাজা এক তরুণকে সাদা কাপড়ে আবৃত করে মরচুয়ারীতে রাখা, সহ্য করা কঠিন। সব বুকে চেপে তবুও বলি, হ্যাপি বার্থ ডে মামুন। ভালো থাক। তোমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ; নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে যাওয়া এ এক অন্যরকম আনন্দ। ভালো থাক বাবার সঙ্গে।’ উল্লেখ্য, সোমবার রাতে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদ মারা যান। /এসএইচ/

ফেসবুকে সাংবাদিক মামুনকে স্মরণ

মুকুল ছড়ানোর পর যে ফুল সৌন্দর্য্যে-গন্ধে চারপাশের সবাইকে বিমোহিত করার কথা, অকস্মাৎ সে ফুল ঝরে গেল। আর সে ঝরে যাওয়া কিছুতেই যেন মানতে পারছেন না বাগানের মালি-দর্শনার্থীরা। একুশে টেলিভিনের সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র মামুনুর রশীদের অকাল মৃত্যু যেন ঝরে যাওয়া সেই ফুল। আর তার অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না একুশে টেলিভিশন পরিবারের সদস্য, তার সহপাঠী ও বন্ধুরা। আর তাই স্বজন হারানোর সেই আবেগ প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। দীর্ঘ অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার জগতে সুনন্ধি ছড়িয়ে আসছিল মামুন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যখন অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার মিশেলে নিজেকে আরও উঁচু মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মামুন, তখনই কালের মহাস্রোত তলিয়ে নিয়ে গেলেন কীর্তিমান এ তরুণ সাংবাদিককে। সোমবার রাত ১১টায় রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মামুন। এ যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার এক খণ্ডচিত্র মাত্র। কবি বলেছিলেন, ‘গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষাকূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি-রাশি ভারা ভারা, ধান কাটা হলো সারা। ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরসা,কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা।’ মামুনুর রশীদের অকাল চলে যাওয়া নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। ফেসবুকে লেখা এক স্ট্যাটাসে আহসান বুলবুল লিখেন, ‘জন্মদিন পালনে প্রথম প্রহরে সব আয়োজন নিয়ে বন্ধু শুভানুধ্যায়ীরা প্রস্তুত। কিন্তু ৩৩-এ পা দেওয়ার মাত্র ৫৬ মিনিট আগে চলে গেল মামুন । নিউজরূমে স্ক্রিপ্ট দেখে খুঁজি মামুনকে, সে নাই , রাগও করি কিন্তু রাগটি ভিত্ পাওয়ার আগেই এসে হাজির । নিঃশব্দ হাসি দিয়ে আত্মসমর্পণ- ভাই কই ভুল করছি? কিন্তু ০৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১.০৪মি. তার চলে যাওয়া মানে আর ফিরে না আসা! মাত্র ৩২। নানা প্রতিবন্ধকতা পায়ে দলে সাংবাদিক ‘হয়ে ওঠা’কেবল শুরু কিন্তু এ সময়ে নাই হয়ে যাওয়া! মামুন, এটা ঠিক না! কতবার বলেছে , ভাই ৫টা বছর আপনার সঙ্গে কাজ করি, বড় সাংবাদিক হয়ে যাব। একজন আগ্রহী তরুণকে গড়ে পিটে তোলার সুযোগটাওতো হারালাম, এতো আমারও ক্ষতি। এ রকম তাজা এক তরুণকে সাদা কাপড়ে আবৃত করে মরচুয়ারীতে রাখা, সহ্য করা কঠিন। সব বুকে চেপে তবুও বলি, হ্যাপি বার্থ ডে মামুন। ভালো থাক। তোমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ; নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে যাওয়া এ এক অন্যরকম আনন্দ। ভালো থাক বাবার সঙ্গে।’ মামুনুর রশিদের অকাল চলে যাওয়ার ঘটনায় তার সহপাঠী ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শেখ জাহিদ ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ‘নিঃশব্দের উচ্চারণ, তবু শব্দের অনুরণন ’শিরোনামে লিখেন, ‘নিঃশব্দেরও শব্দ থাকে। বুঝে নিতে হয়। না বলা কথার মধ্যেও থাকে অনেক কথা। বুঝে নিতে হয়। অব্যক্ত ভালোবাসার মধ্যেও থাকে প্রগাঢ় ভালোবাসা। বুঝে নিতে হয়। অনন্তলোক থেকে তুই সব বুঝে নিস মামুন ...... ভাই আমার। বাবার সান্নিধ্যে ভালো থাকিস’ এদিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বার্তা-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী লুৎপর রহমান হিমেল ফেসবুকে লিখেন, ‘সাংবাদিকতা না করে শোবিজে অভিনয় করলেও পারতেন মামুন। নায়কের মতো দেখতে বলে নায়ক বলে ডাকতেন কাছের লোকজন। তাকে নিয়ে মজা করতেন বন্ধুরা। মামুন সত্যিই এই দুনিয়ার প্রাণখোলা আড্ডা রেখে চলে গেছেন, একেবারেই। অথচ এই বয়স বিদায় নেওয়ার নয়। হয়ত কেবল গুছিয়ে উঠেছিলেন মামুন। এই ক্ষতি তার পরিবারের পক্ষে সহ্য করবার কথা নয়। ওর সঙ্গে দেখা হলে হয়ত আমিও বলতাম, আমি মুভি বানালে আপনাকে কোনো চরিত্রে অভিনয় করতেই হবে। মামুন কি বলতেন জানি না। আর জানাও সম্ভব নয়।’ ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শরীফুল হাসান লিখেন, ‘চমকে উঠেছি। থমকে গিয়েছি। কী নিষ্ঠুর নিয়‌তি! চলে যাওয়ার কোন বয়স নেই, সেটা আরেকবার তুমি আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে গেলে। কালও যে তুমি ছিলে আজ এখন ফেসবুক তাকে বলছে রিমেমবারিং। অদ্ভুত নিয়তি!  দোয়া ক‌রি,ভালো থেকো তুমি পরপারে।’ এ ছাড়া আরও অসংখ্য সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক মামুনুরের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মৃত্যু অমোঘ, এঁড়ানোর সাধ্য নেই কারও। কিন্তু তার এই অকালে চলে যাওয়া নাড়িয়ে দিয়ে যায় আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে। নশ্বর এ পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়, তা যেন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন মামুন। এমজে/

অশ্রুর সাগরে বিদায় নিলেন সাংবাদিক মামুন

  খবর সংগ্রহ করা ছিল যার কাজ, অাজ তিনি নিজেই খবরের বিষয়। যে সহকর্মীদের সঙ্গে এতোদিন তিনি অফিস করেছেন, অাড্ডা দিয়েছেন, এ্যাসাইনমেন্টে গিয়েছেন, জরুরি সময়ে রাত জেগে কাজ করেছেন- অাজ তারাই তার খবর লিখছেন। তার স্মৃতিচারণ করে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন। সহপাঠী, সহকর্মী, অগ্রজ, অনুজরা অাজ তাকে পরম মমতায় ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছেন। এমন বিদায় দৃশ্য খুব বেশি দেখা যায় না। এযেন সে কবিতার মতোই ছিল তার জীবন। "প্রথম যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে কেঁদেছিলে একা তুমি, হেসেছিলো সবেএমনো জীবন তুমি করিবে গঠনমরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন" মাত্র ৩২ বছরের জীবন। অাজ তার ৩৩ বছরে পদার্পণ করার কথা। সোমবার রাতে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রোববারও সুস্থ থাকা মানুষটা সোমবারে নেই! মামুনুর রশীদের সঙ্গে অামার ব্যক্তিগত সখ্যতা গড়ে উঠার সুযোগ হয়নি। লিফটে, সিঁড়িতে দেখা হতো। ইশারায় সালামের ভঙ্গিমা করতাম। হাসিমুখে উত্তরের ভঙ্গিমা করতেন। কিন্তু তার জানাজায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজে নিজেই ধাক্কা খাই। মনে হচ্ছে, সাংবাদিকতা করতে এসে বোকামী করিনি। সাংবাদিকদের জন্যও মানুষ কাঁদে। পৃথিবীতে সাধারণত দু`ধরনের মানুষ অাসে। এক ধরনের মানুষ জীবন গড়ে তোলে নিজের বা পরিবারকে কেন্দ্র করে। অারেক ধরনের মানুষ পৃথিবীতে দাগ কাটে বা রেখে যায় তার অাগমনী বার্তা। মানুষকে ভালোবাসা বা মানুষের জন্য কাজ করে যায় নিরন্তর। তাদের মৃত্যুর পর পৃথিবীর মাটি নাড়ী ছেঁড়া ব্যথা অনুভব করে। মামুন ভাই চলে যাওয়ার পরে অামরা দেখেছি, তিনি তেমনি দাগ কেটে গেছেন। শুধু নিজের পরিবার নয়; যেখানে যেখানে তিনি পা রেখেছিলেন সেখানেই তৈরি করেছেন নিজের ভালোবাসার ভুবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিকতা, একুশে টেলিভিশন, প্রধানমন্ত্রীর বিটে যারা কাজ করেন সব বলয়ে, সব ঘরানায় মামুনুর রশীদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। এসবের বাইরেও তার অারেকটি পরিচয় ছিল। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত থাকা মামুন ভাইয়ের মৃত্যুর পর প্রমাণিত হলো, মামুন ভাই ছিলেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের কাছে একটি অাবেগের নাম। এক বিবেচনায় সংখ্যা বা পরিমাপের দিক থেকে ৩২ কোন বয়স নয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ অাশি বছর বেঁচেছিলেন। অাবার অারেক বিবেচনায় ৩২ অনেক বয়স। মহাবীর অালেকজান্ডার দ্যা গ্রেট এই বয়সে সারা পৃথিবী জয় করেছিলেন। মামুন ভাইয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন তিনি অনেকের মনোরাজ্যে `অালেকজান্ডার` হয়তো নন, তবে সুন্দর জায়গা দখল করে নিয়েছিলেন। মামুন ভাইয়ের জানাজায় ছাত্ররাজনীতির সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অশ্রুসজল উপস্থিতি ছিল। বড় ছোট ভেদাভেদ ভুলে অনেককেই দেখা গেল হাউমাউ করে কাঁদতে। রাজধানীর বুকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা কে কাকে সান্ত্বনা দিবে? মামুন ভাইয়ের পর পর দুটি জানাজা যথাক্রমে ইটিভি ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এরপরও অনেকে তার জানাজায় অংশ নিতে না পেরে অাফসোস করতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব অাশরাফুল অালম খোকন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে খোকন ভাই ছিলেন একটি সাহসী নাম। সেই খোকন ভাইকে যখন কাঁদতে দেখি তখন ধাক্কা খাই। সমাজসেবা নয়, দানবীর নয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নয়, একজন তরুণ সাংবাদিকের মৃত্যুও তাহলে মানুষকে কাঁদায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার কারণে ঢাকার বুকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মামুন ভাইয়ের প্রচুর বন্ধু-সহপাঠী কর্মরত অাছেন। তাদের ঠেলাঠেলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে পা রাখার জায়গা নেই। ক্যাম্পাসের বড় বড় গাছের পাতা ভেদ করেও কড়া রোদ মাঠটিতে। এতগুলো পরিচিত মানুষ নিজেদের কান্না চাপতে গিয়েই হয়তো অন্যের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না। অাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. অাবু কাউছার ছিলেন বাকরুদ্ধ দু`জনেই জানাজায় ছিলেন নীরব। তাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হলে চোখ মুছতে মুছতে ইশারায় না বললেন। মামুন ভাইকে শেষ দেখা দেখতে এসেছেন অাওয়ামী লীগের তরুণ নেতা ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। দাদা নিজেও সাংবাদিকতা করেছেন। সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দাদাকে বললাম, দাদা মামুন ভাইকে নিয়ে একটা কমেন্ট করুন। দাদা অামার কাঁধে হাত রেখে কেঁদে উঠলেন। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন ভাই ও জাকির সমস্বরে বললেন, সাংবাদিকতা করতে করতে অনেকের মধ্যে অহংকার অাসে। কিন্তু মামুন জানতো না অহংকার কী জিনিস। ছাত্রলীগের সাবেক উপ প্রচার সম্পাদক ও বর্তমানে প্রচার উপ কমিটির সদস্য রাসেল ভাই বললেন, অাদনান, অামরা অামাদের একটা ভাই হারালাম। সোমবার রাতে মামুন ভাই মারা যাওয়ার পর মৃত্যুর খবর মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে যায় পরিচিত মহলে। মধ্যরাতেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ছিল সহকর্মীদের ভীড়। রাত দ্বিপ্রহরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জায়গা করে নেয় মামুন ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ। তাকে নিয়ে সেলফি, স্মৃতিচারণ তখন ভাইরাল হচ্ছে। হায়! যেন এক রাজকীয় মৃত্যু! মাত্র বত্রিশ বছরে এই প্রতিযোগীতামূলক সমাজে এমন গর্বিত বিদায়! সাংবাদিকতা অনেকেই করে। কিন্তু নিজের কর্মক্ষেত্রের সীমানাকে ডিঙিয়ে অন্য অনেকের মাঝে একজন হয়ে উঠা একটি কঠিন কাজ। খুব অল্প সময়ে মামুন ভাই সেই কাজটি করতে পেরেছিলেন শুধু ভালোবাসা দিয়ে। মামুন ভাইয়ের কর্মস্থল একুশে টেলিভিশনে অাজ শোকের ছায়া। অামাদের কাছে ইটিভি একটি পরিবার। প্রবাদ আছে, অাল্লাহকে পাওয়া যায়, মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। মামুন মানুষকে ভালোবেসেছিল- তার প্রমাণ তার মৃত্যুর পর হয়েছে। তাহলে কী তিনিও অাল্লাহকে পেয়েছেন? মানুষের চোখের পানির চেয়ে পবিত্র এ পৃথিবীতে অার কিছু নেই। অাল্লাহ নিশ্চয় এতগুলো মানুষের চোখের পানি উপেক্ষা করতে পারবেন না। প্রভু, অামাকে- অামাদেরকে যেন অার কোন সহকর্মী বা অাপনজনের মৃত্যু সংবাদ নিজ হাতে লিখতে না হয়। তবে তোমার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি